সবকিছুর নাম বাংলায় রাখতে কোনো বাধা নেই

আচ্ছা, সবকিছুর নাম বাংলায় রাখলে কী হয়?

বাংলায় নাম!

অনেক অনেক সমস্যার কথা উঠে আসছে জানি, তবু আমি আজকে প্রমাণ করবো কেন আপনি বাংলায় সবকিছুর নাম রাখবেন, কেন তা রাখলে কোনোই অসুবিধা নেই, বরং তা সম্মানের।

আমাদের বাংলাদেশের দুই নেত্রীর নামকরণ সংস্কৃতির সাথে আমরা সবাই পরিচিত: একজনের দেয়া নাম আরেকজন এসে পাল্টে দেন, আবার পরের মেয়াদে প্রথম জন এসে সেটা পুণরুজ্জীবিত করেন। সেখানে তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ যতটা আমরা দেখি, দেশের স্বার্থ ঠিক ততটাই ক্ষুন্ন হতে দেখি। অথচ আজ আমি এমন পথের কথা বলছি, যাতে ব্যক্তিস্বার্থ তো বটেই, বরং দেশ ও ভাষার স্বার্থও সমানভাবে রক্ষা পাবে।

বাংলায় নামকরণ প্রবণতা

আসুন, নামকরণের ব্যাপারে আমাদের অবস্থানগুলো একটু দেখে নেয়া যাক। নামকরণের ব্যাপারে আমাদের কিছু প্রবণতা আছে:

ক. আমরা বাংলা নামে ভাব খুঁজে পাই না:

আমরা বাংলা নামে আজকাল আর ভাব খুঁজে পাই না। তাই আমরা নামকরণের বেলায় ইংরেজি নাম পছন্দ করি খুব ভাব আছে মনে করে। এপ্রসঙ্গে একটা মজার ঘটনা বলি:

খুব ছোটবেলায় আমি আর আমার মামাতো ভাই (রনি ভাই) নিজেদের বইপত্র একত্র করে একটা মিনি পাঠাগার তৈরি করলাম। আমরা দুজন মিলে সেই পাঠাগারের একটা নাম ঠিক করলাম। পাঠাগারের জন্য দান সংগ্রহের জন্য আইসক্রিমের বাটির উপরে কাগজ লাগিয়ে দানবাক্স বানালাম আর তার উপরে আমাদের পাঠাগারের নামের আদ্যক্ষর লিখলাম: TNFL। ছোটবেলায় দুজনই দাঙ্গা-হাঙ্গামামার্কা ছবি পছন্দ করতাম, তাই বলে পাঠাগারের নামের সাথে দাঙ্গা-হাঙ্গামা জুড়ে যাবে সেটা স্বপ্নেও ভাবিনি, বোধহয় ভেবেছিলাম ওটাতেই ভাব আছে। পাঠাগারের নামে দাঙ্গা-হাঙ্গামা জুড়ে কী নাম হয়েছে জানেন? “The National Fighter Library”, সংক্ষেপে TNFL।

…নামটা মনে হলে আজও হাসি। যাহোক, নামের বেলায় আমাদের ইংরেজি-প্রীতির একটা কারণ আছে। কারণ আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি, ইংরেজি একটা ফোরেন ল্যাংগুয়েজ। নদীর এপার কহে ওপারে সুখ, ওপার কহে এপারে সুখ -এই কবিতাটা সবাই জানি। তাই বাংলাভাষী হয়ে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজিপ্রীতি যে আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে, তা আর বলতে হবে না আশা করি। মজার ব্যাপার হলো আমরা ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পেরে ঠিক যতটুকু মর্যাদাবান নিজেদেরকে ভাবি, ইংরেজ কিংবা আমেরিকানরা ইংরেজি বলতে নিজেদেরকে ঠিক ততটাই নীচ মনে করে। তাই তারাও নিজ ভাষা ইংরেজি ছেড়ে ঝুকছে অন্য কোনো বিদেশী ভাষায়- ফরাসি (French), কিংবা স্প্যানীয় (Spanish)। এজন্যই লক্ষ করবেন, আমেরিকানরা, নতুন আবিষ্কৃত সূর্য বা গ্রহের নামকরণে খুঁজে খুঁজে গ্রিক, রোমক কিংবা মিশরীয় পুরাণ থেকে নাম বের করে আনে। তারা মনে করে ঐসব নামের মধ্যে একটা ভাব আছে। আমাদের ইংরেজি-প্রীতির উদাহরণ ভুরি ভুরি, যেমন: একটা বাংলাদেশী ব্যান্ডের নাম বাংলায় “ব্যতিক্রমী ছোঁয়া” রাখার পরিবর্তে “Different Touch” রাখাটা যথেষ্ট ভাবের; “কালো” রাখার পরিবর্তে “Black” রাখাটা যথেষ্ট ভাবের; “ফাঁদ” রাখার পরিবর্তে “The Trap” রাখার মধ্যে একটা ভাব আছে… আরো কত কী! আমার বন্ধুও তার ব্যান্ডের নাম রাখতে গিয়ে শেষে ইংরেজিতে স্থিতু হয়েছে: Aimers।

খ. বাংলা রাখলে এটা শুধু বাঙালিরা বুঝবে, তাই রাখি না:

আমাদের সবারই ধারণা বাংলায় যদি কোনো কিছুর নাম রাখি, তাহলে সেটা শুধু বাঙালিরাই বুঝবে। তাই আমরা ঝুঁকি নেই না। যেমন: বাংলাদেশের বুয়েটের তিন গর্ব সাজেদুল হাসান, রাকিবুর রহমান এবং আহসানুল আদীব তাঁদের বিশ্ব-মাতানো আবিষ্কারটির নাম দেন: Design and Development of micro controller based solid state pre-payment energy meter, সংক্ষেপে Pre-paid Meter।[১] কারণ হয়তো তাঁদের মনে হয়েছে আমরা আমেরিকাতে প্রতিযোগিতায় যাচ্ছি, সেখানে বাংলা নাম নিয়ে গেলে কেউ বুঝবে না। তাই তাঁরা ইংরেজিতে নাম রেখেছেন তাঁদের আবিষ্কারের। আর এখন সেই ইংরেজি নামেই পরিচিতি পেয়েছে তাঁদের এই আবিষ্কার। সিলেটের উপশহর এলাকায় সরকার চালু করেছে এই প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার। (শুনেছি ঢাকার উত্তরায়ও চালু হবে)

সমাধান সমাধান

এবারে আসুন দেখি, কিভাবে সব কিছুর নামই বাংলা রাখা যায়, কোনো ঝামেলা ছাড়াই, আর এর পিছনে যুক্তিগুলোইবা কী: বাংলা উইকিপিডিয়ান শাবাব মুস্তাফা একদিন মজার এক তথ্য জানালেন: কলকাতায় নাকি মোবাইল ফোনের বাংলা করা হয়েছে “চলভাষ” (উচ্চারণ: চলোভাষ্‌)। শুনে আমি আর তানভির [রহমান] হেসে বাঁচিনে। হ্যা, কলকাতার এই বাংলায়ন নিয়ে হয়তো একটু হাসিই পাচ্ছে আমাদের, কিন্তু সত্যি কথা হলো, কলকাতার লোকজন বাংলায় নামকরণে বেশ ওস্তাদ। আমরা যেখানে Navy Blue-কে নেভী-ব্লু লিখেই ক্ষান্ত দেই, কলকাতার সুচিত্রা ভট্টাচার্য তখন লিখছেন “নাবিক নীল”। আমার অন্তত এই বাংলায়নে হাসি পাচ্ছে না।

আসলে হাসি পাবার ব্যাপারটা আপেক্ষিক। নতুন যেকোনো কিছুতেই হাসি পেতে পারে। কিন্তু প্রচলিত হয়ে যাবার পর সেটাতে আর হাসি পায় না। কখনও কি ভেবে দেখেছেন “সিংহভাগ” কথাটার মানে কী? অথচ এখন কথায় কথায় সিংহভাগ কথাটা ব্যবহার করছি আমরা দিব্যি, হাসি পাচ্ছে না। দিব্যি ব্যবহার করছি “সংরক্ষণ” শব্দটি, অথচ কখনও কি হেসেছি এই বলে যে, রক্ষণ করবো, রক্ষা করবো, এর সাথে আবার ‘সং’ ভংচং লাগানোর কী দরকার? আসলে প্রচলিত হয়ে যাবার পর অনেক কিছুই আর হাসির বিষয় থাকে না। এখন আর কেউ লাক্স কিংবা লাইফবয় নাম দুটোকে প্রশ্ন করে বলে না এসব আবার কেমন নাম? LUX-এর কোনো মানে নেই, কিংবা অর্থবোধক Sunsilk নামটিকে নিয়ে হাসে না এই বলে যে, হায়রে, সূর্যের সাথে সিল্ক কাপড়ের কী মিল, হা হা হা!

এবারে আসি বাস্তব উদাহরণে: কলকাতার সত্যজিৎ রায়^কে কে না জানে? ঠিক তেমনি বাংলাদেশের মুহম্মদ জাফর ইকবাল^কেও চেনেন সবাই। এই দুজনের মধ্যেই একটা সহজ পার্থক্য টানা যাক: সত্যজিৎ রায় তাঁর অধিকাংশ বইয়ের নাম রেখেছেন বাংলা, যেখানে জাফর ইকবাল তাঁর কিছু কিছু বইয়ের নাম বাংলায় না রেখে বেছে নিয়েছেন বিদেশী নাম: যেগুলো শুনতে কিছুটা খটমটে লাগে, আর সেই তথাকথিত ভাব প্রকাশ করতে পারে। বাংলা উইকিপিডিয়ায় উল্লেখিত নিবন্ধ দুটোতে দুজনেরই লেখা বইয়ের নাম আপনারা পাবেন, মিলিয়ে দেখে নিতে পারেন। এই দুজনকে নিয়ে আলোচনা করার কারণটা হলো জাফর ইকবাল বাংলাদেশের এযুগের বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক, আর সত্যজিৎ রায় সেযুগে ভারতে বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লিখে গেছেন। সত্যজিৎ রায়ের “প্রফেসর শঙ্কু^” চরিত্রটি ছিল সেরকমই একটা চরিত্র। শঙ্কু আজব আজব সব যন্ত্র তৈরি করতেন আবার সেগুলোর নামকরণও করতেন। কিন্তু দেখার বিষয় হলো সত্যজিৎ রায় সেযুগে ঐসব আবিষ্কারের নামে কোথাও ইংরেজি নাম দিতেন না। হয়তো শ্রেফ একটা রোবট বানিয়েছেন শঙ্কু, কিন্তু সেটার নাম তিনি দিলেন “বিধুশেখর”। …আসলে এভাবে তুলনা করাটা সঠিক কোনো বিজ্ঞানসম্মত উপায় নয়। কারণ সত্যজিৎ রায়ও অনেক ইংরেজি শব্দ দিয়ে নামকরণ করেছেন। আমি কেবল এটা বোঝাতে চাচ্ছি যে, সাধারণ একটা রোবটের মতো বিষয়কে যেখানে ইংরেজি নামে জড়ানো যেত, সেখানে সত্যজিৎ বাংলাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তৃষ্ণা নিবারক ঔষধের নাম “থ্রাস্ট পিল” না রেখে রেখেছেন “তৃষ্ণাশক বড়ি”। …এতে লাভটা কোথায়?

লাভটা হলো: বাংলাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া।

আচ্ছা, আপনার নাম কি আপনার বাবা-মা “টাইগার উড্‌স” রেখেছেন, নাকি রেখেছেন “সিদ্দিকুর রহমান^“? কিংবা “উইলিয়াম শেক্সপিয়ার” রেখেছেন, নাকি “হুমায়ুন আহমেদ”? মজার বিষয় হলো আপনার নামটি কিন্তু রাখা হয়েছে বাংলায় (বা আরবিতে)। কিন্তু আপনি যখন পরিচিতি পাচ্ছেন, তখন বলা হচ্ছে না আচ্ছা আপনার নামের ইংরেজিটা কী? কেউ কখনও হুমায়ুন আহমেদকে তাঁর নামের ইংরেজি বলতে বলেন না। অথচ তিনি বিশ্বখ্যাত হয়েছেন, তাঁর নামে বিশ্বের সর্ববৃহৎ পাঠাগার “লাইব্রেরী অফ কংগ্রেস”-এ আলাদা একটা লেখক-ভুক্তি তৈরি করা হয়েছে। …নাম “নাম”ই। এর ভাষান্তর হয় না (যদিও ওরা “ঠাকুর”-কে Tagore করে নিয়েছে)।

আপনি যখনই একটা বাংলা নাম রাখবেন, তখনই সেটা একজন ভিনদেশী, ভিনভাষী মানুষের কাছে প্রশ্নের উদ্রেক করবে: এর মানে কী? হয়তো আপনি আপনার বইয়ের নাম রাখলেন “অচেতন”, তখন ঐ ভিনভাষী এর মানে জানতে চাইবেন। আপনি তখন গর্ব করে বলতে পারবেন, ইট্‌স এ্যা বাংলা টার্ম। বিদেশী তখন দাঁত-মুখ খিচড়ে বলবে, হোয়াট! আপনি তখন দ্বিগুণ আনন্দ নিয়ে বলতে পারবেন, বাংলা ইয্ এ্যা ল্যাংগুয়েজ এ্যাচিভ্‌ড বাই ব্লাড। এ্যান্ড দ্যা টার্ম আ-চেতান মিন্‌স “Unconcious”। তখন ঐ বিদেশী আপনার ভাষায় মুগ্ধ হবে, আপনার ভাষা সম্পর্কে জানবে আর দশজনকে গিয়ে বলে বেড়াবে, আইয়্যাভ লার্ন্ট আ নিউ ল্যাংগুয়েজ: ইট্‌য ব্যাংলা, সেয়িং আ-চেতান ফর আনকনশাস। সে তখন তার কোনো বইতে আনকনশাস বিষয়ে লিখতে গেলে উল্লেখ করবে এই বাংলা টার্মটিও -এব্যাপারে আমি দিব্যি দিয়ে বলতে পারি।

কারণ আজ আমি দেখছি ক্রিকেটে যেভাবে জন্টি রোড‌্‌স ফিল্ডিং করতেন, সেটা আজ জন্টি রোড্‌স’ স্টাইল নামে পরিচিতি পেয়ে গেছে, যে বাংলাদেশী ভবন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে, তা “সংসদ ভবন” নামেই হয়েছে “পার্লামেন্ট হাউজ” নামে হয়নি (পরিচয় করিয়ে দেয়ার স্বার্থে অবশ্য পার্লামেন্ট হাউজ বলা হয়)। নিজের পরিচিতির সাথে করে নিয়ে গেছে ভাষাকে।

আরেকটা ধারা আছে, রোমান হরফে বাংলা লেখা: otobi, aarong, taaga, কিংবা drik gallery সবই কিন্তু বাংলা নাম। অটবি সংস্কৃতমূল বাংলা শব্দ (বৃক্ষ, অরণ্য); আড়ং ফারসিমূল বাংলা শব্দ (হাট, বাজার); তাগা প্রাকৃতমূল বাংলা শব্দ (হাতের বাহুতে বাঁধার সুতা); দৃক সংস্কৃতমূল বাংলা শব্দ (চোখ, দৃষ্টি)। যেভাবেই লেখা হোক না কেন, বাংলা তো। এগুলো থেকে mantra (মন্ত্র), yaatri (যাত্রী) কিছুটা ব্যতিক্রম, কারণ এগুলো মূল দেবনাগরী অর্থাৎ ভারতীয় লিপির উচ্চারণ-ধারায় লেখা। তবুও এগুলো বাংলার প্রতিনিধিত্ব করে।

একবার চিন্তা করুন, আপনি একটি যুগান্তকারী রকেট আবিষ্কার করলেন, তার নাম আপনি তথাকথিত রকেট না রেখে রাখলেন “ব্যোমযান”, তখন স্বভাবতই একসময় রকেটের নামটি পাল্টে গিয়ে বিশ্বব্যাপী মানুষের কাছে পরিচিতি পাবে ব্যোমযান নামটি। নাসা সংবাদ সম্মেলন করে বলবে উইয়্যাভ্‌ মেড্‌ আওয়ার নিউ ব্যোমযান, এ্যান্ড ইট্‌য পার্ফেক্টলি ওয়েলইকুইপ্‌ড। ঠিক যেমন আজ নাসা হোয়াইট ডুয়ার্ফ বা শ্বেতবামনের (তারার জীবনচক্রের একটি পর্যায়ে একে এই নামে ডাকা হয়) নিরাপদ মৃত্যুকে বোঝাতে বুক ফুলিয়ে বলছে ইট্‌য কাল্‌ড দ্যা চান্দ্রাশেখার লিমিট। (ভারতীয় বিজ্ঞানী সুব্রামানিয়ান চন্দ্রশেখরের নামে এই গাণিতিক ফর্মুলার নাম করা হয়েছে)

আসুন, নিজের আবিষ্কার, নিজের চিন্তা-চেতনা, নিজের লেখা বই, ফর্মুলা, গবেষণা-বস্তু ইত্যাদি সবকিছুর নামকরণ করি বাংলায়। তাহলে সেগুলো সারা বিশ্বে পরিচিতি পেলে বাংলাকে জানবে মানুষ।

আর মনে রাখবেন, যে ভাব আপনি খুঁজে বেড়াচ্ছেন নিজের ভাষাকে বাদ দিয়ে ঐসব তথাকথিত ভাবমণ্ডিত ভাষায়, তারা কিন্তু ভাব খুঁজে বেড়াচ্ছে আপনার ভাষায়।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল ক্যালটেকে^ নিজের যন্ত্রের নাম “টাইম প্রজেকশন চ্যাম্বার”[২] না রেখে “সময় অভিক্ষেপ প্রকোষ্ঠ” রাখলে আজ হয়তো ক্যালটেকে বাংলা নামটি প্রচলিত হয়ে যেত। বুয়েটের বিজ্ঞানীরা “প্রি-পেইড এনার্জি মিটার” না রেখে যদি “প্রাক-পরিশোধ মিটার” রাখতেন, তাহলে আজ আমেরিকায় নামটি জনপ্রিয়তা পেত।

তাই আমার পাঠাগার (জ্ঞানসুধা গ্রন্থাগার^), আমার বন্ধুদের সম্মিলিত সংঘ (নোঙর), আমার মতবাদ (কৃষ্ণপথ মতবাদ), আমার অন্তর্কথা’র (অচেথন^) মতোই আপনিও আপনার যাবতীয় নামকরণে প্রাধান্য দিন বাংলাকে। চেয়ে থাকলাম সেই দিনের প্রতি, যেদিন আবারো কেউ বুক ফুলিয়ে জাতিসংঘের অধিবেশনে বাংলায় বক্তৃতা দিবে, কোনো বাঙালির আবিষ্কৃত মাইক্রোবায়োলজির বই বাংলা নামে পরিচিতি পাবে: ভিনভাষী শিক্ষার্থীরা বুক ফুলিয়ে বলবে আয়্যাম এ্যা স্টুডেন্ট আফ আণুজীববিদ্যা। আমার বিশ্বাস, সেদিন আর খুব বেশি দূরে নয়।

অনেকেই জানেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ড বাংলা নামে এখন বিশ্বজুড়ে পরিচিত: সচলায়তন, মুক্তমনা তেমনি একেকটি ব্লগ সাইট। সচলায়তন-তো www.সচলায়তন.com দিয়ে ডোমেইনও কিনেছিল। বাংলার জনপ্রিয়তা টানছে সবাইকে: বাংলায় ওয়েবসাইট খুলছে বিবিসি, ডয়চে ভেলে। আরো আসছে, একটু অপেক্ষা করুন। …আর যদি অপেক্ষা ধাতে না সয়, তাহলে দায়িত্বটা কিন্তু আপনার। নিজেই শুরু করুন।

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলরে…!

-মঈনুল ইসলাম

________________________

তথ্যসূত্র:
১. “বাংলাদেশের সেরা বিজ্ঞানী’, হিটলার এ. হালিম; শিকড়; ফেব্রুয়ারি ২০০৪; পৃ. ১০০।
২. “একটুখানি বিজ্ঞান”, মুহম্মদ জাফর ইকবাল; কাকলী প্রকাশনী; ফেব্রুয়ারি ২০০৭ দ্বিতীয় মুদ্রণ; পৃ. ১০৩।

মন্তব্য করুন