সিলেটি হিসেবে হয়তো না, হয়তো বাঙালি হিসেবেই সকালে এক কাপ চা খাওয়াই হয় সব সময়। সেই চায়ের গাছের পাতা-কুঁড়ি নিয়ে আমরা যতটা না আবেগপ্রবণ, সেই চা গাছের যে অপূর্ব সুন্দর এক ফুলও হয়, তার খবর রাখেন ক’জন?
চায়ের ফুলের খবর না রাখলেও ফুলপ্রেমীরা ‘ক্যামেলিয়া’ (Camellia sasanqua) ফুলের নামটা হয়তো শুনেছেন। আমাদের চায়ের ফুলও ঐ একই পরিবারের সদস্য; চায়ের ফুল হলো Camellia sinensis – মিষ্টি সুগন্ধময় এক ফুল।


মজার ব্যাপার হলো, চা গাছ আসলে এক প্রকার ফুলগাছ, যার ফুলের চেয়ে পাতার কদর বেড়ে যাওয়ায় ফুল নিয়ে আর কেউ মাতামাতি করেন না। পাতার কদর বেড়ে যাওয়ায় সেই ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ সংগ্রহ করবার জন্য গাছ থেকে নিয়মিত পাতা সংগ্রহ করতে করতে গাছকেই খাটো করে রাখা হয়, সে কারণে গাছে ফুল হবারও সুযোগ থাকে না।
চা গাছ আসলে এক প্রকার ফুলগাছ
আর একই কারণে চা গাছকে আমরা ২-৩ ফুটের বেশি বড় হতেও দেখিই না। অথচ নিয়মিত পাতা না তুললে এই চা গাছই হতে পারতো প্রায় ৩০ ফুট সমান বড়।
বাংলাদেশে, সিলেটের মালনীছড়ায়, ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম চায়ের চাষ শুরু হলেও, ভারতের লখিমপুরে ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম শুরু হয়েছিলো চায়ের চাষ— তথ্য দুটো নিশ্চিত হবার মতো সূত্র এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই।
– মঈনুল ইসলাম