ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী এবং ক্রিসমাস পালন

যা জানি

যিশু কবে জন্মেছিলেন?

জানি, যিশুর জন্ম ২৫ ডিসেম্বর – যেদিন বড়দিন উদযাপন করা হয়।

মুহাম্মাদ [ঈশ্বর তাঁর প্রতি শান্তি বর্ষণ করুন] কবে জন্মেছিলেন?

জানি, মুহাম্মদের [স.] জন্ম হিজরি ১২ রবিউল আউয়াল – যেদিন ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী পালন করা হয়।

যা জানি না

গবেষক-মহল এখন এই দাবিগুলোকে সঠিক বলতে দ্বিধা করেন।[১]

২৫ ডিসেম্বর সূর্যের ঘূর্ণনপথের কারণে শীতকালীন সবচেয়ে বড় দিবসের কাছাকাছি হিসেবে ‘বড়দিন’ (পড়ুন “বড় দিন”) পালনের রীতি রোমীয় সূর্যপূজারীদের থেকে ধার করা। ঠিক যেমনটা জগন্নাথের রথযাত্রা, হিন্দুধর্ম ধার করেছে আর্য কিংবা আর্যপরবর্তি বৌদ্ধধর্ম থেকে। ঠিক যেমনটা তাজিয়া মিছিল শিয়া ইসলাম ধার করেছে… (কোত্থেকে জানি না)।

এমনকি যিশুর জন্ম থেকে যে খ্রিস্টীয় বর্ষগণনা (Gregorian calendar) শুরু, তাও কিন্তু বোঝায় না যে, যিশু ০ খ্রিস্টাব্দে কিংবা ১ খ্রিস্টাব্দে জন্মেছিলেন। বরং সাম্প্রতিক ব্যাখ্যা দেখায় যে, যিশুর জন্মসাল ৬-৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে (খ্রিস্টাব্দ গণণা শুরু হবার আগের সময়কে খ্রিষ্ট পূর্ব অব্দ হিসেবে গণনা করা হয়)।

মুহাম্মদের [স.] জন্মসাল সম্পর্কে যা জানা যায়, তা আমি ব্রিটানিকা থেকে উদ্ধৃত করছি:

According to traditional Islamic sources, Muhammad was born in Mecca in “the Year of the Elephant,” which corresponds to the year ad 570, the date modern Western scholars cite as at least his approximate birth date.[২]

হ্যা, মোটামুটি ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে তাঁর জন্ম হয়েছিল ধরে নেয়া যেতেই পারে, কিন্তু তাঁর জন্মের তারিখটা কিন্তু নিশ্চিত না। সাল নিয়েই যেখানে ‘approximate’ বলা হচ্ছে, দিন, তারিখ তো পরের কথা। আর এজন্যই সুন্নীদেরকে যখন ১২ রবিউল আউয়ালে মুহাম্মদের [স.] জন্মদিবস পালন করতে দেখা যায়, শিয়ারা কিন্তু তখন ১৭ রবিউল আউয়ালে পালন করেন।[৩]

সারকথা

এতো যুক্তি যারা বুঝতে চান না, তাদের জন্য একটা সহজ হিসাব:
এখনকার যুগে মানুষের জন্মের হিসাব রাখা একটা রীতি, যার প্রেক্ষিতে জন্মনিবন্ধন সনদ দেয়া হয় — ঐ যুগে এসব ছিল না। বিখ্যাত মানুষরা তাদের কীর্তির মাধ্যমে পরিচিত হতেন। আর এসকল বিখ্যাত মানুষদের মৃত্যুর তারিখগুলো তাই সবাই খুব মনে রাখে, রাখতো। যখন বিখ্যাত হয়ে যান, তখন কিন্তু জন্মতারিখ জানার ব্যাপারটা সুদূর অতীত হয়ে যায়। এজন্যই অতীতকালের লোকজনের কিংবা সম্মানিতজনের জন্মতারিখ অধিকাংশ সময়ই ইতিহাসের সূক্ষ্মতার কাছে বিস্মৃত।

সুতরাং

প্রতিবছরই বিপুল ধর্মযজ্ঞ কিংবা কর্মযজ্ঞ দিয়ে এরকম জন্মতারিখ পালনের যে রীতি আমরা দেখি, তাতে যিশু’র কিংবা মুহাম্মদের [স.] কী উপকার হয় সেটা তো আমি জানি না।

বরং তাঁদের আনীত সুপথটুকু আমি নিজে আমার মধ্যে নিয়েছি কিনা সেটাই প্রকৃত প্রশ্ন।

তাই, তাঁদের আনীত শান্তি আর সুপথের শুভ কামনা সবাইকে।
_________________________

তথ্যসূত্র

  1. http://biblelight.net/sukkoth.htm
  2. http://www.britannica.com/biography/Muhammad
  3. http://www.timeanddate.com/holidays/muslim/prophet-birthday

মন্তব্য করুন