তিন মাধ্যমে বাঙালির শিক্ষা এবং শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস

গত কিছুদিন আগে আমি দেয়ালে সাঁটানো দেখি স্কুলের একখানা পোস্টার। সেখানে আশ্চর্য হয়ে দেখলাম তাঁরা লিখেছে তাঁরা ৩ মাধ্যমে পড়িয়ে থাকেন। আপনি হয়তো দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে বলবেন, ঠিকই-তো আছে: বাংলা মিডিয়াম, ইংলিশ মিডিয়াম, আরবি মিডিয়াম। কিন্তু আপনি ভুল। সেখানে লেখা:

  • বাংলা মিডিয়াম (বাংলাদেশ সরকারের কারিকুলাম অনুযায়ী)
  • ইংরেজি মিডিয়াম (বাংলাদেশ সরকারের কারিকুলাম অনুযায়ী)
  • ইংরেজি ভার্ষন (যুক্তরাজ্যের কারিকুলাম অনুযায়ী)

বাংলাদেশে একটা যুক্তরাজ্য গড়ে তুলছি, সেটা আমার জানা ছিল না। হয়তো তাতেও কোনো আপত্তির কিছু কেউ দেখছেন না। বলবেন, টাকা থাকলে তুমিও পড়াও ঐ ইংলিশ ভার্ষন স্কুলে। তোমার নাই, তাই তোমার ভালোও লাগে না। …একটু অন্যরকম করে বলি: যখন মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা চালানোর কথা বলা হয় সৌদি আরবের নিয়মানুযায়ী, কিংবা পাকিস্তানের নিয়মানুযায়ী, তখন আমরা সোচ্চার হয়ে উঠি, ‌”না, এটা মৌলবাদীদের একটা চক্রান্ত, আমার দেশ সৌদি নিয়মে চলবে কেন? আমার দেশ রাজাকারের নিয়মে চলবে কেন?” কিন্তু আমার স্কুল ইংরেজি ভার্ষনে যে লন্ডনী নিয়মে চলছে, সেটাতে কেউ দোষের কিছু দেখি না। কারণ আরবি হয়ে গেছে মৌলবাদীদের ভাষা, আর ইংরেজি হয়ে গেছে মডার্ন ভাষা।

ভালো, সবাই যেই তালে নাচে সেই তালে নাচো বাঙালি। কী হয় তারপর দেখো। …না, এখনই একটু দেখিয়ে দিই-

গত ১৪ ডিসেম্বর, একুশে টেলিভিশন-এর সংবাদে দেখানো হচ্ছে একটা রিপোর্ট: তথাকথিত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের (কিংবা ইংলিশ ভার্ষন স্কুলের) এক শিক্ষার্থীকে সাংবাদিক প্রশ্ন করছেন, ১৪ ডিসেম্বর কী (প্রকারান্তরে, শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস কী)? এক শিক্ষার্থী উত্তর করলেন, “এই ডিন কিছু লোক মাড়া গিয়েছিলেন, আমড়া তাঁদেড়কে ঔনার করবো।”

যাঁরা বেঁচে থাকলে হয়তো বাংলাদেশ অনেক আগেই নোবেল পেত, যাঁরা বেঁচে থাকলে হয়তো বাংলাদেশ আজ মুখ থুবড়ে পড়তো না, তাঁরা হয়ে গেছেন ‘কিছু লোক’?! …যাদের রাজাকার বলে ধিক্কার দাও, তারাতো তবু বাংলায় কথা বলে, তারাতো তবু বুদ্ধিজীবিদের কথা জানে (স্বীকার করে কিনা সেটা পরের বিষয়)। …আর এভাবে যে এ-দেশেই রাজাকার বানানোর প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছি, তা বোঝার বোধ কি ‘আমার’ হয়েছে?

সবাই আমরা এগুলো নিয়ে মাতামাতি করে কিছু করতে পারবো না। তবে আমাদেরকে সোচ্চার হতে হবে। যারাই শিক্ষানীতি নিয়ে কথা বলছেন, যারাই শিক্ষা সহায়তা নিয়ে কথা বলছেন, তাদের কানে এসব আমাদেরকে পৌঁছাতে হবে। সেক্ষেত্রে সচেতনতা দরকার। সবার আগে আমাকে এটা মানা দরকার। শান্ত-সুন্দরভাবে এসব কথা সরকারকে জানানোর পথ করা দরকার। কিভাবে কী করা যায়, এখনি করা যায়; পাঠক আশা করি নিচে মন্তব্য করে তা জানাবেন…

– মঈনুল ইসলাম

wz.islam@gmail.com

১৫ ডিসেম্বর ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ; রাত ১১টা ১২মিনিট (ঢাকা স্থানীয় সময়)

মন্তব্য করুন