যোগী হাফং – একটি ব্যর্থ অভিযান

পথে, সামান্য একটা ছোট পাহাড় চড়তে গিয়েই গোড়ালি বিকল। …অর্ধেক পথ পাড়ি দিতেই হাল ছেড়ে দিলো একের পর এক সদস্য। তীরে এসে তরী ডুবিয়ে তখন ষোলকলা হলো পূরণ। …আর সেই ঘায়ে নুন ছিটাতে যখন পাড়াবাসীরা অপেক্ষা করছিলেন – তখন দুর্জয় অহমিকায় পাহাড়ও অট্টহাসি দিলো। পাহাড়ের সেই বাঁকা হাসি বড্ড কানে বাজলো – তোরা ব্যর্থ, …ব্যর্থ, …ব্যর্থ!!!

 

বান্দরবানে দেখি মোহন, কোরেশীরা এক অচেনা নারীর সাথে বেশ “আপু” “আপু” বলে কথা বলছে। এই দূর দেশে এরা “আপু” বাগিয়ে নিলো কত্থেকে! ঘটনা বুঝতে পারছি না। ওমা সেই নারী দেখি আমাদের সাথেই নাস্তার টেবিলে! তাঁকে “আপু নাস্তা খেয়েছেন?” বলে ওঁরা বেশ তোয়াজও করছে! ঘটনা কী? শেষ পর্যন্ত দেখি, সেই নারী বেশ অভিভাবকের সুরে কথা বলে যাচ্ছেন ওদের সবার সাথে, খুদ আবু বকরের সাথেও। তখনও বুঝিনি কে এই নারী! চান্দের গাড়িতে উঠে আবিষ্কার করলাম রহস্যময় সেই নারী আমাদের সাথেই পাহাড়ে চলেছেন। হোয়াট্‌স ফিশী!

চান্দের গাড়িতে এক ঝাঁক তরুণের মাঝে আমরাও ক’জন — গন্তব্য থানচি। গাড়ির সামনে দুজন নারী বসে আছেন — হ্যাঁ, ঠিক পড়েছেন – দুজন; দলে নারী আরোও একজন আছেন। দলটা যাচ্ছে আবু বকর সিদ্দীকের “ইকো ট্র্যাভেলার্স”-এর প্যাকেজ ট্যুরে নাফা কুম দেখতে, আমাদের ৬ জনের দলও তাদের মধ্যে সেঁধিয়ে গেছে। আমাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন – যাচ্ছি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড়[দ্রষ্টব্য] “জ ত্লং” আর চতুর্থ সর্বোচ্চ পাহাড় “যোগী হাফং” জয় করতে। জয় করতে!! পাহাড় জয় করা খুব সহজ ব্যাপার – যাও, উঠো, নেমে আসো – জয় করা শেষ — যারা শ্রেফ এভাবে বিষয়টাকে দেখেন – তারা এই অভিযানে একটা মারাত্মক শিক্ষা পেতে চলেছেন। এর চেয়ে মারাত্মক শিক্ষা পাবার কামনা করবেন না।

আমি থানচি গিয়েছিলাম প্রথম এবং শেষ ঐ একবারই, ২০১৩-তে অজানা লেকের অভিযান করবার সময় – রাতের অন্ধকারে। আজ আবারও দিনের আলোতে থানচিতে যাওয়া আমাকে স্মৃতিকাতর (নস্টাল্‌জিক) করে তুললো। গাড়িতে যারা বসে আছেন তাদের অধিকাংশই বান্দরবান প্রথম এসেছেন। তাঁদের চোখে যখন বান্দরবান দেখছিলাম, তখন আমার মতো মোহন, কোরেশী – সবারই বান্দরবানে প্রথম আসার স্মৃতি উঁকিঝুকি মারতে আরম্ভ করলো। তারা যখন ওয়াও, ওফ, সুপার বলে আওয়াজ দিচ্ছিলেন, তখন নিজেকে প্রশ্ন করলাম- কেন এখন আমাদের কাছে বান্দরবান আর সেই আবেদনটা রাখতে পারছে না?

আমি এই ট্যুরে আসার আগে কেন জানি খুব একটা উত্তেজনা অনুভব করছিলাম না। কেন? …বান্দরবান দেখা আমার শেষ! …পাহাড় দেখা আমার শেষ!! …ট্রেক করা কাকে বলে আমি জেনে ফেলেছি!!! – মহা পণ্ডিত তো!! নিজেকে তাই নিজের কাঠগড়ায় দাঁড় করালাম – বললাম, সেই প্রথমবারকার মতোই আমি এই প্রথম পাহাড় দেখছি। সেই প্রথমবারকার মতোই আমি এই প্রথম অদেখাকে দেখতে যাচ্ছি – কত অজানা লুকিয়ে আছে জীবনের প্রতিটা বাঁকে – অজানাকে জানতে যাচ্ছি – নতুন করে, নতুন এই আমি। উঠে দাঁড়ালাম চান্দের গাড়িতে। দূরে পার করে আসছি ১৩০ফুট উঁচু রামজাদি। বাংলাদেশের, একসময়কার সবচেয়ে উঁচু রাস্তা peak69[টীকা] থেকে বামদিকে নিচে দেখা যাচ্ছে শংখ – সাংগু নদী – গভীর আগ্রহে তাকিয়ে থাকলাম ওদিকে – কী অপূর্ব! মাথার উপরের গভীর নীল আকাশটা আমাকে রীতিমতো পাগল করে ছাড়লো।

গাড়িতে নাফা কুম দলের যারা বসে আছে তাদের কাউকেই চিনি না। তাদেরই কয়েকজনের কথা থেকে জানা গেল তারা থাইল্যান্ড ঘুরে এসেছেন। এর মাঝে আবার কেউ কেউ আছেন বিবাহিত। জানালেন, স্ত্রী নিয়ে থাইল্যান্ড ভ্রমণের অশনীসংকেত। কিন্তু এটাও জানালেন, যত সুন্দরই হোক, নিজের দেশ দেখা হয়নি তার। আর এখন নিজের দেশের এই সৌন্দর্য্যে তিনি সত্যিই অভিভূত! ভালো লাগলো কথাটা শুনে।

পথে এক জায়গায় গাড়ি থামিয়ে আবু বকর তাঁর প্যাকেজ ট্যুরের ট্যুরিস্টদের আনারস খাওয়াতে চাইলেন। সেই ভাগ আমরাও পেলাম। আনারস খাওয়ার মাঝখানে শুনি ঐ “আপু” দ্বিতীয় আপুকে জিজ্ঞাসা করছেন, “কোনটা নয়ন, দাড়িওয়ালাটা না, ঝুটিওয়ালাটা?” এগিয়ে গিয়ে নিজেকে দেখিয়ে বললাম, “নয়ন এই যে জঙ্গীটা”। 😆 হাসলেন তিনি। মিষ্টি হাসি। সুযোগ পেয়ে একজনকে বললাম, “আপু”কে তো চিনলাম না, পরিচয় করিয়ে দেন অন্তত। “আপু”ই কর্তৃত্বের স্বরে কথা বলে উঠলেন, “পরিচয় এমনিতেই পাবি।” আমি হাসলাম। বললাম, “কী, মাইর খা’য়া…?”। বললেন, “এইতো বুঝে গেছিস।” হাসির রোল পড়লো। কিন্তু আপুর পরিচয় আর পাওয়া হলো না।

🌿

আমাদের হাফং-আরোহী, মানে পাহাড়-আরোহী দল ৬ জনের:

  1. আবু বকর সিদ্দীক – ইকো ট্র্যাভেলার্স-এর সহ-উদ্যোক্তা, ভ্রমণ দল ভ্রমণ বাংলাদেশ-এর সাংগঠনিক সম্পাদক, হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট থেকে পর্বতারোহণে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, সার্ফিং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, এবং সর্বোপরি আমার পাহাড়-শিক্ষার গুরু।
  2. সিফাত ফাহামিদা নওশিন (ইতি) – রীতিমতো স্টার মানুষ — হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট থেকে পর্বতারোহণে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ২০১১ খ্রিস্টাব্দে নেপালের পর্বতশৃঙ্গ চুলু ঈস্ট বিজয়ের পর তাঁকে তৎকালীন পর্যটনমন্ত্রী বাংলাদেশের পর্যটন-দূত ঘোষণা করেন। ২০১৭ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারিতে বিডিসাইক্লিস্ট আয়োজিত দীর্ঘতম চলমান সাইকেলের সারি তৈরি করে গিনেজ বুক অফ ওয়াল্ড রেকর্ড্‌স-এর তিনিও একজন বিশ্ব রেকর্ডধারী। তুখোড় এই ভ্রমণপিয়াসী এখন বাংলাদেশে, মুসা ইব্রাহীম-এর এভারেস্ট একাডেমী‘র একজন প্রশিক্ষক। ম্যারাথন, ট্রায়্যাথলন (সাঁতার, সাইকেল চালনা, দৌঁড়), পর্বতারোহণ – সবকিছু ছাপিয়ে নিজের “ভ্রমণপিয়াসী” সত্তাটাকেই বেশি ভালোবাসেন।
  3. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান (মোহন) – বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে একজন মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে কর্মরত – সোজা বাংলায় একজন তরুণ অর্থোপেডিক ডাক্তার। আবু বকরের স্কুলজীবনের বন্ধু। পুরোন ট্রেকার, রেমাক্রি ধরে ট্রেক করে ভালুকের থাবার মধ্যে রাত কাটানো তার মধ্যে অন্যতম। এই ট্রেকের বেশিদিন আগে না, তিনি ইতি আপু’র সাথে টানা চারদিন দৈনিক ৩ ঘন্টা করে ঘুমিয়ে সাইকেল চালিয়ে এসেছেন।
  4. মাহমুদ শাফায়েত জামিল কোরেশী – সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে LGED-তে কর্মরত। এখন প্রেষণে আছেন জেলা পরিষদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-তে। এই ট্যুরে অংশ নিতে বেচারা সুদূর চাঁপাই থেকে এসে আবার টানা জার্নি করেছেন। তিনিও আবু বকরের স্কুলজীবনের বন্ধু; আর আমারই মতো দলের দুইমাত্র (?) বিবাহীত পুরুষ – এক সন্তানের জনক। আবু বকর আর মোহনের সাথে অনেক ট্রেকে যাওয়া হয়েছে – সিপ্পি আরসুয়াং ট্রেক করাকে নিজের উল্লেখযোগ্য ট্রেক মনে করেন।
  5. খালিদ হাসান খান সঞ্জীব – ট্যুর শেষ করে ফিরে এসেও আমি জানতাম তাঁর নাম “সন্দ্বীপ”। 😕 পড়ালেখা নেটওয়ার্কিং-এর উপর, কিন্তু উড়নচণ্ডী থেকে ভ্রমণচণ্ডী হয়ে ইকো ট্র্যাভেলার্স-এর ট্যুর কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেছেন। মাথার লম্বা চুলগুলো রাবার ব্যান্ড দিয়ে ঝুঁটি করা তিনি এখন ফ্রিল্যান্স ট্যুরগাইড হিসেবেই নিজের পরিচয় দিতে চান। অবসরে মজা করে কার্টুন আঁকতেন একটা সময়।
  6. আমি – কেউ না

ট্যুরে বের হবার আগে আমি আমার ট্যুর-মেটদের মধ্যে যাঁদেরকে চিনিনা তাদের ব্যাপারে বেশ উদ্বিগ্ন – কেমন হবে সবাই? মোহনকে তো দেখেছি গত ট্রেকে – কথাই বলে না। কোরেশী কেমন? আবু বকর জানালেন – ওরে বাবা, মনে হবে, এই এক মাইল পথ ওরে দেয়া হয়েছে – হেঁটে শেষ করা লাগবে। ইতি আপু কেমন? আবু বকর জানালেন – অনেক স্ট্রেংথ! উত্তর শুনে বুঝলাম না, এঁদের সাথে ট্রেক করাটা কতটা আমোদপূর্ণ। কিন্তু ট্যুরের আগ মুহূর্তে ফোন দিলো সন্দ্বীপ, থুক্কু সঞ্জীব – ফোনের ওপাশ থেকে কথা শুনেই বুঝলাম ছেলেটা মজারু। গাড়িতে উঠে সে মহা একটা ঘটনা ঘটে গেছে বলে জানান দিল, কোত্থেকে নাকি কে ওকে কী জড়িবুঠি (আসলে কর্পূর) দিয়েছে, যা দিয়ে মশা তাড়ানো যায় – বের হবার সময় সেটা সে সবার আগে সামনে রেখেছে যাতে ব্যাগে পুরতে পারে। এখন আধেক পথ পাড়ি দিয়ে মনে পড়েছে – ওটা ও’ ভুলে রেখে এসেছে। 😆

🌿

থানচি নামলাম আমরা বিকেল আড়াইটার দিকে। আবু বকর সবাইকে একত্র করে একটা ছোটখাটো টীম মীটিং করে নিলেন। যদিও তিনি পেশাদার পর্যটন ব্যবসা করছেন, তবু তাঁর প্যাকেজকে যে কথাগুলো বললেন, তা ভালো লাগলো – সারমর্ম দিলাম:

আমরা এখানে এসেছি একটা দল হয়ে, আর ফিরেও যাবো একটা দল হয়ে। দলের একজন দলনেতা থাকবেন, আর তাঁর নির্দেশেই দল চলবে। আমার জন্য যেন আমার দলকে কষ্ট পেতে না হয়, আমার একজনের জন্য যেন আমার দল পিছিয়ে না পড়ে। আমরা আনন্দ করতে এসেছি, আনন্দ করবো, কিন্তু প্রকৃতির শান্তি নষ্ট করে না। আর স্থানীয়দের পোষাক, আচার, সংস্কৃতিকে সম্মান দেখিয়ে হবে আমাদের ভ্রমণ।

জানিয়ে দিলেন, তিনি আর নাফা কুম দলের সাথে থাকছেন না, তবে থানচি পর্যন্ত দুটো দল একই পথে চলবে। নাফা কুম দলকে তাদের নেতা বুঝিয়ে দিলেন। এবারে দলগুলো চললো বিজিবি ক্যাম্পে। আমরা ক’জন চললাম থানচি জামে মসজিদে জুম’আ’র নামাযে।

জুম’আর নামায শেষে বিজিবি ক্যাম্পেই আমরা খাওয়া-দাওয়া সারলাম। তারপর পোষাক পরিবর্তন করে ট্রেকের পোষাক ধারণ করলাম। বাসায় শেষবারের মতো যোগাযোগ করে জানিয়ে দিলাম গিন্নী, মা-বাবা আর আমার বল্টুটাকে, এর পরে আর নেটওয়ার্ক থাকবে না। ওদিকে দলের সব কোথায়? তাকিয়ে দেখি সবাই নিচে, নৌকাঘাটে নেমে গেছে ইতোমধ্যেই। মহাবিপদ! দলকে আমিই তাহলে পিছিয়ে দিচ্ছি!! পোষাক পরিবর্তন করতে গিয়েই পিছনে পড়ে গেছি। দ্রুত রাকস্যাকটা গায়ে ঝুলিয়ে ক্যামেরার ব্যাগটা পেটে বেঁধে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে যেতে লাগলাম – সিঁড়ি দিয়ে এভাবে বাতাসের গতিতে আর কেউ এতো বোঁচকা-বাচকি নিয়ে নামে কিনা আল্লা’ মালুম – কিন্তু আমি নামলাম – মিসাইলের গতিতে। একেবারে টীমের পিছনেই গিয়ে দাঁড়ালাম নৌকায় উঠার আগে। ইতি আপু পিছন ফিরে আশ্চর্য হলেন – আমি কিছুক্ষণ আগেও দলের সাথে ছিলাম না, কিভাবে চলে এলাম!

নৌকাগুলোতে ৪-৫ জন করে ভাগ করে তোলা হলো সবাইকে – গন্তব্য থানচি থেকে রেমাক্রি। সাঙ্গুতে এখনও ভালোই পানি আছে, তবু সামনে একজন সহযোগী বসলেন, আর পিছনে একজন চালক ইঞ্জিন পরিচালনায় নিয়োজিত। আমাদের নৌকায় সব মিলিয়ে ৭জন। আমরাই সবার আগে চললাম, আর নৌকার সামনে আমি।

🌿

থানচি থেকে সেই সাঙ্গু – যার পাশ ধরে হেঁটে গিয়েছিলাম, আর আজ নৌকায় যাচ্ছি। পড়ন্ত বিকেলের আলোয় সাঙ্গুর তীরে জন্মানো বাদাম গাছের ক্ষেত, কোথাও তামাকের ক্ষেত, আর সাঙ্গুর বুক চিরে এগিয়ে চলেছে ইঞ্জিনচালিত নৌকা। নৌকাগুলো কাঠ দিয়ে বানানো, বেশি খাড়া না, তলাটা সমতল, সামনে গলুই আছে কিন্তু পিছনে ইঞ্জিন লাগানোর জন্য কোনো গলুই নেই। পানি কেটে যাবার জন্য যদিও তলা চোকা নৌকা ভালো হতো, কিন্তু এখানে অল্প জলে নৌকা চালাতে হয় বছরের কয়েক মাস, তাই এই তলা-সমতল ব্যবস্থা। নৌকার মধ্যে বিল্ডিং-বানানোর-রড দিয়ে তৈরি করা পাঁচ মাথাওয়ালা নোঙর রাখা – নৌকা দাঁড় করাতে হলে এর দরকার পড়বে।

বাঁশেরভেলা[গাড়ি]তে দাঁড়িয়ে বাঁশ দিয়ে মেঝে ঠেলে বেয়ে নিয়ে আসা (ছবি: সঞ্জীব)
বাঁশেরভেলা[গাড়ি]তে দাঁড়িয়ে বাঁশ দিয়ে মেঝে ঠেলে বেয়ে নিয়ে আসা (ছবি: সঞ্জীব)

সামনে থেকে, মানে নদীর উজান থেকে বাঁশের ভেলা বেয়ে নিয়ে আসছেন পাহাড়িরা। প্রচুর প্রচুর বাঁশ একটার সাথে আরেকটা বেঁধে তৈরি করা হয় একেকটা পাটাতন। তারপর সেই পাটাতনগুলো একটার পরে একটা জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হয় লম্বা ট্রেনের মতো বাঁশের ভেলা (কিংবা বলা ভালো বাঁশের ভেলাট্রেন)। তার মধ্যে একটা দণ্ড ঝুলিয়ে তাতেই নিজেদের কাপড় শুকাতে দিয়েছেন মাঝি। বেয়ে চলেছেন বাঁশের ভেলাট্রেন – বাজারের উদ্দেশ্যে। বেয়ে চলার একটা পদ্ধতি আছে — বর্ষাকালে যখন নদীতে ঢল থাকে, তখন বাইতে হয় না, স্রোতের টানে ভেসে পড়লেই চলে। মাঝে মাঝে হয়তো কোর্স ঠিক করতে বৈঠার ঠেলা লাগে। কিন্তু শীতকালে লম্বা বাঁশ দিয়ে যেহেতু নদীর তলা ছোঁয়া যায়, তাই দাঁড়িয়ে বাঁশ দিয়ে নদীর তলায় ঠেক দিয়ে তারপর বাঁশের ভেলাট্রেনের উপর দিয়ে কিছুদূর পিছন দিকে হেঁটে গেলেই হয় – বাঁশের ভেলাট্রেন সামনে এগোতে থাকে – পদ্ধতিটা যেকোনো বড় নৌকার ক্ষেত্রেও একই।

সাঙ্গুকে ঘিরে পাহাড়িদের জীবনযাত্রা (ছবি: সঞ্জীব)
সাঙ্গুকে ঘিরে পাহাড়িদের জীবনযাত্রা (ছবি: সঞ্জীব)

ডিসেম্বরের বাতাস শীতল, কিন্তু রোদের কারণে তেমন একটা বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু যখনই পাশের কোনো পাহাড়ের কারণে সূর্যটা আড়াল হয়ে যায়, তখনই ঠান্ডায় কাঁটা দিয়ে উঠে শরীর। …নদীতে কোথাও মাছরাঙা একটা কাঠির উপর বসে অপেক্ষা করছে মাছের, উপরে উঁকি দেবার জন্য। এদিকে কোথাও কোথাও পাথরের ফাঁক দিয়ে কসরত করে নৌকা চালিয়ে নিতে হয়, তখন সক্রীয় হয়ে উঠেন সামনে বসা মাঝির সহকারী। কোথাও বৈঠা দিয়ে, কোথাও লম্বা বাঁশ দিয়ে পাথরে ঠেলা দিয়ে কিংবা পানি কেটে নৌকার সামনেটা পার করিয়ে নিতে হয় পাথরের মাঝ দিয়ে। কোথাও আবার এসবের কিছুই করা লাগে না, সামনে বসে পাথর দেখে পিছনের চালককে ডানে নাকি বামে চেপে যেতে হবে সেটা বলে দিলেই হয়।

পদ্মমুখ পার হবার সময় আমি জোরে বললাম, “পদ্মমুখ”। শুনে ঐ মুরুব্বি “আপু” পিছন থেকে জানতে চাইলেন, “কী?” আমি বললাম, “পদ্মমুখ”। আপু আবারও জানতে চাইলেন, “কী?” ইঞ্জিনের আওয়াজে উনি শুনতে পাননি। এবার আমার কাছে মনে হলো, উনি কি মজা নিচ্ছেন? উনি কি শুনতে না পারার ভান করছেন! যতটুকু আভাস পেয়েছি, উনি এঁদের সবার কাছে সম্মানিত একজন, আর এই পথে তিনি পুরান পাপী; সেই নারী কি পদ্মমুখের নাম এই প্রথম শুনছেন! 😕 আমার মুখ থেকে তিনি বুঝে নিয়ে পিছনে বসা ইতি আপুকে ভাঙ্গিয়ে বললেন নামটা – “লোটাস-মাউথ” – মজাই করলেন বোধহয় (ব্যাঙ্গ করলেন কি?) – হয়তো বললেন, “মায়ের কাছে মামাবাড়ির গল্প বলো!” 😆

এভাবেই একসময় আমরা চলে এলাম তিন্দু’র কাছাকাছি – দূর থেকেই দেখা যাচ্ছে তিন্দু’র বিজিবি ক্যাম্প। কিন্তু প্রথম বার তিন্দু দেখার মতো অনুভূতি চেষ্টা করেও আনতে পারলাম না। কারণ দুটো: এক, প্রথম প্রেমের আলাদা কদর আছে। আর দুই, তিন্দুর নিচে, সাঙ্গুর পাড়ে বসেছে দোকান। সেই দোকান ম্লান করেছে তিন্দুর আইসোল্যাটেড রূপটা। হতাশাটা স্পষ্ট দেখলাম মুরুব্বি “আপু”র মধ্যেও।

তিন্দু পাড়ি দিয়ে নৌকা এগিয়ে চললো আরো সামনে। অজানা লেকের অভিযানে আমরা নদীপথে না এগিয়ে উপর দিয়ে চলে গিয়েছিলাম বলে সামনের এই নৌপথের দৃশ্য আমি দেখিনি। ইতি আপুকে বললাম, এবার সামনের এই পথে আমিও আর-সব পর্যটকের মতোই একজন পর্যটক। কিছুক্ষণ পরেই যথারীতি বামদিকে লাংলপ তং (মারমা: বাঁদুড় পাহাড়) তার স্বমহিমায় উঁকি দিলো বামদিকে। তাকে পাশে রেখে নৌকা এগিয়ে চললো – বড় পাথর আর রাজা পাথরের দিকে। বড় পাথর, রাজা-পাথর হলো জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ – সম্ভবত ইত্যাদি অনুষ্ঠানে প্রচারের পর সৌখিন পর্যটকদের নজরে আসে জায়গাটি। তবে ট্রেকাররা বহু আগে থেকে এই পথে চলেছেন।

বড় পাথর-রাজা পাথর এলাকায় বড় বড়, বিশাল বপু সব পাথর। পেট ফুলিয়ে বলুন আর বুক ফুলিয়ে বলুন, এরা যে দম্ভ ভরে প্রতি বছর নদীর পানির অপরিসীম ঢল ঠেলে টিকে আছে তা থেকে দিব্যি বলে দেয়া যায়, এরা যথেষ্ট সলিড। পাথরগুলোর আকার বিচিত্র – কোনোটা গোলাকার, কোনোটা লম্বাটে, কোনটার আকার আবার জ্যামিতির কোনো আকার দিয়ে বর্ণনা করা যায় না – বিচিত্র চেহারা, তার মাঝে কোনো কোনোটাতে তৈরি হয়েছে অদ্ভুত সব খাঁজ।

তিন্দুতে ফসিল পাথর
তিন্দুতে ফসিল পাথর

একটা পাথর আমার খুব ভালো লাগে – আমি আগেও মাসুদ জামান-এর তোলা একটা ছবি দেখেছি এর গুগল আর্থে – কেউ কেউ এটাকে ফসিল পাথরও বলে থাকেন — পাথরটার একটা পিঠ এমনভাবে ভেতর দিকে ঢুকে ঢুকে আছে যে, দেখে যে-কেউ বলবে এটা যেনবা বিশাল কোনো প্রাণীর মেরুদণ্ড। আমি যেহেতু নৃতাত্ত্বিক নই, পুরাতাত্ত্বিকও নই – তাই রহস্যটার ভেদ আমাকে দিয়ে হবে না — আমি বড়জোর একে কাকতালীয় বলেই চালিয়ে দিতে পারি কিংবা আম-জনতার মতো এর মধ্যে বিশেষ কোনো রহস্য খুঁজতে পারি।

এতো এতো বড় বড় পাথরের মধ্যে ‘বড় পাথর’ যে আসলে কোনটা আমার মনে হয় কেউই সেটা জানে না — ‘বড় বড় পাথরের এলাকা’ থেকেই হয়তো সবাই ‘বড় পাথর’ ডাকে – আসলে এই নামে কোনো পাথর নেই (এটা অবশ্য আমার পর্যবেক্ষণ)। তবে এদের মাঝে একটা পাথর সত্যিই বিশা-ল বড় – এটাকেই সবাই ‘রাজা পাথর’ বলে – এটা বোঝা গেল। পাথরটা দেখলে মনে হবে একটা শিবলিঙ্গের ব্রহ্মাপিঠ (নাকি বিষ্ণুপিঠ?) বসিয়ে দেয়া হয়েছে নদীর মাঝে। এই পাথরটাকে দেখলে মনে হবে কেউ এর উপর একটা হেট চাপিয়ে দিয়েছে — উপরের দিকটায় এমন একটা টানা খাঁজ যে, দেখে মনে হয় উপরের অংশটা আলাদা বসিয়ে দেয়া হয়েছে (কেউ বলে ঢাকনা দেয়া চিনামাটির বাটি)। অজানা লেকের অভিযান-এ ‘বংটো-তে নৈবেদ্য দেয়া’র কথা বলেছিলাম — এখানেও নাকি কেউ কেউ নৈবেদ্য দেন – পূজা করেন এই বিশাল পাথরটাকে।

রাজা পাথরের বিশালত্বে বিলীন লেখক আর আবু বকর (ছবি: অজানা)
রাজা পাথরের বিশালত্বে বিলীন লেখক আর আবু বকর (ছবি: অজানা)

নতুন পর্যটকদের উছিলায় আমরা একটা সুযোগও পেয়ে গেলাম আবু বকরের মাধ্যমে – তিনি নৌকাগুলো থামাতে বললেন – সবাই ছবি তুলবে। কোনো দ্বিধা না করেই নেমে গেলাম — এই তো সুযোগ। আমিও তো পর্যটক। ছবি তুললাম আমি আর আবু বকরও। বিশা-ল পাথরের সামনে বিলীন হওয়ার জন্য দুজনে পোয দিলাম – ছবিটা মনে করিয়ে দিল আমার প্রথম ট্রেকে বিশাল আরেকটা পাথরের সামনে এভাবেই দুজনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছিলাম।

যারা এই বিশাল পাথরগুলো কিভাবে এলো, কোত্থেকে এলো ইত্যাদি প্রশ্নে অতিপ্রাকৃত উত্তর খোঁজেন, তাদেরকে শ্রেফ একটা কথাই বলবো: উত্তরটা উপরের দিকে। আগেই বলেছিলাম, বামদিকে বিশাল লাংলপ তং মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু এই পাহাড়ে এদিক দিয়ে উঠা যায় না, উঠতে হয় অন্য পাশ দিয়ে। পাহাড়ের এই দিকটা প্রচণ্ড খাড়া। অনেকেই এই খাড়া নাঙা পাথুরে চেহারা দেখে ভুল করেন, মনে করেন বাংলাদেশে রক ক্লাইম্বিং বা পাথুরে পাহাড় বেয়ে উঠার যে খেলা তার জন্য উত্তম জায়গা এটি, আসলে এই পাথরগুলো বেলে পাথর এবং প্রচন্ড অসহিষ্ণু। এরা খুব বেশি চাপ সহ্য করতে পারে না। তাই ঠিক তার নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর দাপটে পাহাড়ের নিচের অংশে যখন তান্ডব বয়ে গিয়েছিল, তখন পাহাড়ের গা থেকে পাথর খসে পড়েছে নদীতে – আর সেগুলোই আমাদের কাছে বড় পাথর-রাজা পাথর।

🌿

লাংলপ তং আর দূরে মিবক্ষ্যাঁ তং
লাংলপ তং আর দূরে মিবক্ষ্যাঁ তং

নৌকা ছাড়লো – এবারে ডানে-বামে পাহাড়, তাই সূয্যিমামা হারিয়ে গেছেন অনেকক্ষণ – তাতেই ঠান্ডা এসে জেঁকে ধরেছে আমাদেরকে। বামদিকে মিবক্ষ্যাঁ তং (মিবক্ষ্যাঁ পাহাড়); মিবক্ষ্যাঁ ঝিড়ির কাছে আগে যে দোকানগুলো ছিল, সেগুলো আরেকটু বেড়েছে। সাঙ্গু এখানে এসে একটা স্থানীয় নাম ধারণ করেছে: ন’ব’, আবার বলে না’ – এর অর্থ হলো ‘মাছ’। উজানের পানির ধাক্কা ঠেলে, ডুবো পাথর বাঁচিয়ে কসরত করে মাঝি আর তার সহকারী নৌকা নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। একসময় আমরা কখন যে ডানদিকে সাউদাঁউ তং (সাউদাঁউ পাহাড়) পাড়ি দিয়ে, নাফা কুমরয় আর সেখানকার ব্যাঙ পাথর ছাড়িয়ে রেমাক্রি পৌঁছে গেলাম টেরই পেলাম না। ফেব্রুয়ারির রেমাক্রি আর ডিসেম্বরের রেমাক্রি’র মধ্যে অনেক ফারাক। হুশ ফিরলো বামদিকে রেমাক্রি ঝরণা নামক মেটে ঝরণাটা দেখে।

রেমাক্রি বলতে আমি চিনতাম নদীর পাড়ে থাকা দোকানগুলোকে – এখন সেগুলো দেখলামই না। আমাদের নৌকা আরেকটু উজানে এগিয়ে গেলো – এদিকে আমি আগে আসিইনি। কিছুদূর এগিয়ে নৌকা বামদিকে নোঙর করলো। ঘড়িতে সম্ভবত বাজে ১৬:৩০। শুনলাম এটাই রেমাক্রি। নাফা কুম দল এখানেই রাতে থাকবে।

মোহন, কোরেশী, আমার আর ইতি আপুর প্রবল ইচ্ছা আজকেই ট্রেক করে সামনে অগ্রসর হয়ে যাওয়ার; প্রয়োজনে রাতে ট্রেক করে হলেও পথটা এগিয়ে রাখার – সঞ্জীবের কী ইচ্ছা বোঝা গেলো না – কিন্তু আবু বকরের হাবভাব বুঝতে পারছি না। তাঁর মধ্যে ঠিক তাড়নাটা দেখতে পাচ্ছি না। মনে করলাম হয়তো নাফা কুম দলটা যেহেতু তাঁর কোম্পানীর, একেবারে গা হয়তো ছাড়তে পারছেন না। আমরা উপরে উঠে গেলাম, সেখানে একটা কটেজের দোতলায় ঘর দেখিয়ে দেয়া হলো সবাইকে। বুঝলাম, এই বান্দার আজকে নড়ার কোনোই ইচ্ছা নেই।

অগত্যা নাফা কুম দলের সাথেই একটা ঘরে আমরা বোচকাবাচকি রাখলাম। দলের দুই আপুকে পাশেরই ছোট্ট একটা ঘর দেয়া হলো – যেনবা তাঁদের দুজনের জন্যই বানানো হয়েছে ঘরটা। ইতি আপু ডেকে নিয়ে আমাদেরকে ঘর দেখালেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ঘরতো দেখলাম, এখন ঘর দেখে কী বলতে হবে? ☺️ হাসলাম আমরা।

আসরের নামাজের সময় চলে যাচ্ছে। অনেকেই গোসল করবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গোসল-দলকে নানা কথায় প্রেষণা দিচ্ছেন স্বয়ং লীডার আবু বকর – এখন একটা গোসল করলে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে, গোসল না করলে পুরাই মিস ইত্যাদি। তাঁর কথা মিছা না, কিন্তু এই ঠান্ডায় কেন জানি না আমার গোসল করতে ইচ্ছা হলো না। আমি নদীর পানিতে ওযু সেরে পাশেই উপুড় করে রাখা একটা নৌকার উপর গামছা বিছিয়ে আসরের নামায পড়ে নিলাম। তারপর ওখানেই ধ্যানী বুদ্ধের মতো বসে মজা দেখতে থাকলাম:

মোহন, আবু বকর, কোরেশী পুরান পাপী – কিন্তু নাফা কুম দলের যাত্রীরা সব আনকোরা। এই ঠান্ডায় কেউ গিয়ে কোমর অবধি ডুবিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই প্রথম কাকডুবুনিটা দিতেই যত ডর। মোহন বলছিল, এই প্রথম ডুবটাই যত কষ্টের। শেষ পর্যন্ত আবুবকর সহজ করে দিলেন কাকডুবুনি – পানি ছিটিয়ে সঙ্গীদের ভিজিয়ে বওনি করিয়ে দিলেন। এরপর একেকজন ঐ শীতল জলটা একেকভাবে উপভোগ করতে থাকলেন – কেউ শ্রেফ গলা অবধি ডুবিয়ে বসে থাকলো, কেউবা মেঝে থেকে পা তুলে ভেসে থাকতে গিয়ে আবিষ্কার করলো নদীর স্রোত তাকে ভাটিতে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ সাবান মাখতে গিয়ে দেখে সাবান আনেনি, শ্যাম্পু দিয়ে সাবানের কাজ সারলো। কেউবা সাবান ছুঁড়ে দিতে গিয়ে ফেলে দিলো বালিতে – নাও, সাবান থেকে বালি ছাড়াও এবার

এপাড়ে বসে থাকলে ওপাড়েই একটা লম্বা সিঁড়ি উঠে গেছে উপরে। উপর থেকে চীবর পরে এক ছোট্ট বাচ্চা নেমে আসছে – দেখে দারুণ লাগলো। উপরে, কটেজ থেকে দেখেছি, ওপাশের পাহাড়ে একটা বৌদ্ধমূর্তি আছে। কিন্তু ওদিকে আর গিয়ে দেখা হয়নি – তবে চীবর পরা শিশু দেখে বোঝাই যায় উপরে বৌদ্ধদের মাদরাসা রয়েছে। (বৌদ্ধ ভিক্ষুরা যে গেরুয়া রঙের পোষাক পরেন, তাকে ‘চীবর’ বলে – উইকিপিডিয়ায় “কঠিন চীবর দান”^ নিয়ে লেখবার সময় জেনেছিলাম)

🌿

গোসল-দলের গোসল শেষে আমরা কটেজে ফিরে এলে এখানে বারান্দায় বসলো আরেক আড্ডা। বারান্দায় বসলে সামনেই সাঙ্গু দেখা যায়। আর অদূরেই রেমাক্রি ঝরণার শব্দও ভেসে আসছে — পরিবেশটা সত্যিই অপূর্ব! আমাদের মুরুব্বি আপু ওনার সাথে নিয়ে আসা মিষ্টি নাড়ু বের করে দিতেই আড্ডাটা যেন আরেকটু রস পেলো। মোহন আর আবু বকর বেশ রসিয়ে গল্প করছিলেন পুরোন ট্রেকের স্মৃতি। সিপ্পি ট্রেকে একটা পাইপের উপর ভারসাম্য রক্ষা করে এগিয়ে যাবার স্মৃতি রোমন্থন করে গায়ে কাটা দিল মোহনের। সেখানেই তাদের এক বন্ধুকে হারিয়ে ফেলেন তারা – কোনো সন্ধানই পাওয়া যাচ্ছিল না। বিপদে পড়ে যায় সবাই। অবশেষে ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় হাওয়া থেকে জীবিত হয়ে ফিরে আসে সেই বন্ধু – এখন সেই স্মৃতি শুধু হাসিরই খোরাক – কিন্তু ঐ মুহূর্তে দলের বিপদটা ওখানে বসেই আঁচ করতে পারছিলাম আমরা।

আলোচনা চলতে চলতে একসময় আমাদের ট্রেকে ফেরত এলাম – আজকের দিনটা নষ্ট করা উচিত হয়নি; তবে কালকে কী কী করার আছে, সবই আলোচনা হওয়া উচিত। আমি যাবার আগে মাহদী’র জ-ত্লং আর যোগী হাফং যাত্রার অভিজ্ঞতা পড়ে গিয়েছিলাম। রাতুল ভাইয়ের যোগী পাহাড়ে সামিট প্রমাণের সূত্রগুলো দেখে গিয়েছিলাম। আর বাংলাট্রেক-এ যোগী হাফং^ বিষয়ক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল-এর লেখাটি দেখে গিয়েছিলাম। সালেহীন আরশাদী’র সাথে যোগাযোগ করে যোগী হাফং পথের আরো কিছু তথ্য নিলাম। সবশেষে গুরুজনেরও আশির্বাদ নিলাম – ডি’ওয়ে এক্সপেডিটর্‌স^-এর জহিরুল ইসলাম আকাশ ভাই আমাকে সাক্ষাৎ দিয়েছিলেন।

দল কিংবা দলনেতা যেভাবে পরিকল্পনা করছেন, তাতে একদিনে জ-ত্লং সামিট করে নেমে এসে যোগী হাফংও সামিট করে ফেলা যাবে। বাধ সাঁধলাম আমি – যতগুলো পড়ালেখা করেছি, কেউই একদিনে দুটো চূড়া সামিট করেননি। দুটো পাহাড়ের পথ যদিও একটা গন্তব্য পর্যন্ত একই, তারপরই সেখান থেকে ওয়াই জাংশন নিয়ে দুদিকে উঠে গেছে। সুতরাং একদিনে দুটো পাহাড় সামিট হয়তো অসম্ভব। এখানে উল্লেখ্য যে, দলনেতা আবু বকর আগে একবার আকাশ ভাইদের সাথেই যোগী হাফং-এ উঠেছিলেন। তিনিই কেন জানি না একদিনে দুটো পাহাড় সামিট করাকে সম্ভব মনে করছিলেন। তারপরও অন্যান্য অনেক ছেঁড়াফাটা পরিকল্পনা করে শেষে দেখা গেল আমরা বসে বসে পাহাড়ের গুষ্টি উদ্ধার করে ফেলছি। এসবে ক্ষ্যান্ত দিয়ে মাগরিবের নামাযে লাগলাম আমরা।

বারান্দায় গামছা বিছিয়ে নামায পড়ছি – ঝরণার মৃদু শব্দ – নদীর কলতান – অপার্থিব!

🌿

করার তো কিচ্ছু নাই, উপরেই রেমাক্রি বাজার – সেখানে তাই চা খেতে গেলাম সবাই। আমাদের ৬ জন ছাড়াও দলে আছেন মুরুব্বি আপু। আপুর পরিচয়টা বুঝতে পারছি না – এটা আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। তবে এতক্ষণে ওদের কথাবার্তা থেকে যে পরিচয়গুলো পেয়েছি: তিনি একজন শিক্ষিকা, ফিযিক্স পড়ান, এবং ভ্রমণ বাংলাদেশের অনেককেই চেনেন।

রাতের রেমাক্রি পাড়া-বাজারের উঠান (ছবি: সঞ্জীব)
রাতের রেমাক্রি পাড়া-বাজারের উঠান (ছবি: সঞ্জীব)

উপরের বাজারটা আসলে একটা পাড়া-বাজার। এগুলো বাসিন্দাদের থাকার ঘর, ঘরগুলোর নিচে, সামনে দোকান। পুরো পাড়াটা একটা বিশাল উঠান, চারকোণা ফুটবল ফিল্ড বললেই ভালো বলা হবে; আর সেই ফুটবল ফিল্ডের চারপাশে দর্শক হচ্ছে পাড়ার ঘর-দোকানগুলো। সেরকমই একটা দোকানে বসেছি আমরা চা খেতে। দোকানের পাহাড়িনীর (?) কন্যা দেখি একটা কিসের উপর কষ্ট করে উঠে দাঁড়িয়ে দোকানের দেয়ালে লাগানো আয়নায় নিজের চেহারা দেখে সাজুগুজু করছে। সাজুগুজুর ধরণ দেখে হাসলাম আমরা। তারপর চায়ের অর্ডার দেয়া হলো, সাথে টা। এই বাজার অনেক উন্নত – আধুনিক সব রকম প্যাকেটজাত খাবারই পাওয়া যায় প্রায়। চায়ের সাথে টা চললো আর চললো গল্প। চা শেষ করে পাড়ারই একটা গাছতলায় বসানো কাঠের বেঞ্চের উপর বসলো আমাদের অলস আড্ডা – ট্রেকে এসে অলস সময় সচরাচর হয় না। এখন সেই অলস সময় পেয়েই ভ্রমণ বাংলাদেশের পুরোন এই ভ্রমণচারীরা তাই মেলে দিয়েছেন সবাইকে – স্মৃতির মণিকোঠায় হাতড়ে বেড়াচ্ছেন প্রত্যেকে। …আমরা কি তাহলে রোমন্থন করবার জন্য স্মৃতি ধারণ করি? হয়তো… আর হয়তো তাই, মনের খোরাক ভ্রমণগুলো শেষ করে আমিও এভাবে লিখতে বসি…। ☺️

তাঁদের অধিকাংশ গল্পে আমি শ্রেফ শ্রোতা – কারণ ভ্রমণ বাংলাদেশের ভ্রমণ-গল্পগুলোর মানুষগুলোকে হয়তো ভার্চুয়্যালি চিনি, কিন্তু অনেককেই চিনি না। তাছাড়া যেসব জায়গার কথা আলোচনা হচ্ছে, সিপ্পি, তাজিং ডং, বড়থলি পাড়া, বড় মদক, ছোট মদক — এর কোনোটাতেই পা পড়েনি আমার। গল্প যখন চলছিল, তখন আকাশে শুক্লপক্কের চাঁদ উঠেছে আর সেই আলোয় পুরো উঠানই ধূসর আলোয় উদ্ভাসিত – পাড়ার দোকানগুলোর বিদ্যুতের আলোয় তা কিছুটা ম্লান। এখানে আলো বলতে সৌরবিদ্যুৎ; আর যারা রিসোর্ট চালায়, তারা হয়তো কিছুটা সময়ের জন্য জেনারেটর চালান। আমাদের রিসোর্টটাতেও জেনারেটর চলায় মোবাইল ফোন চার্জে দিয়ে এসেছি – যদিও এই পাড়ায় নেটওয়ার্ক নেই। একজন পাড়াবাসী জানিয়েছেন, উপরে পাহাড়ে উঠলে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। বাসায় ছেলেটার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছিল – তবে সেটা বোধহয় বেশি দূর, তাই আর উদ্যোগ নিলাম না।

গল্প শেষ হতেই আবু বকর আগামী কালকের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন— কেরোসিন কিনতে চাইলেন, কারণ তিনি পোর্টেবল স্টোভ নিয়ে এসেছেন সাথে। আর আজকের দিনটা যেহেতু নষ্টই হয়েছে, কালকে যেন ভোরবেলাতেই বেরোতে পারি, সেজন্য খাবারের ব্যবস্থা করা দরকার। যদিও আমরা সবাই-ই বলছিলাম, নাস্তা খাবার অপেক্ষা আমরা করবো না, আমরা না খেয়েই বেরিয়ে যাবো, সামনে এগিয়ে গিয়ে খেয়ে নিবো – কিন্তু আবু বকর একটা ঘরে আলাপ করাতে জানতে পারলেন তাঁরা ভোর পাঁচটায় নাস্তা ডেলিভারি দিতে পারবে। তাই তাঁদের সাথে চুক্তি করে আমরা রাতের খাবারের দিকে চললাম। কটেজে উঠেই আবু বকর রাতের খাবারের মেনু বলে দিয়েছিলেন, সেই মতোই রান্না হয়েছে পাড়ার একটা ঘর-দোকান কিংবা ঘর কাম ডাইনিং ঘরে।

সবাই সেখানে জড়ো হলাম, একজন নাফা কুম দলের সবাইকে ডেকে নিয়ে এলো। ডাইনিং মানে বড় একটা ঘরে দুটো টেবিল পাতা, আর দুপাশে বেশ নিচু কিছু বেঞ্চ পেতে বসার ব্যবস্থা। বেঞ্চে বসার পরে সবারই অবস্থা – এতো নিচু ক্যান! তখন আমার মতো খাটো মানুষের অবস্থা সহজেই আন্দাজ করা যায়। 😥 ঘরের এক পাহাড়ি কিশোরী খাবার সার্ভ করছে – ভালো বাংলা বলতে পারে ও’ – দৈনিক যে হারে পর্যটক সামাল দিতে হয়, না পারলেই বরং আশ্চর্য হতে হতো।

খাওয়া শেষে টীম মিটিং - নিচে কেরোসিনের বোতলটা রাখা (ছবি: সঞ্জীব)
খাওয়া শেষে টীম মিটিং – নিচে কেরোসিনের বোতলটা রাখা (ছবি: সঞ্জীব)

যাহোক মাছ, আলুভর্তা, মুরগির মাংস আর ম্যান্ডেটরি ডাল দিয়ে জম্পেশ খাওয়া হলো। খাওয়া-দাওয়া শেষে আবু বকর নভিস দলকে আরো কিছু দিক-নির্দেশনা দিলেন – দিক নির্দেশনাগুলো আসলে প্রতিজন আমার জন্যও প্রযোজ্য – কারণ নাগরিক সুবিধাদি থেকে অনেক অনেক দূরে এই পাহাড় খুবই আনপ্রিডিকটিবল আর নির্দয় – এখানে একটু ভুল মানে অনেক বড় খেসারত। তাই সবাই-ই সাবধান থাকা, দলের সাথে থাকা, আর সময়ানুগ হওয়া। আমাদের এই টীম মিটিংয়ের ছবি তুললো সঞ্জীব।

মিটিং শেষে রুমে ফিরে গিয়ে ঘুমের আয়োজন। আমরা বরফ-শীতল পানিতে ওযু করে এশার নামায পড়ে শোবার প্রস্তুতি। ঘরের ভিতর প্রায় জনপ্রতি বালিশ, পাহাড়ি মোটা সুতার কম্বলানুগ কাঁথা আর নিচে রয়েছে তোষক। সবাই পাশাপাশি যার যার জায়গায় শোবার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন সময় সঞ্জীব দেখা গেল কিছু একটা হয়রান হয়ে খুঁজছে। জানা গেল ওর ক্যামেরার লেন্স-কভারটা খুঁজে পাচ্ছে না। অধিকাংশ ডিএসএলআর ক্যামেরায়ই এই একটা মসিবত – লেন্স-কভারটা আলগা থাকে। সম্ভবত ডাইনিং রুমটাতে ফেলে চলে এসেছে, সকালে গেলে পাবে। কিন্তু সে বেশ উত্তেজিত, চিন্তিত অবস্থাটা সামাল দেবার জন্যই হয়তো ওর পানি খাবার দরকার পড়লো। রুমে রাখা একটা ট্রাংকের উপরেই ছিল বড় দুই লিটারের বোতলটা – টান দিয়ে তুলেই ঢক করে মুখে পুরে নিলো একটা কুলি… আবু বকর যে ওদিকে মানা করছিলেন, খেয়ালই ছিল না ওর…

সাথে সাথেই ঊঁমমঁমহ করে দরজা খুলে দৌঁড়ে গেলো বারান্দায়, মুখের সবটুকু বাইরে ছুড়ে ফেললো – থুহ্‌ থুহ্‌ করে ঝেড়ে ফেলতে চাইলো শেষ নির্যাসটুকুও — আমরা যে কেরোসিন কিনেছিলাম, না দেখেই পানি মনে করে সেই কেরোসিন মুখে পুরে নিয়েছিল বেচারা। …যাক ভাগ্য ভালো গিলেনি। সাথে সাথেই ওকে পানি দেয়া হলো, কিন্তু কেরোসিনের গন্ধ কি আর সহজে যায়?

রাতে অনেক আলাপই হলো – নারী, প্রকৃতি, ভালো লাগা — বাতি নিভিয়েও চললো সেই আলোচনা, হাসি-ঠাট্টা। পাহাড়ি যে মেয়েটা খাবার সার্ভ করেছিল, তার ব্যাপারে আমাদের নাফা কুম দলের একজনের বক্তব্য: “নাহ্‌, মেয়েটা ভালোই; ভালোই সার্ভ করেছে।” ওর কথার সুরটা একটু অন্যরকম থাকায় সবাই হাসলাম হা হা করে। 😆

আবু বকর জানালা খুলে দিতেই ঘরে ঢুকলো শুক্লপক্কের চাঁদের মোহনীয় আলো। বাইরে ঠান্ডা আছে, তাই বন্ধ করে দিতে হলো জানালা। কখন যে সবাই ঘুমিয়ে গেলো – বুঝিনি। পাশের ঘরে দুই আপুও ঘুমিয়ে পড়েছেন – যদিও মোহনের বক্তব্য মুরুব্বি আপু ঘুমাবেন না, সবাই ঘুমিয়ে গেলে উনি চাঁদের আলো অবগাহনে বের হয়ে যাবেন। এদিকে উনার পরিচয়টাও স্পষ্ট হলো না, আর হিসাবের একটা দিনও শেষ। সামনে ডিসেম্বরের ছোট্ট আরেকটা দিন – অথচ লম্বা-চওড়া পরিকল্পনা — দলিয়ান পাড়া যেতে হবে, তারপর আকাশ-কুসুম পরিকল্পনা অনুযায়ী একদিনে দুটো পাহাড়-চূঁড়ায় আরোহণ করে উদ্ধার করে ফেলতে হবে – এসব এখন রাতে দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা না দিলেই হয়।

তখন কে জানতো, দুঃস্বপ্ন শুধু রাতেই মানুষ দেখে না, দিনের উদ্ভাসিত আলোয়ও চাক্ষুষ করে…

(চলবে)

পরের পর্ব »

– মঈনুল ইসলাম

_______________________________________

টীকা

বর্তমানে (২০১৭ খ্রি.) দেশের সবচেয়ে উঁচু রাস্তা হচ্ছে থানচি-আলীকদম সড়ক। এটি ২,৫০০ফুট উঁচুতে অবস্থিত, আর এর দৈর্ঘ্য ৩৫ কিলোমিটার, যা শংখ আর মাতামুহুরী নদীর কিনারা ভাগ করা চিম্বুক পাহাড়শ্রেণীর (রেঞ্জের) ডিম পাহাড় এলাকার উপর দিয়ে গেছে। এটি আলিকদম হয়ে কক্সবাজারের সঙ্গে মিশেছে।

দ্রষ্টব্য

সমতলভূমি থেকে একটু উঁচু স্থানকে টিলা, তারও চেয়ে উঁচু স্থানকে পাহাড়, আর তারও চেয়ে উঁচু স্থানকে পর্বত বলে – এটাই আম জনতার হিসাব। সংজ্ঞার দিক দিয়ে বিভিন্ন রকম সংজ্ঞা পাওয়া যায় (দ্রষ্টব্য: Mountain – Wikipedia^), যার কোনোটাই আমি মাপকাঠি হিসেবে এককভাবে ধরতে পারিনি – মূল কারণ: আমার কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তবে বাংলাদেশের পাহাড়-পর্বতের পথে যাঁরা পথিকৃত, তাঁদের একজন হলেন মীর শামসুল আলম বাবু। আমি তাঁর কথার উদ্ধৃতি নিয়ে লিখতে চাই: বাংলাদেশে কোনো পর্বত নেই (প্রেক্ষিত ২০১৭)।

যদি ধরে নিই ‘পর্বত’ নেই, তাহলে সেই পাহাড় চূঁড়ায় উঠে তাকে ‘সামিট করা’ বলাটাও অনেকে সমর্থন করেন না। যেহেতু ইংরেজি Summit শব্দের অর্থ ‘চূড়ায় আরোহণ’, সেই অর্থে আমি পাহাড় হোক, পর্বত হোক ‘সামিট’ শব্দটি ব্যবহারের বিপক্ষে নই। কারণ, “কী সামিট করেছেন” প্রশ্নটার উত্তর খুঁজলেই ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়ে যায়, তাই আমি লেখায় সর্বত্র “পাহাড় চূড়ায় আরোহণ”-কেও ‘সামিট করা’ লিখেছি।

৩ thoughts on “যোগী হাফং – একটি ব্যর্থ অভিযান

  1. “তাজিং ডং ট্রেকে একটা পাইপের উপর ভারসাম্য রক্ষা করে এগিয়ে যাবার স্মৃতি রোমন্থন করে গায়ে কাটা দিল মোহনের। সেখানেই কোরেশীকে হারিয়ে ফেলেন তারা – কোনো সন্ধানই পাওয়া যাচ্ছিল না। বিপদে পড়ে যায় সবাই। অবশেষে ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় হাওয়া থেকে জীবিত হয়ে ফিরে আসে কোরেশী – এখন সেই স্মৃতি শুধু হাসিরই খোরাক – কিন্তু ঐ মুহূর্তে দলের বিপদটা ওখানে বসেই আঁচ করতে পারছিলাম আমরা।” এইখানে তথ্য বিভ্রাট আছে। ট্রেকটা ছিল শিপ্পি’র, তাজিংডং এর না। আর হারিয়ে গিয়েছিল আমাদের বন্ধু শাহরিয়ার।

মন্তব্য করুন