অবক্ষয়ের সোপানে অজ্ঞ পদক্ষেপ: উলঙ্গ মিডিয়ার সহজ সূত্র

ধারাবাহিক:  অবক্ষয়ের সোপানে অজ্ঞ পদক্ষেপ —এর একটি পর্ব

একটা সহজ সূত্র আছে, যা দিয়ে বাংলাদেশ আর ৫০ বছর পরে কোথায় যাবে, তা মাপা যায়। সূত্রটা হলো:

ভারত আজকে যেখানে আছে, বাংলাদেশ আর ৫০ বছর পরে এখানটাতে পৌঁছাবে। ভারত কোথায় যাবে? ভারত আর ৫০ বছর পরে সেই জায়গায় পৌঁছাবে, যেখানে আজ আমেরিকা আছে।

বিশ্বের আর-সব দেশগুলোর কথা বাদ দিলাম। সূত্রটা পছন্দ হোক বা না হোক, আপনি সেটা যাচাই করে দেখতে পারেন। সম্পূর্ণ না মিললেও একটা বড় অংশ মিলে যাবে। সূত্রটাকে সঠিক ধরে নিলে বাংলাদেশ আর ১০০ বছর পর সেই জায়গায় পৌঁছাবে, যেখানে আজ আমেরিকা আছে।

এই সূত্রটা মানতে আপত্তি থাকা স্বাভাবিক, আর তাই আমি এখন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিব বাংলাদেশ কোথায় ছিল, আর আজ কোথায় এসেছে।

আজ হলিউডে নায়িকারা topless থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ নগ্ন হতে পারছেন। ওটাকে কম্পিউটারের কারসাজি বলে নির্দোষ প্রমাণ করতে চান অনেকে, কিন্তু জানেন না, নায়িকারা যে সত্যিই তা করেন। এটা জানতে শ্রেফ অভিনেত্রী Eom Ji-won-এর এই উক্তিটাই যথেষ্ট:

আমি [সিনেমার] নগ্নদৃশ্যকে সত্যিকারের নায়িকা হওয়ার একটা জটিল ধাপ মনে করি। ক্যামেরার সামনে কাপড় খুলে আমি অনুভব করলাম, আমি এখন যেকোনো চরিত্র করতে পারবো।{তথ্যসূত্র^}

একটু ভিতরে যাওয়া যাক, আমেরিকাতে অর্ধ্বনগ্নতা এবং পরবর্তিতে নগ্নতা সীমাবদ্ধ ছিল কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মাঝে। ধীরে ধীরে যখন তা মেইনস্ট্রীমের মুভিগুলোতে ভর করে সাধারণ্যের দরজা অবধি পৌঁছাতে শুরু করলো, তখন কিন্তু আপত্তি উঠেছিল। কিন্তু দেখা গেলো সেই আপত্তি বেশি দিন টিকলো না। তাই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হলো এমনভাবে, যাতে নগ্নতার দৃশ্যগুলোও রাখা যায় আবার তা সবাইকে কষ্টও দেয় না। নীতিমালায় ঠিক করা হলো ছবিতে “Suggested for Mature Audiences”-মার্কা ছাপ্পড় মেরে দেয়া হবে। কিন্তু এই হাওয়া বেশিদিন টিকলো না, ১৯৬৮ সালেই এজাতীয় ছবিগুলোকে শ্রেফ X-rated করে বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত হলো: প্রাপ্তবয়স্ক লোক এগুলো দেখতে পারবে, অপ্রাপ্তবয়স্করা দেখতে পারবে না। এর সুফলও (!) পাওয়া গেলো, ১৯৬৯ সালেই “Midnight Cowboy” ছবিটি সেরা ছবি হিসেবে চলচ্চিত্র পুরষ্কার বাগিয়ে নিলো। নগ্নতার মতো একটা লজ্জাষ্কর বিষয় এভাবেই উন্মুক্ত হয়ে গেলো নীতিমালার জোরে।

কিন্তু মজার বিষয় হলো হলিউডের মেইনস্ট্রীম মুভিগুলোতে এইসব নগ্নতাবাদেরও একটা মাত্রা আছে, তাও ঐসব নীতিমালারই জোরে। মাত্রাটা হলো লিঙ্গ না দেখানো। লিঙ্গ দেখিয়ে ফেললেই সেটাকে করা হয় NC-17 কিংবা R দিয়ে রেট। আবার কিছু কিছু ছবিতে ঠিকই বেরিয়ে আসে পুরুষ/নারীর লিঙ্গ। থোড়াই কেয়ার করে রেটিং-এর। (রেটিং-এর মানে জানতে দেখুন এই নিবন্ধটি^) যে জিনিস চিরায়ত নিষিদ্ধ, তা আজকে রেটিং করে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, যে রেটিং-এর মানে জানতে আলাদা করে আবার পড়ালেখা করা লাগে।

এই মাত্রা অনুযায়ী লিঙ্গ একটু বেশিক্ষণ ধরে দেখিয়ে ফেললেই সেটার আবার আলাদা একটা ক্যাটাগরি আছে: Porno, মানে Pornography। সেখানে নায়ক-নায়িকার লিঙ্গ দেখাতে কোনো বাধা নেই, বরং লিঙ্গই সেখানকার নায়ক-নায়িকা। সেসব মুভি আবার মেইনস্ট্রীমে সাপ্লাই করা হয় না। ওগুলো ব্যক্তিগত চাহিদার ভিত্তিতে বিক্রি হয়। এবার আপনিই বলুন, যে সমাজে রেটিং করে একটু কম খোলামেলা জিনিস ছেড়ে দিলাম তোমার মর্জির উপর, সে সমাজে মর্জিবান লোক ক’জন আছেন? তাই এইসব ডাবল এক্স (XX) কিংবা ট্রিপল এক্স (XXX) -রেটেড মুভিগুলোর ব্যবসা রমরমা।

আজ আমেরিকা উন্নত দেশ, তাই নগ্ন হয়ে মুভি বানাচ্ছে। আর তাই নগ্নতা প্রদর্শন হলো উন্নত হওয়ার একটা মাপকাঠি। ‘আমেরিকার মতো উন্নত হয়েছি আমিও’ -একথাটি প্রমাণ করতে তাই জাপান পিছিয়ে নেই। বানিয়ে ফেলেছে এমন ছবি (“In the Realm of the Senses”), যার কিছু দৃশ্য ডেভলপ করার জন্য গোপনে ফ্রান্সে পাঠানোর দরকার পড়েছিল। ব্যস, পথ খুললো: হংকং, চীন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, কোরিয়া, তাইওয়ান -সব দেশের এক-দুজন নায়ক-নায়িকা প্রস্তুত হয়ে গেলেন নিজেকে “মেলে ধরতে”। “মেলে ধরা” শব্দটাও এখন বোঝায় উন্নত হওয়ার পথ বানানো। এইসব নায়ক-নায়িকার ফিরিস্তিও বিস্তারিত পাবেন এই নিবন্ধটিতে^। তাছাড়া এইসব মেলে ধরা চরিত্রের জন্য যতটুকু খোলামেলা হওয়া দরকার, নায়িকা যদি তাতে আপত্তি করেন, তাহলে পতিতালয় থেকে পতিতা বা বেশ্যাদের ধরে নিয়ে এসে সেইসব দৃশ্যের প্রয়োজনে অঙ্গ মেলে ধরা হয়।

মুভি জগতেতো আছেই, মার্কিন টিভিতে পর্যন্ত নগ্নতা দেখানো হয় বেশ ঘটা করে। ক্যামেরার সামনে নগ্ন হতে আজ আর স্টার হওয়া লাগে না, স্টার হওয়ার আগেই হওয়া যায়। America’s Next Top Model অনেকটা লাক্স-চ্যানেলআই-সুপারস্টার মার্কা অনুষ্ঠান, যেখানে সাধারণ ঘরের মেয়েদের তুলে আনা হয় আমেরিকার পরবর্তি মডেল হিসেবে। সেই অনুষ্ঠানে বাছাই প্রক্রিয়ার জন্য মেয়েদের ৫জনকে উলঙ্গ করে ব্যস্ত রাস্তার একটা টেলিফোন বুথের মধ্যে হাতে কতগুলো কাগজসহ নিয়ে পুরে দেয়া হলো। তারা কাগজ দিয়ে স্তন ঢেকে রাখছে আর বাইরে থেকে ক্যামেরাম্যান ফটাফট ছবি তুলছে। সেই ছবি তোলা শেষে সেগুলোর বিচারে বাছাই করা হবে, কে সেরা মডেল। এটা ছিল ঐ অনুষ্ঠানের একটা পর্ব। টিভিতে নগ্নতা সম্বন্ধে জানা যাবে এই নিবন্ধটিতে^। মনে হচ্ছে, কালকে আরেকটা অনুষ্ঠান চালু হয়ে যাবে, “কে সেরা যৌনাবেদনময়ী” এবং সেখানে সেরা নির্বাচনের জন্য বিচারক বলবেন, মেয়েদেরকে তার সাথে বিছানায় যেতে হবে, তারপর তিনি সার্টিফিকেট দিবেন। বিশ্বের এইসব দেশগুলোতে এখন ইজ্জত কামাই করার জন্য তথাকথিত ইজ্জত খোয়ানোটাই বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেখা যাক, এই সময়টাতে ভারত কোথায় আছে। ভারতে এখন মোটামুটি চুমুর হিড়িক, যে চুমুর যুগ আমেরিকা বহুকাল আগে পার করে এসেছে। আর বলাই বাহুল্য, এই চুমু মোটেই শিশুদের দেয়া নির্ভেজাল স্নেহাশীষ না, এটা রীতিমতো নর-নারীর পর্দার অন্তরালের চুমু। ভারতের হাল আমলের প্রতিটা ছবিতেই এখন এই কৃত্যটা একেবারে প্রকাশ্যে, ১০-২০ সেকেন্ড ধরে দেখানো হয়। ভারতীয় নায়কদের এখন আর নিজ দেশের নায়িকাদের চুমিয়ে তৃপ্তি মিটছে না। তাই তাদেরকে ঘটা করে যেতে হচ্ছে আমেরিকা, লন্ডন, অস্ট্রেলিয়া কিংবা মেক্সিকোতে। বাবা নিজের আপন [বিবাহিত] ছেলেকে দিয়ে ছবিতে মেক্সিকান নায়িকার সাথে চুমুর দৃশ্য শ্যুটিং করছেন (“Kites”)। নিজের ছেলের শয্যাদৃশ্য শ্যুট করতে তো একটু বাধে, তাই শয্যাদৃশ্যটা যাতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে করা যায় সে ব্যবস্থাও করেছেন। আজ ভারতে খোলামেলা হবার জন্য নায়িকার অভাব হয় না। এই পথটা খুলে দেবার জন্য একজন সৎসাহসী (?) নায়িকার দরকার ছিল, মল্লিকা শেরাওয়াত সেই পথ খুব ভালোভাবেই খুলে দিয়ে গেছেন (“Murder”)। তারপর তো হি হি পড়ে গেছে। কলকাতা, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লী, কাশ্মির এমনকি রাজস্থানের মতো গোঁড়া এলাকার নায়িকাও এখন ভারতীয় ছবির হটথ্রব খোলামেলা শিল্পী। খোলামেলা শরীর দেখানো কিংবা প্রগাঢ় চুম্বন এখন ভারতে, মডার্নিজমের একটা অন্যতম শর্ত। এসব না দিলে এখন ভারতে আর কেউ ছবি খায় না। অথচ এই ভারতে একসময় নায়ক-নায়িকার চুমুর দৃশ্য শ্যুট করার সময় নায়ক কিংবা নায়িকা ক্যামেরার সামনে মাথা কিংবা ওড়না দিয়ে আড়াল করে দেয়ার ব্যবস্থা ছিল। আর শয্যাদৃশ্য দেখানোর ভাষা ছিল ফুলদানির ফুলগুলো ঝরঝর করে নাড়াচাড়া করা। এমনকি সম্ভোগদৃশ্যে, নায়িকার সীৎকার পর্যন্ত শোনানো হতো না। শয্যাদৃশ্য বলতেই ছিল ভিলেনের ধর্ষণের দৃশ্য, তাও প্রায় কিছুই না দেখিয়ে ধস্তাধস্তি আর চিৎকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হতো। অথচ এখন? এখন আর ভিলেন নায়িকাকে তুলে নিয়ে যাবার দরকার পড়ে না। নায়িকাই বরং নায়ককে রেখে পরকীয়ায় মত্ত হয়ে ভিলেনের সাথে গিয়ে শুয়ে পড়বে -এমন ভাব। পরকীয়া কিংবা বিবাহপূর্ব যৌনতা এখন ভারতীয় চলচ্চিত্রের মুখ্য বিষয়। অমিতাভ বচ্চনের করা “পা”-সহ বহু ছবিতে এখন সেটা কোনো বিষয়ই নয়। …এই যুগ আমেরিকাতে ছিল বহুদিন আগে।

ভারতীয় "মিস্টার সিং মিসেস মেহতা" চলচ্চিত্রের প্রমোশনে নগ্নতা (ছবি: santabanta.com)
ভারতীয় “মিস্টার সিং মিসেস মেহতা” চলচ্চিত্রের প্রমোশনে নগ্নতা (ছবি: santabanta.com)

আজকাল ভারতে শয্যাদৃশ্য কিংবা সাঁতারের দৃশ্য কিংবা ভ্যাম্পের চরিত্র পরিস্ফুটন করতে গিয়ে যতটুকু কাপড় খোলার দরকার পড়ে, নায়িকারা তাতে রাজি না হলে জোগাড় করা হয় বিশেষ নায়িকাদের, যাদের বলা হয় Item Girl। আজকাল আইটেম গার্ল হতেও নায়িকাদের আপত্তি নেই, বরং ছবিতে বিশেষ ভূমিকা না থাকলে Special Thanks পাবার জন্য শরীর দেখানো নাচের দৃশ্যে অভিনয় করতে যান প্রথম সারির নায়িকারা। এবারে বোমা ফাটাই: ভারতেও নায়িকারা নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করছেন, শুরু করে দিয়েছেন তারাও। নন্দনা সেন “রঙ রাসিয়া” ছবিতে একটি নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করেছেন।{তথ্যসূত্র^} এই কি শেষ? “Mr. Singh & Mrs. Mehta” ছবিতে আছে আরো বেশি নগ্ন দৃশ্য।{তথ্যসূত্র^} দেশে ছবি বানালে নগ্ন দৃশ্যগুলোতে আর্ট আনা যায় না হয়তো, তাই সেই আর্ট আনতে মিরা নায়ার আমেরিকায় বসে বানিয়েছেন “Kama Sutra: A Tale of Love” (বা কামসূত্র), এই ছবিতে একেবারে উলঙ্গ হয়ে বিশেষ সম্মান (?) কামিয়েছেন নায়িকা ইন্দিরা ভার্মা; এমনকি এই সিনেমাটোগ্রাফির জন্য পুরষ্কার জিতে নিয়েছেন ছবিটির সিনেমাটোগ্রাফার ডেকলান কুইন। আমি এটা খুব ভালো করেই জানতাম যে, খুব বেশিদিন লাগবে না নায়িকারা এই বিশেষ মর্যাদা (!) নিতে চাইবেন। আফটার অল, উন্নত হতে হবে না?

আসুন আমার সাধের বাংলাদেশে, কী হাল এখন? এখনও আমার বাংলাদেশে চলচ্চিত্র বলতে যে ধারা চলছে, তার নাম হলো “বাণিজ্যিক ধারা”; এখানকার কাহিনী এখনও নায়ক-ভিলেনের নায়িকা নিয়ে যুদ্ধ এবং পিকচার শেষ হয়ে গেলে পুলিশের আগমন। এই ধারায় এখনও খোলামেলা শয্যাদৃশ্য দেখানো হয় না, (বহুদিন এই ধারার ছবি দেখি না, তাই দেখালেও বলতে পারছি না) তবে শয্যাদৃশ্য বা একটু খোলামেলা দৃশ্য যা দেখানো হয়, তা হলো ভিলেনের ধর্ষণ দৃশ্য আর উঠতি নায়িকার স্তন-পাছার অস্বাভাবিক আকৃতির দোলন। বরং সেই অপূর্ণতাটুকু পূরণ করার জন্য দরকার হয়ে পড়েছে আরেকটা ধারা- “সুস্থ ধারা”। এই সুস্থ ধারার (!) চলচ্চিত্রের পিছনে গিয়ে ঢুকেছেন মিডিয়া জগতের হিট কিংবা ফ্লপ নায়ক-নায়িকারা এমনকি খবর পাঠিকা পর্যন্ত। এই ধারায় শয্যাদৃশ্য দেখানো হয় আর্টফিল্মের মোড়কে মুড়িয়ে। এই ধারায় ভিলেনের ধর্ষণ নেই, তা প্রতিস্থাপিত হয়েছে নায়িকার পরকীয়া দিয়ে: নায়িকা, কিংবা বিবাহিত মহিলা পরকীয়ায় লিপ্ত হন পরপুরুষের সাথে। জনৈক ডিজুস এবং তার ডিজুস ভাই বেরাদারেরা প্রায় প্রতিটি নাটকে কথায়-বার্তায়, ইশারা-ইঙ্গিতে কিংবা খোলামেলা বাক্যালাপে সেসব দেখিয়ে চলেছেন বেশ গর্ব করে। এমনকি আর্টফিল্ম-মার্কা চলচ্চিত্রেও তাদের গর্বিত পদচারণা, থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার-এর মতো চলচ্চিত্র আবার জাতীয় পুরষ্কারও পায়, যে ছবিতে দীর্ঘদিনের খ্যাতিমান বয়স্ক অভিনেতা, তার মেয়ের কিংবা নাতনীর বয়সী একটা মেয়েকে ইঙ্গিতে বহুকিছু বুঝিয়ে দিতে থাকেন।

বাংলা "ফার্স্ট ডেট" নাটকে অডিও সেক্স
বাংলা “ফার্স্ট ডেট” নাটকে অডিও সেক্স

…ঘটনাটি সেই আমেরিকার ১৯৬৯ সালের X-রেটেড মুভির চলচ্চিত্র পুরষ্কার পাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বাংলাদেশে খোলামেলা শয্যাদৃশ্য কিংবা চুমু খাওয়া-খাওয়ি চাউর হয়নি এখনও, তবে Audio Sex আমাদের মিডিয়াতে ঠিকই ঢুকে গেছে ইতোমধ্যে। “ফার্স্ট ডেট” নাটকে বন্ধ দরজার এপাশ-ওপাশে যা হলো, ভবিষ্যতে দরজা যে আর বাধা হয়ে থাকবে না, এবং ঘরের ভিতরের দৃশ্যও ক্যামেরায় আসবে, সেই ভবিষ্যদ্বাণী করতে আর গণক হতে হয় না।

কী ভাবছেন সাধের দেশকে নিয়ে? ওরা বানায় বলে আমরা দেখি… না, আমরা দেখি বলে ওরা বানায়- কথাটা কি এখনও মাথায় ঢোকাতে পেরেছি? আমরা যদি সিনেপ্লেক্সে এইপ্রকারের আর্টফিল্ম দেখে এসে থ্রি-চিয়ার্স বলে গুণকীর্তণ না করি, তাহলে ডিজুস আর্টফিল্ম তৈরি হবে না।

আর কাকেইবা শোনাই ধর্মের কাহিনী? ভারতে যা হয়ে গেছে, বাংলাদেশ তো সে পথেই হাঁটছে। কাক চোখ বন্ধ করে ভাবে, আমাকে কেউ দেখছেনা -কিছুই করার না থাকলে আমরাও তাহলে চোখ বন্ধ করে ভাবি, বাংলাদেশ আমেরিকা হবে না।

-মঈনুল ইসলাম
wz.islam@gmail.com

____________________________

সহায়তা চিত্রণ:
এই OSOP বা অবক্ষয়ের সোপানের অজ্ঞ পদক্ষেপ সিরিজের প্রত্যেকটি নিবন্ধ তৈরির রসদ আমি জোগাড় করছিলাম দীর্ঘদিন ধরে। আরো রসদ দিয়ে বিভিন্ন সময় সহায়তা করেছে বন্ধু নাকিব আর স্মরণ, সহায়তা করেছেন মামাতো ভাই রনি ভাই। সহায়তা করেছেন মিডিয়া জগতের এবং মডেলিং জগতের কয়েকজন প্রথমসারির মডেল।

ছবির উৎস:

  • মিস্টার সিং এ্যান্ড মিসেস মেহতা : santabanta^
  • ফার্স্ট ডেট : নাটক থেকে নেয়া
nanodesigns

মন্তব্য করুন