প্লুটো – দূরের ঐ শিশুটাকে কাছ থেকে দেখা

কালো মহাকাশ দিয়ে শাঁই শাঁই করে উড়ে যাচ্ছে একটা পিয়ানো আকৃতির বস্তু; আসলে এটা একটা যন্ত্র, একটা স্পেস প্রোব। বুলেটের চেয়েও দ্রুত গতিতে উড়ে যাচ্ছে অসীম মহাকাশের দিকে। আসলে তার যাওয়ারও একটা উদ্দেশ্য আছে, সে যাচ্ছে প্লুটো নামক একটা গ্রহকে কাছ থেকে দেখার জন্য। প্লুটো, আমাদের সৌরপরিবারের এক শিশুর নাম। আজ আমরা তারই গল্প আরেকবার নতুন করে শুনতে যাচ্ছি….

প্ল্যানেট এক্স

১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের, অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফ্ল্যাগস্টাফে অবস্থিত লওয়েল অবযারভেটরিতে (Lowell Observatory) যোগদান করলেন ক্লাইড টমবগ (Clyde William Tombaugh)। প্রথম দিনই তিনি সেখানকার ১৩ ইঞ্চি পলক-তুলক (Blink comparator) দূরবীক্ষণ যন্ত্রটা তাক করলেন মিথুন নক্ষত্রপুঞ্জের দিকে, তারা এক্স নামক একটা সম্ভাব্য গ্রহ খুঁজছেন ঐ অংশে। জানুয়ারির ২৯ তারিখে তিনি ঐ অংশের আরো একটি ছবি নিলেন, কিন্তু ল্যাপটানো আলোময় ছবিগুলোতে তাঁর বস তেমন কিছুই দেখলেন না আসলে। পরের মাসের ১৮ তারিখ, জানুয়ারিতে নেয়া দুটো ছবি তুলনা করে দেখেন কি, একটা অনুজ্জ্বল আলো স্থান পরিবর্তন করছে। স্থান পরিবর্তন কথাটা যতটা বড় বোঝায় বিষয়টা মোটেও তা ছিল না, ১ ইঞ্চির মাত্র আট ভাগের মতো স্থান পরিবর্তন করেছে মাত্র; তিনি নিজের উত্তেজনা ধরে রাখতে পারছেন না। কিন্তু নিশ্চিত না হয়ে কিছুই বলা যাবে না। ঠিক পরের মাসেই, ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১৩ মার্চ তিনি নিশ্চিত হলেন, “ওটা একটা গ্রহ!”। (টমবগের ডায়রি থেকেই পড়ুন এখানে)

প্লুটো

নামটা তখনও ঠিক করা হয়নি তার। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় হাজারটা নাম পাঠালো লোকজন লওয়েল অবযারভেটরিতে। কিন্তু কোনোটাই ঠিক পছন্দ হচ্ছে না। তখনই মাত্র ১১ বছরের এক স্কুলছাত্রী, ভ্যানেশিয়া বার্নী (Venetia Burney), প্রাচীন পুরাণের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল, সে-ই আসলে তাঁর দাদার সাথে কথা বলতে বলতে এর নাম দিয়ে দেয় “প্লুটো” – রোমক পুরাণের মৃত্যু আর প্রেতলোকের দেবতার নামে দেয়া এই নামটাই দিয়ে দেয়া হয় সৌরজগতের সবচেয়ে দূরবর্তী এই গ্রহটিকে। টমবগ এই নামটা পছন্দ করেছিলেন, কারণ লওয়েল অবযার্ভেটরির পার্সিভাল লওয়েল-এর নামের আদ্যক্ষরও তাহলে নামটার মধ্যে চলে আসে।

প্লুটোর যাত্রা শুরু হয়েছিল সেই তখনই, আমরা শিশুপাঠেও নয়টি গ্রহের নাম মুখস্থ করতাম, আর শেষ এই গ্রহটা ছোট্ট বলেই কিনা জানি না, বাচ্চাদের খুব প্রিয় ছিল। গ্রহটা ছোট ছিল বলেই হয়তো সমস্যা শুরু হয়ে গেল, যখন তারই আশেপাশে তারই কাছাকাছি আকারের একগাদা গ্রহসদৃশ বস্তুপিণ্ড আবিষ্কার হতে থাকলো… ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ থেকেই প্লুটোর মতোই গ্রহ হবার দাবি নিয়ে হাজির হতে থাকলো সেডনা, এরিস, মাকেমাকে, ওরকাস ইত্যাদি। শেষে বাধ্য হয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংঘ (International Astronomical Union – IAU) একটা সমাধানে আসতে চাইলেন, এবং এই প্রথম ২০০৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ আগস্ট এক সম্মেলনে তাঁরা “গ্রহ” শব্দটার সংজ্ঞা তৈরি করলেন, এবং এই সংজ্ঞা অনুযায়ী দেখা গেল সৌরজগতের নবম গ্রহ প্লুটোই বাদ পড়ে গেল গ্রহ-তালিকা থেকে। যাত্রা শুরু করা একটা গ্রহের যাত্রা সমাপ্তও হয়ে গেল। প্লুটোকে গ্রহ-তালিকা থেকে বাদ দিয়ে “বামন গ্রহ” (Dwarf Planet, Minor Planets) উপাধি দেয়া হলো, কারণ তখন তার পাশ দিয়ে ঘুরতে থাকা একটা উপগ্রহেরও সন্ধান ছিল আমাদের হাতে, নাম তার ক্যারন (Charon – উচ্চারণ চ্যারন নয়) – ক্যারন আবিষ্কার হয়েছিল ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে। আসলে তখন তিনটা উপগ্রহের খবর জানতেন বিজ্ঞানীমহল, আরো দুটো হচ্ছে নিক্স (Nix) এবং হাইড্রা (Hydra) – আবিষ্কার হয় ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে। (বিস্তারিত: প্লুটো এবং গ্রহ-বিতর্কের অবসান)

পৃথিবীজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠলো, প্লুটোকে কেন গ্রহ-তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে। মহাকাশ-বিষয়ক টিভি ব্যক্তিত্বদের কাছে শিশুরা প্রতিবাদপত্র পাঠাতে শুরু করলো, তারা অভিমান জানাতে থাকলো, কী দোষ করলো প্লুটো? প্রতিবাদ আরোও একজন করছিলেন মন থেকে, তিনি হলেন, অ্যালান স্টার্ন (S. Alan Stern)। কারণ ততদিনে তিনি এবং তাঁর দল ১০-১২ বছরের কাগজে-পত্রে আর আইনী প্রস্তুতি শেষ করে, মাত্র ৫ বছরে যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করে ঐ বছরেরই ১৯ জানুয়ারিতে এক বিশাল যাত্রার সূচনা করে ফেলেছেন। এবার আমরা জানবো, সেই যাত্রার আদ্যোপান্ত:

প্লুটো সম্পর্কে আমরা যা জানি

প্লুটো সম্পর্কে আমাদের জানার বেশ ঘাটতি আছে, আমরা কেবলই দূর থেকে প্লুটোকে দেখতে পারছিলাম – অবশ্য সেটা খুব আলাদা কিছু নয়, বিশাল এই অন্ধকার আকাশ সম্পর্কে আমাদের অনেক জ্ঞানই ‘দূর থেকে দেখে নেয়া’। কিন্তু আমাদের সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহগুলোতে কিন্তু আমাদের চাক্ষুস পদচারণা আছে^। সেখানে একমাত্র প্লুটোই কিন্তু অভিযানের বাইরে ছিল। কী জানি আমরা প্লুটো সম্পর্কে – জানি মোটামুটি মন্দ নয়, আলোর বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্য মেপে আমরা বিভিন্ন উপাদান সম্পর্কে ধারণা করতে পেরেছি, পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ দিয়ে আমরা তাকে যেমন আবিষ্কার করেছি, তেমনি তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছি, আবিষ্কার করেছি তার সবগুলো উপগ্রহও। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্র, যা মহাকাশে ভাসমান অবস্থায় সচল, সেই হাবল স্পেস টেলিস্কোপ (HST) দিয়েও আমরা প্লুটোর সবচেয়ে পরিষ্কার যে ছবিটা পেয়েছি, সেটা আসলে শ’খানেক চতুষ্কোণ পিক্সেলের একটা কাকের ঠ্যাং-বকের ঠ্যাং (যদিও বিজ্ঞানীদের কাছে বিষয়টা তা না, তাঁরা সেখান থেকেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ধারণা করে ফেলতে সক্ষম)। তাই সৌরজগতের একমাত্র চাক্ষুস না করা গ্রহটাকে কাছ থেকে দেখার তাগাদা আমাদের দীর্ঘদিনের।

অভিযান পরিচালনার আরেকটা বড় কারণ হচ্ছে, জানা। জ্ঞান হচ্ছে সবকিছু। আমরা অনেকেই মনে করি, এতো গবেষণা করে আসলে কী হয়? আসলে অনেক অনেক কিছুই হয়, আমরা প্রযুক্তির যত উৎকর্ষ ব্যবহার করি, তা আসলে অন্য কোথাও অন্য কোনো গবেষণার ফসল। বাঁশ-এর গঠন নিয়ে গবেষণা করায় পৃথিবীর অন্যতম উচ্চতম দালান Taipei 101 তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল, জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেয়ার টেকনোলজি আবিষ্কার হয়েছিল বলে আজ প্রতিফলন দূরবীক্ষণ যন্ত্র তৈরি সম্ভব হয়* – ঠিক তেমনি, আমাদের সৌরজগতকে জানা মানে, আমাদের গ্রহের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ জানা, প্রকারান্তরে আমাদের, মানুষের, অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ জানা।

প্লুটোতে অভিযান

১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে অ্যালান স্টার্ন এবং ফ্র্যান ব্যাগেনাল একজোট হয়ে একটি জোট গঠন করেন, নাম দেন “প্লুটো আন্ডারগ্রাউন্ড”। প্লুটো আন্ডারগ্রাউন্ড চিঠিপত্র চালাচালি করতে করতে এক বছরের মাথায় বিজ্ঞানীদের মাথায় প্লুটোতে একটা অভিযান করার পোকাটা ঢুকিয়ে দিতে সফল হন। এর মধ্যে প্লুটো ৩৫০, প্লুটো কুইপার এক্সপ্রেস ইত্যাদি নামে ৫টির মতো প্রজেক্ট মাথাচাড়া দেয়, আবার হারিয়েও যায়। এরকম নানা পরিকল্পনাই বেরোচ্ছিল আবার হারিয়েও যাচ্ছিল, অনেকগুলো কারণও ছিল: বাজেট স্বল্পতা, প্লুটোর ঐ বিপুল দূরত্বে পৌঁছাবার অনিশ্চয়তা, অতো বিপুল দূরত্বের একটা বস্তু কিংবা বস্তুগুলো সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের স্বল্পতা – সবই বিভিন্নভাবে প্রভাব ফেলছিল। অবশেষে অ্যালান স্টার্নকে প্রধান করে ২০০০ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে গঠন করা হয় একটা দল, নাম দেয়া হয় “নিউ হরাইযন্‌স” (New Horizons)। ২০০১ খ্রিস্টাব্দের ২৯ নভেম্বরে গিয়ে অবশেষে নিউ হরাইযন্‌সই চূড়ান্ত হয় প্লুটোতে একটা অভিযান চালানোর জন্য।

ঘটনার সবে মাত্র শুরু… নাসা চিন্তা করলো, এতো দূরে, অর্থাৎ পৃথিবী থেকে ৭.৫ বিলিয়ন কিলোমিটার (বিলিয়নের হিসাব যদি 109 ধরি, তাহলে ৭,৫০,০০,০০,০০০ কিলোমিটার) দূরে যদি যাওয়াই যায়, তাহলে চোখটাকে আরেকটু প্রসারিত করলে সমস্যা কোথায়? লক্ষ্যটাকে আরো একটু বাড়িয়ে নিয়ে তাই ঠিক করা হলো, নিউ হরাইযন্‌স মিশন প্লুটোকে মূল লক্ষ্য ধরে হলেও, সে আসলে প্লুটোতে গিয়ে আছাড় খাবে না, বরং প্লুটোর পাশ দিয়ে আরো পিছনে, সৌরজগত থেকে আরো বাইরে দ্বিতীয় কুইপার বেল্টের দিকে উড়ে যাবে। আর এজন্যই এই মিশনের নাম হয়ে গেল #PlutoFlyby (এই হ্যাশট্যাগ দিয়েই সূচিত হতে থাকলো পুরো ঘটনাটা)। সাধারণত ১০ বছর লাগে একটা মহাকাশযান তৈরিতে, কিন্তু এক্ষেত্রে সময় পাওয়া গেল মাত্র ৫ বছর। তাড়াহুড়ার কারণটা নাসাতে নয়, বরং প্লুটোতে।

নিউ হরাইযন্‌স - যে পথে যাবে উড়ে (ছবি: JHUAPL)
নিউ হরাইযন্‌স – যে পথে যাবে উড়ে (ছবি: JHUAPL)

প্লুটো, সূর্যকে ঘিরে [মোটামুটি] ১৬৪ বছরে একবার ঘুরে আসে (প্লুটোর বার্ষিক গতি), কিন্তু অন্যান্য গ্রহের মতো এর কক্ষপথটা সূর্যের চারপাশে বৃত্তাকার না, বরং ডিম্বাকার। এই ডিম্বাকার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে প্লুটো একসময় সূর্যের বেশ কাছাকাছি চলে আসে, আবার অনেক অনেক দূরে চলে যায়। নাসার লক্ষ্য হচ্ছে, প্লুটো যখন সূর্যের কাছাকাছি চলে আসবে, অর্থাৎ প্লুটোর সাথে আমাদের দূরত্ব তুলনামূলক কম থাকবে, প্লুটোতে পৌঁছাতে সময় কম লাগবে, ঠিক তখনই যেন প্লুটোর পাশ দিয়ে আমরা উড়ে যেতে পারি। হিসাব নিকাশ শেষে, খুব তাড়াহুড়া করে অবশেষে ২০০৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জানুয়ারি একটা Atlas V 551 রকেটে করে মহাকাশে উড়িয়ে দেয়া হলো নিউ হরাইযন্‌স-কে।

নিউ হরাইযন্‌স

নিউ হরাইযন্‌স স্পেস প্রোব (ছবি: নাসা)
নিউ হরাইযন্‌স স্পেস প্রোব (ছবি: নাসা)

নিউ হরাইযন্‌স একটি স্পেস প্রোব, যার আকার একটা ছোটখাটো পিয়ানোর মতো, উড্ডয়নের সময় যার ওজন ছিল মাত্র ৪৭৮ কেজি। এর বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সোলার প্যানেল থাকাটা স্বাভাবিক হলেও, সমস্যা হলো সে সৌরজগতের যে কোণায় যাচ্ছে, সূর্য থেকে সেখানটা অনেক অনেক দূরে, তাই এতে সোলার প্যানেলের বদলে যোগ করা হয়েছে ‘রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেক্ট্রিক জেনারেটর’, যাতে কোনো সচল যন্ত্রাংশ নেই, এবং নিজে নিজে প্লুটোনিয়াম-এর র‍েডিওঅ্যাকটিভ ক্ষয়ের মাত্রা থেকে তাপটুকু কাজে লাগিয়ে খুব অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ তৈরি করে দিতে পারবে – পরিমাণটা কত? মাত্র দুটো লাইটবাল্ব জ্বালানোর মতো অল্প বিদ্যুৎ – বিশ্বাস হয়?

এর চেহারাটা ত্রিভূজাকৃতির, এতে আছে প্রপালশন অ্যান্ড অল্টিচিউড কন্ট্রোল, মানে গতি সঞ্চারক এবং উচ্চতা নিয়ন্ত্রক; জেনারেটর (যা আগেই বললাম); ফ্লাইট কম্পিউটার, অনেকটা বিমানের অটোপাইলটের মতো; যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য একটা অ্যান্টেনা; লং রেঞ্জ রেযোন্যান্স ইমেজার (LORRI), যা দৌঁড়াতে দৌঁড়াতেই দূর থেকে নিখুঁত ছবি তুলতে সক্ষম; Ralph দূরবীক্ষণ যন্ত্র; অ্যালিস, যা অতিবেগুণী রশ্মি বিশ্লেষণ করতে সক্ষম… এবং আরো কিছু যন্ত্রপাতি। একটা কথা বলা দরকার, যন্ত্রপাতি বলতে যেরকম কলকব্জায় ভরপুর বোঝা যায়, নিউ হরাইযন্‌স-এ বিজ্ঞানীরা পারতপক্ষে তা এড়িয়ে গিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাসায়নিক সমাধান ব্যবহার করেছেন। এর জ্বালানী উৎস এবং মেকানিজম এতোটাই সীমিত রাখা হয়েছে যে, প্লুটো থেকে সিগন্যাল গ্রহণের জন্য অ্যান্টেনাকে প্লুটোর দিকে ঘুরাতে হয়, আবার পৃথিবীতে সিগন্যাল পাঠাতে হলে অ্যান্টেনা পৃথিবীর দিকে ঘুরাতে হয় – কিন্তু অ্যান্টেনাকে ঘুরানোর মেকানিজম নেই, তাই পুরো নিউ হরাইযন্‌স-কেই ঘুরাঘুরি করতে হয়।

অনেক কথাই বলতে হয়, এবার বেশ কিছু বিষয় সংক্ষেপে বলা যাক:

নিউ হরাইযন্‌স-কে আমাদের শেষ ধাক্কা (স্ক্রিনশট)
নিউ হরাইযন্‌স-কে আমাদের শেষ ধাক্কা (স্ক্রিনশট)

পৃথিবী থেকে রকেট দিয়ে উড়াল দেবার পরে, শেষ একটা যন্ত্র দিয়ে নিউ হরাইযন্‌স-কে সঠিক দিকে, মানে যে দিক দিয়ে তাকে প্লুটোতে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে, ঠিক সেদিকে, ঠিক তত ডিগ্রি কৌণিক উচ্চতা দিয়ে ঠেলা দেয়া হলো। মহাকাশের বায়ুশূণ্য স্থানে নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্রে (বস্তু সেদিকে ঠিক ততটা গতিশীল, ঠিক যেদিকে তাকে ঠিক যতটা ভর দিয়ে ঠেলে দেয়া হয়েছে) ভর করে নিউ হরাইযন্‌স উড়ে চললো। নিউ হরাইযন্‌স-এর নিজস্ব শক্তিশালী কোনো প্রপেলার নেই যে, তাকে ঠেলে ঠেলে উড়িয়ে নিয়ে যাবে, এতে থাকা প্রপালশন মেশিনটা শুধুমাত্র চলার পথে ছোটখাটো দিকপরিবর্তন, নিজের জায়গায় ঘুরাঘুরি – এসব কাজেই ব্যবহার করার জন্য তৈরি। যাহোক, এক ধাক্কাতেই, পরদিনই সে চাঁদকে অতিক্রম করলো, এবং ঐ সমপরিমাণ ধাক্কার গতি নিয়েই এগিয়ে চললো বৃহস্পতি লক্ষ্য করে।

বৃহঃস্পতির দিকে যাবার একটা বিশেষ উদ্দেশ্য আছে, মহাকাশ বিজ্ঞানীরা বড় বড় মহাকাশীয় বস্তুর বিপুল ভরকে কাজে লাগিয়ে তার বিপুল মাধ্যাকর্ষণের সুযোগটা নিয়ে চলমান বস্তুর গতিকে বাড়িয়ে নেয়ার একটা মজাদার কৌশল (gravity assist) রপ্ত করেছেন। অর্থাৎ বড় বস্তুর পাশ দিয়ে উড়ে যাবার সময় তার মাধ্যাকর্ষণ গতিশীল বস্তুটাকে নিজের দিকে টান দেয়, কিন্তু সেই টানে ধরা না দিয়ে গতিশীল বস্তুটা বেরিয়ে যেতে চায়, আর তখনই গতি বেড়ে যায় তার আরো বহুগুণ। হিসাব-নিকাশ করে দেখা গেল, ২০০৬-এর জানুয়ারিতে কিংবা বড়জোর ফেব্রুয়ারিতে, আর এদুটো বিফল হলে ২০০৭-এর ফেব্রুয়ারিতে একটা সুযোগ আছে, ঐ সময় যদি একে উড়িয়ে দেয়া যায়, তাহলে প্লুটোতে যাবার পথে বৃহঃস্পতির কাছ দিয়ে যাওয়া যাবে, আর গতি সঞ্চার করা যাবে। আমরা কিন্তু জানুয়ারিতেই সফল উড্ডয়ন করতে পেরেছি।

প্লুটোতে যাবার পথে বৃহঃস্পতি থেকে গতি বাড়িয়ে নেয় নিউ হরাইযন্‌স (ছবি: JHUAPL)
প্লুটোতে যাবার পথে বৃহঃস্পতি থেকে গতি বাড়িয়ে নেয় নিউ হরাইযন্‌স (ছবি: JHUAPL)

তথ্যকণিকা ১

  • প্লুটোর খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাবার সময় নিউ হরাইযন্‌স-এর গতি থাকবে ঘন্টায় ৩১,০০০ মাইল (১৪ কিলোমিটার পার হয়ে যাবে একেক সেকেন্ডে)
  • ২০০৬ সালে যখন এটি পৃথিবী থেকে উড়াল দেয়, তখন এটাই প্রথম মহাকাশীয় উড়ালযন্ত্র, যাতে শিক্ষার্থীদের তৈরি করা একটা যন্ত্র বসানো হয়েছে, যার নাম: স্টুডেন্ট ডাস্ট কাউন্টার (যার কাজ হচ্ছে মহাকাশের ধুলাবালি যা গায়ে লাগবে, তার একটা হিসাব-নিকাশ করা)
  • পুরোপুরি জ্বালানীভর্তি করা হলে নিউ হরাইযন্‌স-এর ওজন ৫,৪৪,৩১১ কেজিরও বেশি হয়, কিন্তু তবু সে একটা ছোট্ট বেবি গ্রাউন্ড পিয়ানোর মতোই আকারের
  • এই পুরো যাত্রাপথে সে পার করেছে সাতটা গ্রহীয়-কক্ষপথ: চাঁদ, মঙ্গল, গ্রহাণু অ্যাপিএল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, এবং নেপচুন
  • ১৬ বছর-ব্যাপী নিউ হরাইযন্‌স মিশন মোটামুটি ৭২০ মিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট
  • প্লুটোই আমাদের সৌরজগতের একমাত্র প্রাথমিক গ্রহ, যা এখনও কোনো স্পেসক্র্যাফ্‌ট গিয়ে কাছ থেকে দেখা বাকি আছে
  • ক্যারন – প্লুটোর বৃহত্তম উপগ্রহ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সমান বড়
  • প্লুটো আর ক্যারন এমনভাবে একে অপরকে ঘিরে আবর্তিত হয় যে, আসলে প্লুটোকে ঘিরে যেন ক্যারন ঘুরছে না, বরং দুজনেই দুজনকে ঘিরে ঘুরছে। এজন্য এরাই হচ্ছে সৌরজগতের প্রথম বাইনারি গ্রহ (যুগল গ্রহ?) (অবশ্য অনেক বিজ্ঞানী আমাদের পৃথিবী আর চাঁদকেও তেমনটা বলতে চান)
  • গড় হিসাবে, প্লুটো, সূর্য থেকে পৃথিবীর তুলনায় ৪০ গুণ বেশি দূরে (কথাটার মানে হলো: সূর্য থেকে পৃথিবীতে আসতে যতসময় লাগবে, সূর্য থেকে প্লুটোতে যেতে সেই সময়ের সাথে ৪০ গুণ করে নিতে হবে)
  • প্লুটোপৃষ্ঠে পৃষ্ঠাকর্ষণ বা মাধ্যাকর্ষণ, পৃথিবীর তুলনায় মাত্র ৬% (পৃথিবী: 9.807 m/s²; চাঁদ: 1.622 m/s²; প্লুটো: 0.658 m/s²)

যেতে যেতে সে পথে যা যা পড়লো, তার ছবি, বিবরণ, হিসাব-নিকাশ পাঠিয়ে পাঠিয়ে যেতে থাকলো – এগুলো হলো মিশনের বাড়তি পাওনা। বৃহঃস্পতির চাঁদগুলো কাছ থেকে নতুন করে দেখারও সুযোগ নিল সে। বৃহঃস্পতি পার করে নিউ হরাইযন্‌স এবার মহাকাশের বহিরাংশের দিকে যখন চললো, এবারে শুরু হলো তার নতুন অধ্যায় – নিদ্রার অধ্যায় – সোজা বাংলায়: তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হতো।

গতিপথটা হিসাবনিকাশ অনুযায়ী সঠিক না হয়ে একটু এদিক ওদিক হয়ে গেছে প্রমাণ পেলেই বিজ্ঞানীরা তার গতিপথ আবার সঠিক করে নেবার জন্য ট্র্যাজেক্টরি কারেকশনাল কাজগুলো করে নেন। তাছাড়া যন্ত্রপাতিগুলো সচল আছে কিনা সেটাও পরীক্ষা করে নিতে ভুলেন না। এপ্রিলের ৭ তারিখ, সে মঙ্গলের কক্ষপথ মাড়িয়ে এগিয়ে চললো। মাঝপথেই (১৩ জুন ২০০৬) অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তার দেখা হয়ে যায় 132524 APL নামক একটা গ্রহাণুর (asteroid) সাথে – বিপুল গতিতে তার পাশ কাটিয়ে যায় নিউ হরাইযন্‌স। যাহোক, পরিকল্পনামাফিকই কাজ করলো সবকিছু: পরের বছর, অর্থাৎ ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে বৃহঃস্পতির ২.৩ মিলিয়ন কিলোমিটার (২৩,০০,০০০ কিলোমিটার) দূর দিয়ে উড়ে যেতে যেতে বৃহঃস্পতির মাধ্যাকর্ষণ কাজে লাগিয়ে বিপুল গতি বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয় সে। গতি কতটা বাড়লো? প্রতি সেকেন্ডে ৪ কিলোমিটার গতি বেড়ে গেলো তার, এতে প্লুটোতে যাওয়ার পথ কমে এলো ৩ বছর, অর্থাৎ এই গতিটুকু না বাড়লে প্লুটোতে যেতে পরিকল্পিত সময়েরও আরো তিন বছর বেশি লাগতো।

এদিকে ২০১১-১২ খ্রিস্টাব্দে জানা যায়, তিনটা উপগ্রহওয়ালা যে প্লুটোকে দেখার জন্য নিউ হরাইযন্‌স যাত্রা শুরু করেছিল, সেই প্লুটোর সন্তান আসলে মোটমাট ৫টা: ক্যারন, নিক্স, হাইড্রা, কারবেরোস (Kerberos – ২০১১) ও স্টিক্স (Styx – ২০১২) – ভালোই হলো, প্লুটোর গুরুত্বটা আরেকটু বাড়লো।

হাইবারনেশন বা শীতনিদ্রা বিষয়টা সাপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য: তারা শীতকালে দীর্ঘসময় ধরে ঘুমিয়ে কাটায়। বছরের পর বছর ধরে যে যন্ত্রটা মহাকাশে ভেসে ভেসে উড়ে যাচ্ছে, শ্রেফ একটা ধাক্কা আর বৃহঃস্পতির মাধ্যাকর্ষণ কাজে লাগিয়ে সঞ্চার করা গতিতে, সে নিজে আর কোনো বুস্ট নিচ্ছে না, তাছাড়া কালো মহাকাশে সে তাকিয়ে থাকলে আমাদের তেমন কোনো উপকার হবে না – তাই এই যন্ত্রটা আসলে অকারণে সজাগ থাকার কোনো মানেই নেই – এতে খরচ বাঁচবে, জ্বালানী বাঁচবে – আমরা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে এগিয়ে যাবো মূল লক্ষ্য – প্লুটোর দিকে…। যেহেতু এবারে গতিটা আর বাড়বে না, গতি নিশ্চিত, প্লুটোর অবস্থান নিশ্চিত, তাই কবে কখন কোথায় সে থাকবে, তারও একটা ধারণা হয়ে গেল, এবং সেই হিসাবমতে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের জুলাইতে নিউ হরাইযন্‌স প্লুটোর কাছে পৌঁছাবে, তাই এই বছরকেই “The Year of Pluto” আখ্যায়িত করা হলো। …এই সুযোগে নাসার বিজ্ঞানীরা ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ৫ জুলাই প্লুটোতে পৌঁছার পর নিউ হরাইযন্‌স-কে কিভাবে পরিচালনা করা হবে, তার একটা সফল রিহার্সালও দিয়ে নিলেন। সব ঠিকঠাক কাজ করলো, নিজেদের সক্ষমতা আর দুর্বলতাগুলো বুঝে নেয়া হলো, তাই নাসার বিজ্ঞানীরা নিউ হরাইযন্‌স-কে জানিয়ে দিলেন, তুমি আমাদেরকে তোমার সজাগ হবার বার্তা পাঠাবে, কোথায় আছো জানাবে, আর এখন লক্ষ্মীটির মতো ঘুমিয়ে পড়ো। যন্ত্র তো যন্ত্রই, কথাটা মেমরিতে রেখে নিজেকে শিডিউল করে নিয়ে, খুব দরকারি যন্তরপাতি ছাড়া বাকিগুলো শাটডাউন করে নীরব হয়ে গেলো। মানুষের ঘুম যেমন মৃত্যুর সমান, তেমনি নিউ হরাইযন্‌সও ঘুমিয়ে গেলে আমরা পৃথিবী থেকে তার সম্বন্ধে কিছুই জানতে পারি না। শুধু প্রতি সপ্তাহে তার রেডিও অ্যান্টেনা দিয়ে পৃথিবীর দিকে একটা সিগন্যাল পাঠায় যে, আমি ঠিক আছি। হাইবারনেশনের সময়টায় মিশন কন্ট্রোল মজা করে, ডেস্কের মধ্যে একটা ভালুকের মাস্কট (প্রতীকি পুতুল) কম্বল মুড়ি দিয়ে শুইয়ে রাখেন। আবার যখন সে হাইবারনেশন থেকে সজাগ হয়, তখন ভালুক পুতুলটাকে একটা পার্টি হ্যাট পরিয়ে দেন। 🙂

এভাবে আমরা সেই বছরে, পৌঁছে গেলাম যে বছর আমরা প্লুটোর সবচেয়ে কাছাকাছি হবো – ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ। নাসার মিশন কন্ট্রোল একটা নতুন চিন্তায় পড়লেন- নিউ হরাইযন্‌স যে গতিতে উড়ে যাচ্ছে, সামান্য একটু ধুলিকণা যদি তাকে ছোঁয়.. হ্যা, শুধু যদি ছোঁয়ই, তাহলে তার বিপুল ক্ষতি হয়ে যাবে। সেখানে যদি এমন হয়, প্লুটোর কাছাকাছি শনি’র মতো একটা রিং থেকে থাকে, যা আমরা পৃথিবী থেকে দেখে আঁচ করতে পারছি না, তাহলে সেখানে অনেক অনেক নুড়ি, পাথর ইত্যাদি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে, যা প্রোবটাকে পুরোপুরি অকেজো করে দিতে পারে। এজন্য প্রাথমিক পরিকল্পনাটা যা করলেন তাঁরা, এরকম কিছু দেখলে তাঁরা অ্যান্টেনাটা চলার পথমুখী করে দিবেন, কারণ ওটা যথেষ্ট বুলেটপ্রুফ, আর সামনের এরকম বাধাগুলো আটকে দিতে পারবে যথাসম্ভব – কিন্তু তাও যথেষ্ট নয়। দ্বিতীয় আরেকটা পরিকল্পনা হলো, শ্যাবট (SHBOT – Safe Haven by Other Trajectory), যার মানে হলো “বিকল্প পথে ঢুকে নিরাপদ থাকা” – প্লুটোকে যেদিক দিয়ে গিয়ে দেখার পরিকল্পনা করার কথা হচ্ছিলো, তার ডানে এবং বামে আরো দুটো ট্র্যাজেক্টরি বা গমনপথ বেছে নিলেন তাঁরা, যাতে দরকার পড়লে সেদিকেও চালিত করা যায় নিউ হরাইযন্‌স-কে।

১৪ জুলাই ২০১৫ – #PlutoFlyby

নিউ হরাইযন্‌স, প্লুটোর দিকে এগোচ্ছে আর ছবি তুলছে। (JHUAPL)
নিউ হরাইযন্‌স, প্লুটোর দিকে এগোচ্ছে আর ছবি তুলছে। (JHUAPL)

অবশেষে, ফিঙ্গার ক্রস্‌ড – ২০১৫ সালও এসে গেছে, এসে গেছে জুলাই মাসও। দূর থেকে প্লুটো আর ক্যারন-এর বিভিন্নরকম পরিমাপ, হিসাব-নিকাশ আর গাদা গাদা ছবি নিতে নিতে এগোচ্ছে নিউ হরাইযন্‌স। যত সময় যাচ্ছে, যত এগোচ্ছে সে, ছবি হচ্ছে তত স্পষ্ট, আমাদের ছোট্ট শিশুটি বেরিয়ে আসছে তার রূপ নিয়ে।

এভাবে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সেই ১৪ জুলাই চলে এলো, আজই প্লুটোর সবচেয়ে কাছ দিয়ে উড়ে যাবে নিউ হরাইযন্‌স – The #PlutoFlyby সংঘটিত হবে। আর পুরো সময়টাই নিউ হরাইযন্‌সকে ব্যস্ত থাকতে হবে প্লুটোকে নিয়ে – এই কথাটার মানে হচ্ছে, নিউ হরাইযন্‌স-এর অ্যান্টেনা থাকবে প্লুটোর দিকে, লরি তাক করে থাকবে প্লুটোর দিকে, অন্যান্য যন্ত্রপাতি মুখ ঘুরিয়ে রাখবে প্লুটোর দিকে… ব্যস্ততম সময়, তাই পৃথিবীতে সে কোনো সিগন্যাল পাঠাতে পারবে না, আর আমরাও জানতে পারবো না, কী হচ্ছে, কিভাবে হচ্ছে, এমনকি… আদৌ হচ্ছে, কিনা নিউ হরাইযন্‌স ধ্বংস হয়ে গেছে।

অধ্যাপক ড. দীপেন ভট্টাচার্য’র মন্তব্য থেকে আরেকটা কারণ জানা যাবে, কেন আমরা অনেক দেরিতে জানবো, ওখানে আসলে কী হচ্ছে:

প্লুটো থেকে আলোর এখন ৪ ঘন্টা ২৫ মিনিট লাগে পৃথিবীতে পৌঁছতে। রেডিও সিগন্যালেরও মোটামুটি এরকমই লাগে। অর্থাৎ একবার সিগন্যালটা যাওয়া আবার ঘুরে আসা মিলিয়ে মোটমাট ৯ ঘন্টা লাগবে – একারণে কন্ট্রোলারদেরকে ততক্ষণ অপেক্ষা করতেই হবে যে, তাঁদের পাঠানো সিগন্যাল আসলে কাজ করেছে কিনা সেটা জানতে।

প্লুটোতে নিউ হরাইযন্‌স-এর অভিযান সিমুলেশনে পর্যবেক্ষণ
প্লুটোতে নিউ হরাইযন্‌স-এর অভিযান সিমুলেশনে পর্যবেক্ষণ

আমি নাসা’র জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির একটা কম্পিউটার সিমুলেশন অ্যাপ^ দিয়ে নিউ হরাইযন্‌স-কে তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছিলাম, দেখতে পাচ্ছিলাম কখন সে কতটা দূরে আছে, কখন কোন দিকে লরিকে তাক করে রেখেছে, কিসের ছবি তুলছে, কত গতিতে যাচ্ছে, কতক্ষণ লাগবে প্লুটোতে পৌঁছাতে – ইত্যাদি সবকিছু…। ১৪ জুলাই ২০১৫ দুপুর ২:৫৬-তে আমার ফেসবুক স্ট্যাটাস^ ছিল:

এই ঘন্টাখানেক আগেও লরি, নিক্স আর হাইড্রা’র দিকে (প্লুটোর ৫ উপগ্রহের দুটা) তাক করা ছিল, এখন আবার প্লুটোর দিকে তাক করা।

আর মাত্র ২ ঘন্টা ৫০ মিনিট

যাহোক, সময়ের আগেই, অর্থাৎ প্লুটোর পাশ দিয়ে উড়ে যাবার আগেই নিউ হরাইযন্‌স-কে নির্দেশনা দিয়ে দেয়া হলো কখন কী করতে হবে, কিভাবে করতে হবে, করা শেষে কী করতে হবে, এবং কিভাবে এই স–বকিছু ব্যবস্থাপনা করতে হবে। সব বুঝে নিয়ে রবোটটি (মানে নিউ হরাইযন্‌স আরকি) ঘুরিয়ে নিলো তার অ্যান্টেনা পৃথিবী থেকে, আমরা তার সাথে সব যোগাযোগ হারালাম এবং অপেক্ষার প্রহর গুণতে থাকলাম। বাংলাদেশ থেকে যারা অপেক্ষা করছিলেন, আমিও তাদের মধ্যে একজন – রমজানের মধ্যেও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম, সেহরি খেয়ে ওয়েবসাইট পরখ করছিলাম… কখন ফোন করবে নিউ হরাইযন্‌স… এজীবনে হেলি’র ধূমকেতু দেখা হবে কিনা জানি না, অন্তত একটা মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে তো থাকতে পারবো…

অবশেষে ১৫ জুলাই ২০১৫, বাংলাদেশ সময় ভোর পোনে ৭টার দিকে আমরা পৃথিবীর মানুষরা নিউ হরাইযন্‌স-এর ফোন পাই – উল্লসিত হয়ে পড়েন জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত নিউ হরাইযন্‌স মিশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সবাই। হ্যা, নিউ হরাইযন্‌স সফলভাবে প্লুটোকে অতিক্রম করেছে। যেহেতু সে একটা কম্পিউটার, তাই আশা করা যায়, তাকে বলা কাজটুকু সে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে।

প্লুটোতে কী পেলাম?

প্লুটোকে দূর থেকে দেখে, আমরা যা যা ধারণা করতাম, নিউ হরাইযন্‌স তার সবগুলোকে মিথ্যা প্রমাণ করেছে – ব্যাপারটা এমন না। আমরা তো আর মনগড়া হিসাব-নিকাশ করিনি, যুক্তি-বিজ্ঞান-গণিত আর অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ দিয়েই হিসাব-নিকাশ করেছি। অনেক তথ্যই সত্যি প্রমাণিত হলো, তবে অনেক তথ্যই ঠিক ভুল প্রমাণ হলো বলবো না, বরং সঠিকায়িত হলো। আমরা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে সক্ষম হলাম আসলে প্লুটোর আকার কত – লরি ব্যবহার করে প্লুটোর যে আকার নির্ধারিত হয়েছে, তা হলো ১,৪৭৩ মাইল (২,৩৭০ কিলোমিটার) – যা আগের যেকোনো হিসাবের চেয়ে বেশি। এমনকি এতে এটাও স্পষ্ট হয়ে পড়ে যে, নেপচুনের পরে জ্ঞাত গ্রহাণুগুলোর মধ্যে প্লুটোই সবচেয়ে বড়।

প্লুটো - ১৩ জুলাই ২০১৫-তে LORRI দিয়ে তোলা, এবং Ralph-এর তথ্যানুযায়ী রঙিন করা (ছবি: JHUAPL)
প্লুটো – ১৩ জুলাই ২০১৫-তে LORRI দিয়ে তোলা, এবং Ralph-এর তথ্যানুযায়ী রঙিন করা (ছবি: JHUAPL)

১৩ তারিখে দূর থেকে তোলা একটা ছবিতে সম্পূর্ণ প্লুটোকে আমরা প্রথম, কাছ থেকে, দেখতে পাই। সবাই-ই প্লুটোকে এতোটা কাছ থেকে এই প্রথমবার দেখতে পান, এবং অনেক প্লুটো-সমর্থক তখন তার গায়ের একটা হৃদয় চিহ্নের (❤️‍) মতো অংশটা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে বলতে থাকেন- দেখো, প্লুটো বলছে, আমাকে তোমরা লাথি মেরে গ্রহতালিকা থেকে বের করে দিয়েছো, আসলে আমি তোমাদের ভালোবাসি। 🙂 – এগুলো আবেগপ্রবণ কথা ছাড়া আসলে কিছুই নয়। ছবিটা লরি ব্যবহার করে তোলা, এবং Ralph-এর দেয়া তথ্যাদির ভিত্তিতে রঙিন করা।

সময়ে সময়ে নিউ হরাইযন্‌স-এর তোলা ছবি, সংগ্রহ করা উপাত্ত অল্প অল্প করে পাঠাতে থাকলো সে। ছবিগুলো অনেক বড় আকারের যে, সেগুলো যদি পাঠাতে যায়, অনেক সময় লাগবে। তাই সেগুলো কম্প্রেস করে, ফাইলের আকার কমিয়ে আমাদের তৃষ্না নিবারণ করবার জন্য কিছু কিছু নমুনা সে পাঠাতে থাকলো। মনে রাখতে হবে, পাঠানোর দায়িত্বে বসে থাকলে সে কিন্তু অ্যান্টেনা পৃথিবীর দিকে ঘুরিয়ে রাখে, তাই,ওখানে প্লুটোকে পার করে ওদিক থেকে যদি প্লুটোর তথ্য নেয়ার দরকার পড়ে, তখন কিন্তু সে তা করতে পারে না। তাই আমাদের ক্ষিধা কমিয়ে তাকে তার কাজ চালিয়ে যেতেও বলা হয়, কারণ সে এখন প্লুটোকে পার করে কুইপার বেল্টের দিকে যেতে থাকবে, আবার আমাদেরকে জমিয়ে রাখা তথ্যও দিতে থাকবে।

জুলাই’র শেষ পর্যন্ত তাই তার অপটিক্যাল যন্ত্রপাতি প্লুটো-সিস্টেমের দিকে তাক করা থাকবে, তারপর তাকে স্পিন করে দেয়া হবে মানে গতির সাথে ঘূর্ণনও দেয়া হবে, ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এগিয়ে নেয়া হবে, যাতে প্রতি সেকেন্ডে সে ১ কিলোবিটের বদলে মোটামুটি ২ কিলোবিট করে তথ্য পৃথিবীকে পাঠাতে পারে – বুঝতেই পারছেন কতটা সময়সাপেক্ষ হবে সব তথ্য পেতে…

এপর্যায়ে আমরা, এপর্যন্ত (২০ জুলাই ২০১৫) প্রকাশিত প্লুটো-সিস্টেমের ছবিগুলো দেখবো। প্রতিটা ছবির সাথে ক্যাপশন ছাড়াও রয়েছে বিবরণ – সুতরাং ছবিতে ক্লিক করে বিস্তারিত পাতায় ছবিগুলোর বিবরণও দেখে নেয়ার অনুরোধ থাকলো:

এই চলমান চিত্রে দেখা যায়, প্লুটোর সাম্প্রতিক ছবিটি আসলে প্লুটোর কোন অংশ থেকে তোলা:

এপর্যন্ত বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্লুটো আমাদের ৪.৫৬ বিলিয়ন বছর (বিলিয়নের হিসাব 109 ধরলে ৪,৫৬,০০,০০,০০০ বছর) বয়স্ক সৌরজগতের তুলনায় খুব নবীন একটা গ্রহ, কারণ এখানে দেখা প্রায় ১১,০০০ ফুট উঁচু পর্বতগুলোর বয়স মাত্র ১০০ মিলিয়ন বছর (অর্থাৎ ১০,০০,০০,০০০ বছর) – সে হিসাবে সে এই সৌরজগতের এক শিশু বলা যায়। প্লুটোর সর্ববৃহৎ উপগ্রহ ক্যারন-এ বিজ্ঞানীরা অনেক অনেক গহ্বর, গিরিখাদ থাকবে বলে আশা করেছিলেন, কিন্তু এতে গিরিখাদের এতো ঘাটতি দেখে তাঁরা যার-পর-নাই আশ্চর্য হয়েছেন। ক্যারনে, খাদের মধ্যে একটা পর্বতকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেও তাঁরা খুব আশ্চর্য হয়েছেন – এমনটা সচরাচর দেখা যায় না। কাছ থেকে তোলা ছবিতে প্লুটোতে নাইট্রোজেন, কার্বন মনোক্সাইড আর মিথেনের তরল রূপ দেখা যায়। ভেবে দেখুন তো, কক্সবাজারের ঐ সমুদ্র সৈকতে গিয়ে যদি আপনার পায়ে লাগা তরলটুকু পানি না হয়ে নাইট্রোজেন হয় – আপনি জমে বরফ হয়ে গুড়ো হয়ে যাবেন। এবারে বিজ্ঞানের চোখে বিষয়টা দেখা যাক – কক্সবাজারের ঐ তরলটুকু যদি হাইড্রোজেনের ২ পরমাণু আর অক্সিজেনের ১ পরমাণু (H20 – পানি) না হয়ে নাইট্রোজেন (N), মিথেন (CH4), কার্বন মনোক্সাইড (CO) হতো… 🙂

পরিশেষ

তথ্যকণিকা ২:

  • নিউ হরাইযন্‌স দল - ২০০৪ এবং ২০১৫ (স্ক্রিনশট)
    নিউ হরাইযন্‌স দল – ২০০৪ এবং ২০১৫ (স্ক্রিনশট)

    এই মিশনে নাসা খুব ছোট ছোট বিষয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ নজর দিয়েছিল (মহাকাশবিজ্ঞানই যথেষ্ট নিখুঁততা দাবি করে)। এরকম একটা অতি ক্ষুদ্র বিষয়ের মধ্যে একটা গ্রুপ ফটোগ্রাফও ছিল: ২০০৪-এ পুরো দল একটা দলগত ছবি তুলেছিল, ২০১৫-তে এসে সেই সদস্যগণ এমনকি নতুন সদস্যগণ – সবাই মিলে আরেকটি দলগত ছবি তুলেছিলেন – বলা যায়, সেই একই ঘটনা তাঁরা পুণরুজ্জীবিত করেছিলেন। নিশ্চয়ই বুঝা যাচ্ছে, এটা দলগত শক্তিকে (team spirit) কতটা চাঙা করে?

  • যেহেতু বহু বছর ধরে এই মিশন চলবে (২০১৫-তেই শেষ নয়, বরং কুইপার বেল্ট পার হয়ে চলবে এই মিশন), তাই এতে যুবদেরকে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল, যাতে মিশনের সাথে সাথে তাঁরাও পরিপক্ক হয়, এবং যারা পরিচালনা করছিলেন, তাঁদের কারো পরলোকগমনেও যেন মিশন যুবরা হাতে তুলে নিতে পারে – ভবিষ্যত পরিকল্পনার অপূর্ব নিদর্শন।

নিউ হরাইযন্‌স মিশনের সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে এখনও ঢের সময় লাগবে। সেগুলো বিশ্লেষণ করতে হবে। গবেষণা করতে হবে। আগের তথ্যের সাথে মিলাতে হবে। নিজেদের ভুলত্রুটিগুলো, প্রবেবল এরর, স্ট্যান্ডার্ড এরর-এর মাত্রা অনুপুঙ্খ করতে হবে। সাদাকালো ছবিগুলোকে Ralph-এর তথ্য দিয়ে রঙিন করতে হবে। তাছাড়া আমরা আমজনতা দেখে যতটা আপ্লুত হচ্ছি, সব ছবি বিজ্ঞানের জন্য কতটা তথ্যবহুল সেটাও বিবেচনার বিষয় হবে। সবচেয়ে বড় কথা, যত তথ্য সে সংগ্রহ করেছে, সেগুলো মূল আকারে পৃথিবীতে আনতেও লেগে যাবে বহুদিন। তাছাড়া কন্ট্রোল সেন্টার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতি সপ্তাহে একবার করে অশোধিত ছবিগুলো (raw images) প্রকাশ করবে, তাই অশোধিত ছবিগুলো দেখার জন্য আমাদেরকে আসলে সেখানেই ঢু দিয়ে যেতে হবে।

আর প্লুটো সম্পর্কে আমরা কী জেনেছি, তাও সময়ের আবর্তে আমাদেরকে নতুন করেই জেনে নিতে হবে। তাছাড়া মিশনটা যেহেতু এখনও চলমান, প্লুটোর পরের কুইপার বেল্টেইবা কী হচ্ছে, সেটাওতো জানতে চাই আমরা। তাই আসলে চলতে হবেই আমাদেরকে, নিউ হরাইযন্‌স-এর সাথে। তাই নজর রাখবো:

একটা বিষয়ে আশ্চর্য না হয়ে পারাই যায় না, বিজ্ঞানীরা আজ কতটা অগ্রসর হয়েছেন: সেই ২০০৬ সালেই তাদেরকে হিসাব নিকাশ করে বের করে ফেলতে হয়েছিল, ২০১৪ সালের জুলাইয়ের ১৪ তারিখ প্লুটো আসলে কোথায় থাকতে পারে। ‘কোথায়’ কথাটাও জটিল, কারণ, ভূমি সমতলে দাঁড়ানো একজন মানুষের ভৌগোলিক স্থানাংক যত, ঠিক তার মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া প্লেনটারও স্থানাংক একই, পার্থক্য শুধু অল্টিচিউডে। তাই মহাকাশের যে অক্ষ বরাবর পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরে (ভূঅক্ষ বা সূর্যপথ), তার স্বাপেক্ষে প্লুটোর কক্ষপথটা কত ডিগ্রি উঁচুতে বা নিচুতে তার হিসাবটাও অনুপুঙ্খ হওয়াটা জরুরি।

আমরা আসলে বিজ্ঞানের সেসব অগ্রযাত্রায় যেমন আপ্লুত, তেমনি আনন্দিত সৌরজগতের দূরবর্তি এই শিশু গ্রহটিকে কাছ থেকে দেখতে পেরে, আরো ঘনিষ্ঠভাবে জানতে পেরে। শিশুদের প্রিয় এই বামন গ্রহটি যে আসলেই এই সৌরজগতের একটা শিশু – এটা নিশ্চিত করে জানানোটা অবশ্যই নিউ হরাইজন্‌স-এর অসাধারণ এক কৃতিত্ব। তাকিয়ে রইলাম, সৌরজগতের বাইরের আরো অজানাকে, তার হাত ধরে জানবার অভিপ্রায়ে…

-মঈনুল ইসলাম


সংযোজন – ৩১ আগস্ট ২০১৫

#প্লুটোফ্লাইবাই-এর ঘটনাটা দেখা যাবে এই ভিডিওতে। ভিডিওটা জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি অফ অ্যাপ্লাইড ফিযিক্স ল্যাবরেটরি’র তৈরি করা, ভবিষ্যত সংরক্ষণের স্বার্থে নিশাচর-এর ইউটিউব চ্যানেলে তুলে রাখা হয়েছে মাত্র।

সংযোজন – ১ ডিসেম্বর ২০১৬

#প্লুটোফ্লাইবাই-এর পরে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা আমাদেরকে জানাচ্ছেন প্লুটো’র পেটের ভীতর আসলে কী আছে – প্লুটোর ভূ-অভ্যন্তরভাগের সেই তথ্য জানা যাবে মিডিয়াম-এ প্রকাশিত এই নিবন্ধ থেকে:

____________________

* ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলের Engineering Connections আসলে এমনই একটা অনুষ্ঠান যা দেখায়, কোথাকার জ্ঞান কোথায় গিয়ে কাজে লাগে।

তথ্যউৎস:

৬ thoughts on “প্লুটো – দূরের ঐ শিশুটাকে কাছ থেকে দেখা

  1. চমৎকার! সত্যি বলছি, এই লেখাটি তুলনামুলক অনেক আকর্ষণীয় হয়েছে। অন্তত আমাকে আকর্ষণ করেছে। প্লুটো নিয়ে তেমন কিছু জানতাম না আর আগে তেমন আকর্ষণ বোধও করতাম না। এবার এই লেখা পরে আকর্ষণ বোধ করছি। কি হলো তারপর? বাকি ছবিগুলো কিরকম? বিস্তারিত তথ্যগুলোই বা কি? এসব নানান কোথল জন্ম নিয়েছে মনে। তাই ধন্যবাদ আপনার প্রা্প্য কেননা এই লেখা পরেই এমন কৌতুহলি হয়েছি।
    ধন্যবাদ।স্বছ বাংলায় আমাদের জানাতে থাকুন আরো বিস্তারিত 🙂

    1. আপনার আগ্রহ তৈরি করতে পেরেছি জেনে ভালো লাগলো।
      আপনাদের গঠনমূলক মন্তব্য লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে সব সময়। ভুলটুকুও সেভাবে ধরিয়ে দিলে আরো ভালো লাগবে। 🙂
      অনেক ধন্যবাদ ধৈর্য্য ধরে বড় লেখাটি পড়ার জন্য।

  2. পুরো লেখাটা অসম্ভব ভালো লেগেছে । বোঝাই যাচ্ছে খুবই যত্ন করে পুরো প্রবন্ধ টি সাজানো হয়েছে ।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আগ্রহ ধরে রাখাবার মত লেখা । প্লুটো মিশন সম্পর্কে এর আগে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলে একটা আগ্রহ জাগানিয়া ডকুমেন্টারি দেখেছিলাম- অনেক তথ্যই পরে ভুলে গিয়েছি । এই লেখাটিতে প্লুটো মিশন সম্পর্কে সব গুলো তথ্য একসাথে পেয়ে গেলাম 😀

Leave a Reply to Zahirul Islam Akash Cancel reply