অজানা লেকের অভিযানে বান্দরবান ২০১৩ : প্রথমাধ্যায় : পর্ব ৫

ধারাবাহিক:  অজানা লেকের অভিযানে বান্দরবান —এর একটি পর্ব

বান্দরবানের দুর্গম জনপদ থানচি বাজারে একটা ছোট্ট কুড়েঘরে, এক চৌকিতে এক মেয়েসহ ৯জন ছেলে ঘুমিয়েছিলাম, যখন বাইরে ঘুরছিল পাড় এক মাতাল। দুশ্চিন্তিত আদোঘুমে কাটতে থাকা রাতের আঁধার কেটে ভোর আসবে কিনা, সেই ভয়ে শঙ্কিত ছিলাম বড্ড বেশি। কিন্তু অবশেষে ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় ভোর হলো।

খইশামু মারমা - এঁর ঘরেই রাত কাটিয়েছি দলা পাকিয়ে দশজন। (ছবি: লেখক)
খইশামু মারমা – এঁর ঘরেই রাত কাটিয়েছি দলা পাকিয়ে দশজন। (ছবি: লেখক)

দ্রুত উঠে পড়লাম, কারণ সামনে বড্ড হিসাবের একেকটা দিন; একটা দিন উল্টা-পাল্টা হওয়া, অফ-স্ক্যাজ্যুল হওয়া মানে বাকি দিনগুলোতে পিছিয়ে পড়া। মোবাইলে সময় দেখলাম এখনও সূর্যোদয় হয়নি (শীতের সময় এমনিতেই বেশ দেরিতে সূর্যোদয় হয়)। আমাদেরই কে যেন বললো, পাশেই মসজিদের পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হবে। আমরা যেখানে রাত কাটিয়েছি, তার পাশেই একটা বড় জামে মসজিদ। মসজিদের পুকুরে গিয়ে দেখি তলানিতে পানি, তাও লাল টকটকে চেহারা। এর কী কারণ হতে পারে আল্লা’ মালুম। সার্ভাইভাল পরিস্থিতিতে এতো বাছবিছার করলে চলে না, ঐ পানি নিয়ে পেশাব করে ওযু করে নিলাম।

তারপর মসজিদে ঢুকে দেখি এখন সূর্যোদয় হচ্ছে। সূর্যোদয়ের শুরু থেকে ২০ মিনিট অবধি যেকোনো নামায আদায় নিষিদ্ধ, এটা প্রাচীন আরবের সূর্য-পূজারীদের থেকে ইসলামকে আলাদা করতে মুহাম্মদ [আল্লাহ তাঁর প্রতি শান্তি বর্ষণ করুন] চালু করেছিলেন। অগত্যা কুটিরে ফিরে এলাম। রাতের ঐ বিভিষিকাময় কুটিরটা সকালে বড় বেশি মায়াবি লাগছিল। ক্যামেরাটা বের করে বাইরে এলাম। দূরে যখন চোখ গেল, মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকলাম: বিশাল বিশাল সব পাহাড়ের চূড়ায় সকালের প্রথম সূর্যোচ্ছটা এসে লাগছে। কী অপূর্ব সে দৃশ্য! কিছুক্ষণের জন্যে হারিয়ে গেলাম কোথাও যেন।

খইশামু মারমা - এঁর ঘরেই রাত কাটিয়েছি দলা পাকিয়ে দশজন। (ছবি: লেখক)
খইশামু মারমার ঘর, এই ঘরের ওপাশের দরজায় ছোট্ট কোঠায় রাত কাটিয়েছি আমরা (ছবি: লেখক)
থানচি থেকে দেখা ভোরের প্রথম সূর্যোচ্ছটা (ছবি: লেখক)
থানচি থেকে দেখা ভোরের প্রথম সূর্যোচ্ছটা (ছবি: লেখক)

আশেপাশে শান্ত-নীরব ভোরের গ্রাম – যদি ঐ দূরের পাহাড়গুলোর দিকে তাকানো না হয় তাহলে দেখে সমতলের গ্রাম বলেই মনে হয়। অনেকগুলো ঘরের উপর সোলার প্যানেল লাগানো। এনজিওগুলোকে যতই গালাগালি করিনা কেন আমরা, এই লোকগুলোকে প্রযুক্তির সামান্য ছোঁয়া হলেও ওরা দিয়েছে, আমরা নই। (দেয়ার পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে)

সবাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতাজনিত কাজে ব্যস্ত। সূর্য উঠলে ফযরের নামায পড়ে এসে ঘরে ঢুকলাম, ব্যাগটা গুছিয়ে ফেলা দরকার। তাকিয়ে দেখি, নিচে খুলে রাখা শান্ত আর আরো কার কেড্‌সের ভিতরে-বাইরে পায়খানা করে স্বাগত জানিয়েছে হংস বাবাজিরা। পাশেই তাকিয়ে দেখি শুধু তাই না, তারা একটা ডিমও উপহার দিয়েছে। …খাটের নিচে ডিম! …খাটের নিচে হাঁস! …খাটের নিচে প্রভা! …ব্যস, প্রভা আর যায় কই? শুরু হলো প্রভার ডিম-কীর্তন। এ খোঁচায়: ‘প্রভা, তোর ডিমের কাহিনীটা বল্।’ আরেকজন খোঁচায়: ‘প্রভা, মামা, তোরে ভালো মনে করছিলাম।’ …হংস-প্রভা’র প্রেম কাহিনী অভিযাত্রীদের সকালটাই চাঙা করে দিলো।

বাইরে বেরিয়ে শুনি আরেক কাহিনী: রাসেল এর-ওর কাছে বেল্ট খুঁজে বেড়াচ্ছে। ওর খোঁজাখুঁজির অভ্যাসটা গেলো না। যাবার আগে পঁইপঁই করে বলে দিয়েছি, নিজের রেশন নিজেকে নিয়ে নিতে; আমার পিঠে বিশাল ব্যাগ দেখে মোটামুটি টিটকারিই করেছে, এখন এটা দরকার, তোর কাছে আছে? ওটা দরকার, তোর কাছে আছে? ট্যুরে কে-ইবা অতিরিক্ত বেল্ট নিয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত বাবা রাসেল দেখি সার্ভাইভাল কায়দায় অভিনব বেল্টের ব্যবহার শুরু করলো। কোত্থেকে সুতলি জোগাড় করে তা দিয়ে বেল্টের ফিতার ভিতর দিয়ে কোমরটা প্যাঁচিয়ে বাঁধছে; ঢিলা প্যান্টটা আটকাবার অভিনব পন্থা। এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করতে পেরে আমি তো রীতিমতো অস্কার পেয়ে গেলাম। …হাসতে হাসতে গড়াগড়ি।

দ্রুত টীমকে রেডি করে খাবার দোকানে যাবার তাড়া অনুভব করলাম। কিন্তু সবগুলো ঢিলা পাবলিক, এ’ ওঠে তো ও’ ওঠে না, এ নড়ে তো ও’ নড়ে না। শেষ পর্যন্ত আমি আর প্রভা আগেভাগে চলে গেলাম হোটেলে, ওরা পরে এলো। সকালের নাস্তার অর্ডার দেয়া হলো। নাস্তার মেনু: তন্দুর রুটি, ডিমভাজি, সবজি। সবাইকে ভালোমতো খেয়ে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হলো। (নাস্তা সাকুল্যে ৳৫১০)

রাতে, রাসেল আর আমি নতুন যে পরিকল্পনা করেছি, তা এরকম:

দুটো দলই দুজন গাইড সঙ্গী করে একসাথে নাফা খুম (নাফাখুম নয়) যাবে, সেখান থেকে আমি আর রাসেল অন্যান্য খুমগুলো দেখার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়বো একজন গাইড নিয়ে। আর, আরেকজন গাইড ওদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে আজকে রেমাক্রি পর্যন্ত। সেখান থেকে পরদিন ভোরে উঠে ওরা ফিরে আসবে থানচিতে, এবং থানচি থেকে বাসযোগে বান্দরবান, তারপর ঢাকা…।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কথা বললাম গতরাতের সেই বাবুর্চির সাথে, নাম তাঁর দুলাল। পরে জানলাম, উনি বাবুর্চি নন, এখানকার একজন টেইলর (খলিফা)। দুলাল ভাইকে নাকিব বেশ ভালো মানুষ বলে সার্টিফাই করে ফেলেছে ইতোমধ্যে, কিভাবে, কে জানে। যাহোক, দুলাল ভাই আমাদেরকে একজন গাইড ঠিক করে দিলেন নাফা খুম পর্যন্ত – চেয়ারম্যানের ছেলেকে, নামটা ভুলে গেলাম; ওকে ভালো ছেলে বলে সুনামও করলেন তিনি। এমন সময় হঠাৎ আবিষ্কার করলাম, আমাদের গুগল আর্থ থেকে প্রিন্ট করা জরুরি মানচিত্রখানা হারিয়ে গেছে। গত রাতে রাসেলের কাছে ছিল, সে আমাকে দিয়েছে মনে আছে, কিন্তু তখন হিসাব-নিকাশ করছিলাম, কোথায় যে রেখেছি, আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সর্বত্র খুঁজে শেষে দৌঁড়ে গেলাম খইশামু মারমা’র ঘরে। তাকে ডেকে যখন বললাম, সে-তো মহা উদ্যোগী: উঠে গিয়ে চৌকির উপরে-নিচে কোথাও আর বাকি রাখলো না। একটা লোমও যদি কোথাও পড়ে থাকে, তা ফিরিয়ে দিতে সে যে বদ্ধপরিকর, তাও বোঝা গেল তার আগ্রহে। এতো ভালো কেন এই পাহাড়ি মানুষগুলো!

অনন্যোপায় হয়ে ফিরে এলাম নিজেদের নিয়তিকে মেনে নিয়ে, যে মানচিত্রের উপর আমাদের পুরো পরিকল্পনা সাজানো, সেই মানচিত্রটাই খুঁইয়ে ফেলেছি: সার্ভাইভাল গাইডের কথাগুলো মনে পড়লো, শরীরের তিন স্তরের মধ্যে প্রথম স্তর হলো নিজের পোষাক, অন্যান্য দুটো স্তর তুমি খুইয়ে ফেলতে পারো নানা দুর্ঘটনায়, তখন সম্বল হিসেবে থাকবে এই প্রথম স্তরটাই। তাই মানচিত্র-কম্পাস রাখো তোমার প্রথম স্তরে। সর্বত্র খোঁজেও পাওয়া গেল না মানচিত্রটা।

আমরা থানচি বিজিবি চেকপোস্টের সাথেই নৌকাঘাটের কাছে চেয়ারম্যানের দোকানে নিজেদের ক্যাম্প করলাম। যাবতীয় রসদ কেনার কাজে লেগে গেলাম। ওদিকে দুলাল ভাই জানালেন দুটা বোট লাগবে, কারণ নদীতে পানি কম, একটা দিয়ে [বাক্সপেটরাসহ] ১০জন টানা সম্ভব হবে না। বোটগুলো রেমাক্রি আছে, ওখান থেকে আসতে ২ ঘন্টা। ঘড়িতে তখন ০৮:০০।

রসদ কিনে অপেক্ষা: বিজিবি সদস্যদের সাথে কথাবার্তা বললাম; আলাপ করে জানলাম এখানকার গাইড খরচ দৈনিক ৳৫০০, শুধু প্রথমদিন ৳৬০০; তাদের কাছে জমা দেবার জন্য সবার নাম-ফোন নাম্বার লিখে ফেললাম; গাঞ্জুট্টিগুলো (মানে সিগারেটখোরগুলো আরকি) ধূয়াপানে ব্যস্ত হয়ে গেল; নদীর পাড় থেকে নদীটা অপূর্ব লাগছে বলে সবারই ক্যামেরা বেশ ব্যস্ত। …ইফতি তখন বিষয়টা নজরে আনলো, আমরা বসে আছি ক্যান?

সত্যি তো, এতোটা সময় বসে থাকার কী মানে?

উঠে গেলাম ও’ আর আমি। দুলাল ভাই চলে গেছেন বান্দরবান, তাই কথা বললাম চেয়ারম্যানের ছেলের সাথে, বললাম দেরি হয়ে যাচ্ছে, আমাদেরকে দুটা বোট, দরকার হলে ভাড়া করে দাও। এই বলাটাই কাল হলো: সে দুজন বোট ড্রাইভারকে নিয়ে এলো, যারা প্রত্যেকে আপ-ডাউন রিযার্ভ ভাড়া হাঁকালো ৳৫,০০০ [টাকা]। আমার একটা বদভ্যাস হলো, অর্থের লোভ কেন জানিনা কাজ করে কম, অর্থের পরিমাণকে ‘বিশাল’ বলার মতো বোধ আমার কম। তাই কেন জানিনা, পাঁচ হাজার টাকাকে বেশি মনে হলেও বারবার কেন জানি মনে হচ্ছিলো এটা খুব বেশি না। আমি বারবার ৫ দিয়ে ভাগ করছিলাম টাকাকে, তাতে জনপ্রতি একহাজার করে পড়ছিল। কিন্তু আমার মতো মাথাপাগল তো আর বাকিরা না, ইফতি শুনেই বললো, এটা অসম্ভব।

আমি এবারে ব্যতিক্রমগুলো যাচাই করতে চাইলাম, শোনেন, আমার আপ-ডাউন লাগবে না, আপনারা আমাদেরকে শুধু নিয়ে যাবেন। পাশে বসা অনেকে বললো ফেরার সময় নৌকা পাবেন না। আমরা জানালাম রাত্রে কিন্তু একদল থাকবে রেমাক্রিতে, তারা বললো সমস্যা নেই, কালকে পর্যন্ত সাথে থাকবে তারা। এবং যারাই যাবে, আপ-ডাউন ঠিক করেই যাবে, এতে আমরা না ফিরলেও ফেরার ভাড়া গুণতে হবে। নাকিবকে বলামাত্র সে সাফ “না” করে দিলো: প্রশ্নই আসে না। এটা তো মাত্রাতিরিক্ত! ওরা সবাই যখন এটাকে মাত্রাতিরিক্ত বলছে, তখন আমারও কেন জানি না বোধোদয় হতে শুরু করলো: না, এটা আসলেই অতিরিক্ত।

পরিস্থিতি আমাদের প্রতিকূলে: এই ট্যুরের শুরু থেকে একের পর এক – এমন কেন হচ্ছে? এদিকে মানচিত্রটা হারিয়ে মনটাই খারাপ হয়ে গেছে। শেষ আশ্রয় ছিল থানচি থেকে বেরোবার জন্য এই নৌকা – তাও আকাশচুম্বি দাম হেঁকে আমাদেরকে বেকুব বানিয়ে দিয়েছে। আমাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিয়েছে। বোটওয়ালারা যখন দেখলো আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে, তারা যে যার মতো চলে গেলো – শূণ্যতায় ডুবিয়ে গেল আমাদেরকে।

নাকিবের খুব মন খারাপ হলো। সে সিদ্ধান্ত নিলো থানচিতেই থেকে যাবে। এখান থেকে কালকে চলে যাবে বান্দরবান। মনটা আমারও খুব খারাপ হলো। কিন্তু এমন সময় বজ্রপাত করলো রাসেল: “হেঁটে গেলে?”

মানে!

মানে, নদী পথে যদি রেমাক্রি যাওয়া যায়, তাহলে নদীর পাড় ধরে হেঁটে হেঁটেও রেমাক্রি যাওয়া যাবে। যেই কথা সেই কাজ। কিন্তু আমাদের চেয়ারম্যানের ছেলে একথা শোনার পরে যেন আকাশ থেকে পড়লো। হেঁটে রেমাক্রি হয়ে নাফা খুম – সে যেন মনে মনে ভাবলো এগুলো পাগল হয়ে গেছে নাকি? …শেষ পর্যন্ত সে জানালো তার পক্ষে সম্ভব না।

খইশামু মারমা’র কথা মনে হলো। মানচিত্র আনতে গেলে সে বলেছিল, নৌকা ভাড়া করে আপনারা পারবেন না। অনেক ভাড়া চাইবে। আপনারা এখানেই, থানচিতে, একটা ঝরণা আছে, ওটা দেখে ফিরে যান। আমি আর রাসেল গেলাম আবার ঐ কুড়েঘরে। তাকে ঘরেই পাওয়া গেল। আমাদের টার্গেট শুনে বললো সে যেতে পারবে, যদি আমরা তাকে নিতে চাই, তবেই কেবল। তাকে নিবো বলে কত দিতে হবে জানতে চাইলে, সে আমাদেরকে জানালো ঘরের জন্যে তো সে কিছু চায়নি, আমরা ইনসাফ করে দিবো। এজাতীয় প্রস্তাব খুবই ঝামেলাজনক, তবু বারবার চাপাচাপি করেও তার থেকে কোনো অর্থের পরিমাণ আদায় করা গেল না। অগত্যা ওভাবেই তাকে নিয়ে নেয়ার চিন্তা করলাম আমরা।

আমাদের র‍্যুট পরিকল্পনা বললাম, সে আমাদের বোঝালো আজকেই নাফা খুম গিয়ে দ্বিতীয় দল আবার রেমাক্রিতে ফিরে আসতে পারবে – সম্ভব; এবং তা আমাদের পরিকল্পনামতো হাঁটা-পথেই সম্ভব।

থানচি বাজার থেকে এই ঝুলন্ত সেতু দিয়েই আমাদের পায়দল যাত্রা শুরু (ছবি: দানিয়েল)
থানচি বাজার থেকে এই ঝুলন্ত সেতু দিয়েই আমাদের পায়দল যাত্রা শুরু (ছবি: দানিয়েল)

সবাই প্রস্তুত, সে তার সাথে আরেকটা ছোট ছেলেকে নিয়ে চলে এলো আমাদের ক্যাম্পে। ওখান থেকে বেরিয়ে পড়লাম। খইশামু দেখা গেলো বিজিবি ক্যাম্পের দিকে না গিয়ে উল্টোদিকে বাজারের আরেক প্রান্তের একটা রাস্তা ধরে চলতে বললো। গাইড বলে কথা, যাহা সহাও তাহাই সয়

মার্চ... মার্চ... মার্চ... থানচি থেকে পায়দল রওয়ানা... (ছবি: লেখক)
মার্চ… মার্চ… মার্চ… থানচি থেকে পায়দল রওয়ানা… (ছবি: লেখক)

টীম তো টীম – পিওর মার্চ শুরু হলো। থানচি বাজার থেকে এপথে বেরোতেই একটা ঝুলন্ত সেতু। বান্দরবানে মেঘলার পর এই দ্বিতীয় ঝুলন্ত সেতু দেখা আমার। সেতুতে নেমে যাওয়া, আবার উৎরাই পেরিয়ে ওপারে উঠা। তারপর এগিয়ে যাওয়া। সামনে পাওয়া গেল একটা নির্মীয়মান সেতু, কাজ চলছে, ওটা পার হওয়া। এরপর মাটি কেটে তৈরি করা রাস্তা দিয়ে একটা পাড়ায় ঢোকা: সান্দাক পাড়া

সান্দাক পাড়ার ভিতর দিয়ে গিয়ে আমরা এবারে ডানদিকে বেড়াঘেরা সুন্দর একটা পথ মাড়িয়ে গিয়ে সরাসরি নামলাম শঙ্খ নদীতে। শঙ্খ নদীকেই সাঙ্গু বলে, সাধারণ্যের কাছে শঙ্খ নামটাই বেশি শোনা যায়।

ব্যস, শুরু হলো আমাদের পথ চলা। শঙ্খ নদীর পাড় ধরে হেঁটে হেঁটে রেমাক্রি হয়ে নাফা খুম যাওয়া। …সম্ভব? ঘড়িতে তখন ১০:৪২। সন্ধ্যা হতে বাকি ৮ ঘন্টা মাত্র।

(চলবে…)

-মঈনুল ইসলাম

পরের পর্ব »

nanodesigns

মন্তব্য করুন