বোবায় ধরা

জীবনে প্রথম ‘বোবায় ধরা’ নামক একটা অদ্ভূত অভিজ্ঞতার কথা শুনলাম আমার এক মামাতো বোনের কাছে, সেটা সম্ভবত ১৯৯৭ কি ১৯৯৮ সালের কথা। তিনি যে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেন, সেটা শুনতে আমার কাছে অনেকটা গ্রামের মানুষের ভূতে চেপে ধরার অভিজ্ঞতার মতো মনে হচ্ছিলো। তাঁকে নাকি একজন সাদা চাদর পরা বিশাল মানুষ এসে চেপে ধরেছিল, তিনি তাঁর পাশে শোয়া বড় বোনকে ঠিকই দেখতে পাচ্ছিলেন, বুঝতে পারছিলেন, কিন্তু কোনোভাবেই মুখ দিয়ে কোনো শব্দ করতে পারছিলেন না। আমি ঘটনাটা শুনে খুব অবাক হয়েছিলাম। কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছিলাম না। এসে আমি আমার মাকে ঘটনাটা বললাম, তিনি খুব স্বাভাবিকভাবে ব্যাপারটাকে নিলেন, বললেন, সিলেটে একে বলা হয় “হুমায় ধরা”, সাধারণত মুখ উপরের দিকে দিয়ে শুয়ে থাকলে এই ঘটনা ঘটে।  আমাকে আশ্চর্য করে দিয়ে আমার আম্মা ঘটনাটার একটা ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করলেন, “হয়তো এভাবে শোয়ার কারণে মাথা, পা ইত্যাদির কোনো নার্ভ সোজা হয়ে এমন একটা অবস্থায় আসে, এতে এরকম অভিজ্ঞতা হয়।”

আমার আম্মার এই ব্যাখ্যাটা আমাকে খুব শক্তি যুগিয়েছিল। তবে আমি হুমায় ধরা-কে বেশ ভালো করে চিনলাম, ফলে আরো কয়েকজনের কাছেও একই রকম অভিজ্ঞতার কথা শুনলাম। কিন্তু এরপর বহু বছর হয়ে যায়, আমার কখনও বোবায় ধরার অভিজ্ঞতা হয়নি। আমি কখনও সচেতনভাবে চেষ্টা করেছি মুখ উপরের দিকে থাকলেও দুই পায়ের মাঝখানে কোলবালিশ রাখতে, যাতে এমন অভিজ্ঞতা আমার না হয়। তবে কখনও কখনও চেয়েছিও যে, আমার এমন অভিজ্ঞতা হয়, ইচ্ছা করে মুখ উপরের দিকে দিয়ে হাত-পা সটান করে শুয়েছি, ঘুমিয়ে গেছি, কিন্তু তবু আমার কাঙ্ক্ষিত বোবায় ধরার অভিজ্ঞতা হয়নি।

গত পরশু দিন, বুধবার ভোরের দিকে,  আমার প্রথমবারের মতো এরকম একটা অভিজ্ঞতা হয়। ব্যাপারটা ঠিক “হুমায় ধরা” কিনা জানিনা, তবে হয়তো…। আমি বরং ঘটনাটা বা স্বপ্নটা বলি:

আমি, আমার ঢাকার, আশকোনার বাসা থেকে বের হয়ে বাম দিকের পথটা ধরে হেঁটে যাচ্ছি। সময়টা রাত এবং রাস্তাঘাট নির্জন। মনে হচ্ছে, ফজরের কাছাকাছি কোনো এক সময়। ওদিকে একটা মসজিদে যাওয়া যায়, এবং আমার মনে হচ্ছে আমি ঐ মসজিদের উদ্দেশ্যেই বেরিয়েছি। আমার কয়েক কদম সামনে দিয়ে হাঁটছে আমারই খুব পরিচিত কোনো যুবক/কিশোর (কিন্তু সে কে, আমি ঠাওর করতে পারিনি)। বাস্তবে, রাস্তাটার দুপাশে বিল্ডিং থাকলেও স্বপ্নে আমি দেখলাম, রাস্তাটার বাম দিকে একটা কবরস্থান, আর ডানদিকে একটা জঙ্গল। এমন সময় হঠাৎ করে আমি আবিষ্কার করলাম ছেলেটার সাথে আমি সমান গতিতে হাঁটলেও হঠাৎই আমাদের দূরত্ব বাড়তে থাকলো, আর কোনো এক অদৃশ্য শক্তির কারণে আমি পিছু হটতে থাকলাম। সামনের ছেলেটা তখন পিছন ফিরে আমার দিকে তাকালো। আমি তাকে ডাকার চেষ্টা করছি, বলছি, আরে দাঁড়াও, আমাকে নিয়ে যাও, আমিও তোমার সাথে নামাযে যাবো, কিন্তু গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বেরোচ্ছে না। কিন্তু ছেলেটা যেন কিসে ভয় পেলো, সে গতি বাড়িয়ে চলে গেলো। সেই অদৃশ্য শক্তিটা এবার আমায় পেয়ে বসলো। শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো আমাকে। পেছন দিকে নিয়ে গিয়ে এবার আমাকে মাটি থেকে কয়েক ফুট উপরে তুলে ফেললো। কিন্তু এতে আমার শরীরে সামান্যতম কষ্ট হচ্ছে না, আমার শরীরে কোনো চাপ লাগছে না, শ্রেফ একটা অদৃশ্য বলয়ে আমি আবদ্ধ, সেটা আমাকে মাটি থেকে তুলে ধরেছে এমন অবস্থা। স্বপ্নের মধ্যে আমি বুঝতে পারলাম, আমি কোনো একটা দুর্যোগের মধ্যে আছি, আমি অনবরত সুবাহানাল্লাহ, আলহ্বামদুল্লিলাহ -এরকম যিকর করছি মনে মনে, কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। অদৃশ্য বলয়টা আমাকে আবার মাটিতে নামিয়ে আনলো, কিন্তু আবারো যেন উপরে তুলতে চাইছে। আমি এবারে দুই হাত উপরের দিকে তুলে ধরলাম: ব্যাপারটা অনেকটা কমিক্সে রাকা তার বিরাট হাত দিয়ে মানুষ ধরলে যেমন তারা দুই হাত উপরে তুলে হাসফাঁস করতে থাকে, অনেকটা সেরকম। আর দুই হাত উপরে তুলে নিজের শরীরকে একটা মোচড় দিয়ে বেরিয়ে আসতে চাইলাম সেই অদৃশ্য হাত থেকে, আর সাথে সাথে পড়লাম “লা হাওলা ওয়ালা ক্বুওয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহিল ‘আলিয়্যিল ‘আযীম”। মুহুর্তের মধ্যে আমি নিজেকে আবিষ্কার করলাম বিছানায়।

তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমার অবস্থা ছিল খুব স্বাভাবিক। আমি উপরের দিকে নয়, বরং ডান কাত হয়ে শোয়া ছিলাম, আমার কোলের মধ্যে কোলবালিশ ছিল, তবে দুঃস্বপ্ন দেখে উঠলে মানুষ যেমন একটু হাঁপিয়ে ওঠে, সেরকমই একটু হাঁপিয়ে ওঠেছিলাম -এ-ই যা।

আমার ঘটনাটা হুমায় ধরা (বোবায় ধরা) হয়তো বলা যায় না, শ্রেফ একটা দুঃস্বপ্ন বলা যায়। কিন্তু এটাকেই আমার জীবনের প্রথম দমবন্ধ হওয়ার অভিজ্ঞতা বলতে মন চাইছে, কারণ স্মরণাতীতকালে এরকম অভিজ্ঞতা আমার নেই। এবার আসি কয়েকটি পর্যালোচনায়:

  • মামাতো বোনের যখন এই অভিজ্ঞতা হয়, তখন তিনি বয়ঃসন্ধিতে ছিলেন। আমি বিভিন্ন লেখায় এমন দেখেছি যে, বয়ঃসন্ধিতে বিভিন্ন হোরমোনের নিঃসরণ হয়, যা এই অভিজ্ঞতা সৃষ্টির কারণ হয়।
  • আমার যখন এই অভিজ্ঞতাটি হয়েছে, তখন আমি সম্পূর্ণ তাগড়া যুবক। তাছাড়া আমি, আমার আম্মার কথামতো, সোজা হয়ে শুয়েছিলাম না, বরং সবগুলো জানা শর্তই অমান্য করে পাশ ফিরে শুয়েছিলাম, আমার দুই পা কোলবালিশ দ্বারা বিযুক্ত ছিল। সুতরাং যা হয়েছে, তা বাস্তব কোনো শারীরবৃত্তীয় কারণে হয়েছে।

সোজা হয়ে শোবার কারণে এজাতীয় অভিজ্ঞতা হয় এটা আমি আরো কয়েকজনের কাছে শুনেছি, একটা ব্লগেও^ পেলাম, সেখানে একজনের উদ্ধৃতিতে একটা ব্যাখ্যা দেবার প্রয়াস ছিল:

আমরা যখন সারাদিন খুব পরিশ্রম করে রাতে ঘুমাই তখন আমাদের দেহের ভিতরের হদপিন্ডটা স্বাভাবিক গতির চেয়ে বেশি গতিতে রক্ত পাম্প করতে থাকে। এ অবস্থায় উপরের(আকাশের) দিকে মুখ করে শুয়ে ঘুমালে হদপিন্ড তার স্বাভাবিক গতিতে ব্লাড পাম্প করতে পারেনা। ফলে তা কিছুক্ষনের জন্য আটকে বা থেমে যায়, একই সাথে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসেও ব্যাঘাত ঘটে যা কিনা দেহকে সাময়িকভাবে নিস্তেজ করে দেয়। এই সময় দেহের বহিরাংশের অগ্রভাগে অর্থাৎ আঙ্গুলের অগ্রভাগে বেশকিছু স্নায়ু কার্যক্ষম থাকে যার কারনে আঙ্গুল নাড়ানো সম্ভব হয়। বোবায় ধরা এড়াতে হলে আকাশের দিকে মুখ করে না ঘুমানোটাই নিরাপদ।

আমি যেদিন স্বপ্নটা দেখলাম, সেদিন অফিসে গিয়ে শুনলাম আরেক কাহিনী। কাহিনীটা আমাদের অফিসে নতুন রাখা আর্দালি সংক্রান্ত। মাত্র ২ দিন হলো সে এসেছে, এর মধ্যেই সে চলে যেতে চাইছে। তাকে দেখে অবশ্য মোটেই ওয়েলকামিং লাগে না, আমি আগেই ডিক্লেয়ার করে দিয়েছিলাম যে, সে নিশ্চয়ই খুব ধুর্ত এবং একদিন সবকিছু চুরি করে ভাগবে। কিন্তু গিয়ে শুনি সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনা। অফিসের সব কর্মীকে সে চলে যাবে বলে ঘ্যানর ঘ্যানর করছে। কারণটা শুনলাম এক কলিগের কাছে: সে অফিসেই থাকে। রাতে তাকে হুমায় ধরে (বোবায় ধরে)। সমস্যা হলো তাকে হুমায় ধরার পরে সে অস্বাভাবিক হয়ে যায়। আমার কলিগ চোখ-মুখের ইশারায় এই অস্বাভাবিকত্বটা বুঝিয়ে দিতে চাইলেও আমি বুঝলাম না। ধরে নিলাম, সে কোনো অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে দেয়, কিংবা চিল্লাচিল্লি করে -কিছু একটা হবে। তাই সে এখানে থাকবে না।

বাসায় এসে এই কথাটা বলতেই আমার আম্মা অনেক বছর আগে, আমাদের গ্রামের বাড়িতে থাকা এক কাজের লোকের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন, তখন আমি খুব ছোট। আমাদের বাড়িতে থাকতো ‘রহমত’ নামের সেই কাজের লোকটি। বহির্বাটিতে একটা টিনের চালা-মাটির ঘরে থাকতো সে। রাতে সে চরম অস্বাভাবিক হয়ে যেত। তার ভাষ্যমতে তার উপর জ্বীন ভর করতো। সে তখন প্রচণ্ড জোরে চিৎকার দিয়ে যিকির করতো। প্রথম দিনতো সারা বাড়ির লোকজন তার ঘরের সামনে হারিকেন নিয়ে হাজির (তখন বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না), আমিও ছিলাম সেই দলে। তবে সেটা বোধহয় হুমায় ধরা ছিল না।

বোবায় ধরার সঠিক ডাক্তারি কোনো নাম নেই বোধহয়। ডাক্তারি বিদ্যায় একে বায়ুসঞ্চালনজনিত সমস্যা হিসেবে ধরা হয় এবং ধারণা করা হয়, ঘুমের সময় শ্বাসনালী কোনো কারণে ভাঁজ হয়ে গেলে শ্বাস আটকে থাকে। তখন শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং বোবায় ধরার মতো অভিজ্ঞতা হয়। একটা মেডিকেল কলেজ ব্লগ আমাকে স্মরণ করিয়ে দিলো: আমরা কথা বলার সময় শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখি, তাই কথা বলতে পারি। শ্বাসই যদি আটকে যায়, তাহলে আর কথা বলা যায় না। কথাটা থেকেই আমি “বোবায় ধরা” নামটার একটা ব্যাখ্যা পেলাম, এবং এটা বুঝলাম- এধরণের ঘটনায় সবারই যে সাধারণ অভিজ্ঞতাটা হয়, সবাই-ই কথা বলতে চায়, কিন্তু গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বেরোয় না। কথাটা হয়তো সত্যি, কারণ আমার সেই মামাতো বোন ছিলেন খানিকটা মোটা, এবং মোটা মানুষেরই শোয়ার পরে গলায় ভাঁজ পড়ে, সুতরাং শ্বাস-প্রশ্বাস আটকানো স্বাভাবিক। …কিন্তু হিসাবটা মিলাতে পারিনা যখন আমার ক্ষেত্রে হিসাব করি: আমি হলাম শুকনা কাঠি মানুষ। আমার গলায় ভাঁজ পড়ার সম্ভাবনা খুব কম… তবে অসম্ভবও নয়।

বায়ু সঞ্চালনজনিত সমস্যার কারণে এমনটা ঘটে ধরে নিলে ডাক্তারি বিদ্যায় প্রচলিত যে নামটি দিয়ে বোবায় ধরা বা হুমায় ধরার ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যায়, তা হলো Sleep apnea। তবে কথা না বাড়িয়ে ডাক্তার মো. আলী হোসেনের কিছু ডাক্তারি কথা বা ব্যাখ্যা^ আমরা শুনে নিলেই বোধহয় ভালো। তারপর যদি সে ব্যাখ্যা আমাদের মেনে নিতে আপত্তি থাকে, আলোচনার দরজা তো খোলা আছেই।

-মঈনুল ইসলাম

হালনাগাদ – ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

বোবায় ধরা সম্পর্কে সপ্তম শ্রেণীর মীর তাফহীম মাহমুদ-এর এই গবেষণা নিবন্ধটি উল্লেখ না করলেই নয়:

বোবা জ্বীন^মীর তাফহীম মাহমুদ, আমাদের জার্নাল

৫ thoughts on “বোবায় ধরা

  1. Sleep apnea আর বোবায় ধরা এক নয় । ঘুম সংক্রান্ত ভয়াবহ সমস্যা আমার আছে । মূলত আমার ঘুমের মোট সময় ৫.৩০ ঘণ্টা । কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমার ঘুমের কোন নির্দিষ্ট টাইম টেবল নেই । প্রচন্ড ঘুম না পাওয়া পর্যন্ত আমি ঘুমাতে যাই না । মাঝে একটা বিশাল সময় ছিল যখন আমি ক্লান্ত থাকার কারণে বিছানায় শোয়ার সাথে সাথে ঘুমিয়ে যেতাম । ১ সেকেন্ডর কম সময়ে । তখন যেটা হত আমার শরীর হয়ত প্রচন্ড ক্লান্তিতে ঘুমে, কিন্তু ব্রেইন কাজ করছে । ২-৫ মিনিট এর মাঝে নিঃস্বাস বন্ধ । একদম লাফ দিয়ে উঠে বসে জোরে জোরে স্বাস নিচ্ছি । আবার ঘুমিয়ে পড়া মাত্র একই ঘটনা । যেইদিন এইরকম কিছু ঘটে তা মোটামুটি ৪-৫ বার এর মত হয় । সম্ভবত এটাই Sleep apnea

    আর বোবায় ধরা এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা । নিস্বাস এ কোন সমস্যা হয় না। কোন দুঃস্বপ্ন থাকে না। বোবায় ধরার পূর্ব মুহুর্ত পুরো ব্ল্যাংক । কিন্তু তখন মনে হয় আমি এখনই মারা যাচ্ছি । সমস্ত শরীড় অসাড় । চিৎকার করলে মূখ দিয়ে কোন আওয়াজ বের হবে না । ভয়াবহ অভিজ্ঞতা । শরীর একচুল ও নাড়াতে পারবে না ।

    আরেক ধরণের অভিজ্ঞতা হয় – ফ্রীফল, মনে হচ্ছে পড়ে যাচ্ছি, অনন্তকাল ধরে পড়তে থাকি । কিন্তু মজা হচ্ছে এই অভিজ্ঞতাটা বেশ আনন্দদায়ক ।

  2. তুমি বলছো, “আর বোবায় ধরা এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা । নিস্বাস এ কোন সমস্যা হয় না।”

    কিন্তু অধিকাংশ “বোবায় ধরা” পাপী-তাপীদের অভিমত হচ্ছে, তাদের যখন ঘুম ভাঙে, বা বোবায় ধরা কেটে যায়, তখন তারা প্রচণ্ড আনন্দে ফুসফুসে শ্বাস ভরে নিতে থাকেন। এথেকে যে ব্যাপারটা আমি টানতে চাইছি, তা হলো, বোবায় ধরাকালীন সময় তারা শ্বাস নিতে পারছিলেন না; তবে কথাটা আর আমি টানছি না, কথাটা বরং তারাই স্বীকার করে নিচ্ছেন।

    তবে অনন্তকাল ধরে পড়ে যাচ্ছি’র ব্যাপারটাকে বোবায় ধরার মধ্যে বোধহয় ফেলা যায় না। কারণ তখন আসলে চিৎকার করে সাহায্য প্রার্থণা করার কিছুই থাকে না, বরং মাটি কখন সামনে চলে আসছে, সেই দিকেই মস্তিষ্ক ব্যস্ত থাকে।

    “বোবায় ধরা”র ইংরেজি টার্ম বা ডাক্তারি টার্ম যদি Sleep apnea না হয়, তাহলে কী হবে?

  3. বোবায় ধরা অভিজ্ঞতা আমার হয়নি তবে একদিন মা পাশে শুয়েছিল, অনেক রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যায় মা’র গোঙ্গানি শুনে। ঘুমের মধ্যে সে অনেক রকমের শব্দ করতে থাকে। প্রথমে তার কপালে হাত দেখি সে একদম ঘেমে গেছে অথচ সেটা ছিল জানুয়ারী মাস। কয়েকবার ডাকার পরও আমি লক্ষ্য করলাম মা একই ভঙ্গিতে নানা রকম শব্দ করেই যাচ্ছে। জোরে একটা ধাক্কা দিলাম এবং এত ভয় পেয়ে সে আমার দিকে তাকালো তাতেই বুঝলাম বোবায় ধরেছিল। উঠার পর আমি আরও লক্ষ্য করলাম মা অনেক আতঙ্কিত।

  4. বোবায় ধরা: Sleep Paralysis
    ঘুমের মধ্যে হঠাত উপর থেকে পড়ে যাবার অনুভুতি: Hypnic Jerks / Myoclonic jerk

    পার্সোনালি আমি অনেকবার ‘বোবায় ধরা’র সম্মুখীন হয়েছি। আমার মতে বেকায়দা হয়ে শোয়াটাই প্রধান কারণ। যেমন, আপনি যদি বগলতলায় কিংবা পকেটে হাত ঢুকিয়ে (যেখান থেকে আপনি সহজে হাত নাড়তে পারবেন না), আপনার ওই রাতে ‘বোবায় ধরা’র সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। তবে, আমাদের দেশে ব্যাপারটা এখনো পুরাই প্যারানর্মাল/সুপার নাচ্যারাল ভাবা হয়।

  5. বোবায় ধরা বিষয়টি আমি বিশ্বাস না করলেও , আমার জীবনে বিভিন্ন বয়সে (১২ বছর , ২২ বছর , ২৫ বছরে ) ঘুমন্ত অবস্হায় ” বোবায় ধরা ” ব্যাপারটি ঘটেছিল। ব্যপারটি ঘটে সেদিন , যেদিন আমি চিত হয়ে ঘুমাই। বিষয়টি এরকম : ঘুমের মধ্যে, স্বপ্নে দেখি বিকট চেহারার কেউ একজন আমার বুকের উপর বসে তার দু হাত দিয়ে আমাকে চেপে ধরেছে , আমি খুব চেষ্টা করছি তার হাত থেকে নিজেকে ছাড়াছে কিন্তু কিছুতেই ছাড়াতে পারছিনা , আবার পাশে ফিরতে চাচ্ছি তাও পারছিনা , চিতকার করে কাউকে ডাকছি কিন্তু মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বেরুচ্ছে না। মনে মনে বেশ কিছু সুরা পড়ে বহু কষ্টে যখন পাশ ফিরি তখনি ওটা আমার উপর থেকে সরে যায়। এজন্য আমি সব সময় পাশ ফিরে শুই , তার পর থেকে আর কখনো ওই সমস্যা হই নি।

মন্তব্য করুন