হযরত, রহ. এবং এজাতীয়…

(এই লেখাটি amarblog.com-এ ২০১০-এর জুলাইতে লিখেছিলাম। লেখাটি এখানে সরিয়ে আনলাম।)

‘ঘাসফুলের’ ব্লগে এবিষয়ে জিজ্ঞাসা দেখে পোস্টটা লেখা শ্রেয় মনে করলাম।

  1. ‘হযরত’ অর্থ ‘জনাব’।
  2. ‘স.’ বা ‘সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ অর্থ ‘তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক’। শুধুমাত্র শেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ [স.]-এর নামের সাথে এর ব্যবহার করা হয়।
  3. ‘আ.’ বা ‘আলাইহিস সালাম’ অর্থ ‘তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক’। মুহাম্মদ [স.] ব্যতীত পূর্ববর্তী সকল নবী ও রাসূলের নামের সাথে এবং ফেরেশতাদের নামের সাথে এর ব্যবহার করা হয়।
    1. ‘রা.’ বা (পুরুষের ক্ষেত্রে) ‘রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’; (নারীর ক্ষেত্রে) ‘রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা’ অর্থ ‘তাঁর প্রতি ঈশ্বর (আল্লাহ) সন্তুষ্ট থাকুন’।
    2. ‘রা.’ বা (পুরুষের ক্ষেত্রে: বহুবচনে) ‘রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম’; (নারীর ক্ষেত্রে: বহুবচনে) ‘রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুন্না’ অর্থ ‘তাঁদের প্রতি ঈশ্বর (আল্লাহ) সন্তুষ্ট থাকুন।
      (মুহাম্মদ [স.]-এর সাহাবী বা সহচর বা Disciple-দের ক্ষেত্রে এদের ব্যবহার করা হয়।)
  4. ‘রহ.’ বা ‘রাহ্বমাতুল্লাহি ‘আলাইহী’ অর্থ ‘তাঁর/তাদেঁর প্রতি ঈশ্বর দয়া পরবশ হোন’। মুহাম্মদ [স.]-এর সাহাবী ব্যতীত যেকোনো মুসলমান ব্যক্তির জন্য এভাবে দোয়া করা যেতে পারে।

আমি বলতে পারি হযরত ঘাসফুল [রহ.]; অর্থাৎ জনাব ঘাসফুল [আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া পরবশ হোন], অর্থাৎ একজন মুসলমান হিসেবে ঈশ্বরের (আল্লাহর) কাছে আরেকজন মুসলমানের(?-যদি ঘাসফুল মুসলমান হয়ে থাকেন) জন্য দোয়া করলাম। ইসলামে মুসলমানদের মধ্যে কথোপকথনকে দোয়ার মধ্যে আবৃত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এজন্য উত্তম আচরণ হিসেবে মুসলমান পরস্পরকে কথোপকথনের সময় দোয়া করবে আর দোয়ার ভাষ্যস্বরূপ এই বক্তব্যগুলো উত্তম। এখানে জীবিত বা মৃত হিসেবে আলাদা কোনো বক্তব্য নেই।

তবে অমুসলিমের জন্য দোয়া করার অনুমতি নেই। মুহাম্মদ [স.]-এর প্রিয় চাচা আবু তালিব মারা যাবার মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি তাঁকে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি শেষ মুহূর্তেও নিজের বিশ্বাসকে পূঁজি করে মারা যাবার সময় বলেছিলেন: “আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মের উপর আছি”। অর্থাৎ তিনি বিশ্বাস স্থাপন করেননি আল্লাহ’র উপর। তিনি মারা যাবার সাথে সাথে মুহাম্মদ [স.] হাত তুলে আল্লাহর কাছে তাঁর প্রিয় চাচার জন্য সুপারিশ বা দোয়া করতে চাইলে আল্লাহ ক্বোরআনের একটি আয়াত অবতীর্ণ করেন, যার সারমর্ম হলো, ‘কোনো মুসলমানের শোভা পায় না অমুসলিমের জন্য দোয়া করা’। তবে জীবিত অমুসলিমের হেদায়াত বা সুপথপ্রাপ্তির চাহিদা জানিয়ে আল্লাহ’র কাছে দোয়া করা যেতে পারে বলে আলেমদের অভিমত।

আমরা কথোপকথনে মুসলমানদেরকে এভাবে দোয়া করতে পারি, আর নিজেদের মধ্যে সুন্দর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি অনায়াসে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর কাছ থেকে চেয়ে নেয়ার তাওফিক বা সক্ষমতা দিন।

-মঈনুল ইসলাম

মন্তব্য করুন