ভ্রমণ ২০১২ : শস্য-শ্যামলা উত্তর বাংলার টিউবওয়েলের মুখে (প্রস্তুতি)

এই প্রস্তুতি “ভ্রমণ ২০১২ : শস্য-শ্যামলা উত্তর বাংলার টিউবওয়েলের মুখে” নামক ভ্রমণের প্রস্তুতি। যার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ হলো: পর্ব ১, পর্ব ২, এবং পর্ব ৩-এ।

যারা এই ভ্রমণের বিবরণ পড়েছেন, তারা জেনে গেছেন, এই ভ্রমণ ছিল আমাদের এপর্যন্ত করা সব ভ্রমণের মধ্যে সবচেয়ে সর্বনিম্ন খরচের ভ্রমণ: জনপ্রতি মাত্র ৳১৮৫০। বোঝাই যাচ্ছে এটা সম্ভব হয়েছিল সরকারি ডাকবাংলো’য় থাকার ব্যবস্থা হয়ে যাওয়ায়। ভ্রমণের যাবতীয় খরচের অনুপুঙ্খ উল্লেখ প্রতি মুহূর্তে দিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে লেখার এখানে-ওখানে। তারপরও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এখানে উল্লেখ করছি:তেঁতুলিয়া হলো পঞ্চগড় জেলার একটি উপজেলা এবং তেঁতুলিয়া যেতে হলে পঞ্চগড় হয়ে যেতে হয়। ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের গাড়ি ছাড়ে ঢাকার শ্যামলী, কল্যাণপুর থেকে। বাস আছে হানিফ, শ্যামলী, এবং নাবিল। ভ্রমণ শেষে ফিরে এসে শুনেছি, আবার বলছি ‘শুনেছি’, নাবিলের সেবা নাকি ভালো। হানিফ এবং শ্যামলীর মধ্যে শ্যামলীর বাস আমার কাছে তুলনামূলক প্রশস্ত এবং আরামদায়ক মনে হয়েছে। দীর্ঘ যাত্রা, তাই আরামের ব্যাপারটি অবশ্যই মুখ্য। হানিফের টিকিট নিয়েছিল জনপ্রতি ৳৫৫০।

যমুনা সেতু পার হয়ে একমাত্র যাত্রাবিরতিটি পাওয়া যায়। তারপর আরো দুই তৃতীয়াংশ পথ পাড়ি দিতে হয়। পঞ্চগড় জেলা সদর থেকে লোকাল বাস দিয়ে তেঁতুলিয়া যাওয়া যায়, কত নেয় আমার জানা নেই। আমরা শ্যামলীর বাসে করে গিয়েছিলাম, জনপ্রতি ৳৫০ দিয়ে।

সেখানে বাংলো পাওয়ার জন্য সরকারি মহলে হাত থাকতে হয়, কিংবা পরিচয়সূত্র থাকতে হয়। বাংলো পাওয়া গেলে খরচ অর্ধেকেরও কম: এক রাত থাকা রুমপ্রতি ৳২৫০ মাত্র। খাওয়ার ব্যবস্থা বাংলোর কেয়ারটেকারকে বলে করা যায়, তাঁকে এক বেলা খাওয়া বাবদ আমরা সাতজন দিয়েছিলাম সাকুল্যে ৳১৩০০ (মাথাপিছু পড়লো ৳১৮৫)। এছাড়া তেঁতুলিয়া বাজারে গিয়েও খাওয়া যায়। খাওয়া-দাওয়া যথেষ্ট সস্তা। ৳৪০ টাকা খাসির মাংস আশা করি আপনাদের কাছে সস্তা মনে হচ্ছে।

যদি বাংলো পাওয়া না যায়, তাহলে বাংলাবান্ধা কিংবা তেঁতুলিয়াতে থাকার ব্যবস্থা নেই, বিডিআর-এর ক্যাম্প ছাড়া। 🙂 তাই সেক্ষেত্রে আপনাদের পরিকল্পনা হবে দিনে দিনে তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধা আর আশপাশ দেখে সন্ধ্যার আগেই পঞ্চগড় ফিরে যাওয়া এবং সেখানে গিয়ে থাকা – অন্তত এমনটাই মনে হলো আমার। সেক্ষেত্রে মাথায় রাখা ভালো যে, পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়া, বাসে যেতে ২০ মিনিট থেকে ৪০ মিনিট হাতে রাখতে হবে।

আপনাদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য জানিয়ে রাখছি কিছু প্রয়োজনীয় ফোন নাম্বার:

হানিফ এন্টারপ্রাইজ, কল্যাণপুর অফিস: ০২-৯০১৫৬৭৩, ০২-৮০২২৯৫৩, ০২-৯০০৮৪৮০, ০১৭১৩-০৪৯৫৪৩।

শ্যামলী পরিবহন, কল্যাণপুর অফিস: ০২-৯০০৩৩৩১, ০২-৮০৩৪২৭৫, ০১৭১২-৮৫০৮০৫ (বিকাল)।

যাবার-আসার জন্য পাক্কা ১৪ + ১৪ = ২৮ ঘন্টা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করুন। আমরা বৃহঃস্পতিবার রাতে রওয়ানা দিয়েছি রাত ১১টায়, পঞ্চগড় পৌঁছেছি সকাল ৯টায়। সেখান থেকে তেঁতুলিয়া বাংলোয় সোয়া ১০টায়। শুক্রবার সারাদিন সেখানে ছিলাম। রাতে বাংলোয়। শনিবার ভোরে সাড়ে ৮টায় উঠে বাসে উঠে রাত সাড়ে ১০টায় ঘরে এসে ঢুকেছি। সুতরাং এভাবেই পরিকল্পনা করলে যথেষ্ট।কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে হলে ভ্রমণটা নভেম্বরের চেয়ে অক্টোবরের দিকে হওয়াই ভালো, কুয়াশা থাকার সম্ভাবনা কমবে। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য ভালো বাইনোকুলার সহায়ক হতে পারে। তাছাড়া এরকম 42x যুম ক্যামেরা থাকলে তো কথাই নেই।

এছাড়া দর্শণীয় জায়গার মধ্যে তালিকা যা করেছিলাম, তা হলো:

  • বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর + বাংলাবান্ধা সীমান্ত (যিরোপয়েন্ট)
  • পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়া যেতে, তেঁতুলিয়া আর ভজনপুরের মাঝখানের বুড়াবুড়ি নামক স্থানে অবস্থিত দূর্গের ধ্বংসাবশেষ
  • গ্রিক স্থাপত্যের নিদর্শন ভদ্রেশ্বর মন্দির
  • গ্রিক স্থাপত্যের আরেক নিদর্শন শিব মন্দির
  • ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে খান বাহাদুর মৌলভী কাজী সালামতুল্লাহ খান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ, নামান্তরে খান বাহাদুর সালামতুল্লাহ জামে মসজিদ

যার শুধুমাত্র প্রথমটাই আমাদের পক্ষে দেখা সম্ভব হয়েছে।যেহেতু সাকুল্যে যাতায়াত বাদে মাত্র এক দিনের ভ্রমণ, তাই এক প্রস্ত পোষাকই সই, তবে সাবধানতার জন্য দুপ্রস্ত নেয়া যেতে পারে। শীতের প্রকোপ সেখানে বেশি বলে শীতের ভালো প্রস্তুতি থাকা উচিত। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, ফার্স্টএইড সঙ্গে থাকতেই পারে। রাতে তেঁতুলিয়ায় ঘোরাঘুরির ইচ্ছা থাকলে একটা টর্চলাইট থাকতে পারে।

সব সময় বাড়তি টাকা সাথে রাখবেন, কিন্তু প্রতি মুহুর্তে সবচেয়ে কম খরচের দিকে ধাবিত হবেন। ভ্রমণে গিয়ে গাদা গাদা টাকা খরচ করার বাতিক থাকলে আপনার ভ্রমণে যাবারই দরকার নেই, ফ্যান্টাসি কিংডম গিয়ে টাকা ঢেলে রাইড চড়ুন। …তবে ভ্রমণে খাওয়া-ঘুম এগুলোকে রিশিডিউল করলেও একেবারে অনিয়ম করবেন না। আর খাবারে অর্থ বাঁচানোর চিন্তাটা না করাই ভালো, মনে রাখবেন: সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবারটি কিন্তু সব সময় স্বল্প খরচেই পাওয়া যায়।

পরিবেশের ক্ষতি করা যাবে না, কোনো মর্মেই। যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, অন্যথায় নিজের সাথে নিয়ে আসা উত্তম।

আর… বেস্ট অফ লাক, ঈশ্বর সহায় হোন।

-মঈনুল ইসলাম
wz.islam@gmail.com

এই প্রস্তুতি “ভ্রমণ ২০১২ : শস্য-শ্যামলা উত্তর বাংলার টিউবওয়েলের মুখে” নামক ভ্রমণের প্রস্তুতি। যার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ হলো: পর্ব ১, পর্ব ২, এবং পর্ব ৩-এ।

One thought on “ভ্রমণ ২০১২ : শস্য-শ্যামলা উত্তর বাংলার টিউবওয়েলের মুখে (প্রস্তুতি)

মন্তব্য করুন