হাঁড়ির খবর: তাবলিগ জামাত

ধারাবাহিক:  হাঁড়ির খবর —এর একটি পর্ব

প্রশ্ন করি তাবলিগ জামাত কী? এটা কি ‘জামাত-এ-ইসলাম’-এর কোনো একটি অঙ্গ সংগঠন?

…না, তাবলিগ জামাত কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তবে ‘দল’। কারণ জামাত শব্দের অর্থ ‘দল’। তাবলিগ জামাত হলো এমন একটি দল, অরাজনৈতিক দল, যাদের কাজ হলো দলবদ্ধভাবে এবং [ব্যক্তিজীবনে] ব্যক্তিগতভাবে এক আল্লাহ’র দিকে নত হওয়ার এবং [পৃথিবীতে অনেক পথ থাকাসত্ত্বেও] শুধু [জনাব] মুহাম্মদ [আল্লাহ তাঁর উপর শান্তি বর্ষণ করুন]-এর দেখিয়ে যাওয়া পথ অনুসরণের কথা প্রচার করা এবং এই প্রচারকাজও মুহাম্মদ [স.]-এর দেখানো পথেই করা। তবে আগে নিজে করা, তারপর অন্যকে দাওয়াত দেয়া উত্তম। যদিও নিজে সম্পূর্ণ হওয়ার চেষ্টা করতে করতেও অন্যকে দাওয়াত দেয়ার অনুমতি মুহাম্মদ [স.]-এর থেকে রয়েছে।

দাওয়াতের কাজ নবী-রাসুলের, সেখানে আমি কেন?

যাহোক, এখন প্রশ্ন হলো, ইসলামের এই দাওয়াত পৌঁছানোর দায়িত্বটা কেন একজন সাধারণ মানুষ নিজের ঘাঢ়ে নিয়ে নিবে? এই দায়িত্ব তো ছিল আল্লাহ’র মনোনীত মানুষদের, যাঁদেরকে আমরা নবী-রাসুল বলে জানি। এই সকল সাধারণ মানুষ কি তাদেরকে নবী-রাসূল বলতে চাইছে, কিংবা নিজেদেরকে আল্লাহর মনোনীত বলতে চাইছে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আমাদেরকে জানতে হবে একটা গূঢ় সত্য যে, মুহাম্মদ [স.] হলেন আল্লাহ’র পাঠানো সর্বশেষ বাণীবাহক। এর পর আর কোনো বাণীবাহক পৃথিবীতে আসবেন না। তিনি যে বার্তা নিয়ে এসেছিলেন, সেই বার্তাই সারা পৃথিবীর মানুষের জন্য প্রযোজ্য হবে। এখন প্রশ্ন থাকতে পারে যে, এই বার্তা তো আছেই, ক্বোরআন-হাদিসে আছে, যার দরকার খুঁজে নিবে; তাহলে এই তাবলীগ জামাত মার্কা দল বানিয়ে আলাদা দাওয়াত দেয়ার কী দরকার?

আমরা জানি, মুহাম্মদ [স.] জীবিত থাকাকালীন সময়ও ইসলামের দাওয়াত দেবার জন্য তাঁর সহচররা (সাহাবীরা) [আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন] মুহাম্মদ [স.]-এর দিকে তাকিয়ে থাকেননি। যখনই সুযোগ এসেছে, নিজেরাই মুসলমান হিসেবে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন। অথচ তাঁরাও আল্লাহ’র মনোনীত বাণীবাহক (নবী-রাসুল) ছিলেন না। তাবলীগ জামাতের এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ দলিল। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, মুহাম্মদ [স.] তাঁর বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে অনেক জরুরি নির্দেশনার মাঝে দুটো নির্দেশনা দেন এরকম:

[ক] হে লোকসকল! শোনো, আমার পর আর কোনো নবী নেই। তোমাদের পর আর কোনো উম্মত (‘জাতি’ অর্থে) নেই (অর্থাৎ তোমরা একটাই জাতি – মুসলমান)। এ বছরের পর তোমরা হয়তো আর আমার সাক্ষাৎ পাবে না। এল্‌ম ওহী (আল্লাহর পাঠানো বাণী) উঠে যাবার (রহিত হবার) আগে আমার কাছ থেকে শিখে নাও।

[খ] যারা উপস্থিত আছো, তারা অনুপস্থিতদের নিকটে আমার এই পয়গাম (বার্তা) পৌঁছে দিবে। হয়তো উপস্থিতদের কিছু লোক অপেক্ষা অনুপস্থিতদের কিছু লোক বেশি উপকৃত হবে।

শোনা যায় যে, ঐ মুহূর্তে অনেক সাহাবীর, যাঁর ঘোড়া যেদিকে মুখ করা ছিল, তিনি সেদিকে ইসলামের দাওয়াত দিতে রওয়ানা হয়ে যান। তবে এই কথার দলিল কী, আমার জানা নেই, আমিও শুনেছি। যাহোক, এতটুকু পর্যন্ত আমরা বুঝতে পারছি যে, তাবলিগ জামাতওয়ালারা যে দাওয়াত দেবার কাজ করছেন, তার হুকুম পেয়েছেন মুহাম্মদ [স.] থেকে। …না, মুহাম্মদ [স.] নিজের ইচ্ছামতো এই নির্দেশ দিয়ে যাননি। তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ। পবিত্র ক্বোরআনে কয়েকটি সূরার আলাদা আলাদা আয়াতে আল্লাহ মানুষকে এই দাওয়াত পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সূরা (৩) আল-ইমরান-এর ১১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

তোমরাই হলে সর্বোত্তম জাতি, মানব জাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দিবে এবং অসৎ কাজে নিষেধ করবে, এবং আল্লাহতে বিশ্বাস [স্থাপন] করবে। …।

একই সূরার ১০৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

তোমাদের মধ্যে এমন এক দল থাকা উচিত, যারা সৎ কাজের দিকে ডাকবে, ভালো কাজের নির্দেশ দিবে ও অন্যায় কাজে বারণ করবে, আর তারাই সফলকাম।”

এছাড়াও কোরআনের আরো বহু আয়াতে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ (তা’ মুরূনা বিল মা’রুফ, নেহি আনিল মুনকার) পৌঁছানোর কথা উল্লেখিত হয়েছে।

যারা একটু ভালো বুঝেন তাঁরা প্রশ্ন করবেন: এই কথাগুলো তো নবীর সহচরদের সম্পর্কে করা হয়েছিল, আমাদের জন্য নয়। তাহলে আমাদেরকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়নি। …ভুল।

(১) নবীর সাহাবী আর আমরা পৃথক কোনো জাতি নই। সবাই এক জাতি (উম্মত), একই মতের অনুসারী।

(২) ক্বোরআনের কোনো বক্তব্য কোনো ঘটনাপ্রসঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা জাতির প্রতি অবতীর্ণ হলেও, বিষ্ময়কর ক্বোরআনের এটাই আরেকটা বিষ্ময় যে, তা [মুহাম্মদ [স.] পরবর্তী] যেকোনো কালের জন্য প্রযোজ্য হবে। যেকারণে আজ ডা. যাকির নায়েক ক্বোরআনের ভ্রুণতত্ত্বের কয়েকটি শব্দের ব্যাখ্যা দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন যে, ওগুলো ঐ যুগের ধ্যান-ধারণার সাথে যেমন খাপ খেয়ে যায়, আজকে এই আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও সামান্যতম কন্ট্রাডিক্ট করে না।

…এখন ইসলামের কথাগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া ‘সৎ কাজের আহ্বান’ কিনা, কিংবা ইসলাম কর্তৃক নিষেধকৃত কাজগুলো থেকে বিরত থাকার কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার কাজটি ‘অসৎ কাজে নিষেধ করা’ কিনা, সেটা বিবেচনার দায়িত্ব আপনার।

ইলিয়াসি তরিকা!

এক ব্যক্তি তাবলিগ জামাতের সাথে জড়িত বলে অন্যজন তাকে সমালোচনা করলেন, ‘ইলিয়াসী তরিকা’র অনুসারী বলে। এতক্ষণে আমরা দেখেছি যে, তাবলিগ বা দাওয়াতের তরিকা বা পন্থা বা পথটি স্বয়ং আল্লাহ, আর তাঁর বাণীবাহক মুহাম্মদ [স.]-এর পথ। তাহলে এই ‘ইলিয়াসী তরিকা’ কথাটার মানে কী? …একটি ধর্মতাত্ত্বিক অভিধানে বলা হয়েছে:

ভারতের দিল্লী’র মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস [রহ.] ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে তাবলিগ জামাতের সূচনা করেন। …পঞ্চাশের দশকে মাওলানা আব্দুল আজিজ [রহ.]-এর প্রচেষ্টায় ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এই জামাতের কাজ শুরু হয়।”

আমার প্রশ্ন হলো: আইনস্টাইন আলো আবিষ্কার করলেন বলে আজ থেকে ‘আলো’ কি আইনস্টাইনের সম্পত্তি হয়ে গেলো?

তাবলিগ নামক স্কুল

একটা কোম্পানী মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে কি মাঠ থেকে একজন চাষী ধরে এনে বসিয়ে দেয়? …না। বরং একজন উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মার্কেটিং পড়া, জানা ব্যক্তিকে ঐ গুরুত্বপূর্ণ কাজে বহাল করে। অথচ ইসলামের মতো মহান একটি ধর্মের দাওয়াতের দায়িত্ব সাধারণ মানুষের হাতে দেয়া হয়েছে। কিন্তু যেনতেনভাবে দাওয়াত পৌঁছাতে গেলে তা হিতে-বিপরীত হয়ে যাবে। তাই মাওলানা ইলিয়াস [রহ.] শ্রেফ এই দাওয়াতের কাজ সাধারণ মানুষের বোধগম্য করতে এক ধরণের স্বপ্রণোদিত ট্রেনিং স্কুল চালু করেন ইসলামের গন্ডির ভিতরেই। এই স্কুল কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, এই স্কুল কোনো ভবন নয়, বরং এই স্কুল মসজিদভিত্তিক এবং এর কার্যক্রম পরিচালিত হয় মুহাম্মদ [স.]-এর দেখানো পথে, সাহাবীদের অনুসৃত পথানুসারে। এর জন্য ছয়টি উসুল বা মূলনীতি তৈরি করেন, তাও সাহাবীদের জীবনাদর্শের সার-সংক্ষেপ হিসেবে:

  1. কালিমা (ঈমান),
  2. সালাত (নামায),
  3. ‘ঈল্‌ম ও যিকর (জ্ঞান ও স্মরণ),
  4. ইকরামুল মুসলিমিন (মুসলমানের পারস্পরিক সৌহার্দ),
  5. ইখলাস-এ-নিয়ত (সংকল্পের একনিষ্ঠতা),
  6. তাবলিগ (পৌঁছে দেয়া, প্রচার করা)।

…এটা ইলিয়াস [রহ.]-এর নিজস্ব কোনো তরীকা নয়, এটা সাহাবিদের [রা.] অনুসৃত পথের সারমর্ম।

চিল্লায় যাওয়া আবার কী?

তাবলিগ জামাতের লোকজন ৩দিন, এক চিল্লা (৪০দিন), তিন চিল্লা (১২০দিন = ৩×৪০), সাল (১ বছর) ইত্যাদি বিভিন্ন সময়ব্যাপী নিজের ঘর-সংসার ত্যাগ করে দ্বীন (ধর্ম) শিক্ষার্থে মসজিদে মসজিদে ঘুরে বেড়ান, মসজিদে অবস্থান করেন। এজন্য ৩, ৪০ ইত্যাদি সংখ্যার নানাবিধ ফিরিস্তি কীর্তন করতে দেখা যায়। এভাবে সংখ্যাতাত্ত্বিক তাৎপর্য্য খোঁজার কোনো বিষয় ইসলামে আছে বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি না। ঠিক যেমন বিসমিল্লাহ’র বদলে ৭৮৬ লেখার ভ্রান্ত ধারণা ইসলামে বহুযুগ রাজত্ব করেছিল – এখন মানুষ বুঝে এটা ভিত্তিহীন। যাহোক, তিনদিন, চল্লিশ দিন ইত্যাদি হলো এই স্কুলের একটা কারিকুলাম, পাঠ্যসূচী। যেমন: এসএসসি পরীক্ষা ১০ বছরের, এইচএসসি পরীক্ষা ২ বছরের, অনার্স ৪ বছরের কারিকুলাম – একটা শিক্ষাপদ্ধতির নির্ধারিত পদ্ধতিমাত্র। কেউ যদি গ্রেস নিয়ে একাধিক ক্লাস টপকে ১০ বছরের আগেই এসএসসি দিতে পারে, তাহলে তাতে যেমন দোষের কিছুই নেই, তেমনি ৩ দিনই, ৪০ দিনই না কাটিয়েও অনেকে দাওয়াতের কাজটি আয়ত্ব করে নিতে পারে। “সাহাবিরা ৩ থেকে ৪০ দিন সময় লাগিয়ে এই মেহনতের কাজ শিখেছেন” – এমন কোনো তথ্য আমি আমার অনুসন্ধানে পাইনি। তাই তিন দিন, চল্লিশ দিন ইত্যাদি মানা অসংযত নয়, কিন্তু ‘মানতেই হবে’ – এমনটা মনে করা ভ্রান্ত ধারণামাত্র।

ভ্রান্ত ধারণাসমূহ

তাবলিগ জামাতের লোকজনের আরেকটি ভ্রান্ত ধারণা হলো এমন যে, এই দাওয়াতের কাজটি সকল মুসলমানকেই করতে হবে। ইসলামের কোনো কাজই সকল মানুষের জন্য বিধিবদ্ধ নয় – কেউ মসজিদে থেকে দ্বীন শিক্ষা করবে, তো কেউ জেহাদে অংশগ্রহণ করবে, কেউ হিজরত করবে, তো কেউ তিজারাতে (ব্যবসায়ে) সময় দিবে…। জনৈক ব্যক্তি মুহাম্মাদের [স.] কাছে এসে বললেন তিনি অনেক দূর থেকে এসেছেন, কিছু উপদেশ চাচ্ছেন। মুহাম্মদ [স.] তাঁকে কিছু পথ বাতলে দিলেন, ঐ ব্যক্তি বললেন, “আল্লাহ’র (ঈশ্বরের) কসম, আমি যা শুনলাম, না আমি তাতে কিছু বাড়াবো, না তাতে কিছু কমাবো। আমি সারাজীবন তা-ই অনুসরণ করে যাবো”। ঐ ব্যক্তি চলে গেলেন, নবীর জীবদ্দশায় ঐ ব্যক্তির সাথে আর দেখা হয়নি। …দাওয়াত সম্বন্ধে ক্বোরআনের আয়াতগুলো অবশ্যই সর্বজনীন, অর্থাৎ কোনো মুসলমানেরই একাজে বাধা নেই। কিন্তু এটা অবশ্য কর্তব্য নয় – করা উত্তম, এবং সেই দল সফলকামদের মধ্যেও সামিল হবে। যারা করছে না, করতে পারছে না, তারা যদি তাতে পৃষ্ঠপোষকতাও করে, তাহলেও তারা সহায়তাকারী হিসেবে হয়তো ঐ দাওয়াতের দলের অংশ হতে পারবে। মনে রাখতে হবে, সব কাজ সবার জন্য নয়। সূরা আল ইমরানের ১০৪ নম্বর আয়াতে (উপরে উদ্ধৃত) কিন্তু একটা ‘দল’-এর কথা বলা হয়েছে, পুরো মুসলমান জাতির কথা বলা হয়নি।

দাওয়াত দিবে বিধর্মীদের, মুসলমানদেরকে কেন?

‘নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো’ -যেমনটা উইকিপিডিয়ানরা উইকিপীডিয়ায় লিখেন জনগণের জন্য, নিজের খরচে, দশের উপকারে। তেমনি তাবলিগওয়ালারা জনগণের জন্য করেন, এক আল্লাহ’র রাজি-খুশির জন্য, নিজের খরচে। তবে তাঁরা বনের মোষ তাড়ান না, মনের মোষ তাড়ান। নিজে করেন, অন্যকে উদ্বুদ্ধ করেন।

এখন আমরা দেখি যে, তাবলিগওয়ালারা বিধর্মীদেরকে রেখে আমাদের মুসলমানদেরকে দাওয়াত দিতে আসেন। এটা কেমন কথা? …এর উত্তর তিনটে:

(১) যুদ্ধ করতে হলে মজবুত একটা লাঠি দরকার। দাওয়াত নিজেদের মধ্যে অনুশীলন করে নিয়ে সেই লাঠি মজবুত করে নিলে বিধর্মীদের কাছে দাওয়াত পৌঁছানো সহজ হয়।

(২) নিজেসহ যাদেরকে ‘মুসলমান’ বলছেন, তারা কি তাদের সকল কথা-কাজ সত্যিকার অর্থেই আল্লাহর ইচ্ছাধীন করে নিয়েছেন? যতক্ষণ পর্যন্ত তা হয়নি, ততক্ষণ পর্যন্ত নামে মুসলমান হওয়াসত্ত্বেয় আপনি-আমি মুসলমানই না। …তারপরও যদি আমরা সত্যিকারের মুসলমান হয়েও থাকি, তবুও একটু শুনি না এদের কথা। এরা তো সত্যের কথা বলছে, সৎ কাজে ডাকছে। যত শুনবো, সত্যের দিকেই মন ধাবিত হবে। (বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা: কেন শুধু ভালো’র কথাই বলতে হয়)

(৩) আমি কাকরাইল মসজিদের একাধিক কারগুযারি (সত্য ঘটনার বর্ণনা) শুনেছি যে, সেখান থেকে বিভিন্ন বিধর্মী দেশে দাওয়াতের দল গিয়ে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছে, এবং সেসকল দাওয়াতে অনেক বিধর্মী মুসলমানও হয়েছেন।

আমি কী করবো?

এতো তথ্য-প্রমাণের পরও যদি কেউ তাবলিগ জামাতকে ‘ইলিয়াসী তরিকা’ বলতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, কিংবা ‘ধুর, তাবলিগ করবো না’ বলতে আগ্রহী হোন…তাদেরকে বলবো: আপনার এইসব তাবলিগ জামাত-টামাতের সাথে সংযুক্ত হবার কোনো দরকার নেই। কিন্তু আপনি ক্বোরআনের আয়াত আর নবীর বক্তব্যকে অস্বীকার করতে পারেন না, তাহলে আপনি মুসলমানই থাকবেন না। …আপনি এতে বিশ্বাস করে ‘উত্তম কথা’ আর ‘উত্তম যুক্তি’র দ্বারা ইসলামের দাওয়াত দিন… এই কাজের যোগ্যতা আল্লাহ’র থেকে চেয়ে নিন।

“ধর্মে (ইসলাম গ্রহণে) কোনো জোর-জবরদস্তী [কিংবা বাধ্যবাধকতা] নেই। …” (সূরা আল-বাক্বারা; আয়াত ২৫৬)

-মঈনুল ইসলাম

তথ্য উৎস

  1. “মহানবী”, ডক্টর ওসমান গনী; মল্লিক ব্রাদার্স, কলকাতা; তৃতীয় সংস্করণ ১৯৯১।
  2. “পবিত্র কোরআনুল করীম” (বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তফসীর); মূল অনুবাদ গ্রন্থ: তফসীর মা‘আরেফুল ক্বোরআন, জনাব মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শাফী’ [রহ.]; বঙ্গানুবাদ: মাওলানা মুহিউদ্দীন খান। সউদী বাদশাহ ফাহ্‌দ কোরআন মুদ্রণ প্রকল্প (বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য)।
  3. “যার যা ধর্ম”, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান; ঐতিহ্য; প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০০৯।

৪ thoughts on “হাঁড়ির খবর: তাবলিগ জামাত

  1. >'… এখন প্রশ্ন হলো, ইসলামের এই দাওয়াত পৌঁছানোর দায়িত্বটা কেন সাধারণ মানুষ নিজের ঘাঢ়ে নিয়ে নিবে? এই দায়িত্ব তো ছিলো আল্লাহ’র মনোনীত মানুষদের, যাদেরকে আমরা নবী-রাসুল বলে জানি। এই সকল সাধারণ মানুষ কি তাদেরকে নবী-রাসূল বলতে চাইছে, কিংবা নিজেদেরকে আল্লাহর মনোনীত বলতে চাইছে?'মাশাল্লাহ শেষের দিকে তিন/তিনটা বইয়ের নাম উল্লেখ করলেন, কিন্তু এর পরও একটা সাধারণ প্রশ্নের অবতারনা করলেন। কোরান এব্যাপারে কী বলে? এটা কী কেবল নবী রসূলের কাজ? আপনার পঠিত বইয়ের কোথাও কী এর কোন উত্তর ছিল না? এম_আহমদ

    1. ভাই আহমদ,আপনার মন্তব্যটা ঠিক আমার কাছে পরিষ্কার না। আমি আমার লেখায় এরকম আরো প্রশ্ন রেখেছি এবং এর কোনোটাই আমি উত্তর না দিয়ে লেখা শেষ করিনি। আপনার উদ্ধৃত প্রশ্নের উত্তরও একটু খেয়াল করে পড়লে আপনি সেখানে দেখতে পাবেন। তারপরও আমার উত্তর যদি আপনাকে সন্তুষ্ট করতে না পারে, তাহলে দয়া করে নিজেই তার উত্তর জেনে নিয়ে আমাদের জানান। আমার অপারগতার জন্য ক্ষমা চাইছি। আমার এই লেখা মূলত তবলিগকে পরিচয় করিয়ে দিতে…আরো জানতে স্বপ্রণোদিত স্বেচ্ছা প্রয়াস দরকার। আল্লাহ সহায় হোন।

মন্তব্য করুন