স্মার্টফোনকে বানিয়ে ফেলুন জিপিএস ডিভাইস

আপনার মোবাইলে শুধু জিপিএস অপশনটা থাকা চাই… ইন্টারনেট সংযোগ কিংবা মোবাইল নেটওয়ার্কও দরকার নেই।

এখন অ্যান্ড্রয়েডচালিত স্মার্টফোনের অভাব নেই, আর অ্যান্ড্রয়েড যেহেতু গুগলের অপারেটিং সিস্টেম, তাই গুগলের গুগল ম্যাপ্‌স অ্যাপ্‌সটি এতে শুরু থেকেই ইন্সটল করে দেয়া থাকে। আমরা খুব গদগদ হয়ে সেই অ্যাপ্‌সটা খুলে আবিষ্কার করি, ইন্টারনেট ছাড়া আমরা অচল। আর তাই আমরা অনলাইন না হলে ম্যাপ ব্যবহারের চিন্তাও করতে পারি না। কিন্তু আজ এমন একটি অ্যাপ্‌সের কথা বলছি, যা আমার ধারণা আমূল বদলে দিয়েছিল। আমাদের স্মার্টফোনগুলো যে একেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণ জিপিএস ডিভাইস বা জিপিএস ট্র্যাক করার যন্ত্র, তা প্রথম বুঝতে পেরেছিলাম, সহকর্মী আরিফুল হক শামীম ভাইয়ের খুঁজে বের করা এই অ্যাপ্‌সটির কারণে। যার নাম: ViewRanger GPS – Trails & Maps^ – যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান Augmentra Ltd (ViewRanger)-এর অপূর্ব একটি উপহার। ব্যস, আপনার মোবাইলে শুধু জিপিএস অপশনটা থাকা চাই… ইন্টারনেট সংযোগ কিংবা মোবাইল নেটওয়ার্কও দরকার নেই।

ভিউর‍্যাঞ্জার জিপিএস - অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্‌স

অ্যাপ্‌স চালু করলে বিং ম্যাপ্‌সসহ এই চেহারা দেখা যায় (স্ক্রিনশট)
অ্যাপ্‌স চালু করলে বিং ম্যাপ্‌সসহ এই চেহারা দেখা যায় (স্ক্রিনশট)

Google Play থেকে সরাসরি ডাউনলোড করে নিয়েই এটি ব্যবহার করা যায়। চালু করার সাথে সাথে অ্যাকাউন্টে লগইন করতে বলে, কিন্তু অ্যাকাউন্ট তৈরি না করেই এটি সম্পূর্ণই ব্যবহার করা যায়। ডানদিকের ছবিটি দেখা যাক, আমার স্যামসাং SDUOS থেকে তোলা স্ক্রিনশট, এখানে উপরে যে অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের হিসাব দেখা যাচ্ছে, ওটা নমুনাস্বরূপ; বামদিকে নিচে আমি কম্পাস চালু করে রেখেছি, এভাবে কম্পাস ব্যবহার করে মানচিত্রে নিজের অবস্থানগত দিক চেনা যাবে; নিচে মানচিত্রের স্কেল আছে, আর এই অ্যাপ্‌সটি Microsoft-এর Bing Maps ব্যবহার করে; নিচে বাম দিকে (+) আর (-) দিয়ে মানচিত্র ছোট-বড় করা যাবে, এছাড়া আঙ্গুল দিয়ে পিঞ্চ করে তো করা যাবেই; ডানদিকে নিচে Search আর Options আছে, দুটোরই অনেক ব্যবহার আছে; আর মাঝখানের টার্গেট চিহ্নের মতো গোল প্রতীকটা হলো সবচেয়ে কাজের, জিপিএস-এর সাথে সংযোগ স্থাপনসাপেক্ষে এই বোতামটিই আপনার তাৎক্ষণিক অবস্থান দেখাবে।

অ্যাপ্‌সটিতে জিপিএস লোকেশন ট্র্যাক করা যাবে এখান থেকে... (স্ক্রিনশট)
অ্যাপ্‌সটিতে জিপিএস লোকেশন ট্র্যাক করা যাবে এখান থেকে… (স্ক্রিনশট)

একেবারে উপরে, ডানদিকের হ্যান্ডকম্পাস চিহ্নটা দিয়েই আসল খেলা শুরু করতে হয়- ওটাতে চাপ দিলে নতুন একটি পর্দা আসে, এখানে অডিও রেকর্ড করার মতো একটি বোতাম আছে, এতে চাপ দিলেই সে আপনার অবস্থান রেকর্ড করা শুরু করে দিবে। উপরের টাইমারটা চলা শুরু করে দিবে, আর আপনি কোনদিকে যাচ্ছেন, তার পিন সংগ্রহ করতে থাকবে অ্যাপ্‌সটি। মনে রাখবেন, আমরা কিন্তু ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই এই সব করছি, অর্থাৎ আপনার মোবাইল ফোনটি এখানে জিপিএস ডিভাইস হিসেবে কাজ করছে, আর মহাশূণ্যে উড়ন্ত অবস্থায় ঘুরতে থাকা কমপক্ষে তিনটি এবং ততোধিক জিপিএস স্যাটেলাইটের সাথে যোগাযোগ করছে, আর তারই ফলস্বরূপ সে আপনাকে আপনার অবস্থান নির্ণয় করতে দিচ্ছে।

আপনি চলতে থাকলে এবারে আপনাকে কষ্ট করে নিচের “Sailing” লেখা বোতামটাতে ক্লিক করতে হবে। এটা আসলে আপনার অবস্থা বোঝায়, আপনি আসলে কিভাবে নড়ছেন নিজের অবস্থান থেকে, সেটা এই অ্যাপ্‌সকে বলে দিতে হচ্ছে – যদি আপনি হাঁটতে থাকেন, তবে Walking বাছাই করুন, যদি পাহাড়ে আরোহণ করতে থাকেন, তবে ক্লাইম্বিং বাছাই করুন। আমি বাসা থেকে বেরোবার সময় Walking বাছাই করি, তারপর টমটমে (ঈযিবাইক) চড়েই Run/Jog বাছাই করি,  কারণ টমটমে তেমন একটা গতি থাকে না। এরপর যখন ট্রেনে উঠি, ট্রেন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে, তখন রেকর্ড সাময়িক বন্ধ রাখার জন্য Pause বোতামটা চেপে দিই। ট্রেন যখন চলা শুরু করে তখন আমি Driving মোড বাছাই করে দিই, এরপর ট্রেন থেকে কমলাপুর নেমে আবার Walking, তারপর রিকশায় চড়ে আবার Run/Jog, আর রিকশায় না চড়ে বাসে চড়লে Driving বাছাই করে দিই। এভাবে পুরো পথপরিক্রমার পরিপূর্ণ নিখুঁত জিপিএস ট্র্যাক পাই আমি।

আমার স্থানাংক, এবং সে অবস্থানে সূর্যাস্ত, সূর্যোদয়, দ্বিপ্রহরের সঠিক সময় (স্ক্রিনশট)
আমার স্থানাংক, এবং সে অবস্থানে সূর্যাস্ত, সূর্যোদয়, দ্বিপ্রহরের সঠিক সময় (স্ক্রিনশট)
মানচিত্রে আমার অবস্থান, আর গতিপথ, সাথে গতির হিসাবও (স্ক্রিনশট)
মানচিত্রে আমার অবস্থান, আর গতিপথ, সাথে গতির হিসাবও (স্ক্রিনশট)

আসলেই যন্ত্রটা আমাকে লোকেট করতে বা আমার অবস্থান সনাক্ত করতে পেরেছে কিনা, তা দুই জায়গা থেকে সহজেই দেখা যায়:

  1. এই Record পর্দাটির ডানদিকে Time নামক একটা ট্যাব দেখা যাচ্ছে, এরকম আরো ট্যাব যুক্ত করা যায়, আমি তেমনি একটা ট্যাব যুক্ত করে Location চালু করে নিয়েছি উইজেট হিসেবে, যখন জিপিএস সংযোগ বন্ধ থাকে, তখন এখানে — — দেখায়, আর যখন জিপিএস সংযোগ স্থাপিত হয়, তখন এখানে অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ ভেসে উঠে। তবে রেকর্ড চলাকালীন সংযোগ বন্ধ হয়ে গেলে বোঝার উপায় নেই এখান থেকে, কারণ তখন আগের অবস্থানের স্থানাংক থেকে যায় এখানে।
  2. আপনি ট্র্যাক রেকর্ড চালু করেই সরাসরি মানচিত্রে ফিরে যেতে পারেন, তখন মানচিত্রে আপনার অবস্থান বরাবর একটা বৃত্ত ভেসে উঠবে, আর এটাই আমার অবস্থান, এরপর আমি যেদিকে যাচ্ছি, সেদিকে অ্যাপ্‌সটা একটা তীর এঁকে দেখাবে আমার গতিপথ। পাশে কম্পাসে তখন দিকও দেখা যাবে, আর উপরে ডানদিকের কম্পাস বোতামের জায়গায় ভেসে উঠবে আমি কী গতিতে যাচ্ছি। প্রতি মুহূর্তে আসলেই যে আমার অবস্থান নড়াচড়া করছে, তা কিন্তু এখান থেকে বোঝা যায়, যা ১ নম্বর পদ্ধতিতে বোঝা যায় না।

শুধু যে আপনার অবস্থানই নির্ণয় করছে, তা না, আপনার অবস্থানে সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, দ্বিপ্রহরের নিখুঁত ভৌগোলিক হিসাবও দেখায় যন্ত্রটি, শুধু ট্যাবে উইজেট যোগ করে নিতে হয় আরকি। এটা আমার এতোটাই প্রিয় হয়ে উঠেছে যে, যখনই ঘুম থেকে উঠে ফযরের ওয়াক্ত আছে কি নেই, দেখার দরকার পড়ে, কিংবা মাগরিবের ওয়াক্ত কি চলে এলো কিনা দেখার দরকার পড়ে, তখনই আমি জিপিএস চালু করে দিই, আর আমার অবস্থান নির্ণয় করে দেখানো সময়টা দেখে নিই। আমি এই সময়ের সাথে নামাযের চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার মিলিয়ে দেখেছি, একেবারে নিখুঁত – হবারই কথা আসলে।

অ্যাপ্‌সটা দেখায়:

  • আমি আমার অবস্থান থেকে কী গতিতে নড়াচড়া করছি, মানে কী গতিতে চলেছি (যা প্রতিমুহূর্তে পরিবর্তিত হয়),
  • গড় গতি,
  • কতটুকু উঁচুতে উঠছি আর নামছি (elevation profile),
  • এখন কয়টা বাজে তার ডিজিটাল এবং অ্যানালগ উভয় প্রকারের ঘড়ি,
  • কতটুকু দূরত্ব পার করে এলাম,
  • এই দূরত্ব পার করতে কতটুকু সময় লাগলো তার সেকেন্ডসহ হিসাব
  • অল্টিচিউড – জিপিএস অল্টিচিউড – ম্যাপ অল্টিচিউড – ম্যাক্স-মিন অল্টিচিউড
  • অল্টিচিউড লস – অল্টিচিউড গেইন

আগে থেকে তৈরি করা গন্তব্যপথ

অ্যাপ্‌সটা আপনাকে আপনার বাছাই করা গন্তব্যপথ তৈরি করারও সুযোগ দিবে। আপনি আপনার র‍্যুট/রাউট (route) তৈরি করতে পারেন এই অ্যাপ্‌স-এ, তারপর সেই র‍্যুট ধরে চলতে পারেন। আমি এই অপশনটা এখনও ব্যবহার করে দেখিনি, তবে র‍্যুটটা তৈরি করা সময়সাপেক্ষ, চেষ্টা করেছিলাম একবার। তবে এতটুকু তো নিশ্চিত যে, আমার তৈরি করা র‍্যুট অনুসরণ করছি কিনা, তা আমি মানচিত্রে যাচাই করতে পারবো, যদি সে আমার অবস্থান সঠিক ধরতে পারে। এছাড়া আরো বিভিন্ন উইজেট দেখে বোঝা যায়, অ্যাপ্‌সটি আমাকে সেই সুবিধা দিবে, যাতে আমি যাচাই করতে পারি:

  • গন্তব্যে পৌঁছাতে আর কতদূর পথ যেতে হবে
  • পরবর্তি ওয়েপয়েন্ট (মার্কারে) যেতে আমার কতদূর পথ যেতে হবে
  • কোন দিকে যাচ্ছি
  • পরবর্তি ওয়েপয়েন্টের নাম
  • Next ETA – Time of Arrival
  • Next ETE – Time to End
  • Velocity Made Good (VMG)

এরকম আরো বহু কিছু…।

সেটিংস থেকে একে বিভিন্নভাবে সেট করে নেয়া যায়, একেবারে নিজের মতো করে গুছিয়ে নেয়া যায়। নিজের ইচ্ছেমতো যেকোনো কোঅর্ডিনেট দিয়ে মানচিত্রে সরাসরি সেখানেও যাওয়া যায়। যেমন আমি ঢাকায় বসে রাঙামাটির কোঅর্ডিনেট দিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম, তারপর ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে সেখানকার মানচিত্র লোড করে দেখেছিলাম ভূপ্রাকৃতিক গঠনশৈলী।

এতে ব্যাটারি সেভ মোড আছে, যা অল্প ব্যাটারি খরচে আপনাকে জিপিএস ট্র্যাক করার সুযোগ দিবে। আমি সেই অপশন ব্যবহার না করেই, আমার মোবাইলের পর্দার আলো একেবারে কমিয়ে, বাসা থেকে অফিস পর্যন্ত ১ ঘন্টার যাত্রাপথ ট্র্যাক করে দেখেছি, মাত্র ৪% চার্জ খরচে আমি নিখুঁত ট্র্যাক রেকর্ড করতে সক্ষম হয়েছি।

ইন্টারনেট সংযোগ কখন দরকার

ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই সব কাজ করা যাবে – এটা নিশ্চিত। তবু ইন্টারনেট সংযোগ পেলে আপনি যে সুবিধাগুলো পাবেন:

  1. বিভিন্নপ্রকার অনলাইন মানচিত্র (মানচিত্রের নিচে সর্বডানে Options থেকে যেতে হয়)
    • OpenCycleMap
    • Open Street Map (MapQuest) – যা আপনি অফলাইনেও ক্যাশ থেকে ব্যবহার করতে পারবেন
    • OpenStreetMap – অনলাইন থেকে সরাসরি
    • Bing Aerial Imagery – গুগল আর্থের মতো স্যাটেলাইট ইমেজ দিয়ে তৈরি বাস্তব পৃথিবীর চিত্র – অফলাইনে ব্যবহারযোগ্য
    • Ski Map
    • Transport Map
  2. BuddyBeacon  – অ্যাপ্‌সে অ্যাকাউন্ট থাকলে এই অ্যাপ্‌স ব্যবহারকারীদের সনাক্ত করতে পারবেন, তারা যদি আশেপাশে থাকে, তবে তাদের অবস্থান জানতে পারবেন (যদি তারা সেটা চালু রাখেন)

আপনি যেহেতু ইন্টারনেট ছাড়াই জিপিএস ট্র্যাক করতে পারছেন, তাই রেকর্ড করা সেই ট্র্যাকটি পরবর্তিতে চালু করে ইন্টারনেট চালু অবস্থায় সেখানকার মানচিত্র দেখে নিতে পারেন যেকোনো সময়।

ট্র্যাক রেকর্ড ছড়িয়ে দিন

যে ট্র্যাক রেকর্ড করলেন, তার বিস্তারিত দেখতে পারবেন অ্যাপ্‌সেই, সেখানে শুরু-শেষের তারিখ-সময়, সর্বমোট দূরত্ব (length), অতিক্রান্ত সময়, গতি, উচ্চতা সবই দেখা যায়। যে ট্র্যাক রেকর্ড করলেন, তা চাইলেই আপনি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারবেন (অনলাইনে থাকাসাপেক্ষে)। এছাড়া আপনার রেকর্ড করা ট্র্যাকগুলো ট্র্যাকলিস্টে পাবেন যেগুলো চাইলেই Export করতে পারবেন। এমনকি GPX ফাইলেও এক্সপোর্ট করা যায়, যা আমি নিজে করে সেই ফাইল গুগল আর্থে বসিয়ে নিখুঁত ট্র্যাক পেয়েছি।

সীমাবদ্ধতা

এই অনুচ্ছেদটা আমি লিখতে চাইনি, সত্যি বলছি। এতো এতো কিছু যে অ্যাপ্‌স বিনা পয়সায় দিয়ে বেড়াচ্ছে, তার দোষ খুঁজতে যাওয়াটাই অন্যায়। কিন্তু তবু একজন অভিযাত্রী হিসেবে আপনার জানা থাকা উচিত আপনার গ্যাজেটের দোষগুণ, কারণ এতে আপনি নিখুঁত পথপরিক্রমা নিশ্চিত করতে পারবেন। এছাড়া বিপদের মুহূর্তে যাকে বন্ধু হিসেবে বেছে নিচ্ছেন, তার ভুলভাল না জানা থাকলে, তারই ভুল করে দেখানো পথে আপনি নতুন করে বিপদের সম্মুখিন হতে পারেন। অ্যাপ্‌সটা এখনও তারা আপডেট করে মাঝেমধ্যে। তবে এপর্যন্ত যেসব সীমাবদ্ধতা আমার চোখে ধরা পড়েছে:

অ্যাপ্‌সে, চলমান অবস্থায় থাকার পর থামলে উল্টাপাল্টা পিন নেয়
অ্যাপ্‌সে, চলমান অবস্থায় থাকার পর থামলে উল্টাপাল্টা পিন নেয়
  • গুগল মানচিত্র অনেক সাম্প্রতিক, সে তুলনায় বিং মানচিত্র বেশ পুরোন। ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনের আগের নাম যে “হাজীগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন” ছিল তা এখানে দেখা যায় (অবশ্য এটা ভুল কিনা আমি জানি না)। এরকম বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক অনেক পরিবর্তন হলেও বিং মানচিত্রে এখনও পুরোন ভৌগোলিক গঠন, পুরোন স্থাপনা দেখা যায়
  • আমি একদিন জিপিএস চালু করতেই মানচিত্রে আমাকে নীল একটা স্থানে নিয়ে গেল (আমি অনলাইনে থাকায় মানচিত্র লোড হয়েছিল)। ডানে-বামে গিয়েও কোনোভাবেই কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না, নীলের মধ্যেই হালকা একটা প্যাটার্ন ছাড়া। মানচিত্রকে zoom out করে দেখি কি, আমি ভূমধ্যসাগরে (শান্তিনগরটা মনে হয় ভূমধ্যসাগরে ডুবে গেছিল সেদিন 🙂 )। আমি অ্যাপ্‌সটা বন্ধ করে মোবাইলের ক্যাশ পরিষ্কার করে আবার চালু করলাম। কয়েকবার এরকম করার পরে সে আমার সঠিক অবস্থানটা ধরতে পেরেছিল – তবে এরকম মাত্র দুদিন হয়েছিল, এবং দুবারই আমাকে সমুদ্রের মধ্যে দেখাচ্ছিল।
  • কখনও চলমান অবস্থায় থাকাকালীন (যেমন বাস কিংবা ট্রেনে), কোথাও থামলে জিপিএস পিন (Driving সেটিংস অনুযায়ী হিসাব করে) নড়তে থাকে। ঐ সময় আপনি যদি pause করতে ভুলে যান, তাহলে জিপিএস উল্টাপাল্টা পিন নিতে থাকে আশেপাশে। এটাকে আমি এর সীমাবদ্ধতা বলবো না, এটা হয়তো এর যৌক্তিক আচরণই।
  • জিপিএস ট্র্যাক রেকর্ড চলাকালীন আপনি হয়তো উল্লেখযোগ্য কোনো স্থান পার হচ্ছেন, তাই আপনি ট্র্যাক রেকর্ড চলাকালীন একটা পিন যুক্ত করলেন, আর তাতে স্থানের একটা নাম দিয়ে রাখলেন। পরবর্তিতে ট্র্যাকটি GPX-এ এক্সপোর্ট করে গুগল আর্থে নিলে এই নামটা আর পাওয়া যায় না। আর-সব পিনের মধ্যে এটাও একটা সময়ানুগ পিন (উদাহরণস্বরূপ: Track Dec 6, 2014 5:39:21 PM) হয়ে থাকে। তবে এ থেকে পরিত্রান পাবার একটা সহজ বুদ্ধি হলো, পিনের নামটা অ্যাপ্‌সে সংরক্ষণ না করে, মোবাইলের ঘড়িতে কয়টা বাজলো সেটা একটা নোটবুকে নোট করে রাখা যেতে পারে, আর পাশে স্থানের নামটা লিখে ফেলা হবে, অর্থাৎ এতোটার সময় ‘কাবজাব জঙ্গলে’ ছিলাম। পরে জিপিএস র‍্যুটটা গুগল আর্থ কিংবা অন্য কোনো মানচিত্রের সফ্‌টওয়্যারে যখন দেখছেন, তখন পিনগুলোর সময় দেখে দেখে আপনার এ ‘কাবজাব জঙ্গল’টির অবস্থান সহজেই বের করে নিতে পারেন।

অসাধারণ

সবশেষ কথা, অ্যাপ্‌সটি অসাধারণ। ভালো জিনিসের সুনাম করতে আমি কার্পণ্য করি না। এমনকি এর Apple Apps আছে, Kindle Fire অ্যাপ্‌স আছে, আর স্মার্টঘড়িতেও এটি ব্যবহার করা যায়। এছাড়া এদের ওয়েবসাইটে^ অনেক প্রকারের মানচিত্র আছে। প্রথমদিন তো এমনও হয়েছে, আমার বাসা দোতলায়, উপরে আরো পাঁচতলা আছে, আমি আমার ভিতরের দিককার ঘরে বসে জিপিএস চালু করেছি, এটি আমার নিখুঁত অবস্থান বের করে দিয়েছে। পরবর্তিতে অবশ্য এটা আরো কয়েকদিন চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। তবু অ্যাপ্‌সটা অসাধারণ। সত্যি বলতে কি এই অ্যাপ্‌সটা না দেখলে জীবনেও জানতাম না যে, আমাদের স্মার্টফোনগুলো আসলে একেকটা সক্রীয় জিপিএস ডিভাইস। এটা খুঁজে বের করার জন্য শামীম ভাইকে একবার পেটচুক্তি খাওয়ানো বাকি আছে। 🙂 এখন দেখার বিষয়, আমার মোবাইলে যেমনটা আদ্যোপান্ত সাপোর্ট করলো, আপনাদের সকলের মোবাইলেও কি একইভাবে কর্মক্ষম এটি? কাজে লাগলে আশা করি মন্তব্য অংশে নিজেদের মন্তব্য যোগ করতে কার্পণ্য করবেন না।

হালনাগাদ: ২৭ অক্টোবর ২০১৫

এই নিবন্ধের ঠিক উপরের অনুচ্ছেদে একটা তথ্য ভুল ছিল: ৬তলা বাসার দোতলায় বসে জিপিএস সংযোগ পেয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা আসলে সঠিক নয় – আমার ভুল হয়েছিল। আসলে আমি তখন নিয়মিত অ্যাপ্‌টা ব্যবহার করতাম, তাই প্রতিনিয়তই জিপিএস সংযোগটা আপডেট থাকতো। এতে সে শেষবার যে লোকেশনটা নিয়েছিল, তা ক্যাশ করে জমিয়ে রাখতো, হয়তো ২৪ ঘন্টা বা কিছু সময়। পরে যখন আমি ট্র্যাক করতে দিতাম, তখন সে আসলে প্রিভিয়াস লোকেশন দেখাতো, আর আমি তাকে তাৎক্ষণিক লোকেশন বলে ভুল করেছিলাম (আসলে তখন আমার তাৎক্ষণিক লোকেশন আর প্রিভিয়াস লোকেশন এক ছিল তো, ভুলটা করা স্বাভাবিকই ছিল)।

আর, এরকম আরো দুটো অ্যাপ্‌সের সন্ধান দিয়েছেন Mohammad Masum Al Mizan:

  • Locus Maps Pro – Outdoor GPS – Google Play
  • OruxMaps – Google Play (লিংক মুছে ফেলা হয়েছে, নিচে দেখুন)

হালনাগাদ: ০৮ আগস্ট ২০১৭

OruxMaps অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের লিংকটি (play.google.com/store/apps/details?id=com.orux.oruxmaps) আর কাজ করে না। ওদের ওয়েবসাইটে^ও এসংক্রান্ত কোনো লিংক খুঁজে পাওয়া যায় না।

-মঈনুল ইসলাম

nanodesigns

৮ thoughts on “স্মার্টফোনকে বানিয়ে ফেলুন জিপিএস ডিভাইস

    1. ধন্যবাদ ধৈর্য্য ধরে আমার দীর্ঘ দীর্ঘ লেখা পড়ার জন্য।
      আমি ধরে নিচ্ছি আপনি মহাকাশ বিজ্ঞানের কথা বলতে চেয়েছেন।
      সমস্যা হলো আমি মহাকাশ সম্পর্কে জানি খুব কম, আমি এবিষয়ে একজন ছাত্রমাত্র।
      সেইটুকু জ্ঞান দিয়ে যা লিখি, তা “জ্যোতির্বিজ্ঞান” বিষয়শ্রেণীতে পাবেন।
      আর অ্যাস্ট্রোফিযিক্স – সে মোটেই আমার কম্ম নয়। তবে যদি কিছু শিখি, আর সহজে বলতেও পারি, অবশ্যই চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।

মন্তব্য করুন