চীটশীট – ইংরেজি ভাষার উচ্চারণচর্চা

আমরা এখানে একটা চীটশিট দিলাম। যেখানে আমরা দেখানোর চেষ্টা করলাম ইংরেজি কোন অক্ষরটার উচ্চারণ আসলে কেমন, কিংবা কোথায় কেমন হবে বা হয়ে থাকে। এটা এক আত্মীয়কে দেখানোর সময় তাৎক্ষণিক তৈরি করেছিলাম।

তবে চীটশিটে ছোট ছোট বিষয়ও খুব গুরুত্বপূর্ণ – একটা লেখা বাঁকা কিংবা একটা হরফের আগে ছোট্ট একটা হাইফেন (-) কিংবা ছোট্ট একটা উদ্ধৃতি চিহ্ন – এগুলো সবই বিভিন্ন অর্থ নির্দেশ করছে। উচ্চারণগুলোর অডিও যোগ করার চেষ্টা করেছি, উচ্চারণগুলো শুনে শুনে চীটশিটের নির্দেশনার সাথে মিলিয়ে নিন:

(অডিও ফাইলগুলো লোড হতে সময় নিলে উচ্চারণ মাঝখানে আটকে যেতে পারে)

অক্ষর উচ্চারণ উদাহরণ অডিও
sh শ, ষ she, sheep (ভেড়া), ship (জাহাজ)
s (ছ) south, summer, surrender
c (স) California, come, carry, calcium, count;
কিন্তু cyan (সায়ান: ফিরোজা), century (সেঞ্চুরি)
ch (-ch) চ (-ক) chair, China, chalk (চক), chain, epoch (অতীতের একটা নির্দিষ্ট সময়);
কিন্তু approach, cockroach
e (ই) elephant, epoch, era (নির্দিষ্ট সময়), enough, sell, elbow;
কিন্তু Europe
ee, ea  ঈ  sleep, geek, week, deep, see, sea, cheap
oo woo (ওো! 😲), noodle, food
a অ্যা/এ্যা (আ) anchor (নোঙর), Aryan (আরইয়ান: আর্য), apple, ash (ছাই, ধূসর), cash (নগদ), ask
f, ph ‘ফ full, final, first (‘ফার্‌স্ট: প্রথম), fast (‘ফাস্ট: দ্রুত), flower, food, fine, Philosophy, phase, phone, phoenix
g goat, good, go, gear, great, grand
j জ, য jug, jam, job, junior, journey, jeep
z, x zoo, zealot, zee tv, zion, Xerox, Alexander, zebra

আমরা এখানে প্রচলিত (?) কিছু ভুল উচ্চারণকে ঠিক করে দেখাতে যাচ্ছি, উচ্চারণ ব্যাপারটা লিখে বোঝানো খুব কঠিন, তবু আমি চেষ্টা করলাম সেটাই করার:

আমরা সবাই তালব্য-শ (শ) আর মূর্ধণ্য-ষ (ষ)-এর উচ্চারণ জানি: একটু শক্ত করে উচ্চারণ করা হয় শো, তাই না? আরবি শীন-এর (ش) মতো। এই “শো” উচ্চারণটা যেখানেই থাকবে, ইংরেজিতে সেখানে sh (এসএইচ) বসবে। দেখুন তো আমার কথাটা কতটা সত্যি, আশপাশের সব ‘শো’ উচ্চারণ হয়, এমন ইংরেজি শব্দগুলো স্মরণ করে দেখুন তো… উদাহরণ হিসেবে আমরা কয়েকটা দেখেছি: শী, শীপ, শিপ ইত্যাদি।

s-এর উচ্চারণ বোঝানোর জন্য অনেকে বাংলা ছ-কে বেছে নেন, Salsabil কিংবা Sabila লিখতে গিয়ে লিখেন: ছালছাবিল (chhalchhabil) কিংবা ছাবিলা (chhabila) – আমরা বলছি, আপনারা ভুল করছেন। বরং ওখানে দন্ত-স (স) বসান, লিখুন: সালসাবিল, সাবিলা। ভুলেও s-এর স্থলে ছ লিখতে যাবেন না আর, এজন্য রেড অ্যালার্ট জারি করেছি। 😊 উচ্চারণটা তাই বলে শো করবেন না, আগে যেভাবে উচ্চারণ করছিলেন, সেটা ঠিকই আছে।

পড়ুন a, b, c, আপনি পড়লেন এ, বি, ছি (chhi) – ভুল। পড়তে হবে: অ্যা, বি, সি (si)। হ্যা, দন্ত-স-এর উচ্চারণ মোটা না, শক্ত করে না — পাতলা করে, আরবি সিন-এর (س) মতো। ভালো কথা, তাহলে c দিয়ে লেখা যেকোনো কিছুকে এখন থেকে স দিয়ে উচ্চারণ করবো? …না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে c দিয়ে শুরু কোনো শব্দের উচ্চারণ হয় ক (k) দিয়ে। ব্যতিক্রমও আছে… দুয়েকটা ব্যতিক্রম নিয়ে আমরা মাথা ঘামাবো না।

c যেহেতু উচ্চারণ করতে জানি, তাহলে আমরা ch-এর উচ্চারণও জানি, তাই না? এটা হলো চ। মানে chমৎকার! তাই না? কিন্তু জেনে রাখা ভালো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ch শব্দের শেষের দিকে বসলে, এর উচ্চারণ হয় ক-এর মতো, আরবি [পাতলা] কাফ-এর (ك) মতো। আবার বলছি, কিছু ক্ষেত্রে এটা হয় – অনেকটা ব্যতিক্রমের মতো… যেমন: pitch (পিচ), glitch (গ্লিচ), …কিন্তু epoch (এপোক), Enoch (এনোক)।

e নিয়ে যে ভুলটা সবাই করে, তা তো আমরা শুরুতেই একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝলাম। শব্দতে e বসলে, সেখানে ‘এ’ হিসেবে উচ্চারিত হবে। যেমন: এলিফ্যান্ট, এরা, এনাফ, সেল (এ-কার যোগ), এলবো, অ্যারোপ্লেন ইত্যাদি। সংক্ষিপ্ত বার্তা লিখুন: ekhane (এখানে), ejonnoi (এজন্যই), er (এর), ek (এক)… আশা করি বোঝাতে পেরেছি। শব্দস্থিত e উচ্চারণে ই-এর ব্যবহারে রেড অ্যালার্ট! 😊

ডাবল e কিংবা ea থাকলে সেখানে ই উচ্চারণটা দীর্ঘ হয়, মানে দীর্ঘ-ঈ (ঈ)-এর মতো উচ্চারণ হয়। ঠিক একইভাবে oo থাকলে ঊ (উ)-এর মতো উচ্চারিত হয়।

a-এর আক্ষরিক উচ্চারণ ‘অ্যা’ হলেও শব্দস্থিত উচ্চারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আ হয়। অবশ্য এক্ষেত্রে ব্রিটিশ উচ্চারণে ‘আ’ হয়, আর মার্কিনী তথা অ্যামেরিকান উচ্চারণে অ্যা/এ হয়। যেমন: ব্রিটিশরা স্পষ্ট করে আস্‌ক (ask) বললেও মার্কিনীরা একটু চেপে বলবে অ্যাস্‌ক (ask) – সেজন্য ‘আ’ বোঝাতে ডাবল a (aa) লেখার প্রবণতা চালু রয়েছে। মজাটা নিশ্চয় খেয়াল করেননি, আপনি তো চীটশীট মুখস্থ করছেন… আমি কিন্তু বলেছিলাম, মজা নিতে, আনন্দ করতে করতে পড়ে যেতে, নিজের ব্যাপারে কনফিডেন্ট থাকতে… মজাটা হচ্ছে, ব্রিটিশরা এদেশ শাসন করেছিল বলে আমরা কিন্তু বাংলায় ‘আপেল’ বলি, a-কে ‘আ’ বলে বলেই এমনটা হয়েছে কিন্তু। আর, মার্কিনীরা ‘a’-কে অ্যা/এ বলে বলেই আমরা তাদেরকে ‘এমেরিকান’ বলি (আবার ব্রিটিশদের রক্ত আছে বলে ‘আমেরিকা’ও বলি)… দারুণ না?

f আর ph-এ যে উচ্চারণের একটা পার্থক্য আছে; কিন্তু ইংরেজিতে এই দুটোর উচ্চারণে কোনো পার্থক্য নেই। বাংলায় প-বর্গের দ্বিতীয় হরফটার উচ্চারণ কিন্তু সত্যিকার অর্থে f-এর মতো না, বরং ph-এর মতো। মুখটা গোল করে বাতাসটা ছেড়ে দিয়ে উচ্চারণ করা। কিন্তু f দিয়ে উচ্চারণ করলে দাঁত আর ঠোঁট দিয়ে বাতাস আটকে উচ্চারণ করতে হয়। তাই একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, ইংরেজিতে ph দিয়ে লেখা কিছুকে অনায়াসে ফ দিয়ে লেখা যাবে: Philipines (ফিলিপাইন), Philosophy (ফিলোসফি)। …তবে যেহেতু বাংলা বর্ণমালায় f উচ্চারণের মতো কোনো হরফ নেই, তাই বাধ্য হয়েই আসলে ফ ব্যবহার করা হয়, আমরা সেজন্য এখানে ফ-এর ভিন্ন উচ্চারণ বোঝাতে একটা উর্ধ্বকমা বসিয়েছি ফ-এর আগে ‘ফ – এটা শ্রেফ আমাদের বোঝার সুবিধার্থে। যেমন: ‘ফ্লাইট, ‘ফ্যাকেড (facade), ‘ফূল (fool) ইত্যাদি।

g-এর বাক্যের মধ্যে থাকাকালীন উচ্চারণ হলো গ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জ নয়। যেমন: আমরা দেখেছি গোট, গুড, গো, গিয়ার, গ্র্যান্ড ইত্যাদি। ব্যতিক্রম কিছু যে নেই, তা না, যেমন: নাম হিসেবে জর্জ (George), জার্মানি (Germany) ইত্যাদি।

j-কে উচ্চারণ করুন একটা শক্ত করে জ কিংবা য দিয়ে। যেমন: joগত (জগৎ), joল (জল)। আমরা দেখেছি: জাগ, জ্যাম, জব ইত্যাদি।

z এবং x-এর বাক্যস্থিত উচ্চারণ একইরকম – একটু ফ্যাসফ্যাসে ‘য। যেমন: যী টিভি, যেরক্স, আলেকযান্ডার ইত্যাদি। কোনোভাবেই j’র মতো কিংবা g নয়। অর্থাৎ zoom লেখা থাকলে তার উচ্চারণ “জুম” নয়, বরং ‘যুম।

– মঈনুল ইসলাম

মন্তব্য করুন