অফ-ট্র্যাক বান্দরবান ২০১২ (কিস্তি ৩)

আমাদের প্রকৃত যাত্রাপথ রুমা খালের মুখ (22° 1’57.00″N, 92°24’53.48″E) থেকে শুরু বলে শেষবারের মতো আমরা সম্মিলিতভাবে হাত তুলে প্রার্থণা করে নিলাম আল্লাহ’র কাছে। স্বাভাবিকভাবেই সে প্রার্থণায় বিকাশ আর আপেল সামিল হলো না। আমরা পানিতে পা রাখলাম, ভিজিয়ে ফেললাম পরনের অ্যাংকলেট, এবং এটাও বুঝলাম, আমাদেরকে এভাবে পথে অনেক অনেকবার ভিজতে হবে, শুকাতে হবে —এগুলো গোনায় ধরা যাবে না।

এখান থেকেই যাত্রা শুরু হয় আমাদের, রুমা খালের শুরু এখান থেকে। (ছবি: লেখক)
এখান থেকেই যাত্রা শুরু হয় আমাদের, রুমা খালের শুরু এখান থেকে। (ছবি: লেখক)

পথ শুরু হলো আমাদের ঝিরি পথ ধরে। পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি যে প্রবাহ সৃষ্টি করে চলে, আমার সিলেট অঞ্চলে সেগুলোকে বলে ‘ছড়া’ (যেমন: ‘হাত ছড়া’/‘সাত ছড়া’ থেকে ‘সাতছড়ি’), আর চট্টগ্রামে সেগুলোকে বলে ‘ঝিরি’। আমাদের পথ এখন থেকে এভাবেই ঝিরি ধরে চলবে, তাই আমাদের পানি বহন করার দরকার নেই। ঝিরির পানি স্বচ্ছ, যদিও শীতকাল বলে পানি খুবই কম, তবে হীম্‌ম্‌ম্‌-শীতল —বরফের মতো ঠান্ডা।

দৃশ্য দেখা শুরু হলো। জানি, সামনে অপেক্ষা করছে এর থেকেও অপূর্ব অপূর্ব সব স্থান, তবু এই দৃশ্যও উপভোগ করতে মন চাইছে। কিন্তু হাঁটায় বিরতি দেয়া চলবে না — সময় = স্বর্ণ। আমরা পার করে চলেছি ‘বড়শি পাড়া’। বড়শি পাড়ার এই দিকে কাছেই রয়েছে ‘ইডেন রোড’। বলাই বাহুল্য, আমরা রোডে নয়, ঝিরিতে রয়েছি।

ঝিরিপথ ধরে আমাদের পথ চলা, প্রথম দিকে (ছবি: লেখক)
ঝিরিপথ ধরে আমাদের পথ চলা, প্রথম দিকে (ছবি: লেখক)

ঝিরি পথে চলার পদ্ধতি হলো, খালের পাড় ধরে চলতে হবে, সেখানে নুড়ি পাথর থাকতে পারে, কাদা থাকতে পারে, বালি থাকতে পারে, ঘাস থাকতে পারে, ঝোঁপ থাকতে পারে, পাথর থাকতে পারে —হাঁটতে হবে। আর যেখানেই সামনে খাড়া পথ আসবে, সেখানেই ঝিরি ডিঙিয়ে ওপর পাড়ে যেতে হবে, তারপর আবার চলা শুরু হবে। আবারো সামনে বাধা এলে এপাড়ে এসে চলতে হবে। আমরা পানিতে ভিজছি, আবার ডাঙায় উঠে বালিতে পা রাখছি, পায়ের অবস্থা হচ্ছে দেখার মতো। কিন্তু সেদিকে তাকানোর ফুরসৎ নেই। পথ চলতে থামা যাবে না।

আবুবকর তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে আমাকে নির্দেশনা দিলেন, ‘নয়ন, আপনি সবসময় আপেলের সাথে সাথে থাকেন।’ আপেল চলছে সবার আগে, আমি দলনেতার কথা মান্য করলাম, এবং বলাই বাহুল্য, তাতে আমার বিন্দুমাত্র কষ্ট হলো না। রাসেল, নাকিব একটু পিছিয়ে পড়েছে, দেখা গেল কামরুলও। রাসেল আর নাকিব পিছিয়েছে হাঁটার অনভ্যস্থতায়, রাসেল ছবিও তুলছে, আর কামরুল পিছিয়েছে ছবি তোলার কারণে। আবুবকর তাড়া দেয়ায় সবারই সম্বিত ফিরে এলো। ক্যামেরা পুরে নিয়ে পা চালালো। আবুবকর পরে আমাদেরকে শিখিয়েছেন, সবসময়ই সবার আগে যে থাকে, সে সব সময়ই আগে থাকতে পারে। আর সবার পিছনে যে থাকে, সে সব সময়ই পিছিয়ে যেতে থাকে। তাই দলকে সচল রাখতে পিছনের জনকে সব সময়ই সামনে এগিয়ে দিতে হয়। আমাকে আপেলের সাথে চলতে বলার উদ্দেশ্যও ছিল সেটা।

আমার দাদাবাড়ি, নানাবাড়ি দুটোই সিলেটে। দাদাবাড়ি হাওরাঞ্চলে, নানাবাড়ি পাহাড়ে। এছাড়া ছোটবেলা থেকেই আমি ছিলাম একটু উদ্যমী, আলহ্বামদুলিল্লাহ। গাছে চড়তেও আপত্তি নেই আমার। তাছাড়া বয়সের তুলনায় শরীরটা একটু বেশিই হালকা, তাছাড়া সবসময়ই আমি প্রচণ্ড দ্রুত গতিতে হাঁটি, ঢাকায় থাকলেও। তাই নিজেকে টানতে আমার কখনোই কোনো কষ্ট হয় না, বাতাসের বেগে চলি। 🙂 এবারে, তার সুফল হাতেনাতে পেতে থাকলাম। নিজের ব্যাপারে একটু সন্দিঘ্ন হলেও একটু একটু করে আত্মবিশ্বাস পেতে শুরু করলাম।

আমাদের পথটা ‘লাইরাম্পি পাড়া’র পাশ দিয়ে চললো, এটা একটা মিশ্র পাড়া, যেখানে ত্রিপুরারা ছাড়াও আরো বিভিন্ন জাতির লোক একত্রে বাস করে। আপেল আর আবুবকর জানালেন, এখানেই আর্মি ক্যাম্প। আমরা চাইলে এদিকে দিয়েও নামতে পারতাম, কিন্তু আমরা খাল ধরে চলবো বলে খালের শুরু থেকে যাত্রা শুরু করেছি। আমাদের পথ চলছে, আমরা চলছি।

ত্রিপুরাদের সম্পর্কে একটু বলি: ত্রিপুরারা মূলত ভারতের ত্রিপুরা’র বাসিন্দা, তাদেরই অপভ্রংশ হলো বাংলাদেশের ত্রিপুরা উপজাতি, যাদের একটা বৃহৎ অংশের বাস কুমিল্লায়, এছাড়াও রয়েছেন সিলেট আর এই চট্টগ্রামে। বাংলাপিডিয়ামতে, এরা নিজেদেরকে টিপরা, তিপারা বা তিপ্রা নামেও পরিচয় দেয়। চাকমাদের কাছে এরা ‘তিবিরা’, মারমাদের কাছে ‘ম্রোং’, লুসেইদের কাছে ‘তুইতুক’, আর পাঙ্খোদের কাছে ‘বাই’ নামে পরিচিত এরা। ত্রিপুরাদের একটা নিজস্ব ভাষা ছিল, নাম ‘ককবোরক’ বা ‘ককবরক’, এই ভাষার ছিল নিজস্ব হরফ বা গ্লীফও। রহস্যপত্রিকার সেপ্টেম্বর ২০০৮ সংখ্যায় আমি জানতে পারি, ককবরক ভাষার প্রথম “ককবর্মা” ব্যাকরণ রচনা করেছিলেন একজন বাঙালি, নাম তাঁর দৌলত আহমেদ মজুমদার (এই বিজ্ঞজন, বিদ্যজন সম্পর্কে বলতে গেলে আলাদা একটা লেখার দরকার)। ২০০০ খ্রিস্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর ককবরক ভাষার লেখ্যরূপের ১০০ বছর পূর্তিতে উৎসব (ককবরক ভাষায়: ‘ককবরক তের’) পালিত হয় ভারতের ত্রিপুরায়। ‘কক’ অর্থ ভাষা, আর ‘বরক’ অর্থ মানুষ, অর্থাৎ ককবরক অর্থ মানুষের ভাষা। ত্রিপুরাদের মধ্যে হিন্দুধর্মের প্রভাব দেখা যায়, তবে এখনকার ত্রিপুরাদের অনেকেই মিশনারীদের প্রভাবে খ্রিস্টধর্মে দিক্ষীত (আমি সেটাকে বলি ‘লৌকিক খ্রিস্টধর্ম’)।

বিরাট বিরাট উঁচু পাহাড়গুলো আমাদেরকে ডাকছে দূর থেকে, সেগুলোর দিকে তাকাতে পারছি না, কারণ মাথার উপরে তীব্র সূর্যের তাপ। সূর্যের তাপ থেকে বাঁচতে গামছাটা মাথায় দিয়ে রেখেছি। এর আগে ধুলা থেকে বাঁচতে গামছা দিয়ে মুখও ঢেকেছিলাম। বাঙালির এই উপাদানটি রীতিমতো ম্যাজিক। ঝিরিপথ ধরে চলতে চলতে কোথাও দেখা যায় বাঁধ, পাথর দিয়ে ঝিরির পানিতে বাঁধ দেয়া হয়েছে। ওগুলো দেখলেই আমার বীভারের বাঁধের কথা মনে পড়ে যায়।

বীভারের মতো এরকম বাঁধ দিয়ে আদিবাসীরা মাছ চাষ করেন (ছবি: লেখক)
বীভারের মতো এরকম বাঁধ দিয়ে আদিবাসীরা মাছ চাষ করেন (ছবি: লেখক)

বীভার (Beaver) হলো দক্ষিণ আমেরিকার এক প্রকারের প্রাণী, দেখতে কাঠবিড়ালির মতো, ঐ গোত্রেরই প্রাণী, বেশিরভাগই নিশাচর। ইউরোপ আর এশিয়াতেও কিছু আছে। এরা জঙ্গলে, পানির উৎসের কাছাকাছি থাকে। এরা এতোটাই দক্ষ যে, নিজেদের প্রয়োজনে এরা জঙ্গলের ছোট ছোট ডালপালা থেকে শুরু করে বড় বড় গাছ অবধি কেটে টেনে এনে, পাথর, মাটি, কাদা দিয়ে নদীতে জটিল বাঁধ সৃষ্টি করতে পারে। এরা সাধারণত গাছের নরম বাকল খায়, খায় লতাপাতা, জলজ আগাছা, সবজি ইত্যাদি। তাছাড়া এরা এতোটাই দক্ষ যে, ওরা পানির কাছেই ভূগর্ভস্থ গুহা বানায়, যার ঢোকার একাধিক মুখ থাকে, সবগুলো থাকে পানির নিচে। গুহার ভিতরে লতাপাতা, ডালপালা দিয়ে মেঝে বানায় ওরা। যাহোক, বীভারের বাঁধ হয় অপূর্ব, দেখার মতো। তবে জঙ্গলে, বীভারের কাছাকাছি কেউ যদি বাড়ি বানায়, তবে বীভারের কারণে তাদের অনেক ভোগান্তিও পোহাতে হতে পারে। হয়তো তাদের বাড়ির নিচেই সুড়ঙ্গ করে বিশাল গুহা দূর্গ গড়ে মাটি দিয়ে পুরো বাড়িটা ভরে ফেলে এরা।

বান্দরবানে বীভার থাকার কথা না। তাই এখানে, ঝিরিতে বাঁধ মানে হলো, পাশেই কোনো গ্রাম, মানে পাড়া আছে। কোথাও আবার ঝিরির পাথরের উপর কৃত্রিম ছোট ছোট মাঁচা। আবুবকর পরিচয় করিয়ে দিলেন, এগুলো দিয়ে আদিবাসীরা পূজা করেন; হয়তো জলশক্তির পূজা করেন প্রকৃতি-পূজারি মানুষগুলো, মাছের প্রয়োজনে। ধরে নিলাম পাশের কোনো পাড়ায় ত্রিপুরারা বাস করে।

পাহাড়ের কোলে কার্পাসের ক্ষেত (ছবি: লেখক)
পাহাড়ের কোলে কার্পাসের ক্ষেত (ছবি: লেখক)

আমাদের পথচলা থামার নয়, কখনও আদিবাসীদের চাষ করা কার্পাসের ক্ষেতের ভিতর দিয়ে, কখনও তাদের কুমড়া ক্ষেতের, কখনও আফিম ক্ষেতের ভিতর দিয়ে চলছি। আমাদের কাছে আফিম ঘৃণিত নেশাদ্রব্য হলেও পাহাড়িদের কাছে এটা অনেকটা ঐতিহ্যগত উপাদান —হয়তো পাহাড়ের প্রচন্ড কষ্ট লাঘব করে দেয় বলেই এটা ঐতিহ্যের অংশ হয়ে গেছে। কোথাও দেখা গেলো পাহাড়ধ্বস। উঁচু পাহাড়ের গা থেকে বড় গাছসহ পাথর ভেঙে পড়েছে ঝিরির পানিতে।

ঝিরির পানি খুবই স্বচ্ছ। তবে এখানে একাট কিন্তু আছে (ছবি: লেখক)
ঝিরির পানি খুবই স্বচ্ছ। তবে এখানে একটা কিন্তু আছে (ছবি: লেখক)

পানির কোথাও কোথাও পাথর খুব পরিষ্কার, কোথাও আবার পাথরে প্রচুর সবুজ শ্যাওলা। শ্যাওলা-ধরা-পাথরে পা না দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। তাই সেখানে পানিতে পা ডুবিয়ে হাঁটা ঢের ভালো। অন্তত পা পিছলে মচকাবে-তো না। …রাসেল দেখলাম বেশ পিছিয়ে পড়ছে। কারণ কী, জানতে চাইলে সে জানালো, তার বাম পায়ের পাতায় প্রচন্ড ব্যাথা হচ্ছে, আমি আন্দাজ করলাম, কোথাও হয়তো বেকায়দায় পা পড়ে মচকে গেছে। কষ্ট করে হাঁটছে সে অবশ্য।

নাকিবের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে বৈকি, কিন্তু কষ্টটা হবে জেনেই সে এসেছে, তাই গা করছে না। কিন্তু শারীরিক কষ্টকেতো আর ঢেকে রাখা যায় না, চেহারায় তার ছাপও পড়ছে খানিকটা। আমরা প্রায় ২ ঘন্টার কিছু বেশি সময় ধরে হাঁটছি, আমি লক্ষ করলাম, আমার দুই ঠোঁট বন্ধ, অথচ আমার এতক্ষণ হাঁটায় হাঁপানোর কথা ছিল, মুখ হা করে শ্বাস নেবার কথা ছিল। নিজের প্রতি আরেকটু আশ্বস্ত হলাম, যাক, আমি বেশ উদ্যম ধারণ করছি তাহলে।

মাঝে মাঝে বোতল বের করে পানি খেয়ে নিচ্ছি আমি। বোতল বহন করতে নিষেধ করাসত্ত্বেয় আমি একটা বোতলে পানি ভরে ব্যাগের ভিতর রেখে দিয়েছিলাম। আমি সেটা বের করে গলা সামান্য ভিজিয়ে নিলাম। সার্ভাইভাল গাইড থেকে জেনেছিলাম, একসাথে অতিরিক্ত পানি পান না করে নিয়মিত অল্প পরিমাণ পানি খেতে থাকাটা খুব কাজের। শরীরে সব সময়ই পানির একটা প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে শরীরের কার্যক্ষমতা সঠিক থাকে। তাছাড়া আবুবকর বলে দিচ্ছিলেন, যদি পেশি সংক্রান্ত সমস্যায় পড়তে না চাও, তবে পানি খাওয়া চালিয়ে যাও। তাই মাঝে মাঝে পানি চালিয়ে, পথ চলছিলাম আমি।

মাঝখানে সামান্য বিরতি দিয়ে আবার অনেকক্ষণ পথ চলে আমরা হাজির হয়ে গেলাম ‘বগামুখ পাড়া’-তে। বগামুখ পাড়া মানে কিন্তু বগা লেক নয়, এখান থেকেও ঝিরি ধরে আরো প্রায় ২ ঘন্টার মতো হাঁটাপথ বগা লেক। আর আমরা যেখানে স্টেশন করেছি, সেটা ঠিক পাড়াটা নয়, এটা হলো ঝিরি ধরে বগা লেক গমনকারীদের বিশ্রাম এবং খাওয়া-দাওয়ার জন্য পাহাড়িদের একটা মিনি-বাজার-মতো। এখানে দোকান রয়েছে, পাহাড়ি রেস্তোরাঁ রয়েছে। এই মিনি-বাজার পাড়টিরও একটা নাম আছে, ‘উবাংখই পাড়া’ (22° 1’6.32″N, 92°27’22.15″E)। এখানে ইউরোপীয় কমিশনের দেয়া গণপাঠশালা কাম গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রও রয়েছে।

আমরা সেরকমই একটা রেস্তোরাঁ-তে গিয়ে বসলাম। ব্যাগগুলো খুলে রেখে গা এলিয়ে দিলাম পাশের বাঁশের বিছানাটায়। পা থেকে অ্যাংকলেট খুলে দেখি, তার ভিতরে জমেছে এক গাদা নুড়ি পাথর। সেগুলো ফেলে পরিষ্কার করে আবার পরে নিলাম। এখানে মাত্র আধা ঘন্টার বিরতি পাবো আমরা —ঘোষণা করলেন আবুবকর। আর এখানে যা খেয়ে যাবো, তার পরে আর রাতের খাবার। বিকালে আর খাবারের কোনো ব্যবস্থা হবে না। সুতরাং যত পারো ভালো করে খেয়ে নাও।

রেস্তোরাঁর দায়িত্বে থাকা মহিলা জানালেন ভাত রান্না করতে সময় লাগবে। তাই আমরা ঠিক করলাম কলা খাবো। বেশি, অনেক বেশি করে কলা খাবো, সাথে খাবো আমাদের সাথে করে আনা বিস্কুট আর দোকান থেকে কেনা বনরুটি। ব্যস, এভাবে আমরা প্রচুর কলা খেলাম। সেখান থেকে চা খেয়ে নিলাম ক্যাফেইন দিয়ে শরীরটাকে চাঙা করতে। গা এলিয়ে দিয়ে একটু চোখ বন্ধ করে মনঃসংযোগের চেষ্টা করে নিজেকে প্রশান্ত করারও প্রয়াস ছিল। তারপর সেখানে কলার চামড়া গুনে টাকা পরিশোধ করলাম আমরা।

বগামুখ পাড়ায় আমরা বেরিয়ে পড়ছি আবার (সামনে আপেল, ডানে কামরুল, বামে দুই হাত ছেড়ে রাসেল, এক্কেবারে পিছনে আমি, একটু সামনে ক্যাপ মাথায় আবুবকর, তাঁর সামনে ক্যাপ মাথায় বিকাশ) (ছবি: নাকিব)
বগামুখ পাড়ায় আমরা বেরিয়ে পড়ছি আবার (সামনে আপেল, ডানে কামরুল, বামে দুই হাত ছেড়ে রাসেল, এক্কেবারে পিছনে আমি, একটু সামনে ক্যাপ মাথায় আবুবকর, তাঁর সামনে ক্যাপ মাথায় বিকাশ) (ছবি: নাকিব)

আবুবকর ঘোষণা দিলেন, উঠে পড়ো সবাই। নাহলে দেরি হয়ে যাবে। আবার ব্যাগ কাঁধে তুললাম। গামছা গলায় জড়িয়ে বেরিয়ে গেলাম রেস্তোরাঁ থেকে। পাশের পাহাড়েই বগামুখ পাড়া। সেখানে যাবার উদ্দেশ্য আমাদের নেই। আমরা এখন আর্মির বেঁধে দেয়া পথ ছাড়িয়ে যাবো, অচিন গন্তব্যে। আবার যাত্রা হলো শুরু, নেমে গেলাম আমরা ঝিরিপথে।

বিপত্তি ঘটালো রাসেল; তার পায়ে ব্যাথা করছে।

(চলবে…)

-মঈনুল ইসলাম

পরের পর্ব »

 __________________________________

বিশেষ দ্রষ্টব্য: যাবতীয় ভৌগোলিক স্থানাংক “ভ্রমণ বাংলাদেশ”-এর সদস্য আবুবকরের সহায়তায় প্রাপ্ত।

৫ thoughts on “অফ-ট্র্যাক বান্দরবান ২০১২ (কিস্তি ৩)

  1. সবসময়ই সবার আগে যে থাকে, সে সব সময়ই আগে থাকতে পারে। আর সবার পিছনে যে থাকে, সে সব সময়ই পিছিয়ে যেতে থাকে।
    ****************** আমাকেও বকর ভাই একই শিখা দিয়েছে এবং সত্যিই কাজের কথা ::: সালাম বকর ভাই ::********************
    ——শাইফুল সুমন(ভ্রমন বাংলাদেশ)

  2. আমাদের পথটা ‘লাইরাঙ্গি পাড়া’র পাশ দিয়ে চললো, এটাও একটা ত্রিপুরা পাড়া

    পাহাড় ও পাড়ার নাম লাইরাম্পি এবং এই পাহাড়ে আছে গুচ্ছ পাড়া (যেখানে বিভিন্ন জাতের উপজাতি একই পাড়ায় থাকে)

    1. আবুবকর ভাই, একদম ঠিক বলেছেন। আমি ভুল করে ওটাকে “লাইরাঙ্গি” লিখেছিলাম। তবে মিশ্র পাড়ার ব্যাপারটা জানা ছিল না, আমি নোট নিয়েছিলাম ত্রিপুরা পাড়া হিসেবে। আপনার পরামর্শমতো পোস্টে ঠিক করে দিয়েছি তথ্যটা। তবে আবারো একটা ভুল করলাম, আপনার লেখা “গুচ্ছ” শব্দটা সুন্দর হওয়াসত্ত্বেয় ভুল করে আমি “মিশ্র” লিখে ফেললাম। 🙂

মন্তব্য করুন