দ্রুত গতিতে হাঁটার কলকব্জা

আমি খুব দ্রুত হাঁটি। অনেকেই আমার হাঁটা দেখে আশ্চর্য হোন, কিন্তু আমি এতে আশ্চর্যের কিছু পাইনি। কারণ আমি মনে করতাম যে-কেউ চাইলেই দ্রুত হাঁটতে পারেন। কিন্তু আমার ভিতরের কলকব্জাটা বুঝতে পারলাম আমি যখন আমারই মতো আরেকজনকে দেখলাম। …আসুন দেখা যাক কিভাবে দ্রুত হাঁটা যায়:

মাথাটা ঘুরছে, টালমাটাল হয়ে পড়ে গেলেন লোকটি

এই কথাটি আমরা সবাই বুঝতে পারছি। আসলে কিন্তু বিষয়টা বুঝতে পারছি না, কিংবা গভীরে গিয়ে বুঝবার চেষ্টাও করছি না। আসলে কিন্তু এই কথাটির মধ্যেই রহস্যটা লুকিয়ে আছে। আপনি মোটা, সেটা বিষয় নয়, বিষয় হচ্ছে আপনি হাঁটার সময় আপনার উর্ধাঙ্গ দুলছে কিনা। যাদের উর্ধাঙ্গ, হাঁটার সময় [পরিষ্কার করে বললে ডানে-বামে] দুলতে থাকে, তাদের হাঁটার গতি সেই দুলাদুলির কারণে স্থিমিত হয়ে পড়ে।

আমি যতদূর জানি, গাড়ির ক্ষেত্রে এই নীতিটি খুব মেনে চলা হয়। যেসকল গাড়িকে দ্রুত গতিতে ছোটার জন্য তৈরি করা হয়, তাদেরকে যথাসম্ভব নিজের অক্ষের উপর স্থির থাকার সক্ষমতা দেয়া হয়।

সুতরাং আপনাদের নিশ্চয়ই আর বোঝার বাকি নেই: যদি দ্রুত গতিতে হাঁটতে হয়, তাহলে নিজের উর্ধ্বাঙ্গকে স্থির রেখে হাঁটতে হবে। তখন আপনি যথেষ্ট দ্রুতগতি অর্জন করতে পারবেন আপনার হাঁটায়। এজন্য স্লিম স্বাস্থ্য একটা ক্রাউটেরিয়া ঠিক, তবে তা আবশ্যিক নয়, অনেক মোটা মানুষও এই নীতি মেনে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

আমি সেদিন ট্রেনে বসে প্লাটফর্মে হেঁটে যাওয়া এক যুবককে দেখে বিষয়টা প্রথম আঁচ করি। পরে পরীক্ষা করে দেখি, ঠিক: আমি চলার সময় আমার উর্ধ্বাঙ্গ যথেষ্ট শক্ত থাকে, যেনবা শিরদাঁড়ায় একটা তক্তা বেঁধে দেয়া হয়েছে।

 

সাবধানতা:

দ্রুত গতিতে ছোটা গাড়ি কিন্তু দুর্ঘটনা-কবলিত হয়। তাই দ্রুতগতিতে হাঁটার জন্য দরকার: অবস্থার প্রেক্ষিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবার, এবং দ্রুত থমকে দাঁড়ানোর ক্ষমতা। আমি বিশ্বাস করি, আমার মস্তিষ্ক একটু ধীরে চলে, আমি কোনো কথা শোনার পর বেশ সময় লাগে কথাটা বুঝতে (টিউবলাইট গোছের); কিন্তু আশ্চর্য হয়ে দেখি, আমি আমার পথের বাধাগুলো খুব দ্রুত সনাক্ত করতে পারি এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে হয় জায়গার মধ্যে থমকে দাঁড়াতে পারি, নতুবা দ্রুত পাশ কাটাতে পারি। তাই এই দুটি ক্ষমতা আপনার থাকতে হবে, যদি আপনি দ্রুত হাঁটেন। (নয়তো কখনও কোনো মেয়ের গায়ে হুমড়ি খেয়ে পড়লে লজ্জার অন্ত থাকবে না; আর গুন্ডাগোছের কারো গায়ে পড়লে জান্নাত-জাহান্নাম এক করে দিবে…)

তবে এজন্য আপনাকে একটা স্যাক্রিফাইস করতে হবে, মানে ছাড় দিতে হবে: রাস্তায় হাঁটার সময় পূর্ণ মনোযোগ আপনার থাকতে হবে আপনার পথের উপর, আর আপনার গন্তব্যের উপর। এতে আপনি আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া অনেক আকর্ষণীয় ঘটনা মিস করতে পারেন।

দ্রুত হাঁটার অনেক স্বাস্থ্যগত উপকারিতা আছে: চর্বি কমে…। (এমনই কমে যে, আমি সবসময়েরই under-weight আছি :() তবে দ্রুত হাঁটা আপনাকে উপহার দিবে সুস্থতা…।

 

তাড়াহুড়া করে পোস্ট লেখা আমার যুক্তিতে নাই। তবু মিসির আলী অনেক অযৌক্তিক কাজই করে ফেলেন এবং তারপর ভাবেন, এইমাত্র আমি যুক্তির বাইরে একটি কাজ করে ফেললাম।

-মঈনুল ইসলাম

wz.islam@gmail.com

nanodesigns

মন্তব্য করুন