মৃত সুভাষচন্দ্র বসু যখন নেহরুর মরদেহের পাশে দাঁড়ানো

আমরা জেনেছি যে, সুভাষচন্দ্র বসুর সর্বশেষ খবর পাওয়া যায় ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে – বাকিটুকু ধোঁয়াশা। এরপর জওহরলাল নেহরু হৃদরোগে নিজ কার্যালয়েই মারা যান ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে। এই ঘটনাগুলো স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আগের ঘটনা। এতোটুকু বলেই এবারে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে চলে আসি…

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসের শুরুতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন সাব-সেক্টর কমান্ডার সদলবলে ভারতে গিয়েছেন অস্ত্র সংগ্রহের জন্য। সেখানে তাঁকে যাচাই করবার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থার একজন মেজর দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি সাদর-ইন্টারোগেশনের অংশ হিসেবে রেস্টুরেন্টে নিয়ে বসেছেন আমাদের সাব-সেক্টর কমান্ডারেরকে। আন্তরিকভাবে খাওয়াচ্ছেন আমাদের কমান্ডারকে, অন্তরঙ্গ, স্বাভাবিক, বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপচারিতা চলছে।

সেই রেস্টুরেন্টেই একটা ছবি টাঙানো দেখে মেজর সাহেব জানতে চাইলেন, এটা কার ছবি, চেনো নাকি?

কমান্ডার সাহেব সহজেই উত্তর দিলেন, সুভাষচন্দ্র বসু, তাকে কে না চিনে?

এবারে মেজর সাহেব মানিব্যাগ থেকে একটা ছবি বের করে বললেন, এটা হলো জওহরলাল নেহরুর মরদেহ। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সোভিয়েত থেকে আসা প্রতিনিধিদল নেহরুর মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ঘিরে রেখেছে। এই প্রতিনিধিদলের মধ্যে এক বৃদ্ধ সন্ন্যাসী দাঁড়িয়ে আছেন, যার শরীর শ্বেতশুভ্র কাপড়ে ঢাকা, লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়ানো। লোকটির দাড়ি, চুল সব ধবধবে সাদা।

মেজর সাহেব প্রশ্ন করলেন, এই ছবির লোকদের মধ্যে তুমি কাউকে চিনতে পারছো? ঐ সাধুকে দেখিয়ে জানতে চাইলেন, এই যে দাঁড়িওয়ালা সাধু, একে তুমি চেনো?

আমাদের কমান্ডার সাহেবের চোখ কপালে উঠলো, হ্যাঁ হ্যাঁ, তাইতো, এটাতো নেতাজির ছবি। রেস্টুরেন্টে টাঙানো ছবি আর এই বৃদ্ধ সন্ন্যাসী একই ব্যক্তি। ব্যবধানটা শুধু বয়সের।

মেজর সাহেব বললেন, এটা আমাদের কাছেও খুব রহস্যের। তুমি কি কখনও এধরণের লোক পাহাড়ে-জঙ্গলে দেখেছো?

কমান্ডার সাহেব জানালেন, তিনি দেখেননি।

ভারতীয় মেজর বললেন, সোভিয়েত প্রতিনিধিদল এসেছিলো, তারা তাদের সংখ্যা জানায়নি, তাদের পরিচয়ও জানায়নি। তারা এসেছে, সম্মান জানিয়ে আবার চলেও গেছে। আর আমাদের ধারণা, সোভিয়েত প্রতিনিধিদলের সঙ্গে নেতাজি এসেছিলেন। নেতাজির হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কে যে তথ্য পাওয়া যায়, তা থেকেও সিদ্ধান্ত নেয়া যায় যে, তিনি মঙ্গোলিয়া হয়ে সোভিয়েত রাশিয়ায় চলে গিয়েছিলেন।

কমান্ডার সাহেব বুঝলেন, এই ছবিটা নিয়ে ভারত সরকার বেশ বিপাকেই ছিলো।

ভারতীয় মেজর সাহেব বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা সাব-সেক্টর কমান্ডার সাহেবকে অনুরোধ করলেন, যদি পাহাড়ে-জঙ্গলে নেতাজিকে দেখা যায়, তাহলে যেন অবশ্যই তাদেরকে জানানো হয়। তিনিও রাজি হোন।

কিন্তু বাকি জীবনে তিনি পাহাড়ে-জঙ্গলে দরবেশ নেতাজিকে দেখেননি।


কিন্তু রহস্যের তো জট খুললো না। ঠিক স্বাদ মিটলো না। কেমন জানি একটা ঘোলাটে ব্যাপার, তাই না? নেতাজি কি আসলেই বেঁচে আছেন? থাকলে কোথায় তিনি? মরে গেলেইবা এতো ধামাচাপার বিষয় কেন তিনি? নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু অন্তর্ধান বিষয়টি শেষ করবো আগামী কিস্তিতে, ইনশাআল্লাহ।

মঈনুল ইসলাম

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না

আপনি এই HTML ট্যাগ এবং মার্কআপগুলো ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

*