বান্দরবান ভ্রমণ ২০১১ : পর্ব ৪

যে দুজন আমাদের গাড়িতে লিফ্‌ট চাচ্ছিল, তাদের একজন বয়স্ক মানুষ, সাথে একটা ছোট্ট ছেলে। তাদেরকে নেয়ার প্রশ্নই উঠে না, কারণ এরা স্থানীয়। কিন্তু কেন জানি আমার মনে হলো এরা আসলেই বিপদগ্রস্থ। কারণ, আমাদের গাড়ি যখন নীলাচলে, ঢাল বেয়ে উঠছিল, তখনও এরা আমাদের গাড়ি থামাতে চাচ্ছিল, লোকটার গলায় একটা ঢোল ছিল, আর ছেলেটা নিয়ন্ত্রণ করছিল লোকটিকে। আমার তখনই মনে হচ্ছিল লোকটা অন্ধ। যদিও অন্ধ কেউ ডাকাতদের সোর্স হতে পারবে না এমন কথা নেই, তবু কেন জানি আমি সুপারিশ করলাম এদের জন্য। শাকিল ভাই তাই এদের কারণে কোনো সম্ভাব্য অঘটনের দায়ও আমার ঘাঢ়ে চাপিয়ে দিলেন। শাকিল ভাইয়ের বিন্দুমাত্র দোষ নেই। কারণ আমার একার মায়া দেখানোতে বিপদ হতে পারে নয়জনেরই।

কিন্তু সিনেমার কাহিনীর মতোই জয় হয়ে গেলো মানবতারই: এরা ডাকাততো নয়ই, বরং গায়ক। ঢোল কাঁধে অন্ধ লোকটি ঢোল বাজিয়ে যখন গান ধরলেন, তখন পুরো গাড়ি ঐ ঘুটঘুটে অন্ধকারে নাচছে। গান শেষ হতে না হতেই কখন যে আমরা মূল সড়কে চলে এলাম টেরই পেলাম না, নামিয়ে দিলাম ঐ অন্ধ ঢোলবাদক আর তার সঙ্গী ছেলেটিকে। বড় দরদ ছিল ঐ কণ্ঠে, প্রাকৃতিক পরিবেশে বুদ করে দিয়েছিল আমাকে। মন জুড়িয়ে গেছে আমার। আমার একটা থিওরি হলো, প্রকৃতির মধ্যে প্রকৃতির সন্তান হয়ে যাও, ছুড়ে ফেলো সব ইয়ারফোন, ওয়াকম্যান, এমপিথ্রি। গাছের পাতার নড়াচড়া শোনো, বাতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজ শোনো, পাখির মৃদু কুজন শোনো…। তাই ঐ বাদক একেবারে ষোলোকলা পূর্ণ করে দিয়ে গেছে আমার।

ঢোলবাদক নেমে যেতেই আমি আর-সবার কানাঘুষা শুনতে থাকলাম। জিজ্ঞেস করে তো আক্কেল গুড়ুম: সবাই মিলে আজ রাতেই কক্সবাজার যাবার পরিকল্পনা পাকা করে ফেলেছে। যেহেতু কালকে হরতাল, বান্দরবান সদরে আমাদেরকে সারাদিন ঝিমোতে হবে, তাই বোচকা-বাচকি তো সাথেই আছে, কক্সবাজার চলে গেলে তো কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কিভাবে যাওয়া হবে, তার কোনো ঠিক ঠিকানা নেই, বাসের টিকেট কাটা নেই, …বললেই হলো?

বান্দরবান সদরে গিয়ে ভাবলাম গাড়িতেই ব্যাগ নিয়ে অপেক্ষা করবো, কিন্তু গাড়ির ড্রাইভার আর গাইড ব্যর্থ হয়েছে আমাদেরকে নীলাচলে রাখতে, টাকা চুষে নিতে, তাই আমাদের প্রতি তারা আগ্রহ হারিয়েছে। নতুন টিব নিতে হবে অজুহাত দেখিয়ে নামিয়ে দিল দ্রুতই। দ্রুত করতে গিয়ে হারিয়ে ফেললাম আমার ক্যাপটা। ভালোই হয়েছে, এই ক্যাপের জন্য পুরো ট্যুরে আমার ছবিগুলো বিশ্রী এসেছে: যে দেখেছে, সে বলেছে ফারুকীর মতো লাগছে- ওয়াক থুহ!

এদিকে আমি টের পাচ্ছি, আমার জ্বর আসছে, চোখ জ্বলছে, মাথা গরম। শাকিল ভাই, নাকিব, আর ইফতি দৌঁড়ে গেলো বাসের টিকেট করতে। কিন্তু ভাগ্য অপ্রসন্ন, বাসের টিকেট পাওয়া গেলো না। কিন্তু নাছোড়বান্দারা কি আর প্ল্যান মাটি হতে দেয়? আরেকটা লোকাল বাসের টিকেট করে ফেললো ‘অমুক’ পর্যন্ত (এই জায়গাটার নাম এখন আর কেউই মনে করতে পারছি না, আমিও । সেখান থেকে নাকি কক্সবাজার যাওয়ার বাস পাওয়া যাবে। ব্যস, আঁটোসাটো সীটে ব্যাগগুলো কোলে নিয়ে চাপাচাপি করে বসলাম। অন্য সময় হলে চলে যেত, কিন্তু একে প্রচন্ড গরম, তার উপর আমার গায়ে জ্বর, মনে হচ্ছিল মারাই যাবো। ওদিকে সব পানি শেষ করে ফেলেছে ওরা। আমি আগেই আমার ব্যাগের ছোট্ট বোতলটাতে পানি পুরে নিয়েছিলাম। কারণ, মোবাইলে নামানো একটা সার্ভাইভাল গাইডে পড়েছি সার্ভাইভাল মেডিসিনের মধ্যে সবার আগে হলো পানি। একসাথে অনেক না খেয়ে অল্প করে নিয়মিত বিরতিতে খেয়ে যেতে হবে। আমি জ্বরের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত। পা থেকে জুতা খুলে পায়ে ঠান্ডা লাগাতে চাইলাম, কিন্তু গরম গাড়ি থেকে কি আর ঠান্ডা লাগবে? তবে অল্প অল্প করে পানি চালিয়ে যেতে থাকলাম।

গাড়ি চলতেই থাকলো অন্ধকারে। ক্লান্তিতে চোখ লেগে এলো সবার। আমাদের গন্তব্য পর্যন্তই যায় বাসটি, গন্তব্যে গিয়ে নামলাম আমরা সবাই। ক্লান্তি আমাকে ঘিরে ধরেছে। জ্বর এখনও আছে। ওখানে নেমে পড়লাম মহাসমুদ্রে। কোনো বাসেই সিট নেই। ইফতি, নাকিব আর শাকিল ভাই প্রয়োজনে সবচেয়ে দামি গাড়িতে করে হলেও টিকেট করে ফেলতে রাজি, কিন্তু বাস আমাদের নিতে রাজি হলে তো! দলে দলে ভাগ হয়ে কোনো না কোনো একটা ব্যবস্থা করার জন্য উঠে-পড়ে লাগলাম সবাই-ই। এখানে মাঝপথে পড়ে থাকলে বিপদে পড়ে যাবো।

কোনো উপায় না করতে পেরে ঠিক করা হলো একটা পিকআপ ভাড়া করে তাতে মালপত্র তুলে চলে যাবো সবাই মিলে। একটা পিকআপকে কথায় নিয়ে আসা গেল, কিন্তু কোনোভাবেই সে ভাড়া কমাতে চাচ্ছে না। আমরা ক’জন ভাড়া প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছি, ড্রাইভার প্রস্তুত, এমন সময় শাকিল ভাই এলেন কোথা থেকে, তিনি একটা গাড়ি পেয়েছেন। আমাদের একদল গেলো ঐ গাড়িটা দেখতে।

ঐ গাড়িটা দেখে আমাদের সবারই পছন্দ হয়ে গেলো, যদিও ভাড়া একটু বেশি, কিন্তু নিরাপত্তা আছে এটাতে। কিন্তু ওটা থেকে বিদায় নেয়া যায় কিভাবে, ওখানেও তো কথাবার্তা প্রায় চূড়ান্ত। শেষমেষ মেঝেতে তেরপলের উপর বসে যেতে হবে- এরকম একটা খোড়া অজুহাত দেখিয়ে মানে মানে কেটে পড়লাম আমরা। গিয়ে সবাই হুড়মুড় করে উঠে পড়লাম গু-কালার খাঁচার ভিতর।

খাঁচার ভিতর বন্দী সব বাঁদরের দল… (ছবি: আরেক বাঁদর)

হ্যা, এটা একটা স্কুল ভ্যান, হলুদ রঙের। গায়ের লেখা পড়ে বোঝা যায় এটা “লোহাগড়া মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজের” বাহন। পুরোটাই একটা বানরের খাঁচা যেন। ভিতরে তিন দিকে সিট, দরজাটা বন্ধ করে দেয়ার ব্যবস্থা আছে। ভিতরে ঢুকেই ড্রাইভারকে রওয়ানা করতে বলা হলো, কোনো রকমে ঝামেলা থেকে বেরিয়ে পড়তে চাই আমরা। অবশেষে আমরা রওয়ানা করলাম। উচ্ছাসের শেষ নেই সবার মাঝে। হঠাৎ করেই প্ল্যান আর তার বাস্তবায়নে আমরা এখন কক্সবাজার অভিমুখে- ব্যাপারটা সবাইকে আনন্দিত করছে। আমার খুব একটা ভালো লাগছে না। কয়েকটা কারণ: এক, নাকিব আর শাকিল আজ সকালে এলেও আমি একদিন আগে থেকে খরচ করছি, বাজেটে টানাপোড়েন; বাজেট গড়মিল করা কোনো ব্যাপার না, আলহ্বামদুলিল্লাহ, কারণ এখন চাকরি করছি; কিন্তু তবু ট্যুরে বাজেট ফেল করা আমার ধর্ম না। দুই, আমি আগে একবার কক্সবাজার গিয়েছি; দেখা জায়গা বারবার দেখার মধ্যে কোনো আনন্দ নেই। তিন, আমার গায়ে জ্বর- ভালো লাগার জিনিসও ভালো লাগছে না, মুখটা পানসে হয়ে আছে। নাকিব আমাকে কানে কানে বললো, টাকা-পয়সার জন্য ভাবিস না, আনন্দ কর; জীবনে আনন্দের চেয়ে টাকা বড় না। কিন্তু নাকিব যদি বুঝতো, আমার আনন্দ হৈচৈ-এর মধ্যে না, আমার আনন্দ দল বেঁধে ঘোরাঘুরির মধ্যে না, আমার আনন্দ হট্টগোলের মধ্যে না: আমার আনন্দ নির্জনতায়, ছায়ায়, সুবাতাসে, ঝিঁঝিঁ পোকার চিরচির ডাকাডাকিতে…।

গাড়িতে চড়ে বুঝলাম নাকিব কেন এই প্ল্যান করেছে। কক্সবাজারে ওর এক কাযিন আজকে রাতে চেক-আউট করছে ‘হোটেল জিয়া’ থেকে। ফোন করলো তাকে, যাতে তার রুমটা রেখে দেয় আমাদের জন্য। কোনো ব্যবস্থা না হলে সেখানেই থাকা যাবে। কিন্তু হোটেলের ম্যানেজার রাজি হলেন না: একজনের নামে বুক করা রুম আরেকজনকে তিনি দিতে পারেন না। ম্যানেজারতো ঠিকই বলেছেন, এতে আইনী জটিলতাও আছে। তবে হোটেল আমাদেরকে আমন্ত্রণ জানালো, আমরা গেলে আমাদেরকে রুমের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।

গাড়িটার গতি কম। খুব একটা দ্রুত এগোচ্ছি না আমরা। পৌঁছতে পৌঁছতে সাড়ে এগারোটা-বারোটা বেজে যাবে। এদিকে গাড়ি চলছে নির্জন ঝাউবনের ভিতরকার রাস্তায়, ঘুটঘুটে অন্ধকার দিয়ে। মাঝে মাঝে হঠাৎ একটা-দুটা গাড়ি পাশ কাটায়। নয়-নয়জন মানুষ একত্রে, তবু একটা ভয়, ডাকাতের ভয়, ডাকাত ঘিরে ধরলে জখম করে ফেলবে, মেরেও ফেলতে পারে। তাই ভেতরে কোনো প্রকার আলো জ্বালানো হলো না, অন্ধকারে মৃদু আলোর রেখায় সবাই চেহারা আঁচ করছি। আর পেছন থেকে কোনো গাড়ি, মোটরসাইকেল এলে তার হেডলাইটের আলোয় ভিতরটা উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। আমরা তখন ওটাকে পাত্তা না দেয়ার ভান করি, গল্প করার অভিনয় করি, যাতে কেউ ডাকাতি করতে চাইলেও বোঝে এখানে সবাই আলাদা, একত্রে কোনো দল না। আবার ড্রাইভারকেও সন্দেহ করছি আমরা, কিন্তু কিছু করতে পারবে না বলে মনে করছি, কারণ সামনে, ড্রাইভারের সাথে বসেছে আমাদের একজন: ফরহাদ।

এদিকে শাকির করেছে আরেক বুদ্ধি: ইফতির কেনা আনারসগুলো নিয়ে রেখেছে দরজার একেবারে সামনে, যাতে বাইরে থেকে পাতাগুলো দেখা যায়, আর ডাকাত ভাবে, দূউর! খ্যাত! আনারস নিয়া গেয়ো কোনো লোক যাচ্ছে। কিন্তু তাসত্ত্বেয় হঠাৎই গতি কমতে থাকলো আমাদের গাড়ির। সবাই-ই সচকিত হয়ে উঠলাম। গাড়ি একসময় থেমে গেলো ঘুটঘুটে অন্ধকারে, জঙ্গলের মধ্যে। আমি ফোকর দিয়ে তাকিয়ে দেখি, ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে…। শিওর, ডাকাতের হাতে তুলে দেবার পায়তারা…।

রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছি আমি, অনুভব করছি: গাড়ির প্রত্যেকেই..। ড্রাইভার, গাড়ি থেকে নেমে গেলো রাস্তার ডান দিকে। আমি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকলাম, অন্ধকারে কোনো মানুষের অবয়ব চোখে পড়ে কিনা। কিন্তু না, কোনো মানুষ নেই। ড্রাইভার এগিয়ে গিয়ে একটা বড় দানবাক্সে কিছু টাকা ফেলে দিলো। তবুও আমি সন্দিহান, আশেপাশে নজর রাখছি, কোনো দিক থেকে যদি আক্রমণ আসে…। শাকিল ভাই আশ্চর্য হলেন, পুরান ঢাকার মানুষ তিনি, পুরান ঢাকায় পীর-ফকির বিশ্বাসী লোকের অভাব নেই, জানেন, ড্রাইভাররাও এগুলো মেনে চলে। কিন্তু রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে টাকা দেয়ার ব্যাপারটা ঠিক মেলানো গেলো না।

ড্রাইভার আমাদের প্রশ্বাস নেয়ার সুযোগ করে দিয়ে গাড়িতে এসে বসলো। তারপর আবার চলা শুরু করলো গাড়ি। সবার মধ্যে আবার প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলো। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে দেখা দিলো নতুন আপদ- একটা মোটর সাইকেল আমাদের ঠিক পিছে পিছে ধীর গতিতে অনুসরণ করে চলেছে। আমরা যথারীতি ভাব দেখাচ্ছি, আমরা সাধারণ মানুষ। শাকির ঘোষণা করলো, যদি বুঝি ডাকাত, তাহলে একটা একটা করে আনারস গিয়ে পড়বে চান্দিতে। আনারসের মালিক ইফতিরও দেখি একই অভিপ্রায়। কিন্তু আনারসের জুস না খেয়ে কিছুক্ষণ অনুসরণ করে গতি বাড়িয়ে মোটর সাইকেলটা পাশ কাটালো আমাদের।

আমি কিছুক্ষণ এর-ওর গায়ে হেলান দিয়ে শুয়ে-বসে বিশ্রাম করে করে চলছি। মাঝে মাঝেই খুব অল্প একটু পানি গলায় দিচ্ছি। আমাদের সাথে আর কোনো পানি নেই, আমার বোতলটা স্বার্থপরায়ন হয়ে আমিই গলাধঃকরণ করছি। ধীর গতির যাত্রায় বিরক্তি লাগছে সবারই। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছার টেনশনে কেউই ঠিক শান্তি পাচ্ছি না।

অবশেষে রাত ১২টার সময় গিয়ে পৌঁছালাম হোটেল জিয়ায়। সংক্ষেপে বলি: সেখানে গিয়ে আমাদের ভালো রুম মিললো না। রাত কাটানোর ব্যবস্থা করে দেয়া হলো দুটো বড় রুমে: একটাতে পাঁচজন, আরেকটাতে চারজন। শর্ত হলো কালকেই ভালো রুম দেয়া হবে, আপাতত এদুটোতে থাকতে হবে আমাদের। নিচতলার রুম দুটা স্যাঁতস্যাতে। তার উপর বোঝা গেলো একটা হলো তাদের ভাড়ার: নষ্ট টিভিগুলো স্টোর করে রেখেছে ঐ রুমে। মশার ঔষধ আর এয়ার ফ্রেশনার স্প্রে করিয়ে আমরা বেরোলাম খাবারের সন্ধানে। কিন্তু হায়, সব হোটেল বন্ধ হয়ে গেছে; রাত তখন বাজে ১টা। একটা হোটেল আমাদের গলাটা কেটে খাওয়ালো। খেয়ে-দেয়ে ঘুম দিয়ে উঠতে উঠতে পরদিন বেলা এগারোটা।

এগারোটা বাজে সব হোটেলে নাস্তা শেষ। শেষমেষ একটাতে নাস্তার ব্যবস্থা করা গেলো। নাস্তা করে হোটেলে ফেরত। হোটেলে এসে শুনি আজম খান মারা গেছেন। শাকিল ভাই টিভি দেখতে লেগে গেলেন ম্যানেজার রুমে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সম্বিত ফিরে পেয়ে আমাদের নতুন রুমের দাবি জানালেন ম্যানেজারের কাছে। মোটাসোটা ম্যানেজার গা করলো না, ‘রুম খালি নাই।’ শাকিল ভাই তর্ক শুরু করলেন, আমি নিরপেক্ষ থাকলাম। কারণ আমার ওস্তাদের শিক্ষা “অচেনা জায়গায় প্রয়োজনে ঝগড়া করতে একজোট হয়ো না, একজন হলেও নিরপেক্ষ থেকো।” কিন্তু টলাতে পারলেন না শাকিল ভাই। শেষ পর্যন্ত বললেন, ‘তাহলেতো আপনারা চিটিং করছেন। আমাদেরকে বলা হলো রুম দেয়া হবে, এখন দেয়া হচ্ছে না। তাহলেতো চিটিং।’ আমাদেরকে যে চীট করা হচ্ছে, ব্যাপারটা কোনোভাবে আবার মানতে রাজি নয় ম্যানেজার।

ইত্যবসরে রুমে ঢুকলেন মোটাসোটা আরেকজন মানুষ, দাঁড়িওয়ালা। শাকিল ভাই তাকে দেখেই খুশি হয়ে গেলেন, ইশারায় বোঝালেন: মালিক। ব্যস, আর যায় কই? মালিকের কাছে সরাসরি ম্যানেজারের ব্যাপারে নালিশ। মালিক জানালেন, উপরে দুটো কাপল-বেড খালি আছে, কাপল বেডে তো আর পাঁচজনের ব্যবস্থা করতে পারেন না? কিন্তু শাকিল ভাইয়ের মুখে বারবার ‘চিটিং’ ‘চিটিং’ শুনে মালিক আমাদের পাঁচজনের জন্য দুটো কাপল-বেড বরাদ্দ করে দিলেন। পাঁচজন, কারণ, শাকির আর ওর বন্ধুরা আজকেই রওয়ানা করতে চায়।

দুপুরে আমরা সবাই একসাথে আনারস খেলাম খুব মজা করে। বান্দরবানের আনারস যে এতো স্বাদের, কল্পনায়ও ছিল না। রেস্টুরেন্টের বয়গুলোকেও ভাগ দিলো ইফতি। আর ইফতির প্রশংসায় সবাই অষ্টমুখ; তবে সত্যিই, ইফতি না কিনলে আমাদের খাওয়া হতো না বান্দরবানের এতো স্বাদের আনারস।

আনারস খেয়ে সরাসরি বীচে। বীচে যাবার সময় আমি তো থ’। কক্সবাজার বেড়াতে যাবার কথা যদি এই জীবনে আর কেউ আমাকে বলেছে, আমি শিওর কষে একটা থাপ্পড় দিব। এ-কী দেখছি আমি কক্সবাজারকে? এখানে দালান, ওখানে দালান, দালানের চিপায় চিপায় পথ। দুটো ঘনবসতিপূর্ণ দালানের মাঝখানের পথ জুড়ে গড়ে উঠেছে ছালাদিয়া বস্তি। এখানে-ওখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অজস্র ময়লা-আবর্জনা-গোবর। আবার কোথাও ময়লা পানির ডোবা, ভাসছে কচুরিপানা। আশ্চর্য হলাম- এটা কি কক্সবাজার, নাকি ঢাকার কোনো বস্তি!

বস্তি শহর থেকে যখন বীচে গেলাম, দেখি বীচে যাবার আগের পথটুকু জুড়ে নিয়েছে বার্মিজ মার্কেট নামক ক্লোন মার্কেটগুলো। মনে হচ্ছে কক্সবাজারটা আসলেই একটা বাজার, বীচ না। বীচে গিয়ে অবশ্য বরাবরের মতোই প্রাণ জুড়িয়ে যায়, কিন্তু প্রথমবারকার অনুভূতি এবারে আর হলো না, অনেকটা ফিকে হয়ে গেছে। নেমে পড়লাম নোনা জলে। বড় একটা বোর্ডে মোচনপ্রায় চকের আঁচড়ে দেখেছি একদিন আগের হিসাব: এখন ভাটার সময়। ভাটার সময় সমুদ্রে নামতে হয় না- তিন গোয়েন্দা থেকে শেখা। তবু আমরা নামলাম, সময়টা হলো গোসল করার, এখনই যদি না নামি বিকেলে নেমে হবেটা কী?

যা হবার তাই হয়, পানি টেনে নিয়ে যেতে চায় সমুদ্রগর্ভে। আমরা নিজেদেরকে টিকিয়ে রাখি যথাস্থানে, যথাসম্ভব। পানির তোড় সে কী তোড়! অসম্ভব শক্তিশালী। আগের অভিজ্ঞতাটা পড়লেই আপনারা মোক্ষম ধারণা পাবেন। ওদিকে শাকিররা কোথায় জানি চলে গেছে, হয়তো ওদিকটাতে, মেয়েদেরকে নিজেদের সাঁতার-কীর্তি দেখানোর জন্য!! আর শাকিল আর নাকিব শুরু করেছে বালি দিয়ে কিছু একটা বানানোর। যা-ই বানায়, অশ্লীল কিছু একটা হয়ে যায় –হাসতে হাসতে গড়াগড়ি ওরা।

আমি আর ইফতি তখন জলযুদ্ধের যোদ্ধা। এদিকে প্রিয়মের জীবনের প্রথম সমুদ্রস্নান, বেচারা ভয়ে কাবু হয়ে আছে, সামনে এগোতেই চায় না। গোসল শেষ করে নোনাবালুজলে স্নান শেষে হোটেলে ফিরে গোসল করে নোনাজল সাফ করলাম সবাই। শাকিরদের কোনো খবরই নেই। অনেক পরে এলো ওরা; ওরা নাকি অনেক দূরে চলে গিয়েছিল গোসল করতে।

সেদিন বিকেলেই শাকির, ফয়সাল আর আব্দুল্লাহ রওয়ানা করলো সিলেটের উদ্দেশ্যে। তখনও হরতাল শেষ হয়নি, ওরা চায় তখনই চট্টগ্রাম চলে যেতে। ওখান থেকে ট্রেনে যাবে সিলেটে। ফরহাদ কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে রওয়ানা করবে সরাসরি বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে। কক্সবাজার থেকে পরদিনের টিকেট করেছি আমরা বাকি পাঁচজন। তাই বিকেলে হেঁটে বেড়ানোর অভিপ্রায়ে বেরিয়ে পড়লাম। প্রথমে সার্কিট হাউজে, তারপর আবার বীচে গিয়ে সূর্যাস্ত দেখা…।

সার্কিট হাউজ থেকে দূরে চোখ পড়লে দেখি এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য: পাহাড় কেটে ধ্বসিয়ে দিচ্ছে একঝাঁক লোক; খুব কষ্ট হলো। মানুষ যদি বুঝতো এই পাহাড়ের মর্ম, তাহলে এটা ভুলেও করতে পারতো না। এবার কক্সবাজারে এসে মন ভালো হওয়াতো দূরের কথা, মন খারাপ হওয়ার অনেকগুলো বিষয়ই ভিড় করেছে আশেপাশে। নির্মীয়মান বিল্ডিং, ময়লা-আবর্জনা, ফ্ল্যাট-হোটেলের ছড়াছড়ি আর খাবার হোটেলগুলোতে গলা-কাটা-দাম আপনাকে স্বাগত জানানোর বদলে ঘাঢ়-ধাক্কা দিতে চাচ্ছে।

যাহোক সার্কিট হাউজে ঝোলানো বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করেও ছবি তুললাম আমরা কিছু। তারপর ওপাহাড় থেকে নেমে চললাম বীচে। সেখানে গিয়ে দেখি সূর্য ডুবে গেছে মাত্র। প্রায়ান্ধকারে কিছু ছবি তুলে আমরা চললাম কক্সবাজার শহরে, বার্মিজ মার্কেট থেকে বাসার জন্য কিছু কেনাকাটা করতে। একটা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে শহরে চললাম। সেখানে বার্মিজ মার্কেটে যে-যার মতো পছন্দের কিছু খুঁজতে থাকলাম। বার্মিজ আচার, পোশাক আর মুলতানি মাটি ইত্যাদি কমন বিষয়ের বাইরেও কিছু খুঁজতে থাকলাম। দোকানের রাখাইন মেয়েগুলো তাদের চেহারা বিকিয়ে পণ্য বিক্রয়ে ব্রতী, কোনো কোনো দোকানে পুরুষ দোকানদারও আছেন। কোনো কোনো দোকানে গিয়ে বাঙালি মেয়েও দেখা যায়, তবে পোশাকে-আশাকে তাদেরকেও রাখাইনই মনে হয়। নাকিব আর শাকিল ভাই সুযোগ পেলেই তাদের রাখাইন ভাষার স্বল্প পুঁজি দিয়ে অভিবাদন জানায় রাখাইনদের:

মানামি যালে :: তোমার/আপনার নাম কী?

শিকো বাঁয়া :: বিদায়

একটা দোকানে ঢুকলাম আমরা, এক যুবতি আর ছোট্ট একটি মেয়ে বসে আছে। আমি সে দোকান থেকে বোনের জন্য চুলের একটা ছোট্ট ব্যান্ড কিনলাম। শাকিল ভাই ছোট্ট মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘মানামি যালে’। প্রশ্ন শুনে সাথের যুবতি তো আশ্চর্য, বাংলায় বললো, ‘আপনি আমাদের ভাষা কিভাবে জানেন?’ শাকিল ভাই জানালেন, অল্পস্বল্প শিখেছিলেন এক রাখাইন দোকানীর কাছে। ওদিকে পিচ্চি মেয়েটা কিন্তু তার নাম বলে ফেলেছে। মনে নেই নামটা কী ছিল। যুবতি জানালো পিচ্চি মেয়েটি তার ছোট বোন। পিচ্চির চেহারাটা খুব সুন্দর! এবারে পিচ্চি তার বোনকে রাখাইন ভাষায় কিছু বললো, আমরা কিছুই বুঝলাম না। যুবতি, শাকিল ভাইয়ের অনুরোধে অনুবাদ করে দিলে, শুনে, লজ্জায় লাল হলাম আমরাই, শাকিল ভাই বোধহয় আরেকটু বেশি লজ্জা পেলেন। মেয়েটি নাকি জানতে চেয়েছে, ‘আপনার মেয়ের নাম কী?’ শাকিল ভাই হাসতে হাসতে জানালেন, তিনি বিয়েই করেননি। প্রশ্নটা কি আদৌ ঐ মেয়েটা করেছিল, নাকি যুবতির কোনো ট্রিক্‌স ছিল, সেটা অবশ্য রহস্যই রয়ে গেলো।

এদিকে আমি আমার বোনের জন্য জুতা খুঁজতে খুঁজতে হয়রান। সুন্দর, আকর্ষণীয় জুতা চোখেই লাগে না, সব গৎবাঁধা নকশার। অবশেষে একটা দোকানে গিয়ে পছন্দ হয়ে গেলো, কিন্তু নাছোড়বান্দা রাখাইনরূপী বাঙালি মেয়েটি কোনোভাবেই দাম কমাতে চাইছে না। শেষ পর্যন্ত চলে আসতে বাধ্য হলাম। কিন্তু খুঁজতে খুঁজতে আর ওরকম জুতা কিছুতেই পাচ্ছিলাম না, তাই ঐ দোকানে গিয়ে আবার শেষ একটা দাম বলে এলাম, কিন্তু মেয়েটা কিছুতেই আর নামতে রাজি না। শেষে সে বলেই ফেললো, ‘আমি আর কমাতে পারবো না, আপনাকে পছন্দ হয়ে গেলো বলে এতোটুকু কমালাম’। বয়স কম হয়নি, এটা যে পটানি কথা -তা বুঝতে পিএইচডি করা লাগে না। চলে এলাম দোকান ছেড়ে। কিন্তু জুতার জন্য এতো ঘুরাঘুরি করেছি, আর শরীরে কুলাচ্ছে না, একটু বেশি দিয়েও ঐ জোড়া কিনে নেবার জন্য যখন ঐ দোকানের দিকে এগোচ্ছিলাম, তখন মেয়েটা পাশের দোকানের রাখাইন মেয়েটির গায়ে ঢলে পড়ছে, আর আস্তে করে বলছে, ‘আমি জানি, তুমি আসবা।’ তারা যে অর্থে বলছে, আমি যে সে অর্থে যাচ্ছিনা, সেটা আর ভাঙানো হলো না। মেয়েটাকে হাস্যোজ্জল রেখে আমরা এবারে রাতের খাবারের সন্ধানে বেরোলাম।

পেট পুরে খেয়ে দেয়ে আরেকটা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে হোটেলে ফিরলাম। সবচেয়ে বেশি কেনাকাটা করেছে ইফতি, দুহাত উপচে পড়ছে তার: বোন, দুলাভাই, ভাগ্নে, ভাগ্নি সবার জন্য কিনেছে উদারভাবে। হোটেলে ফিরে রাত একটার দিকে আবার বেরোলাম আমরা। এতো রাতেই একবার সৈকতে যাবো আমরা। দুটো রিকশা ডেকে উঠে পড়লাম আমরা। সৈকতে গিয়ে দেখি, দিনের বেলা ভাড়া দেয়া ঈযি চেয়ারগুলো খালিই পড়ে আছে। জোয়ার এসেছে সমুদ্রে, প্রচন্ড আওয়াজ করে পানি আছড়ে পড়ছে সৈকতে। বাতাস যেন উড়িয়ে নিয়ে যাবে। দূরে কোথায় মেঘ চিরে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। বৃষ্টির আশা করলেও বৃষ্টি এলো না। তবে এই নির্জনতাটুকু খুব উপভোগ করলাম সবাই।

হোটেলে ফিরে ঘুম। ভোরে উঠে নাস্তা। তারপর শ্যামলী পরিবহনের বাসে চড়ে ঢাকা রওয়ানা। পথ ফুরোতেই চায় না। পথে বিভিন্ন স্থানে দেখছিলাম বিভিন্ন সংস্কৃতি। চট্টগ্রামের বন্দর সংলগ্ন এলাকায় জাহাজের বিশালাকার সব লোহার যন্ত্রপাতি; কুমিল্লায় দেখলাম ভোটের সাজে সেজেছে এলাকা, কারণ তখন চলছিল পৌরসভা নির্বাচন; আবার কুমিল্লা পার হতেই রাস্তার পাশে সবুজ কিসের ক্ষেত যেন: পরে বুঝলাম ভুট্টার ক্ষেত, হলুদ রঙে উদ্বেল কোনো কোনো কৃষাণের উঠান। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার-লেনের মহাসড়কের কাজ কিছুই হচ্ছেনা, মাটি ফেলে দেখানো হয়েছে- ‘এতোবড় হবে’ রাস্তা, কিন্তু কোনো যন্ত্রপাতিও নেই আশেপাশে।

ঢাকার কাছাকাছি এসে দেখি নদী থেকে ড্রেজ করে বালু রাখা হয়েছে স্তুপ করে, কিন্তু সেখানে আসলে দেখার মতো কিংবা শেখার মতো কিছু আছে। ড্রেজ করার মুহূর্তে বালু থাকে পানিপূর্ণ, মানে পিচ্ছিল। এই বালি যতই পাম্প করা হোক, তা পিছলে সরে যাবে, স্তুপ তৈরি হবে না, স্থান জুড়বে বেশি, অনেক বালির অপচয় হবে। তাই কিছুক্ষণ বালি পাম্প করে তার উপর বিছিয়ে দেয়া হয় একটা বিশাল পলিথিন। তারপর আবার পাম্প করা হয় বালি। তারপর আবার পলিথিন। তারপর আবার গলিত বালি। এভাবে অল্প অল্প বালির স্তুপ মিলে তৈরি হয় বিশাল টিলার মতো স্তুপ। পদ্ধতিটা আমার কাছে চমৎকার লেগেছে। অবশ্য পুরো প্রক্রিয়া দেখার সৌভাগ্য হয়নি। চলন্ত পথে মোবাইল দিয়ে তুলে নেয়া ছবি ঘেঁটে এই তথ্য আবিষ্কার করলাম।

7 maynamati war cemetery (shakir)
ময়নামতি ও’আর সিমেট্রিতে নীরবে, নিভৃতে শায়িত সব ধর্মের মৃত যোদ্ধারা (ছবি: শাকির আহমেদ)

আমরা যখন ঢাকার পথে, ওদিকে আগের দিন রওয়ানা করা শাকিররা তখন যার যার বাড়িতে পৌঁছে যাবার কথা থাকলেও তারা তখন কুমিল্লায়। আগের দিন রওয়ানা করেও চট্টগ্রাম শহর থেকে পায়নি ট্রেনের টিকেট, পায়নি বাসেরও। অগত্যা রাত কাটিয়েছে চট্টগ্রাম শহরে, হোটেলে। পরদিনও কোনো টিকেট না পেয়ে এসেছে কুমিল্লায়। সেখান থেকে ধরেছে সিলেটের বাস। তবে বাড়তি হিসেবে ওরা দেখেছে কুমিল্লার ময়নামতি ওআর সিমেট্রিতে। শাকিরের জন্য ভালোই হয়েছে, এই জায়গাটা ওর দেখা ছিল না। আমি অবশ্য নটর ডেম কলেজ আউটওয়ার্ড বাউন্ড এ্যাডভেঞ্চার ক্লাব থেকে ২০০৩-এ একবার ঘুরে গিয়েছিলাম। তবে শাকিরের ডিজিটাল ক্যামেরায় আমার কাঙ্ক্ষিত কিছু মূল্যবান ছবি এসেছে বলে শাকিরকে ধন্যবাদ না জানিয়ে উপায় ছিল না।

একসময় ফিরে এলাম ঢাকায়। জ্যাম দিয়ে স্বাগত জানালো যাত্রাবাড়ি মোড়। ভিড়ের মধ্যে মিশে যেতে যেতে রোমন্থন করছিলাম নীলগিরির সেই আকাশনীলা অনুভব আর জীপের উপর মাথা বের করে দেয়া উচ্ছল তারুণ্যের মাঝে নত হয়ে যাওয়া বিশাল পাহাড়সারিকে। বড় অসহ্য লাগছিল এই শহরটাকে। কিন্তু জীবিকার জন্য আঁকড়ে পড়ে থাকার কোনো বিকল্পই ছিল না। অগত্যা, শিঘ্রই আবার বেদুঈন হয়ে যাবার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে হারিয়ে গেলাম ভিড়ের মধ্যে…।

(সমাপ্ত)

-মঈনুল ইসলাম

মন্তব্য করুন