ইংরেজিভীতি থেকে ইংরেজিপ্রীতি : ভাষা লেখা

আমরা দেখেছিলাম, ভাষাশিক্ষায় লুবাব সাহেবের অন্তর্দৃষ্টি অনুসারে ভাষা শিক্ষার চতুর্থ ধাপ হচ্ছে “ভাষাকে লিখতে শেখা”। আজ আমরা এই ধাপটি নিয়েই আলোচনা করছি:

সমস্যা: বানান ভুল

আচ্ছা স্বাগতম-কে ইংরেজিতে কী বলে? কী আবার, ওয়েলকাম! ঠিক আছে ওয়েলকাম বানানটা লিখুন তো… লিখলেন:

well come

কিংবা

wel come

কিংবা, বড়জোর

wellcome

একটি শপিং ব্যাগে লেখা wel come বানানটি আসলে ভুল।
একটি শপিং ব্যাগে লেখা wel come বানানটি আসলে ভুল।

দেখা গেল আপনি অনেক বানানই জানেন। কিন্তু আসল বানানটাই জানেন না। সঠিক বানানটা হলো:

welcome

হ্যা, কোনো ফাঁকা স্থান নেই এবং কোনো ডাবল এল (LL) নেই। এই ভুলটা মানুষ কেন করে? কারণ, তারা well (অর্থ: ভালো) এবং come (অর্থ: আসা) নামক দুটো শব্দ জানে, আর ঐ জানাটাই তাদের জন্য কাল হয়েছে।

অচেথন ১৩: অজ্ঞানতা

তারা মনে করেন, “ভালো”-“আসা” (গুছিয়ে নেন: “ভালোভাবে আসা”)-কেই ইংরেজিতে ওয়েলকাম বোঝায়। আসলে কল্পনাটা ভুল। well যেমন একটা শব্দ, come যেমন একটা শব্দ, দুটো ভিন্ন শব্দ, ঠিক তেমনি welcome সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেকটা শব্দ, ওয়েল আর কাম-এর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। প্রাচীন ইংরেজি wilcuma থেকে welcumian, wylcumian ইত্যাদি থেকে welcome শব্দটি এসেছে। দেখতেই পাচ্ছেন, মূল শব্দগুলোর কোনোটাতেই কোনো ডাবল এল (ll) নেই, এবং মাঝখানে কোনো ফাঁকা স্থানও (space) নেই — তারমানে, আমরা আসমান থেকে নাযিল করেছি!!

ব্যাপারটা ঠিক এমন: আপনি ধরা যাক “পানি” শব্দটা জানেন, আর পানি চেনেনও। এখন আপনার সামনে কেউ “শরবত” শব্দটা বললো। আপনি জীবনে শরবত দেখেনওনি। তো আপনি শরবত জিনিসটাকে না চিনে বুঝে নিলেন: ও, পানির মতো, গিলে খেতে হয়… তাহলে তো ‘পানি’ই। ব্যস, আপনি ‘শরবত’ নামক নতুন জ্ঞান গ্রহণ না করে তা থেকে নিজেকে বিরত রাখলেন – আজীবনের জন্য – এবং আপনি ঠকলেন।

এই ভুলগুলো কেন করেন, জানেন? আপনি যখন ভাষা দেখতে চান না। দেখার আগেই ভাব নেন, আপনি জানেন।

বানান ভুল ঠিক করার জন্য সবসময় প্রথাগত পদ্ধতিতেই এগোতে হবে এমন তো না – আমার বোন অন্যরকম একটা টেকনিক কাজে লাগাতো – আনকনভেনশনাল – ও’, কঠিনতর শব্দগুলোকে ভুল করে উচ্চারণ করতো। হ্যাঁ, ঠিক পড়েছেন, ভুল করে উচ্চারণ করতো — এটাই ওর টেকনিক; যেমন: ‘ফোরেন’ বানানটা মনে রাখার জন্য ও’ ওর মতো নিজের জগতে উচ্চারণ করতো ‘ফোরেগেইন’, যদিও সে এই উচ্চারণ বাইরে কোথাও করতো না। সে, ফোরেন বানানের G (জি) অক্ষরটাকে মনে রাখার জন্য এই ভুলে ভরা টেকনিকটা বানিয়েছিল। অনেকেই আছেন ‘লেফটেনেন্ট’-কে মনে রাখেন lie-u-ten-ant (মিথ্যা-তুমি-দশ-পিঁপড়া!) বলে।

আপনার টেকনিক তো আমি বলে দিবো না, আপনিই ঠিক করবেন। শুধু সচেতন থাকবেন, ভুল চর্চা করতে গিয়ে, মজা করতে গিয়ে শুদ্ধটাকে যেন ভুলে না যান। কারণ এই একটা কারণে অধিকাংশ মানুষই জানে না “মানুষ মাত্রই ভুল করে”-এর ইংরেজি কী।

কী, বলুন তো? …না, “Man is mortal” না। এর অর্থ “মানুষ মরণশীল”।

তাহলে “মানুষ মাত্রই ভুল করে” ইংরেজি কী?

সঠিক উচ্চারণ থেকে বানানশুদ্ধি

যদি উচ্চারণ করতে শিখে ফেলেন, তাহলে ভাষা লেখা খুবই সহজ। কিন্তু উচ্চারণ করতেই যদি ভুল উচ্চারণ করেন, তাহলে লিখতে ভুল হবেই – হলফ করে বলতে পারি। …সিলেট শহরে এখন একটা মডার্ন কালচার গড়ে উঠছে, যেখানে লন্ডন-প্রবাসীদের কল্যাণে সবাই আর-কিছু শিখুক না শিখুক, ভুল হোক শুদ্ধ হোক ইংরেজি শব্দ একটা-দুটা কথার মাঝখানে ঢুকাতে শিখে গেছে। So, but-এর ঠ্যালায় আপনি নিজ দেশে পরবাসীও ভাবতে পারেন।

ভার্সিটি পড়ুয়া কাযিনরা যখন কথায় কথায় বলে ‘ওমুক মেচও যাগা না পাইয়া তমুক মেচো গেছি’, তখন খুব আক্ষেপ হয়। তারা কথার মধ্যে ‘স’ (ছ) উচ্চারণটাকে গ্রাম্য মনে করে স্টাইলের ঠ্যালায় “মেস” (mess – অর্থ একত্রে বাস করার স্থান)-কে “মেচ” বলছে। অথচ, match অর্থ দিয়াশলাই, খেলার প্রতিযোগিতা কিংবা মিলানো।

এটা যে শুধু সিলেটের চিত্র, তা না, আমার এক সহকর্মী ছিলেন, বরিশালে বাড়ি। উনি “বাস” (bus) বলতেন না, বলতেন “বাচ”। মনে করতেন ‘স’ একটা ক্ষ্যাত উচ্চারণ।

উদাহরণস্বরূপ, ইউটিউবের একটা র‍্যান্ডম ভিডিও থেকে অডিওটুকু কেটে দিলাম:

…তো, আমাদের কলেজে পর্যাপ্ত পরি.. এ্যা আবাসিক সুবিধা না থাকার কারণে আমাদের ম্যাক্সিমাম শিক্ষার্থী রুম ভাড়া করে কিংবা মেচে থাকতে হয়। তো নরমালি মেচে থাকতে গেলে যেটা হয়…

ভুল বলার মধ্যে কোনো স্টাইল নেই, আলাদা নম্বর নেই। আর সবচেয়ে বড় কথা, আপনি ভুল শুধু বলছেনই না, এটা আপনার বানান লেখাকেও প্রভাবিত করছে। আপনি যদি fridge-কে “ফ্রিজ” না বলে “ফিরিয”, “ফিরিজ” কিংবা “ফ্রিয” বলেন, তাহলে খুব স্বাভাবিকভাবেই আপনি লিখার সময়ও “firiz”, “firij”, কিংবা “friz” লিখে ফেলতে পারেন। আপনি যদি mess (মেস)-কে স্টাইল করে ‘মেচ’ (কিংবা ‘ম্যাচ’) বলেন, তাহলে খুব স্বাভাবিকভাবেই লিখার সময় match কিংবা mech লিখে ফেলতে পারেন। যদি bus-কে “বাস” না বলে “বাচ” বলেন, খুব স্বাভাবিকভাবেই লিখার সময় buch-জাতীয় কিছু লিখে বসতে পারেন। কথাটা বাংলার জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য – উচ্চারণের সময় সারাদিন “কেচি” বললে, লেখার সময় শুদ্ধ করে “কাঁচি” লিখবেন কিভাবে?

“এই যে, স্কসটিপটা দেন তো” কিংবা “কসটিপটা দেন তো” বললে ইংরেজিতে scostip কিংবা kostip খুঁজে বেড়াবেন। আর শুদ্ধ উচ্চারণে “স্কচটেপ” বলতে শিখলে Scotchtape লিখে হলেও Scotch Tape-ই খুঁজে পাবেন।

দোষ আপনার – দোষ আপনার উচ্চারণের।

তাই, উচ্চারণ ঠিক করুন, বানান ঠিক হয়ে যাবে।

সমস্যা: না লেখা

শিক্ষার্থীদের লেখার অভ্যাস কম হওয়ার কারণে মাথায় ঢুকে কম। লিখলে আসলে কী হয়?

বইতে, ছাপার হরফে যে লেখাটা দেখছেন, সেটা এর এক রূপ। আর সেই লেখাটাকেই আপনি যখন আপনার খাতায় নিয়ে আসবেন, তখন সেটা হবে তার আরেক রূপ। এই যে রূপটা বদলে নিচ্ছেন, এই সময় আপনি আসলে আপনার মস্তিষ্কের সাথে একটা খেলা খেলছেন। ব্রেন এই ছলচাতুরিটা ধরতে পারে না, এবং ফাঁদে পা দিয়ে দেয়। মাঝখান থেকে আপনার লাভ হয়, যা দেখছিলেন, শুনছিলেন, তা এবার আপনার মস্তিষ্কে গেঁথে গেছে।

আমি নিজে নোট করে পড়তাম। দেখা যেত, কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো বইকে হুবহু অনুসরণ করছি, সেখান থেকে বদলানোর কিছুই নেই, বলা যায়, বই থেকে হুবহুই খাতায় তুলছি লেখাটা। ব্যাপারটা আপাতদৃষ্টিতে একটা বেহুদা কাজ মনে হতে পারে, কিন্তু আসলে আমি আমার ব্রেনের সাথে একটা কৌশল খেলছি। এবং লেখার ছলে বইয়ের লেখাগুলো মাথায় ঢুকিয়ে নিচ্ছি।

তাই, যা-ই বলছেন, মুখে আওড়াচ্ছেন, তা লিখে ফেলুন।

যদি এই ধারাবাহিক এপর্যন্ত বুঝে থাকেন, তাহলে আপনি ভাষা দেখতেশুনতে, বলতে আর লিখতেও শিখে গেছেন। এবারে আপনার মন চাইলে আপনি ভাষার ব্যাকরণ খুলে দেখতে পারেন।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)

– মঈনুল ইসলাম

__________________________
মানুষ মাত্রই ভুল করে = to err is human – এটা একটা idiom বা বাগধারা।

মন্তব্য করুন