নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণ ২০০৯ – পর্ব ১

নিঝুম দ্বীপ আসলে চর ওসমান – সেটা বুঝতে বেশিক্ষণ লাগলো না। কিন্তু যখন বুঝলাম, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

রাতে লঞ্চ ভ্রমণ তাও যমের মুখে বসে – এর চেয়ে দুর্দান্ত অভিযান আর কী হতে পারে?

নিঝুম দ্বীপ, নামটা পত্র-পত্রিকায় অনেক শুনেছি। এই দ্বীপে যাবার ইচ্ছা যে খুব ছিল, তা বলবো না। আমার ঘুরণচণ্ডী বন্ধু নাকিবই হঠাৎ পরিকল্পনাটা করে ফেললো। আর তারই বদৌলতে ভ্রমণের উদ্যোগ। ভ্রমণসঙ্গীরা:

  1. সৈয়দ নাকিব আহমেদ: আমার স্কুলজীবনের ঘনিষ্ট বন্ধু। স্বশিক্ষিত কীবোর্ড বাদক। গিটার বাজিয়েও সুনাম কুড়িয়েছে তখন।
  2. ইমদাদ উদ্দীন শাকিল: নাকিবের মামাতো ভাই। শাকিল ভাই ট্যুরে থাকবেন এটা জেনেই মনে হলো ট্যুরটা মজার হবে – এই লোক অনর্গল মজা করতে পারেন।
  3. আফজাল হোসেন: শাকিল ভাইয়ের বন্ধু। তাঁর সম্বন্ধে কিছুই জানি না।
  4. আর, আমি কেউ না।

TL;DR – বেহুদা প্যাঁচাল, পড়বেন না

এইসব ভ্রমণকাহিনী সব বেহুদা প্যাঁচাল। পড়ার কোনোই দরকার নেই। সারমর্ম লিখেছিলাম ফিরে এসে, ওটা পড়ে ফেলুন: নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণ (যাবতীয়)

২০ ডিসেম্বর ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ – রবিবার

লিখতে বসে “রবিবার” দেখে এখন নিজেই আঁৎকে উঠলাম। আসলে তখন ছাত্র ছিলাম। তাই ‘বার’ সংক্রান্ত বিশেষ বাছ-বিচার ছিল না। দলের প্রত্যেকেরই সমস্যা ছিল না বিধায় সপ্তাহের মাঝখানে নির্ঝঞ্ঝাট একটা ভ্রমণে বেরোতে পেরেছিলাম।

আমরা যাত্রা শুরু করলাম নিঝুম দ্বীপের উদ্দেশ্যে। যাবার আগে ফেসবুকে একটা পেজ থেকে নাকিব বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করলো, আর আমিও বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা থেকে যথাসম্ভব জেনে নিয়েছিলাম নিঝুম দ্বীপ সম্পর্কে। অনলাইনে বিভিন্ন আবহাওয়ার পোর্টালগুলো ঘেঁটে ঘেঁটে সমুদ্রের অবস্থাও জেনে নিয়েছিলাম, কারণ নিঝুম দ্বীপের অবস্থান – এক্কেবারে নাঙ্গা সমুদ্রের মুখে।

নিঝুম দ্বীপে সরাসরি কোনো বাহন নেই। যেতে হয় হাতিয়া হয়ে। হাতিয়া, নোয়াখালী জেলার বিশাল আরেকটা দ্বীপ। সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে হাতিয়ার লঞ্চ ছাড়ে। দেখা গেলো, সময়ের আগেই তিন বান্দা হাজির, কিন্তু শাকিল ভাইয়ের দেখা নেই। ফোন দেয়া হলো। “এইতো বের হচ্ছি…” ব্যাটা বলে কী, এখনও বেরই হয়নি! লেট-কান্ডারি শাকিল ভাই লঞ্চ ছাড়ার মিনিট দশেক আগে লঞ্চে উঠলেন।

লঞ্চে দুভাবে যাওয়া যায় – কেবিন ভাড়া করে, অথবা খোলা ডেকে (মানে দ্বিতল লঞ্চের যেকোনো খোলা র‍্যাম্পে বসার ব্যবস্থা করে) বসে পড়ে – এই বিষয়টা প্রথম দেখি শরীয়তপুর ভ্রমণে গিয়ে – সে কাহিনী নাহয় অন্য আরেকদিন বলবো…। যাহোক, লঞ্চের একেবারে সামনে, দোতলায়, একটা বেঞ্চ পাতা। পাশেই একটা পানির ট্যাংক রাখা। শাকিল ভাই আসার আগেই আমরা তিনজন বেঞ্চটা দখল করে ফেলেছি। নিজেদের পছন্দে নিজেরা দারুণ খুশি। লঞ্চের একেবারে সামনে বসার কারণে উন্মুক্ত সামনাটা দিয়ে সামনের পুরো দৃশ্যপটই আমাদের নজরে আসছে। যাত্রাটা দারুণ উপভোগ্য হবে নিশ্চিত।

সদরঘাটে অবস্থান করা খুবই বাজে ব্যাপার। পঁচা, ময়লা, নোংরা, দুর্গন্ধের ডাস্টবিন বানিয়ে ফেলা বুড়িগঙ্গা থেকে অনবরত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এখান থেকে ছাড়লেই বাঁচি। নিজেদের জিনিসপত্র বেঞ্চে কিংবা বেঞ্চের পাশে রেখেছি। জিনিসপত্তর বলতে ব্যাগ আরকি। আমার তখন ক্যামেরাও নেই। বন্ধু রাকিবুস সালেহীন রিফাতের থেকে একটা Samsung Digimax পিচ্চি ক্যামেরা ধার করে নিয়ে গিয়েছিলাম। নাকিবের 12x যুম Sony ক্যামেরা তখন বরাবরের মতোই শ্রেষ্ঠ ভরসা। নাকিব একটা বড়সড় দূরবীণ নিয়ে এসেছে। আফজাল ভাই একটা বল্টু সাইজের দূরবীণ নিয়ে এসেছেন। এছাড়া নাকিব ওর গিটার নিয়ে এসেছে – এই আমাদের সম্বল।

যাহোক, লঞ্চ ছাড়লো। যদ্দূর মনে পড়ে আধাঘন্টা বিলম্বে সাড়ে ৬টায় ছেড়েছিল। তখন বাংলাদেশের ইতিহাসে, প্রথম এবং শেষবারের মতো চলছিল দিবালোক সংরক্ষণ সময় বা Daylight Saving Time (DST)। শীতকাল, তাই আমরা শীতনিবারণী জ্যাকেট, সোয়েটার, চাদর ইত্যাদি গায়ে দিয়ে লঞ্চের ডেকে দাঁড়িয়ে দৃশ্য দেখছি।

শাকিল ভাই শুরু থেকেই শুরু করলেন হাসি। এই লোকের হাসি সংক্রামক। হাহা, ঠাঠা করে যেভাবে শরীর দুলিয়ে হাসেন, না হেসে পারা যায় না। দুনিয়ার হেন বিষয় থেকেও তিনি হাসির কিছু না কিছু একটা খুঁজে বের করে নেবেন ঠিকই।

সন্ধ্যে হয়ে গেছে। শহরের বাতিগুলো জ্বলে উঠেছে। কিন্তু যত এগোচ্ছি, বাতি তত কমছে। একমাত্র বাতি ছিল লঞ্চের ডেকে। সেটাও লঞ্চ ছাড়ার সময় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সম্ভবত বাতির কারণে সামনেটা দেখতে সমস্যা হয় সারেঙ-এর (এই নামেই তো ডাকে লঞ্চের ক্যাপ্টেনকে, তাই না?)।

কিছুদূর এগোতেই আমরা বুঝতে পারলাম কী সাক্ষাৎ যমের মুখে পা দিয়ে দিয়েছি আমরা নিজেদের অজান্তেই। এতো সুন্দর একটা স্পট রেখে মানুষজন কেন লঞ্চের নিচে, ডেকে গাদাগাদি করে বসে আছে; আমাদের জোড়া সীটটা কেউ দখল করবার জন্য পায়চারী পর্যন্ত করছিল না কেন এবারে আমরা বুঝতে পারলাম – হাড়ে হাড়ে টের পেতে শুরু করলাম। যমদূততো সবে এলেন। তিনি এখন বসবেন। আমাদের গায়ে হাত বুলিয়ে দেবেন… একেতো ডিসেম্বরের শীত, তার উপর শহর ছেড়ে গ্রামাঞ্চলের দিকে যাচ্ছি, তার উপর নদীর উপর আছি – সব মিলিয়ে লঞ্চ যত সামনের দিকে এগোচ্ছে, তীব্র কনকনে ঠান্ডা, হীমমম করা লু বাতাস এসে আমাদেরকে রীতিমতো উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার জোগাড়।

শীত আমাকে কাবু করে বরাবরই, শরীরে নাই মাংস। তাই আমি সব প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিলাম। জ্যাকেট খুলে ভিতরে আরো কয়েক প্রস্থ পরে নিলাম। প্যান্টের উপর আরেকটা ট্রাউযার পরে নিলাম। এবার মোটামুটি প্রোটেক্টিভ লাগছে। মাথায় উলের টুপি থাকাসত্ত্বেয় মুখের যেটুকু অংশে ঐ হিমমম বাতাস এসে ছুঁচ্ছে, অনবরত, মনে হচ্ছে, জমে যাবে। …আর এই আখরার দিনে নাকিব দেখি শ্রেফ একটা পাতলা ট্রাকশ্যুটের উপর চাদর মুড়ি দিয়ে বসে আছে। ‘কীরে, তোকে না শীতের কাপড় আনতে বলেছি?’ কোনো কথা নেই। সে এই একটা চাদর নিয়ে নিঝুম দ্বীপ চলেছে। বুঝেন এবার অবস্থা?

আফজাল ভাই, শাকিল ভাই, আমি – তিনজনই মোটামুটি ভালো প্রোটেকশন নেয়াসত্ত্বেয় কষ্ট পাচ্ছি। সেখানে নাকিব এই আকাম করার কারণে কী যে কষ্ট পাচ্ছে তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু এখন করবে কী? অবশেষে ওর ব্যাগ থেকে বিছানার একটা চাদর বের করলো নাকিব। যমদূত আজকে আমাদের সাথে ঘুমাবেন ঠিক করেছেন। আমরা যমদূত থেকে নিজেদেরকে আড়াল করবার জন্য নাকিবের চাদরটা সামনে ধরে রাখলাম। এতে কিছুটা উপকার হলো; মানে, জোব্বা-জাব্বা পরা আমার উপকার হলো আরকি, নাকিবের কতটা কী হলো, সে-ই বলতে পারবে। …বাকি সারাটা রাত ঐ একখানা চাদরই ছিল এই যমদূতের সাথে লড়াই করবার জন্য আমাদের একমাত্র সলিড (?) ঢাল।

লঞ্চ মাঝে মাঝে কোথায় কোথায় জানি থামে। তখন সামনের সার্চ লাইটের মতো অতি আলোকিত বাতিটা জ্বলে উঠে। যমদূত কিছুটা সময়ের জন্য একটু ঘুরতে বেরোন। আমরা দেখি, নদীর ভাঙা পাড় থেকে তক্তা লাগিয়ে লোকজন লঞ্চে উঠছেন, নামছেন। তারপর আবার লঞ্চ চালু হয়। সামনের বাতিটা নিভে যায়। যমদূত হাসতে হাসতে এগিয়ে আসেন, “বাছা, তোমরা ভালো আছো? আরেকটু আদর করতে এলাম…” আমরা বলি, “জ্বি, আমরা আপনার আদর পাবার জন্যই বসে আছি।” 😨

নাকিব আর শাকিল ভাই এরই মধ্যে যমদূত থেকে বাঁচার একটা কায়দা খুঁজে বের করেছেন। ডেকে সিগারেট ফুঁকতে আসা এক ব্যক্তির সাথে নাকিব সখ্য তৈরি করেছে। আর ঐ ব্যক্তির সাথে গল্প করতে করতে গিয়ে ঐ ব্যক্তির কেবিনে ঢুকে বসে আছে। না, আমরা কেউই সিগারেট খাই না। গল্পচ্ছলেই কেবিনে ঢোকা। গল্পও হলো, শীত থেকেও বাঁচা গেলো। কথায় কথায় ঐ ব্যক্তিকে নাকিব জানিয়েছে, আমরা নিঝুম দ্বীপ যাচ্ছি। নাকিবের যে ব্যাপারগুলো আমার ভালো লাগে না, এটা তার মধ্যে একটা। অপরিচিত মানুষের সাথে পেটের সব কথা উগড়ে দিতে পারে সে, তাতে তার বাধে না। আমি এসব ব্যাপারে একটু সিক্রেসিভ। সবাইকে সব বলে লাভ কী? কিন্তু নাকিবের এই দোষটাই এই পুরো ট্যুরের ধরণটাই বদলে দিলো।

দেখা গেল ঐ ব্যক্তি প্রচণ্ড আগ্রহী হয়ে দাওয়াত দিয়ে বসলেন নিঝুম দ্বীপে। যাচ্ছিই তো, আবার দাওয়াত মানে কী? দাওয়াত মানে, এই ব্যক্তি নাকি নিঝুম দ্বীপের ফরেস্টারের ভাই। আচ্ছা! অপরিচিত কারো সাথে কথা বলার সময় সে যখন ওমুক-তমুকের ভাই-চাচা-মামা বলে পরিচয় দেয়, আমি তখন ঐ ব্যক্তির উপর অর্ধেকটা বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি। কিন্তু নাকিব সবই বিশ্বাস করে। বিশ্বাসে মিলায় বস্তু…। এই লোক আমাদেরকে ফরেস্টারের নাম-ধাম, পরিচয়, কিভাবে কী – সব বলে দিতে লাগলো। আমাদের নাকিব মামা লোকটাকে এতোটাই কথার মায়ায় জড়িয়ে ফেলেছে, লোকটা নাকিবকে বললো, তুমি বলবা, তুমি আমার ছেলের বন্ধু। …লাও ঠ্যালা।

ঘটনার আকষ্মিকতায় আমি স্তব্ধ। এই লোক ফরেস্টারের ভাই-ই যদি হবে, নাকিবের মতো একজন অপরিচিত, অচেনা ব্যক্তির জন্য সে তার ছেলের পরিচয় দেয়ার মতো মিথ্যের আশ্রয় নিতে বলাটা একটু বেশি হয়ে গেলো না? তাছাড়া মিথ্যে বলতে বলছে ভাইয়ের সাথে। আমার কাছে বিষয়টা ফিশী মনে হলো। এই লোক সাক্ষাৎ ফাপর নিচ্ছে। নাকিবকে জানিয়ে দিলাম, আমি এসব মিথ্যা-মিথ্যির মধ্যে নেই। কিন্তু কে শোনে কার কথা। নাকিব প্রচণ্ড উৎসাহী। রাজার হালে থাকার ব্যবস্থা করে ফেলেছে সে। তার সাথে যোগ দিয়েছে শাকিল ভাই। তারা এই দাওয়াত কবুল করে নিয়েছেন।


ঐ জমানার মিনি ল্যাপটপ নিয়ে বেঞ্চে বসে দল
ঐ জমানার মিনি ল্যাপটপ নিয়ে বেঞ্চে বসে দল

তখনও অ্যান্ড্রোয়েড ফোন রমরমা হয়নি। নাকিবের একটা ছোট্ট “কোলের উপর” ছিল ঐ জমানায়। চিনলেন না? শিক্ষিত জাতি হিসেবে ইংরেজিতে না বললে আমরা অনেক কিছুই আসলে চিনি না – “কোলের উপর”-এর ইংরেজি “ল্যাপটপ” 😜। প্যাড-এর চেয়ে আকারে একটু বড়, এখনকার মোবাইলের পর্দার চেয়ে সামান্য একটু বড় পর্দার। নদীর মাঝখানে সিটিসেল-এর যুম ইন্টারনেট মোডেম লাগিয়ে সে ল্যাপটপটা চালু করলো। গুগল ম্যাপ খুললো। শম্বুক গতির ইন্টারনেটে গুগল ম্যাপে আমরা পথ-পরিক্রমা দেখলাম।

রাতে আকাশে তারা দেখলাম আমি আর শাকিল ভাই। অগুণতি তারা। ডিসেম্বর মাসে উরসা মেজর একটু সরে যায় মাথার উপর থেকে। তাই আমার মতো নবিশের (novice) তারা দেখাটা একটু কষ্টেরই হয়ে দাঁড়ায়। আমার সাথে জায়নামাজ ছিল। ডেকেই নামাজ আদায় করলাম আমরা। রাতে, নদীর মাঝখানে, অন্ধকারের মধ্যে বসে আমরা পরস্পরের ভূতের অভিজ্ঞতাও শুনলাম আর শিহরিত হলাম।

মাঝে মাঝে আমরা শীত নিবারণের জন্য লঞ্চের ডেকেও গেলাম। ডেক নিচতলায়। সেখানে গাদাগাদি করে মানুষজন বসে আছেন চাদর-টাদর বিছিয়ে। দেখে অস্বস্থি লাগলেও জানি, আর বুঝতেও পারছি, আমাদের তুলনায় তারা যথেষ্ট স্বস্থিতে আছেন, কারণ এখানে ঠান্ডা হাওয়া নেই।

একসময় নাকিব ভাই গিটার ধরলো। শাকিল ভাই ধরলো গান। আমরাও গলা মেলালাম। আফজাল ভাই গলা মেলালেন কিনা মনে নেই এখন। গান চলতে থাকলো একের পর এক। অনেকেই এসে ভিড় ধরে শুনলো আমাদের গান। কিন্তু শীত আমাদের এই আমোদকে ঠিক সায় দিলো না।

রাত গভীর হলে শীত আরো প্রকট হলো। ঠান্ডার ঠ্যালায় নাকিবের আনা চাদরের নিচে আমরা সবাই-ই আশ্রয় নিলাম। একসময় মনে হলো ঠান্ডা তো ঠান্ডা, বাতাসই আমাদেরকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে। আর সেই বাতাস যদি হয় হীমমম…। নিজেরা জড়াজড়ি করে, গা ঘেষে পরস্পরকে উষ্ণ রাখার চেষ্টা করলাম আরকি। বাকি রাত ঐ অস্বস্থির মধ্যেও নাকিব আর আফজাল ভাই ঘুমিয়ে কাটালেন। বসে বসে ঘুম। শাকিল ভাইও সুযোগ পেলে ঘুমোলেন। আমার চোখে ঘুম নেই। ট্যুরে বেরিয়ে ঘুমিয়ে পড়াটা তখন আমার কাছে অপরাধের মতো। এখন বুঝি, ওটা ন্যাসেসিটি


২১ ডিসেম্বর ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ – সোমবার

ভোরের আলো ফুটেছে, যমদূত বিদায় নিয়েছেন 🙂 বাতাসের দাপট, মেঘনার অবারিত জল, ঠান্ডায় কাচুমুচু করতে থাকা দল
শাকিল ভাইয়ের জিনিয়াস লেভেল আইনস্টাইন - দূরবীণ দিয়ে ক্যামেরার যুম বাড়ানো
শাকিল ভাইয়ের জিনিয়াস-লেভেল আইনস্টাইন – দূরবীণ দিয়ে ক্যামেরার যুম বাড়ানো

অবশেষে ভোর হলো। ভোরের আলো ফুটতে দেখাটা আমাদের জন্য যথেষ্ট স্বস্থির কারণ হলো। এবার যমেরও খেলা সাঙ্গ হবে। আর আমরাও কুকুন (cocoon) থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো। গুটি থেকে বেরিয়ে আমরা ফযরের নামায পড়লাম। এক সময় লঞ্চ ঠেকলো “মনপুরা লঞ্চ ঘাট”। নামটা তখন আমাদের কাছে খুবই পরিচিত, কারণ বেশিদিন হয়নি, “মনপুরা” নামে খুব জনপ্রিয় একটা চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছিল তখন। স্বাভাবিকভাবেই আমরা মনে করলাম, মুভিটা বোধহয় এখানেই শ্যুট করা হয়েছিল। কিন্তু আসলে তা নয়।

মনপুরা একটা চর। এটি ভোলা জেলার একটা উপজেলা। উপজেলার এই লঞ্চঘাট জাপান সরকারের ঋণ সহায়তায় ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে বানানো হয়েছিল। একটা কোডও দেয়া আছে দেখলাম: MP 353 – ‘এমপি’ মানে সম্ভবত ‘ম্যারিন পোস্ট’ – নিশ্চিত জানি না। নদীর ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে পাড়ে। পাড় ক্ষয় হচ্ছে। তাতে পাড় ভাঙছে। নদীর বুকে পাড় ভেঙে পড়ে গেছে একটা গাছ। নদীর আগ্রাসী ভাঙন জীবনে এই প্রথম চাক্ষুষ করলাম। শীতকাল দেখে নদী আগ্রাসী রূপে নেই। বর্ষায় কী অবস্থা হয়, তা বুঝতে আর গণক হওয়া লাগে না।

ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় মনপুরা আর তার সামনে পলিময় মেঘনার জল
ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় মনপুরা আর তার সামনে পলিময় মেঘনার জল

মনপুরা ছাড়লে আমাদের নজর গেলো নদীর পানির দিকে। আমরা এখন মেঘনা নদীর বুকে। জীবনে এই প্রথম “পলি মাটি” নিজের চোখে দেখলাম। কেউ যেন পাড়ের সব মাটি এনে নদীর পানিতে গুলে কাদার স্যালাইন বানিয়েছে। সেই পানি যেন কেউ অনবরত নেড়েই চলেছে নেড়েই চলেছে। বলকে বলকে পানি উঠছে, নামছে। পাক খাচ্ছে পানি। বলতে গেলে সারা বাংলাদেশের পানি গিয়ে নামছে সমুদ্রে – সব ময়লা, আবর্জনা, মাটি বয়ে নিয়ে মেঘনা চলেছে বঙ্গোপসাগরের দিকে। চাক্ষুষ করার মতোই দৃশ্য বটে। ক্যামেরায় ধারণের চেষ্টা করলাম, ব্যর্থ হলাম।

বিশাআআল নদী। এর আগে পদ্মা দেখেছিলাম। এবার মেঘনা। যত বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছি, তত বিশাল হচ্ছে। এদিকটাতে দূরে দূরে কোনো চর থাকলে তার ঐ অতটুকু ভূমি বাদে নদীর একুল-ওকুল দুকুলই নাই — কুলকিনারাহীন নদীর বুকে একখানা লঞ্চ — বড্ড অসহায়ের মতোই এগিয়ে চললো সমুদ্রের আরো কাছাকাছি।

কুলকিনারাহীন মেঘনা নদী
কুলকিনারাহীন মেঘনা নদী
হাতিয়ার পথে পাশে এই দৃশ্য অনেকক্ষণ দেখা যায় (ছবি: নাকিব)
হাতিয়ার পথে পাশে এই দৃশ্য অনেকক্ষণ দেখা যায় (ছবি: নাকিব)

এক সময় দেখা গেলো আমরা হাতিয়া ঘাটে পৌঁছলাম। নিচতলার ডেক থেকে তক্তা ফেলে নামার ব্যবস্থা। হাতিয়াতে আমরা এক রেস্টুরেন্টে নাস্তা সারলাম। এখনও নিঝুম দ্বীপ সুদূরে রয়েছে। এখান থেকে অটোরিকশা ভাড়া করতে হয় (তখনকার বেবীটেক্সি আরকি)। নাকিব এগুলোকে ডাকে ‘ডাইনোসর’ বলে; কারণ তখন ঢাকায় সিএনজি অটোরিকশা চালু করে এগুলোকে মূল শহরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাই ঢাকায় এগুলো ডাইনোসরের মতোই বিলুপ্ত। আমাদের বোঁচকা-বাচকি নিয়ে আমি আর নাকিব পিছনে বসলাম। শাকিল ভাই আর আফজাল ভাই ড্রাইভারের দুপাশে দুজন বসলেন। তারপর রওয়ানা।

এই যে রওয়ানা করলাম, তারপর… চলতেই থাকলাম, চলতেই থাকলাম — পথ যেন আর শেষই হবার নয়। নদীবিধৌত চরে আর দৃশ্য কীইবা পাবেন — ধানী জমি। ধান মাড়াই দিয়ে খড় তুলে রাস্তার পাশেই স্তুপ করে খড়ের গাদা বানিয়ে রাখা হয়েছে। ধানী জমিও সব হলুদ খড়ে ভরা — মাইলের পর মাইল হলুদ ক্ষেত। কোথাও জমির মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দ্বিতল সাইক্লোন শেল্টার বা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। এভাবেই আমরা প্রথমে পৌঁছলাম ওছখালি নামক স্থানে। এই অটোরিকশার দৌঁড় এপর্যন্তই।

হাতিয়ায় অটোরিকশায় জায়গা কম
হাতিয়ায় অটোরিকশায় জায়গা কম

নেমে কিছুদূর হেঁটে আরেক জায়গা থেকে আরেকটা অটোরিকশা ঠিক করা হলো। এবার গন্তব্য মোক্তারাঘাট। রাস্তা কোথাও পাকা করা, কোথাও ভাঙা। কোথাও ধানী জমিতে ধান আছে, তো কোথাও ফাঁকা জমিতে শুয়ে আছে গরু। খাঁটি গ্রামীণ পরিবেশ পার করতে করতে আমরা প্রায় পুরো দিনই যেন খুইয়ে চলেছি। দুপুর প্রায় ১টা বেজে গেছে আমাদের, জাহাজমারা গিয়ে পৌঁছেছি।

জাহাজমারার মোক্তারাঘাট নামক স্থান থেকেই নিঝুম দ্বীপের পথে যাওয়া যায়। এখন গুগলে দেখি জায়গার নাম “মোক্তারিয়া”। যাহোক, মোক্তারিয়া ঘাটে গিয়ে দেখলাম খড়ের ছাউনি দেয়া দোকানপাট ইতস্থত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এখানে-ওখানে। সেগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাবার একমাত্র পদ্ধতি হিসেবে ছোট্ট ছোট্ট সৌর প্যানেল লাগানো চালে। ঘাটে গিয়ে দেখলাম, নদী আর সাগরজীবি জেলেজীবনের প্রতীক হিসেবেই বড় বড় নৌকা (সাম্পান?) পাড়ে তুলে রাখা। সামনের এই খাড়ি/খাল পার হলেই ঐইই যে দূরে দেখা যাচ্ছে নিঝুম দ্বীপ। কিন্তু এখনও বেশ অনেকটা দূরে। ঘাটে একটা নৌকা দাঁড়িয়ে আছে। পর্যাপ্ত আরোহীর অপেক্ষায় আছে। ওটারই আরো চারজন আরোহী হিসেবে হাজির হলাম আমরা। কিন্তু জায়গা পূরণ হতে এখনও বেশ দেরি।

নিঝুম দ্বীপে যাবার প্রাক্কালে নৌকায়
নিঝুম দ্বীপে যাবার প্রাক্কালে নৌকায় (ছবি: নাকিব, আফজাল ভাই)

ঘাটে তো আমরা রীতিমতো দর্শনীয় বস্তু হয়ে উঠলাম। পিচ্চিপাচ্চিগুলো তো তাকাচ্ছেই, যুবকরাও দেখি আমাদেরকে খুব পর্যবেক্ষণ করছে। সবচেয়ে হাসি পেলো, যখন একজন আরেকজনকে নাকিবের গিটারের অদ্ভুত আকৃতির ব্যাগটা দেখাচ্ছে। তারা ব্যাগটা নিয়ে খুব গবেষণা করছে বোঝা গেল। একজন আরেকজনকে ব্যাগের চেইন দেখিয়ে বলছে, ব্যাগটা তালা দেয়া যাবে। এরকম অদ্ভুত ব্যাগে তালা না থাকলেই তারা বেশি স্বচ্ছন্দবোধ করতো বোধহয়। কিংবা এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপবাসীর কাছে ‘তালা দেয়া ব্যাগ’-এর গুরুত্বও উপলব্ধি করা যায় এই কথোপকথনে।

যাহোক মোটামুটি আধা ঘন্টা পরে ছাড়লো নৌকা। ইঞ্জিনের ভটভট ছাপিয়ে আমাদেরকে ছুঁয়ে গেলো বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা সাঁই সাঁই বাতাস। তাই বলে এটা মনে করবার দরকার নেই যে, আমরা সমুদ্র সৈকতে রয়েছি। আমরা রয়েছি, হাতিয়া আর নিঝুম দ্বীপের বিভেদকারী খাড়ি কিংবা খালে (“নিঝুম দ্বীপ চ্যানেল” বলা যায় কি?)। এগিয়ে চলেছি আরো দক্ষিণে, বঙ্গোপসাগরের আরো কাছাকাছি।

মোটামুটি আধা ঘন্টা পরে আমরা নিঝুম দ্বীপে ভিড়লাম। এটা হচ্ছে দ্বীপের বন্দর টিলা ঘাট। যদ্দুর মনে পড়ে, শুকনো মৌসুম বলে আমাদেরকে কাদা মাড়াতে হয়নি। বহুদূউউর পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে… আমরা নামলাম নিঝুম দ্বীপে। এবার কী?

ঘাটে রিকশা দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না, কারণ কতটুকু দূরত্বে আমরা যাবো, আমরা বুঝতে পারছি না। রিকশা নিলে এরা কাবু করবে। নাকিব লীড দিচ্ছে পুরো ট্যুরে। এবার সে-ই এগিয়ে গেলো রিকশার দিকে।

এদিকে দ্বীপের যত বল্টু-বাল্টু আছে, সব এসে ভিড় করেছে আমাদের আশেপাশে। একদল ছেলে শার্ট-প্যান্ট পরে, অদ্ভুত সব ব্যাগট্যাগ নিয়ে এসে পটপট করে ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলছে, তাদেরকে না দেখলে কি আর হয়? শাকিল ভাই আর আফজাল ভাই খুব উপভোগ করছেন।

ওদিকে রিকশাওয়ালা যাতে কাবু করতে না পারে, তাই নাকিব আগ বাড়িয়ে নিজের পরিচয় দিলো, “আমরা ফরেস্টার সাহেবের বাড়িতে যাবো। কত?” 😲 শুনে আমার আক্কেল গুড়ুম – নাকিব তার মানে মিথ্যের আশ্রয় নিবেই…। দাম কত বললো, এখন আর মনে নেই। তবে আমাদের কাছে অন্যায্য মনে না হওয়ায় আমরা দুটো রিকশা ঠিক করে নিলাম: একটা এক খালি গা, লুঙ্গি পরা বুড়ো চাচার; আরেকটা হলুদ শার্ট, আর চেক লুঙ্গি পরা এক যুবার।

ব্যাপারটা মোটেই ঠিক হচ্ছে না। একজন অপরিচিত ব্যক্তির কথা শুনে নাকিব এভাবে মিথ্যের আশ্রয় নিয়ে কাজটা মোটেই ঠিক করছে না। এক অজানা শঙ্কায় আমার মনটা খচখচ করতে থাকে। তখনও আমার জানা ছিল না, আমরা কোনো দ্বীপে নয়, আছি একটা চরে। এখানকার মানুষেরা প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে টিকে আছে। এতো বড় একটা মিথ্যা কথা কি তারা ধরতেই পারবে না?

দৃশ্য দেখবো কী? ভয়ে আমার হাত-পা সেঁধিয়ে আসছে…।

(চলবে…)

এবারই প্রথম পর পর ৪ দিনে প্রকাশিত হচ্ছে ৪টি পর্ব। চোখ রাখুন নিশাচর-এ। প্রতিদিন রাত ১০টায়।

পরের পর্ব »

৪ thoughts on “নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণ ২০০৯ – পর্ব ১

  1. ধন্যবাদ জানাই আরেকটি ভ্রমন কাহিনী লিখার জন্য।
    আপনার লেখায় খেয়াল করেছি বিস্তারিত বর্ননা দেয়ার চেষ্টা করেন সাথে আপনার জ্ঞানভান্ডার থেকে প্রসঙ্গ বুঝে অন্যান্য তথ্যও টুক করে ঢুকিয়ে দেন। এটা ভালো। নদীর মত শাখা বিস্তার করলেও পাঠক জানতে পারেন অনেককিছু। তবে, মাধ্যম একটা ব্যাপার। আর মাধ্যম বিচারে পাঠক।

    ছোট গল্প বা উপন্যাসের বেলায় বিশেষ করে পাঠকের কাছে যেন পরিবেশ, পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়। যেন হয় সব দৃশ্যমান। পাঠক নিজেও যেন পড়তে পড়তে একজন অভিযাত্রী হয়ে যান। এমনটা অনেক গুণীজন বলে থাকেন। সে বিচারে এই পর্বে আপনি পাশ করেছেন বলে মনে করি। এটাই আপনার লেখার স্বকীয়তা। তবে আমি মনে করি পাশ ছাড়াও আরও কিছু থাকে। পাঠককে একটা জায়গা ছেড়ে দিতে আমার ভালো লাগে। কিছু আলো ছায়া। ‘ডেপথ অফ ফিল’/ ‘এম্ফেসিস’ এর মত ব্যাপার। পাঠক যদি নিজের মত কিছু কল্পনা করে নিতে নাই পারলো তো গল্পের নৌকায় সে সহযাত্রী হয় কী করে? তাকেও থ্রিলটা পেতে দেই। ভাবতে দেই। যার যার কল্পনা আলাদা। একেকজন একেকভাবে ভেবে নিচ্ছে সেই আলো আঁধারির অংশগুলো। এক গল্পে কত গল্প! সব জায়গায় আলো ফেললে ফোকাস হবে কোনটা, তা গুণী লেখকরা বেশ ভালো ভাবেই আয়ত্তে রাখতে জানেন। আপনার বেলায় আশাকরি তার ব্যাতয় হবে না।

    প্রাথমিক পরিচয় পর্ব ও প্রত্যেক অভিযাত্রীর চরিত্রের একটা ধারনা পাওয়া গেছে এই পর্বে। যা দরকার ছিল। পরিবেশ, প্রতিবেশের ৩৬০ ডিগ্রীর একটা চিত্র দেখাতে পেরেছেন। সাথে তথ্য। দেখাযাক চরিত্রের রঙ বদলায় কীভাবে আর খেলেই বা কীভাবে?

    এবারের লেখাটা কিন্তু অনেকটাই বৈঠকি চালে চলছে। গল্পের নৌকার মাথা যদি লক্ষ্য বরাবর থাকে তো অসুবিধা কোথায়? চলুক……..

    1. ধন্যবাদ ভাই, ধৈর্য্য ধরে এতো গুছিয়ে লেখার জন্য। আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বলি, আসলে ছবিগুলো না দিলে লেখাতে কল্পনার জগৎটা তৈরি করা যায়। কিন্তু মানুষের কল্পনাশক্তি এখন খুব দুর্বল, তারা ভাবতে চায় না, ছবিও দেখে না, ভিডিও হলে খুব খুশি হয়। লেখালেখি’র অনেক কঠিন কঠিন শব্দ লিখেছেন – লেখালেখির এতোসব বিজ্ঞান না জেনেই লিখি, মনের কথা প্রকাশ করবার জন্যই শুধু। তবে জানার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ। পরামর্শগুলো মাথায় রাখবো। অশেষ কৃতজ্ঞতা আর ধন্যবাদ।

      1. এইজন্যই বললাম মাধ্যন (মিডিয়া) TG (টার্গেট গ্রুপ) একটা বিরাট ব্যাপার। সময়টা এখন এমনই বোধহয়। খুব দ্রত কিছু চাই। আমি আজকাল দেখি লেখার থেকে ছবি, ভিডিও দেখতে পছন্দ করে। প্রত্যেকেরই যে কম বেশি ইমাজিনেশন পাওয়ার আছে তা থেকে আমরা দ্রুত সরে যাচ্ছি। যার দরুন গভীরতাও কমে যাচ্ছে বলে ধারনা। দেখছেন নিশ্চয়ই সোশাল মিডিয়াতে কিছু কথা উঠলে আমরা দ্রুত জাজমেন্টেশনে চলে যাই।
        জিম করবেট, হেনরি রাইডার’স হ্যাগার্ড, জুলভার্নের বইতে ছবি থাকত না। অথচ কী প্রচন্ড উত্তেজনায় জলে-জঙ্গলে, সাগরে-মরুভূমিতে বিচরন করিনি? ভালো মানের লেখা যেখানে পাঠকেরও স্পেস আছে ভাবার, সেগুলো কতদিন পর্যন্ত আমাদের মনে গেথে আছে তস আপনি জানেন ভালোভাবেই।
        আপনার নিজের মনের ভাব নিজের মত প্রাকশ করতে থাকুন এটাই চাওয়া।

মন্তব্য করুন