অফ-ট্র্যাক বান্দরবান ২০১২

~ দুটো নতুন ঝরণা আর নতুন পথের দিশা ~

৮০ ডিগ্রী খাড়া ঢাল, সারিবদ্ধ আমরা পাঁচ জন, পায়ের নিচে গুড়ি গুড়ি নুড়ি পাথরের ছড়াছড়ি, নিজের শরীরের ওজন আর ব্যাগের ওজন মিলে মাধ্যাকর্ষণের টানে নিচের দিকে টানছে; পা হড়কালে ১০০ ফুট নিচের পাথুরে খাঁদে চির সমাধি, তাও শুধু একজনের নয়, নিচে, খাড়া পাহাড়ের সাথে ঝুজতে থাকা আরো তিনজনেরও।

পথটা এতোটা বন্ধুর ছিল না, যখন আমাদের পরিকল্পনা চলছিল যাবো বান্দরবান। অনেকেই যাবে, কিন্তু যাবার পরিকল্পনা করার পর কাউকেই পাওয়া গেলো না। শেষ পর্যন্ত থাকলাম আমরা মাত্র তিনজন: কাঠখোট্টা আমি, প্রতি সপ্তাহে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়া আমার অফিস-সহকর্মী রাসেল, সারা জীবনই ভ্রমণ-পাগল বন্ধু নাকিব। কাউকে আর তেল-মালিশ না করে বাসের টিকেট করে ফেললাম; উদ্দেশ্য, বগা লেক আর কিওক্রাডাং ভ্রমণ। কিন্তু এই ভ্রমণ কী করে আমাদেরকে ৮০ ডিগ্রী ঢালে নিয়ে হাজির করলো, সে এক অসাধারণ ঘটনার জট –ধীরে ধীরে খুলছি।

ফেসবুকে গ্রুপ খুললাম, Nature Adventure Club-এর বন্ধু নাজমুস সাকিব আর সাজ্জাদ হোসেন– দুজনকে যোগ করলাম আমাদেরকে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করার জন্য। সাজ্জাদ চলে গেছে ফিনল্যান্ডে, সেখান থেকে ফোন করে দিক নির্দেশনা দিয়ে পাঠালো আমাদের। বান্দরবান যে ছেলের স্বর্গ, সে কী করে ফিনল্যান্ডে পঁচে মরছে, সে এক মহাগবেষণার বিষয় বৈকি। ‘D’-Way Expeditors-এর সাথে ওরা খুঁজে বের করেছে অনেক নাম-না-জানা জলপ্রপাত এই বান্দরবানেই। …যাহোক, উদ্যম পেলাম সেই ফোনকলে, তিনজন যাচ্ছি বলে আর আক্ষেপ থাকলো না। সরাসরি বান্দরবানের বাসের টিকেট করেছি, রাত ১০:৩০-এ ছাড়বে “ইউনিক”-এর বাস। ভাড়াটা একটু বেশি রকমের বেশি (জনপ্রতি ৳৫৫০.০০)। ১৫ ফেব্রুয়ারি যথাসময়ে কাউন্টারে গিয়ে দেখি ব্যাক-প্যাক কাঁধে আরেক যুবক দাঁড়িয়ে, কথাপ্রসঙ্গে সে বললো, সে “ভ্রমণ বাংলাদেশ”-এর সদস্য, দুজন মিলে যাচ্ছে বান্দরবানের অফট্র্যাকে, নিছক ভ্রমণ নয়, অভিযানে। সাজ্জাদ আর সাকিবের সূত্রে পরিচয় ছিল বলে এব্যাপারটায় আশ্চর্য হইনি, কারণ ‘ডি’-ওয়ে এক্সপেডিটরস বাংলাদেশের অনেক নাম-না-জানা ঝর্ণার সন্ধান আবিষ্কার করেছে বান্দরবানের গহীন অরণ্যে কাঁচামরিচ আর পান্তাভাত খেয়ে খেয়ে।

বাসে উঠে পরিচয় হলো দ্বিতীয় সদস্যের সাথে, সুন্নতী তরীকায় শ্মশ্রুমণ্ডিত আবু বকর। আমার হাতে ওডোমস ক্রিম দেখেই জানালেন, “আপনাকে দেখেই ভাই খুব ভালো লাগলো, বোঝাই যাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছেন আপনি।” ব্যস, আমরা যার যার আসন নিলাম; বাস, আধা ঘন্টা বিলম্বে ছাড়লো ১১টার দিকে। ভালোই চলছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমরা ভোর ৬টা নাগাদ (ধরে নিয়েছি ৭টাও বাজতে পারে) বান্দরবান সদরে থাকবো। সেখানে নেমেই কোনো কথা নেই, ঝা দৌঁড় দিয়ে যেতে হবে রুমা বাস স্ট্যান্ডে, সেখান থেকে বাসে রুমা নৌকা ঘাটে, সেখান থেকে রুমা বাজারে, সেখান থেকে গাইড নিয়ে বগা লেকে, সেখানে গিয়ে থাকা; তারপর কিওক্রাডাং দেখে আরেক রাত থেকে, রুমা হয়ে ফের ঢাকা ফেরত। …কিন্তু ঈশ্বরের পরিকল্পনা একটু ব্যতিক্রম।

ইউনিক বাস, কুমিল্লায় তার নির্ধারিত রেস্টুরেন্টে নিয়ে থামালো, ২০ মিনিটের বিশ্রাম। ভ্রমণ বাংলাদেশের দুই যুবকের সাথে আবার সাক্ষাত, কথাবার্তা। বিশ্রাম শেষ, সবাই বাসে আবার উঠে পড়লাম। বাস ছেড়ে যাবে গন্তব্যে, কিন্তু বিধি বাম। বাসের গিয়ার বক্স জ্যাম হয়ে গেছে, সারানো যাবে না, অন্য কোনো বাস দিয়েও পৌঁছানো যাবে না, ঢাকা থেকে গাড়ি খবর দেয়া হয়েছে, সেটা এলে পরে যাত্রা সচল হবে। আমাদের পুরো পরিকল্পনাকে ৩-৪ ঘন্টা পিছিয়ে দিলো নিয়তি।

ভ্রমণ বাংলাদেশ-এর দুই সদস্যের সাথে আমাদের গল্প জমে উঠলো। কামরুল নামের যুবক বেশ গল্পবাজ, গুছিয়ে গল্পও করতে জানে। তার উপর আগ্রহ ফটোগ্রাফির দিকে, ব্যস; রাসেলের সাথে বেশ সখ্য গড়ে উঠলো। দুই ফটোগ্রাফার কখনও ক্যামেরা-কীর্তন, কখনও বিড়ি-কীর্তন, কখনও ফটোগ্রাফির গ্রামার-কীর্তন, কখনও নিজেদের ভ্রমণ-কীর্তন করতে থাকলো। সময় কাটছে না, কিন্তু সময় ঠিকই কাটছে গল্পে। আবু বকর ভাই আর কামরুল ভাইকে পেয়ে তখন আমিও আমাদের গন্তব্যটাকে একটু ঝালাই করে নিতে চাইলাম। বলাই বাহুল্য, যারা অফ-ট্র্যাকে যাত্রার জন্য চলছে, তারা এই তথাকথিত বগালেক আর কিওক্রাডাং-কে গোণার খাতায়ই ধরে না। তবু আমরা অ্যামেচার হিসেবে বেশ গোছানো পরামর্শ পেলাম তাদের কাছে। এমনও আভাস পেলাম যে, বগামুখ পাড়া পর্যন্ত আমাদের দুই দলেরই পথ মোটামুটি একই। তাই বগামুখ পাড়া পর্যন্ত হয়তো আমরা এক পথেই থাকবো। …এক সাথেও কি তাহলে থাকা যায়?

নতুন বাস এলো, আবার আমাদের যাত্রা শুরু হলো। আবু বকর ভাইয়ের মন ভালো না, মন ভালো না আমাদেরও –পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে এই তিন-চার ঘন্টার বিলম্ব। সমস্যা হলো আমি অফিস থেকে বৃহস্পতি আর শনিবারের ছুটি নিয়েছি, যে করেই হোক, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে রবিবারে এসে অফিস করতে হবে। রাসেল ভাইয়েরও তাই। যথাসম্ভব ঘুমিয়ে নিলাম গাড়িতে, যাতে দিনটা কাজে লাগানো যায় পরম ব্যস্ততায়, তখন যেন ক্লান্ত না হই। দিনটা নষ্ট হতে দেয়া যাবে না। বাস যখন চট্টগ্রাম হয়ে বান্দরবানের দিকে চললো, তখন কিভাবে যেন আমরা দুই দল এক হয়ে গেলাম। আমরা একত্রে ঠিক করলাম, বাস থামলে এক সেকেন্ডও বিলম্ব না করে পথ চলতে হবে, পরবর্তি ধাপে অগ্রসর হয়ে যেতে হবে। হয়তো ঐ দলও চাচ্ছিল, দলটা ভারি হোক, আর আমরাতো চাচ্ছিলামই।

বাস, বান্দরবান সদরে থামলো ১১টার দিকে। কোনো দিকে না তাকিয়ে পুরোদস্তুর সেনা কায়দায় ফটাফট ব্যাগ নিয়ে নেমে গেলাম বাস থেকে, নেমেই একটা ইযিবাইকে (ভটভটি, টমটম, ব্যাটারি –বিভিন্ন নামেই ডাকেন অনেকে) চড়লাম আমরা, এখন কিন্তু দলটা পাঁচ জনের। গন্তব্য: রুমা বাস স্ট্যান্ড। নীলগিরি, শৈলপ্রপাত যাবার পথটা ধরেই ইযিবাইক চললো। মিনিট দশেক পরে আমরা পৌঁছলাম বাস স্ট্যান্ডে। ইযিবাইকের ভাড়া মেটালেন আবু বকর, আমাদের সবার পক্ষ থেকে (সাকুল্যে ৳৭৫)। নেমেই আবু বকর তার স্বভাবসুলভ দ্রুততায় পরবর্তি কাজে ব্রতী হলেন, সবার পক্ষ থেকে পাঁচটা সীট বরাদ্দের জন্য টিকেট কাটতে গেলেন কাউন্টারে (জনপ্রতি ৳৮০)। বাস ছাড়তে কিছুক্ষণ দেরি থাকায় আমার বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া স্যান্ডউইচ, নারকেল-পিঠা আর ওখান থেকে কিনে নেয়া কলা আর চা দিয়ে সবাই নাস্তা সারলাম।

বাস ছাড়লো ১১:৩০-এ। আবু বকর জানালেন, আমরা এখনও পর্যন্ত শিডিউলমতো চলতে পারছি, এটা ভালো লক্ষণ –শুনে স্বস্তি লাগলো, অন্তত আমরা নতুনরা এদেরকে দেরি করিয়ে দেইনি। বাস চলছে তো চলছেই, থামার কোনো লক্ষণ নেই। মিলনছড়ি পার হয়ে চলে এলো ওয়াই জাংশনে। এখানে দুদিকে মুখ করে চলে গেছে দুটো রাস্তা, ডানদিকেরটা উপরের দিকে উঠে গেছে শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, নীলগিরির দিকে, আর বাম দিকের পথ গেছে রুমার দিকে। রুমা, বান্দরবানের আলাদা উপজেলা, বাংলাদেশের সৌন্দর্য্যের একটা খনি বলা যায় ওটাকে।

Kaikkhangjhiri-boat-port
কাইক্ষ্যংঝিরি নৌ-ঘাটে রুক্ষ্ম সাঙ্গুর বুকে অপেক্ষমান চারটে নৌকা। (ছবি: লেখক)

পথ যেন আর ফুরায় না। টানা দেড় থেকে দুই ঘন্টা চলার পর বাস থামলো কাইক্ষ্যংঝিরিতে। এখান থেকে নৌকা ছাড়ে রুমা বাজারের উদ্দেশ্যে। পটাপট সিঁড়ি টপকে রাস্তা থেকে নেমে গেলাম আমরা নদীর কিনারে। আবু বকর আর কামরুল খুব হতাশ হলেন শঙ্খ/সাঙ্গু নদীর পানি দেখে। শীতকালে এতো দৈন্যদশার আশা তারা করেননি কেউই। সেখান থেকে ১০জনপ্রতি একেকটা নৌকা ছেড়ে যাচ্ছে রুমা বাজারের দিকে। আমরা পাঁচজন, আর বোঁচকা-বাচকি মিলে প্রায় আটজনের ওজন হয়ে গেলো নৌকাটায়। এক পাহাড়ি মেয়ে, এক পাহাড়ি ব্যক্তি, আর এক পাহাড়ি যুবক নিয়েই নৌকা ছাড়লো রুমা বাজারের দিকে। নদীর পানি, নৌকার গতি আর আমাদের সময় মিলে বিষয়টা খুব কাঙ্ক্ষিত ছিল না। আমরা দোনমনা করছিলাম পাড় ধরে হেঁটেই চলে যাবো কিনা। কিন্তু প্রচণ্ড রোদে অযথা ক্লান্ত হবার ব্যাপারে আপত্তি করলেন গ্রুপ-লীডার আবু বকর। …কিভাবে তিনি গ্রুপ-লীডার হয়ে গেলেন, সেটা আমরা কেউ জানি না। কিন্তু লীডার তিনি হয়ে গেলেন।

Kaikkhangjhiri to Ruma Bazaar boat trip
কাইক্ষ্যংঝিরি থেকে রুমা বাজারে রুক্ষ্ম সাঙ্গু ধরে কবর-ভ্রমণ (ছবি:লেখক)

আবদ্ধ ছোট্ট ছাউনির ভিতরে দৃশ্য না দেখে পথ চলা রীতিমতো কবরে বসে থাকার সামিল। কিন্তু খুব একটা নড়াচড়া করার সুযোগ হচ্ছে না, কারণ নড়াচড়া করলে ভার এদিক-ওদিক সরে যায়, আর নিচের চরায় আটকা পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আমরা চলেছি উজানে (স্রোতের বিপরীত দিকে)। মাঝি টাঙিয়ে দিয়েছেন পাল। হাওয়া যখন লাগে, তখন রীতিমতো সাঁইসাঁই করে ছোটে নৌকা। পথে পড়লো গ্যারিসন ব্রিজ, এখনও নির্মাণাধীন। শুনেছি গত, অন্তত তিন বছর যাবত এটা নির্মাণাধীনই। তবে এখন নাকি কাজে দ্রুততা এসেছে, কিছুদিনের মধ্যেই শেষ করার নির্দেশ এসেছে উর্ধ্বতন থেকে। ওটার নিচ দিয়ে যাবার জন্য মাঝিকে পাল খুলে নিয়ে নদীতে নেমে নৌকা টানতে হলো। ঘন্টাখানেক পরে একসময় আমরা পৌঁছলাম রুমা বাজার ঘাটে (22° 2’58.38″N  92°24’32.18″E)। ততক্ষণে প্রায় ৪টার উপরে।

দ্রুত নৌকা থেকে নেমে আমরা উঠলাম উপরে। নৌকাতে জনপ্রতি ৳৪০ নেয়ার কথা থাকলেও সাকুল্যে মাঝি নিলো ৳২২০। ভ্রমণ বাংলাদেশের পরিচিত হোটেলে দৌঁড়ে গেলাম ব্যাগ রেখে খাবার-দাবার গ্রহণের জন্য। মামুন ভাইয়ের হোটেলে ব্যাগ রেখে আমরা জোহরের কাযা নামাজ সারলাম। তারপর দুপুরের খাবার খেলাম সেখানে (সাকুল্যে ৳৫৬৪)। ইতোমধ্যে ভ্রমণ বাংলাদেশের দুই সদস্য তাদের পরকল্পনামতো ঠিক করলেন তারা কোনো গাইড নিবেন না, জিপিএস ধরে নিজেদের গন্তব্যে কার্যোদ্ধার করবেন। তাই একজন পূর্বপরিচিত গাইডকে নিলেন আমাদের জন্য, উদ্দেশ্য বগামুখ পাড়া যাওয়া একসাথে, সেখান থেকে এই গাইড দিয়ে আমাদেরকে বগা লেকে পাঠানো। আর্মিকে কোনোভাবেই জানানো যাবে না এখন, জানালে ওরা আমাদের এখন বেরোতে দিবে না।

নিয়ম হলো, রুমা বাজার সেনা ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে হয়, কতজন সদস্য কোথায় যাচ্ছে, আর তাদের গাইড হিসেবে কে যাচ্ছে। ৪টার পরে সেনাক্যাম্প কোথাও যাবার অনুমতি দেয় না। আমরা ঠিক করলাম, প্রয়োজনে সবার কাছে যেহেতু টর্চ আছে, রাতে ট্রেইল ধরে হলেও বগামুখ পাড়ায় লুকিয়ে লুকিয়ে চলে যাবো। কথামতো আসরের নামায শেষ করে নদীর ঘাটে চলে এলাম। তারপর যেই রওয়ানা করতে যাবো, অমনি পিছন থেকে কে যেন ডাক দিলো।

একটা ছাউনি থেকে ডাক ছাড়লেন সাদা পোষাকধারী একজন। কাছে গেলে তিনি আমাদের কাছে সেনা অনুমতিপত্র চাইলেন। আমাদের কাছে সেরকম কিছু থাকার কথা নয়। জানা গেল, নিয়ম এখন বেশ কড়াকড়ি: স্থানীয় গাইডদের এসোসিয়েশন থেকে সংগ্রহ করতে হবে সীল দেয়া ফর্ম, সেটাতে ভ্রমণকারীদের বৃত্তান্ত লিখে গাইডের নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। তারপর তা নিয়ে যেতে হবে সেনাক্যাম্পে, অনুমতি পেলে তবেই রওয়ানা করা যাবে গন্তব্যে। ব্যস, আমাদের যাত্রাভঙ্গ।

আমাদেরকে আজ রাত পার করতে হবে এই কাঠখোট্টা বাজারে, তাই হোটেল হিলটনে ডাবল-বেড-এর দুটো রুম ভাড়া করলাম আমরা (রুমপ্রতি ৳৩০০)। একটা এন্ট্রি-ফর্ম নিলাম আমরা স্থানীয় একটা দোকান থেকে। প্রতিটা ফর্মের দাম ৳১০০। তাতে পাঁচজনই নাম অন্তর্ভুক্ত করলাম, গাইড হিসেবে নাম লেখালাম পাহাড়ি গাইড সিয়াম-এর। সবকিছু ঠিকঠাক করে রাখা আরকি, কাল যেন এক মুহূর্তও বিলম্ব না করে রওয়ানা করা যায়।

রাতে আমরা সবাই চিন্তায় পড়ে গেলাম: একজন গাইড আর বগামুখ পাড়া অভিমুখে যাত্রা দেখিয়ে পাঁচজন বেরিয়ে গেলাম ঠিকই, পরে যখন ওরা দুজন আলাদা হয়ে যাবে, তখন বগা লেক সেনাক্যাম্পে কাগজ দেখিয়ে রিপোর্ট করতে গিয়ে আমরা তিনজন পড়বো আর্মির তোপের মুখে। ফাঁস করে দিতে বাধ্য হবো বাকি দুজনের গন্তব্য পথ, আর গোপন থাকবে না তখন। গোপন না থাকলে সমস্যা হলো পরবর্তি ট্রেকারদের কাউকে আর ওপথে যাবার অনুমতি দিবে না তারা। চিন্তা করতেই থাকলাম আমরা। রাতের খাবার শেষ (একজন গাইডসহ সাকুল্যে ৳৫৮৯)। তখন পর্যন্ত কোনো সমাধান বেরোল না।

(চলবে…)

-মঈনুল ইসলাম

_________________________________

বিশেষ দ্রষ্টব্য: যাবতীয় ভৌগোলিক কো-অর্ডিনেট ভ্রমণ বাংলাদেশ-এর সদস্য আবুবকর-এর থেকে প্রাপ্ত।

পরের পর্ব »

nanodesigns

৫ thoughts on “অফ-ট্র্যাক বান্দরবান ২০১২

  1. এই সিরিজের কয়েকটা পর্ব অধারাবাহিকভাবে পড়েছিলাম। তবে এই পর্বটা মিস গিয়েছিল। পড়ে বেশ ভালো লেগেছে। এর কারণ একটাই- ভ্রমণ কাহিনী পড়তে যে আমার কোনো ক্লান্তি কাজ করে না। 🙂

    শুভ কামনা আপনার জন্য।।

মন্তব্য করুন