#diversity #inclusion
আমরা পড়ালেখা করে একটা জিনিস অন্তত শিখি, ‘আমি ছাড়াও এই পৃথিবীতে আরো জগৎ আছে’।
আমি ছাড়াও ওরা, তারা কী ভাবে, কী করে, কিভাবে চলে, কেন চলে— সেসব জানতে পারি অন্তত। এই ‘জানা’, আমাদের চিন্তা-ভাবনাটাকে একটা কৌটার মধ্যে বন্দী রাখে না, বরং আমাদের মনকে বড় করে, অন্যকে গ্রহণ করতে শেখায়।
ইদানিং হঠাৎ করেই কেন জানি না লক্ষ করছি, সিলেটি ভাষা, সিলেটি জাতিসত্ত্বা নিয়ে একপ্রকারে racism (একপক্ষপাত) শুরু হয়েছে। সবাই সিলেটি ভাষাকে জাতীয় ভাষা করতে চান, সিলেটের মানুষের মধ্যে “সিলেটি” আর “আবাদি” বিভেদ তৈরি করতে চান, কেউ কেউ তো পারলে সিলেটকে একটা দেশ হিসেবেই চান; ভারতে তো এক দল আছে যারা দেশভাগের আগের আসাম রাজ্যই ফিরে পেতে চায়।
ভালোবাসা থাকা এক জিনিস, আর অতিরঞ্জন করাটা ভিন্ন। এই অতিরঞ্জনের খেসারত কিন্তু মারাত্মক।
যেমন: অভ্র টীমের সিয়াম (যাঁর কালপুরুষ আর সিয়াম রূপালী ফণ্ট আমরা ব্যবহার করি) তিনি একদিন আক্ষেপ করে লিখেছিলেন: সিলেটি নাগরির একটা ফন্ট নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে ছিলো তাঁর, কিন্তু এই রেসিযমের কারণে তিনি তাঁর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।
সিলেটি উইকিপিডিয়ার একটি প্রস্তাব উইকিমিডিয়ার ইনকিউবেশনে দেখেছিলাম। এই প্রকল্পে এত্তো পরিমাণ রেসিযম আর হেটস্পিচ চলছিলো যে, যেকোনো সময় আমি নিজে সিলেটি হওয়াসত্ত্বেয় এই প্রকল্পের বিরোধিতা করতে পারি: দুষ্ট গরুর চেয়ে শূণ্য গোয়াল ভালো।
সিলেটি নাগরী নিয়ে কাজ করেন বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতের সিলেটি একজন একদিন বলছিলেন, সারাজীবন সবাইকে নিয়ে কাজ করেছি। এখন হঠাৎ কিছু মানুষ বিভেদের দেয়াল তুলে যখন সামনে আসে, আমি সোজা তাদের এড়িয়ে চলি।
এই ছোট্ট জীবনে একটা জিনিস দেখেছি, ভ্রাতৃত্ব আর সৌহার্দ্য নিয়ে দলগুলো যখন এক দলে থাকে, তখন ছোটবেলার গল্পের ঐ কাঠির তাঁড়ার মতোই সেগুলো ভাঙা অনেক কঠিন হয়— একদল— একমত: আমরা সবাই “সিলেটি (ꠡꠤꠟꠐꠤ)”। যত ফেরকা (দলবিভাগ) তত বিপদ।
এই বোধটা যত দ্রুত মেনে নিয়ে আমরা এক হতে পারবো— আমাদের সবার জন্যই মঙ্গল।
– মঈনুল ইসলাম