ভ্রমণ ২০১২ : শস্য-শ্যামলা উত্তর বাংলার টিউবওয়েলের মুখে (১)

“ধুত্তোর [গালি], এতো কম টাকায় ট্যুর, ক্যামনে কী?” – আরেফিনের উষ্মা শুনে বিশ্বাস হতে চাইছিল না, এটা সম্ভব হয়েছে! বাংলাদেশের ভিতরে দীর্ঘতম দূরত্ব অতিক্রম করলাম আমরা এপর্যন্ত সবচেয়ে কম খরচে।

 

পরিকল্পনাটার শুরু হয়েছিল ফেসবুকের একটা ফ্যানপেজ দেখে, দেখে নাকিব পাগল হয়ে যায়। তথ্যসূত্র হিসেবে জুটলো সামহোয়্যারইনব্লগের একটা ব্লগপোস্ট^। গুগল করতেই বেরিয়ে এলো আরো বেশ কিছু তথ্যক্ষেত্র। ইট-কাঠের শহরে দম বন্ধ হয়ে আসছে বলে ঐ তথ্যক্ষেত্রে হালচাষটা সে-ই করলো আদ্যোপান্ত, যে কাজটা বরাবরই আমি করে থাকি। এই ট্যুরের কোনো পরিকল্পনাতেই ছিলাম না আমি।

ভ্রমণের পরিকল্পনা হলো: ঢাকা থেকে তেঁতুলিয়া, বাংলাবান্ধা যাওয়া, সেখান থেকেই নাকি অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত হিমালয়ের ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ চূঁড়া দেখা যায়। বাংলাদেশের ভূখন্ডে দাঁড়িয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার দূর্লভ স্মৃতি পূঁজি করতে নাকিবের খুব সাধ। ব্লগ মারফত জানা গেল, ওখানে থাকার জন্য আদর্শ ব্যবস্থা হলো ‘জেলা পরিষদ ডাক বাংলো’। ভিতরে ভিতরে খোঁজখবর লাগিয়ে এর-ওর মাধ্যমে কিভাবে যেন আরেফিন ইউএনও’র সাথে যোগাযোগ করতে পারলো। লিংক কাজে লাগিয়ে নিশ্চিত করে ফেললো ডাক বাংলোয় থাকার ব্যবস্থা।

ভ্রমণের দুদিন আগেও আমি নিশ্চিত ছিলাম না, যাবো কি যাবো না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিভাবে যেন সব কিছু হয়ে গেল। নাকিব নিজ উদ্যোগে টিকেট করলো (ঢাকা-পঞ্চগড় : হানিফ এন্টারপ্রাইজ : জনপ্রতি ৳৫৫০)। ট্যুর-যাত্রী হলাম আমরা সাতজন:

  • নাকিব আহমেদ, রিসার্চ ফার্মের অ্যাকাউন্ট্যান্ট (ভ্রমণ-উদ্যোক্তা, টিকেট ম্যানেজার, এবং এ্যাইমার্স ব্যান্ডের লীড গিটারিস্ট)
  • শামসুল আরেফিন, ঢাকা ব্যাংকের ব্যাংকার (এই ভ্রমণের নেতা)
  • সাজ্জাদ হোসেন, নতুন কাজের সন্ধানে উন্মুখ (গিটারিস্ট, গাতক)
  • রাকিবুস সালেহীন, ঢাকা ব্যাংকের ব্যাংকার (অমাবশ্যার চাঁদ, ট্যুরে ওকে সহজে পাওয়া যায় না, শখের গিটারিস্ট)
  • নূরুল আলম মিথুন, জনতা ব্যাংকের ব্যাংকার (লম্বু, অনেকটাই গোঁটানো)
  • ইমদাদ শাকিল, একটা ফ্যাক্ট্রি’র অপারেশন ম্যানেজার (গাতক, খুবই আমুদে); আর
  • আমি নয়ন, আইটি ফার্মে গ্রাফিক্স ডিযাইনার-ওয়েব ডেভলপার হিসেবে কর্মরত (শখের আলোকচিত্রী, অভিযাত্রী)

কর্মক্ষেত্রের আগে যে পরিচয়টা মুখ্য, তা হলো- আমরা সবাই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। নিজেদের আয়-রোজগারের থেকে সামান্য একটু খরচ করে সুখ খোঁজার অভিপ্রায়েই ভ্রমণের এই উদ্যোগ।

এবারের ট্যুরের মূল আকর্ষণ আমার নতুন কেনা ক্যামেরা: Nikon CoolPix P510, পৃথিবীর সর্বোচ্চ 42x অপটিক্যাল যুম ক্যামেরা। আলোকচিত্রী হিসেবে নিজেকে মেলে ধরার একটা উদ্যোগ বলা যেতে পারে এই অভিযাত্রা। তাছাড়া এই অতিরিক্ত যুম দিয়ে বাংলাদেশ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘাও আরো বেশি সুন্দর করে ধারণ করা যাবে বলে সবাই-ই বেশ খুশি।

নভেম্বর ৮, ২০১২ (বৃহঃস্পতিবার)

রাত এগারোটায় হানিফ-বাস ছাড়বে শ্যামলী, কল্যাণপুর থেকে। একটু দেরির বাসটাই ভাড়া করা হয়েছে, যাতে সবাই যার যার কর্মক্ষেত্র থেকে গা ঝেড়ে বেরিয়ে আসতে পারে। যাহোক, সময়মতো সবাই এক হয়ে বাসে উঠলাম। বাস যাবে পঞ্চগড় পর্যন্ত। একটু জেনে নেয়া যাক:

পঞ্চগড় হলো বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা, যার তিন দিকেই ভারতের প্রায় ২৮৮ কিলোমিটার সীমানা-প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। এর উত্তর দিকেই ভারতের দার্জিলিং জেলা। পঞ্চগড় জেলার মাটি বালিপ্রধান বলে বালিতে নূড়ি পাথরের ছড়াছড়ি। গড় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩০.২° সেন্টিগ্রেড, সর্বনিম্ন ১০.১° সেন্টিগ্রেড। রাজনগড়, মিরগড়, ভিতরগড়, দেবেনগড় ও হোসেনগড় নামক পাঁচটি গড়ের (দূর্গ) সমন্বয়ে গঠিত বলে এই জেলার নাম ‘পঞ্চগড়’।

নেপালে অবস্থিত হিমালয় পর্বত থেকে ঠান্ডা বাতাস নিয়মিত আসে বলে ভারতের পাহাড়চূঁড়ার দার্জিলিং যেমন সব সময় ঠান্ডা থাকে, তেমনি শীতকালে উত্তরীয় বাতাসের প্রভাবে ঠান্ডা থাকে পঞ্চগড়, ঠিক করে বললে, পঞ্চগড়ের সর্বউত্তরের থানা তেঁতুলিয়া। আমাদের ভ্রমণের সময়টা এসময় বাছাই করার কারণ হলো শীতের প্রারম্ভে কুয়াশামুক্ত, মেঘমুক্ত পরিষ্কার আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা। তবু শীতের প্রচন্ড প্রকোপ থেকে বাঁচার পরামর্শ দিয়ে সব বন্ধুদেরই শীত-পোষাক নিয়ে নিতে পরামর্শ দিলাম।

এগারোটার বাস ছাড়লো সাড়ে এগারোটায়। আধা ঘন্টা দেরি করাসত্ত্বেয় নাকিব পেশাবে গেল শেষ মুহূর্তে। বাস, এমনিতেই দেরি করে ফেলেছে, তাই সময় নষ্ট করতে চাইছে না, কিন্তু আমাদের ‘বাস থামান, লোক আছে’ চিল্লাচিল্লিতে ড্রাইভার যেমন বিরক্ত, যাত্রীরাও সমান বিরক্ত: এতক্ষণ কোথায় ছিল? যাহোক, নাকিবের চেহারা দেখা গেল, কিন্তু সাথে সাথে আবিষ্কার হলো সাজ্জাদও নেমে গেছে। শেষে দুজনকে বগলদাবা করে যখন বাস রওয়ানা করলো, তখন আমরা সবাই বিরক্ত হওয়াতো দূরে থাক, হেসে বাঁচিনে।

সেই হাসির দমক শেষ হলো গাবতলির হাটের গরুর দুর্গন্ধে। তারপর চলাই চলা। জানালা বন্ধ করে দেয়া হলো, বাইরে থেকে লু হাওয়ার প্রকোপ কমাতে। আমি আর মিথুন, আরেফিন আর সাজ্জাদ, নাকিব আর শাকিল, রিফাত একাই বসবে বেছে নিয়েছে। আমাদের ডিজিটাল বয়রারা গাড়িতে বসেই কানে গানের মেশিন লাগিয়ে ‘কালা’ হয়ে গেছে। কেউবা ফেসবুকে স্ট্যাটাস আপডেট দিচ্ছে। আমি আর মিথুন দুজনই অন্তর্মুখি, তাই আমাদের আলোচনা চলছে চলতি বিষয়ে, যে যার পর্যবেক্ষণ শেয়ার করছি।

ঢাকা থেকে পঞ্চগড় সড়ক-দূরত্ব প্রায় ৪৪৪ কিলোমিটার। সেখান থেকে তেঁতুলিয়া আরো ৩৫ কিলোমিটার। সেখান থেকে বাংলাবান্ধা বর্ডার আরো প্রায় ১৮ কিলোমিটার। তাহলে সর্ব উত্তরের সীমান্তে পৌঁছতে আমাদের পাড়ি দিতে হবে ৪৯৭ কিলোমিটার, রাউন্ড করলে ৫০০ কিলোমিটার। এই বিপুল যাত্রাপথের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা আমার নেই। কিন্তু বন্ধুদের অনেক ধন্যবাদ, ক্লান্তিটা টের পেতে দেয়নি তারা।

অন্ধকার কোচের ভিতরে একটু ঘুমিয়ে নিতে চাইছি। কিছুটা ঘুমিয়েও গেছি, এমন সময় শাকিল পিছন থেকে ডাকলো: যমুনা সেতু। বাংলাদেশের খুবই নামকরা সেতু, নাম নিয়ে অবশ্য দুই সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন আছে, আরেক নাম: বঙ্গবন্ধু সেতু। একজন মানুষের নাম নয়, উপাধি দিয়ে একটা সেতুর নাম বেশ হাস্যকর শোনায়।

বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু, এপর্যন্ত (২০১২) বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুমূখী সেতু, উদ্বোধন হয়েছিল ১৯৯৮-এর জুনে। লম্বায় ৪.৮ কিলোমিটার, আড়াআড়ি ১৮.৫ মিটার। ৪ লেনবিশিষ্ট এই সেতুর পিলার সংখ্যা ৫০ আর স্প্যান ৪৯টি। ১২০ বছরের মেয়াদ দেখিয়ে তৈরি হলেও ইতোমধ্যেই এতে আবার বড় ধরণের মেরামতের কাজ চলছে। এই সেতুর উপর দিয়ে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হয় ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে। বাস্তবায়ন এযুগে হলেও এই সেতুর স্বপ্ন, পর্যবেক্ষণ, সমীক্ষা ইত্যাদি শুরু হয়ে যায় সেই ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে মাওলানা ভাষানির আমল থেকেই।

এই সেতু হবার আগে লোকজন কিভাবে এতো বিশাল যমুনা নদী পাড়ি দিত তা ভেবে আশ্চর্য হতে হয়— সে যে এক মহা অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ, তা নির্দ্বিধায় বলে দেয়া যায়। শাকিল আর নাকিব একবার মোটর সাইকেলযোগে এসেছিল যমুনা সেতুতে, তাই সে ভালো করেই চেনে। যমুনা সেতু কিন্তু সেতু থেকেই শুরু হয়নি। পুরো প্রজেক্টটি অনেক বিশালায়তন। সেতু শুরুর অনেক আগে থেকেই রাস্তা আর অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তারপর সেতুর টোল প্লাজা। সাধারণত সেতুতে টোল-বুথ থাকে একটি, এখানে আছে একাধিক। তাই দ্রুততার সাথে টোল দিয়ে গাড়িগুলো সাঁই সাঁই করে উঠে যাচ্ছে সেতুতে।

অন্ধকারে সেতুর সৌন্দর্য্য কিছুই বুঝলাম না, শুধু দেখলাম রেইলিং। তবে বাতি জ্বালিয়ে পুরো সেতুই আলোকিত করে রাখা আছে। উইন্ডশিল্ড দিয়ে তাকালে যা একটু দেখা যায়, তবে সেটা আমার অবস্থান থেকে সুবিধাজনক ছিল না। নিচে তাকিয়ে দেখি বিশাল চর জেগেছে, সেখানে আবার এক-দু ঘর বসতিও হয়েছে। অনেকক্ষণ ধরে বাস চললো যমুনা সেতু হয়ে। একসময় সেতু থেকে নামলাম আমরা, কিন্তু কখন নামলাম, ঠিক বুঝলাম না। কারণ সেতু থেকে নামলেও সেতুর আবহ ঠিকই আছে রাস্তায়। অপূর্ব অপূর্ব কার্পেটিং করা রাস্তা। মনে হচ্ছিলো বিদেশে আছি। কী এক মোহে তাকিয়ে থাকলাম বাইরের দিকে, যেন এখনও যমুনা সেতু দেখছি।

মোহ ভাঙলো, যখন বাস ডানদিকে মোড় নিয়ে আমাদেরকে প্রথম বিরতি দিল। রাত তখন ৩টা ৪০। থেমেছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের চান্দাইকোনার ষোল মাইল নামক স্থানের ‘অভি হাইওয়ে ভিলা’য়। লগো দেখে বোঝা গেল, এটাও হানিফের একটা এন্টারপ্রাইজ। নেমেই শাকিল দৃষ্টি আকর্ষণ করলো ‘চায়ের পুকুর’-এর দিকে।

মানে?

ঘটনা কী? আমিও উন্মুখ হয়ে তাকালাম। একটা ছাউনির নিচে চারদিকে উঁচু করে দেয়া কাউন্টার। লোকজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঐ কাউন্টারের উপর চায়ের কাপ রেখে চা খাচ্ছেন। দেখে মনে হয় কাউন্টারের ভিতরটা হলো চায়ের পুকুর, আর সবাই ওখান থেকে কাপ ডুবিয়ে চা তুলে খাচ্ছে: কল্পনার ভেলাটা মন্দ ছোটায়নি শাকিল। হাসতে হাসতে গড়াগড়ি। বন্ধুরা একসাথে থাকলে বোধহয় এটাই হয়, হাসির হোক আর নাহোক, সংক্রামক হাসিতে আক্রান্ত হয়ে এক ফালি হেসে নেয়া যায়।

যাহোক, টানা ৪ ঘন্টা পরে ওখানে নেমে প্রাকৃতিক কর্মটি সেরে সবাই একটু হাত-পা ঝাড়তে চাচ্ছিল। তাই আমরা চা-পরোটা খেলাম (সাকুল্যে ৳১০৫)। আর বরাবরের মতোই আমাদের বিড়ি-খোররা ধরিয়ে গেল একের পর এক সিগারেট। রিফাত তো সিগারেট ছাড়া কিছুই খেল না। প্রাকৃতিক পরিবেশে এই দূষণকারীদের আমি জীবনেও ক্ষমা করতে পারবো না। এই ট্যুরের বিড়ি-খোররা (আমি ডাকি গাইঞ্জাখোর) হলো: চেইন-স্মোকার আরেফিন, তার চ্যালা সাজ্জাদ, এবং উদাসী রিফাত।

খাওয়া-দাওয়া শেষে বাইরে এসে আবিষ্কার করলাম, আমি নিজেও বিড়ি ধরিয়েছি। হ্যা, সত্যি, হা করতেই মুখ থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে… কুয়াশার চাদরে দাঁড়িয়ে বোধহয় সবাই-ই ‘গাইঞ্জাখোর’ হয়ে যায়… 🙂

সিরাজগঞ্জের প্রথম এবং একমাত্র যাত্রাবিরতিকালে আকাশে আধফালি চাঁদ, রাত সাড়ে তিনটায় (ছবি: শাকিল)
সিরাজগঞ্জের প্রথম এবং একমাত্র যাত্রাবিরতিকালে আকাশে আধফালি চাঁদ, রাত সাড়ে তিনটায় (ছবি: শাকিল)

আবার যাত্রা শুরু… যা পাড়ি দিয়েছি, তার দুই-তৃতীয়াংশ পথ এখনও বাকি। এবারে ঘুমিয়ে গেলাম। ভোর হই-হই করছে, এমন সময় ঘুম ভাঙলো। আলো ফুটতে বাকি এখনও। তায়াম্মুম করে সীটে বসে ইশারায় ফযরের নামাজটা সেরে নিলাম পশ্চিম আন্দাজ করে নিয়ে। এরপর ভোর হওয়া দেখা।

অপূর্ব এক সমতল-ভূমি দেখতে দেখতে পথচলা। সমতল… সমতলের পর আরো সমতল, সেই সমতলে ধানক্ষেতও সমতল, তারপর একটু খাদে এক চিলতে ছোট্ট নদী কিংবা খাল, তারপর আবার সমতল। ধানক্ষেতের মধ্যে বিদ্যুতের তারে বসে থাকা পাখি, নীলাকাশে যেনবা কালো একেকটা বিন্দু। আমি হাওড়-পাড়ের মানুষ, তবু কেন জানি এই সমতল ভূমি আমায় নতুন করে ছুঁলো।

পার করতে থাকলাম রংপুর। সেই কখন থেকে চলেছি রংপুরের ভিতর দিয়ে, রংপুর যেন শেষই হতে চায় না। একসময় রংপুর থেকে নিলফামারী হয়ে ঢুকলাম দিনাজপুরে। ভোর তখন সাড়ে ছয়টা বাজে। রাস্তার পাশে ‘কান্তজীর মন্দির’ সাইনবোর্ডটা যার-পর-নাই টানলো আমাদেরকে। তবু সেই টান উপেক্ষা করে সামনে পথ চলা। এদিকে বড্ড পেশাবের বেগ পেয়েছে। অনেকক্ষণ ধরে চেপে রেখেছি, কিন্তু এই ব্যাটা ড্রাইভারের কি পেশাব পায় না? রোবটের মতো গাড়ি চালাচ্ছেই, চালাচ্ছে।

একসময় না পেরে কন্ডাক্টরকে ডেকে বলেই ফেললাম, সামনে কোথাও বিরতি দেবে কিনা। ও ব্যাটা অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝে ফেললো, ‘ক্যান, পেশাব পাইছে?’ … ‘আচ্ছা, দেখতাছি।’ কিন্তু এ ব্যাটার তো থামানোর কোনো লক্ষণ দেখি না। এদিকে বেশ কষ্ট হচ্ছে। শীতের দিন পেশাব আটকে রাখা ভীষণ বিপদের কথা।

যাক, একসময় বাবা ঠাকুরের দয়া হলো, বাসটা একটা পেট্রোল পাম্পে থামিয়ে ‘মুত্র বিসর্জনের’ আহ্বান জানালো। আমি বেরিয়ে যাবার সময় সাজ্জাদকে বললাম, পেশাব করবি নাকি, চলে আয়, অনেকক্ষণ কিন্তু আর সুযোগ পাবি না। কিন্তু সে রাজি হলো না।

পাম্পে প্রাকৃতিক কর্মটি সারার বেশ ভালোই ব্যবস্থা আছে। শেষ করে আমি যখন বাসে ফিরছি, তখন দেখি যুবতী, বৃদ্ধা, বয়স্ক লোক অনেকেই আমার মতো ভিড় জমিয়েছে। আমার উছিলায় অনেকেরই বোধহয় উপকার হলো। বাসে যখন ফিরলাম, তখন দেখি সাজ্জাদ উঠে দাঁড়িয়েছে, এতক্ষণে সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেও যাবে। মনে মনে আমি হাসি। ওর সিদ্ধান্ত নিতে একটু দেরি হয় সবসময়ই।

যারা গিয়েছিল, সবাই-ই চলে এসেছে, বাস যাত্রা শুরু করবে, কিন্তু আবার সাজ্জাদ মিসিং। ওর কথা সুপারিশ করবো কী, হাসতে হাসতে বাঁচিনে। শেষ পর্যন্ত দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে এলো বেচারা। এসে নিজেই স্বীকার করলো, আমি কি খালি ঝামেলা সৃষ্টি করছি নাকি? সংক্রামক হাসি ছড়ালো আমাদের সবার মধ্যে।

আবার বাস চলা। এতো দূরের পথ পাড়ি দিতে ক্লান্তি লাগছে কিছুটা, তবে ঘুমটা ভালো হওয়ায় কিছুটা চাঙাও লাগছে। হঠাৎ আমাদের পাশে কোথাও থেকে গান গেয়ে উঠলো শিল্পী হৃদয় খান। কান পাতলাম। শুনি:

আঁড়োল থে-কে, কেজ্জে ডে-ক্কে জ্জায়,

আঁড়োলে সে ডে-ক্কে জ্জা–য়,

নিড়োলে সে ডেক্কে জ্জা-য়,

আমি তার রূপেড় মায়া—-য়

কো’থায়; সে হায়; কো’থায়; সে হায়…

যখন বুঝতে পারলাম, হাসি আর ঠেকায় কে? ওদিকে আরেফিন পড়ছে সাজ্জাদের গায়ে, আমি পড়ছি মিথুনের গায়ে, নাকিব হাসছে ঠাঠাঠাঠা করে, আর রিফাত কাউকে না পেয়ে জানালার গায়ে… আমাদের শাকিল বাবাজি মন ভরে নাঁকি গলায় হৃদয় খানকে কপি করছে। ব্যস, সেই ছিল শুরু। এই গান শেষ পর্যন্ত এই ট্যুরের থীম সং হয়ে উঠেছিল।

হাসির দমক থামিয়ে আমরা কিছুটা স্থিতু হয়েছি। আবার দৃশ্য উপভোগ। দৃশ্য দেখতে দেখতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি, বলতে পারি না। হঠাৎ ঘুম ভাঙলো, ‘পঞ্চগড়, শেষ স্টপেজ। এখানে নামতে হবে ভাই, বাস আর যাবে না।’ প্রথম অনুভূতি: পঞ্চগড় চলে এলাম! যাহোক, ঘুমবাবাকে বিদায় জানালাম সারা দিনের জন্য। কর্মব্যস্ত একটা দিন কাটাতে হবে এবারে… নেমে পড়লাম আমরা।

ক্ষিধেয় সবার পেট চোঁ চোঁ করছে। ‘পেট চোঁ চোঁ’ বিষয়টা আসলে কী, সেটা একটা গবেষণা করা দরকার। পৃথিবীতে এতো শব্দ থাকতে ‘চোঁ চোঁ’ দিয়ে কী বুঝিয়েছেন সাহিত্যিকরা, আল্লা’ মালুম। কিন্তু, পেটপূঁজোর আগে নিশ্চিত করতে হবে ঘরে ফেরা। ফিরতি পথের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দিলো দলপতি। নাকিব, আমি আর শাকিল চললাম খবর নিতে। বাস থেমেছে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন মোড়ে। অনেকগুলো কাউন্টার এখানে, কিন্তু হানিফ ছাড়া আর কোনোটাতে লোক নেই।

আমরা সবাই শনিবার পর্যন্ত ছুটি নিয়ে এসেছি। এর ভিতরে ঢাকা পৌঁছতে হবে, আজকে শুক্রবার, রবিবার থেকে অফিস। আজকের দিন আর রাতটাই সম্বল। তাই যত দেরির গাড়িতে চড়া যায়, তত লাভ, আবার খুব বেশি দেরি করা যাবে না, তাহলে মাঝরাতে নিয়ে গিয়ে নামিয়ে দিবে, কোথাও যাওয়া যাবে না। কিন্তু আমাদের চাহিদামতো কোনো গাড়ি পাচ্ছিলাম না। অবশেষে দেখা পেলাম শ্যামলী’র। শ্যামলীতে খবর নিয়ে জানা গেল, বাস ওদের তেঁতুলিয়া থেকেই ছাড়বে, তবে সেটা সকাল আটটায়। কালকে আমরা তাহলে খুব বেশি সময় পাবো না।

অনেক দরকষাকষি করেও সেটা নড়ানো গেলো না। অবশেষে স্থির হলো, আমরা শ্যামলীতে করেই ঢাকায় ফিরবো, তবে বাস তেঁতুলিয়া থেকে সাড়ে আটটায় ছাড়বে। ওরা রাজি। সাতজন যাত্রী তেঁতুলিয়া থেকে বুক পাওয়া বেশ বড় দাও, ওরা হাতছাড়া করতে চাইলো না। আমরা অগ্রিম কিছু দিয়ে সীট বুক করলাম।

আমরা তেঁতুলিয়া যাবো শুনে আস্ত একটা বাস আমাদের দিয়ে দিল হানিফ, আন্দাজ করলাম, বাসটার এমনিতেই ওখানে যাবার কথা, মাঝখানে আমাদেরকে পেয়ে কিছু বাড়তি আয়…। জনপ্রতি ৳৫০ করে দিয়ে উঠে পড়লাম বাসে। (আন্দাজ করলাম, হয়তো আমাদের থেকে একটু বেশিই নিয়েছে)

গাড়ি এক্ষুণি ছাড়বে বলে আমরা, নাস্তা করবো তেঁতুলিয়াতে, ঠিক করে বাসে ঝটপট উঠে পড়লাম। বাস চললো উত্তরবঙ্গের কার্পেট বিছানো পাকা সড়কে। আমি আমার সিলেটের রাস্তা নিয়ে গর্ব করতাম, এখন দ্ব্যর্থহীনভাবে বলি, শ্রেষ্ঠ রাস্তা আমি পঞ্চগড়সহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে দেখেছি। যেমন সুন্দর কার্পেটিং, তেমনি সুন্দর রাস্তার দাগ টানা, বেরিকেড, সাইন পোস্ট ইত্যাদি। (এর রহস্য হলো পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধা সর্বমোট ৫৩.১০ কিলোমিটার সড়কের কাজ ২০০৮-এ শুরু হয়ে এই এবছর ২৪ জুন শেষ হয়েছে)

এতো বড় গাড়িতে আমরা সাতজনই মাত্র যাত্রী— নিজেদেরকে ভিআইপি লাগছে, আমাদের জন্য পুরো একটা বাস! তাই গা এলিয়ে বসে যাওয়ার কথা, কিন্তু কেন জানি না, আমরা পিঠ টান করে আশপাশটা দেখার চেষ্টা করছি। যেদিকে তাকাই, সমতল। সমতল আর ধানক্ষেত। কার্ত্তিক মাসের পাকা সোনালী ধানের ক্ষেতে মনটা জুড়িয়ে যায়।

বিশাল বপু ট্রাক, পাক্কা দ্বিগুণ লোড, চলছে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া সড়কে (ছবি: লেখক)
বিশাল বপু ট্রাক, পাক্কা দ্বিগুণ লোড, চলছে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া সড়কে (ছবি: লেখক)

এর মাঝে সামনে চোখে পড়লো বিশাল বপু এক ট্রাক, উচ্চতায় স্বাভাবিক ট্রাকের দ্বিগুণ। আশ্চর্যের বিষয় সেটা নয়, আশ্চর্যজনক হলো ট্রাকের বডি যেখানে শেষ, সেখান থেকে আরো দ্বিগুণ করে মাল বোঝাই করা হয়েছে। পুরোটা তেরপল দিয়ে ঢাকা বলে বোঝা গেল না ভিতরে কী।

সামনে যত যাচ্ছি, তত আশ্চর্য হচ্ছি, আমি কি ভুল করে সিলেটের জাফলং-এ চলে এলাম নাকি? এরকম কেন দেখছি তাহলে? রাস্তার দুপাশে এখানে ওখানে স্তুপ করে রাখা হয়েছে পাথর আর পাথর। একটু যেতে না যেতেই দেখি স্টোন-ক্রাশার! এতো এতো পাথর দেখে আমি ক্ষণিকের জন্য হলেও আমার জাফলংকে তেঁতুলিয়ার কাছে তুচ্ছ মনে করলাম। এদিকে এতো পাথর আছে জানা ছিল না।

রাস্তার পাশে পাথর আর পাথর, জাফলং ফেল (ছবি: লেখক)
রাস্তার পাশে পাথর আর পাথর, জাফলং ফেল (ছবি: লেখক)

ছোটবেলা বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকাটা, আঁকাআঁকির সুবাদে আমি আলহ্বামদুলিল্লাহ বেশ ভালোই পারতাম। আর মানচিত্র আঁকাটা শুরু করতাম ‘টিউবওয়েলের মাথা’ দিয়ে। হ্যা, টিউবওয়েলে যে জায়গা দিয়ে পানি পড়ে, তার ঠিক মাথায় বালতি আটকানোর জন্য যে চুটটা দেয়া থাকে, বাংলাদেশের সর্বউত্তরের চূঁড়ার অংশটা আমার কাছে সবসময়ই সেরকম লাগতো। আজকে আমরা সেই টিউবওয়েলের মাথায়ই ঢুকছি এখন: স্বাগত জানালো একটা তোরণ, লেখা: ১৯৭১-এর মুক্তাঞ্চল।

বাসের রাজা আমরাই: মিথুন-আরেফিন-সাজ্জাদ-নাকিব (ছবি: লেখক)
বাসের রাজা আমরাই: মিথুন-আরেফিন-সাজ্জাদ-নাকিব (ছবি: লেখক)

এদিকটার সাথে সিলেটের অনেক মিল, শুধু পাহাড় ছাড়া। পাথরের কথা তো বললামই, এদিকে সিলেটের মতো চা বাগানও আছে। বাংলাদেশ সীমান্তে যেমন, ভারতের অংশেও তেমন। চাবাগান বিষয়ে বিস্তারিত এখন নাহয় না বলি…।

মানচিত্রটা মনে করলে দেখতে পাবেন: উপরের ঐ কোণাটাতে যতই উত্তরের দিকে যাচ্ছেন, দুদিক থেকে কিভাবে ভারত-সীমান্ত চেপে আসছে। আমাদের অবস্থাটাও হচ্ছে তাই। শাকিল তার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে জিপিএস চালু করে বসে আছে, যেখানেই রাস্তাটা বাঁক নিয়ে ভারতের সীমান্তের মধ্যে ঢুকে যাই যাই করছে, তখনই চিৎকার দিয়ে উঠছে: এটা ইন্ডিয়া, ঐ যে ইন্ডিয়া, এদিকে ইন্ডিয়া, ঐ চা বাগানটা ইন্ডিয়ায়, এই পাশটা ইন্ডিয়ায়… ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়াহ্‌, ইন্ডিয়াহ্। ওর ইন্ডিয়া বলতে বলতে হাঁপানি এসে যাবার জোগাড় দেখে আমরা হেসে বাঁচিনে। এব্যাটা একটা রিয়্যাললাইফ জোকার, শ্রেফ মজা করার জন্যই এইরকম চিৎকার চেঁচামেচি করছে। কিন্তু ড্রাইভার আবার বিষয়টাতে বেশ সিরিয়াস হয়ে গেল, সে নিশ্চয়ই ভাবছে, ‘ঢাকার আবুল’ এসেছে, জীবনে ইন্ডিয়ার বর্ডার দেখেনি; তাই সে মাঝেমাঝেই গাড়ি ধীর করে কিংবা কখনও গাড়ি থামিয়ে ভারতের সীমান্ত পিলারের ছবি তুলতে সহায়তা করছিল আমাদেরকে।

ঐ যে, চা বাগানের মধ্যে দিয়েই ভারতের কাঁটা তারের বেড়া দেখা যাচ্ছে (ছবি: লেখক)
ঐ যে, চা বাগানের মধ্যে দিয়েই ভারতের কাঁটা তারের বেড়া দেখা যাচ্ছে (ছবি: লেখক)

আসলেই, রাস্তাটা এখানে, এইতো একশো-দেড়শো গজ দূরেই ভারতের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া। তারমানে এই রাস্তাটা নো-ম্যান্‌স-ল্যান্ডে!! …রাস্তাটা সামনে আরো অপূর্ব! দুপাশ থেকে গাছ নেমে এসে যেন কুর্নিশ করে বলতে চাইছে: স্বাগতম!

একসময় একটা বাজারে বাসটা থামিয়ে হঠাৎ ড্রাইভার বললো, ‘মামা, তেঁতুলিয়া।’

গন্তব্যে পৌঁছে প্রথমেই চোখে পড়লো বাজারের কেন্দ্রে একটা বড়সড় তেঁতুল গাছ। যারাই তেঁতুলিয়া

দুপাশ থেকে গাছগুলো কুর্ণিশ করে জানায়: স্বাগতম! (ছবি: লেখক)
দুপাশ থেকে গাছগুলো কুর্ণিশ করে জানায়: স্বাগতম! (ছবি: লেখক)

যান এই গাছটার ছবি তুলে নিয়ে আসেন, এবং অকপটে বলার চেষ্টা করেন: এই গাছ থেকেই তেঁতুলিয়ার নামকরণ। তবে অন্যান্য প্রকাশিত উৎস থেকে জানা যায়: অতীতে নাকি অনেক তেঁতুল গাছ ছিল এই জনপদে। তৎকালীন বর্ধমানের রাণী প্রজাদের থেকে কর হিসেবে তাই তেঁতুলের বীজ নিতেন (সম্ভবত কড়ির মতো তেঁতুলের বীজ অর্থ হিসেবে ব্যবহৃত হতো)। সেই তেঁতুল থেকে এর নাম হয় তেঁতুলিয়া। যাহোক, গাছের নিচে এরকম কোনো বিবরণ কিংবা নামকরণ কিছুই পাওয়া যায় না। শ্রেফ এতটুকু দেখা যায়, গাছটা শান বাঁধানো এবং একটা সাইনবোর্ড ঝোলানো: ঐতিহাসিক তেঁতুলতলা। কেন ঐতিহাসিক? কোনো ব্যাখ্যা নেই। গাছে সাইনবোর্ড ঝোলানো নিষেধসত্ত্বেয় খোদ সরকারি ক্যাম্পেইনেরই ব্যানার ঝুলছে।

তেঁতুলিয়া বাজারের মহীরূহ: তেঁতুল তলা (ছবি: লেখক)
তেঁতুলিয়া বাজারের মহীরূহ: তেঁতুল তলা (ছবি: লেখক)

তেঁতুলিয়ায় রিকশা নেই: কেন নেই, আমাকে জিজ্ঞেস করবেন না, আমি জানি না। উত্তরবঙ্গের বাহন হলো খোলা ভ্যান। তেঁতুলিয়ার বাহন হলো ঢাকায় চলা মালবাহী ত্রিচক্রযান ভ্যান, ওতেই পা ঝুলিয়ে বসতে হয়। আমরা দুটো ভ্যান নিয়ে প্রথমে বাংলোয় যাওয়া স্থির করলাম এবং দুদলে ভাগ হয়ে চললাম। একটা ভ্যান না চিনেই ঘুরপথে চললো (৳৪০), আমাদেরটা চললো শর্টকাটে (৳৩০); বাজার থেকে সোজা গেলে রাস্তাটা তিন দিকে ভাগ হয়ে গেছে: ডানের পথ ধরে গেলে বাংলোর পথ সহজ, সোজা পথেও যাওয়া যায় (ঘুরপথ), বাম দিকেরটা বাংলোর পথ নয়।

বাংলোর গাড়ি-চলা পথটা অপূর্ব (ছবি: লেখক)
বাংলোর গাড়ি-চলা পথটা অপূর্ব (ছবি: লেখক)

যাহোক, তাড়াতাড়ি পৌঁছে যখন বাংলোর গেটে গেলাম, কেয়ারটেকার তখন গেটের উপর থুতনি ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

…না, আমাদেরকে স্বাগত জানাতে নয়, ফিরিয়ে দিতে।

মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো: আমাদের নামে বাংলোয় কোনো বুকিং দেয়া নেই।

বাংলোয় গিয়ে বিধিবাম, সবার প্রশ্নবিদ্ধ দৃষ্টি আরেফিনের দিকে (ছবি: লেখক)
বাংলোয় গিয়ে বিধিবাম, সবার প্রশ্নবিদ্ধ দৃষ্টি আরেফিনের দিকে (ছবি: লেখক)

(চলবে…)

-মঈনুল ইসলাম

পরের পর্ব »

তথ্যসূত্র:

১. নিবন্ধ: পঞ্চগড় জেলা, বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু; বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি।

২. পঞ্চগড় জেলা তথ্য বাতায়ন, http://www.dcpanchagarh.gov.bd/।

৩. যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গণমাধ্যম, ডাক্তারের রোজনামচা, http://niazmowla.com/বাংলাদেশ/সংক্ষিপ্ত-পরিচিতি/যোগাযোগ-ব্যবস্থা-ও-গণমাধ/।

৫ thoughts on “ভ্রমণ ২০১২ : শস্য-শ্যামলা উত্তর বাংলার টিউবওয়েলের মুখে (১)

  1. আগ্রহ নিয়ে আপনার বাসভ্রমনকাহিনী পড়লাম।
    আগামী সপ্তাহেই ঠাকুরগাও, দিনাজপুড়, পঞ্চগড় ঘোরার পরিকল্পনা নিয়ে যাচ্ছি – তিনদিনে। দেখা যাক কতটুকু পারি। তাই এই পোস্টে আগ্রহ বেশী ছিল। আমি যাওয়ার আগেই পরের পর্ব দিয়েন – তাহলে একটু সুবিধা হয় 😉

    ধন্যবাদ

মন্তব্য করুন